Sunday, December 31, 2023

ইসরাইল বনাম হামাস

                        এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ 

সদ্য সমাপ্ত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের শুরু। দিনে দিনে এর বীভৎসতা বেড়ে চলেছে। শুরুতে অর্থাত অক্টোবর ৭ তারিখে হামাসের আচমকা আক্রমণে ইসরাইল জনসাধারণের ১৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর শুরু হয় লাগাতার ইসরাইল সেনা বাহিনীর হানা এবং কাতারে কাতারে প্যালেস্টাইনিদের মৃত্যু। ইসরাইল ও আমেরিকার বক্তব্য,  হামাস বাহিনীর নৃশংস আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইসরাইলের এই সশস্ত্র যুদ্ধ এবং তা জারি থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত গাজা ভূখন্ড হামাসমুক্ত করা যাবে। অথচ প্যালেস্টাইনিদের কোনও স্বীকৃত রাষ্ট্র নেই। প্যালেস্টাইনিদের মৃত্যুতে ইসরাইল এবং আমেরিকার একই সুর, "হামাসমুক্ত করতে গেলে প্যালেস্টাইনিদের বলিদান অনিবার্য কারণেই মেনে নিতে হবে, এরই নাম নাকি কোল্যাটারাল ড্যামেজ"। গাজা এবং জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর - প্যালেস্টাইনের দুই অংশেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শেষ কথা বলে ইসরাইল পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। তাদের দেশে ইসরাইলের অন্যায় দখলদারির বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনিদের কোনও মিটিং-মিছিল-সমাবেশ-ধর্মঘট, অর্থাত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলার এতটুকু সুযোগও নেই। সুতরাং অনিবার্য কারণেই গড়ে উঠেছে সশস্ত্র জঙ্গি প্রতিরোধ। 

খবরের কাগজের বহু প্রতিবেদন পড়ে ইসরাইল বনাম হামাস যুদ্ধের এটাই হ'ল সংক্ষিপ্ত বিবরণ। মানুষ সাধারণত কবিতা পড়তে পছন্দ করে। তাই এই যুদ্ধের বিবরণ আধুনিক কবিতার মোড়কে ভরে পাঠকের সামনে তুলে ধরছি যাতে ছোট্ট পরিসরে সব ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পারে।


প্যালেস্টাইনের ওপর ইজরায়েলর আস্ফালন 

এ যেন দুর্বলের ওপর আগ্রাসী সবলের আক্রমণ। 

চোখের উপর গুঁড়িয়ে যাচ্ছে জনপদ, ত্রাণশিবির;

                   বাদ নেই হাসপাতাল থেকে বিদ্যালয়,

জ্বলছে গণচিতা, তবুও যে যুদ্ধবাজরা যুদ্ধ চায় !

গাজা ভূখন্ড আর প্যালেস্টাইনে গোলা-বারুদের ছাই                                                               বেড়াচ্ছে উড়ে                                                       

নারী-পুরুষ তো কোন ছার, বাদ নেই শিশু নিধন 

মরছে কাতারে কাতারে বোমার আঘাতে, 

                                     কিংবা ঝলসে আর পুড়ে।

যুদ্ধের নিয়মনীতি সময়ের অন্তরালে যাচ্ছে হারিয়ে

কারণ যুদ্ধবাজরা লড়াই চায় অমানবিকতার নামাবলি গায়ে                                                                       জড়িয়ে।

নেতানিহায়ু জানিয়ে দিয়েছেন এই যুদ্ধ দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে

যতক্ষণ না গাজা থেকে হামাসের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে।

সভ্যতার অগ্রগতি যতই এগোচ্ছে, 

রাষ্ট্রনায়কদের মানবিকতা ততই লোপ পাচ্ছে।

হোক না তা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ,

কিংবা ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্ব!

সবাই সমানে পাশবিক প্রতিযোগিতার প্রমাণ দিয়ে চলেছে।

রাষ্ট্র নায়করা কোনও রকম প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে নারাজ 

তাহলেই চালাতে পারবে তাদের স্বেচ্ছাচারীতার স্বরাজ।

এক প্রবল দক্ষিণপন্থী হাওয়া সমগ্র পশ্চিমে বইছে

বর্ণবিদ্বেষী পরিবেশের মধ্যেও প্রতিবাদও সমানে চলছে।

বর্ণবাদ বৃদ্ধির জন্য আধিপত্য আর শক্তি প্রদর্শন প্রয়োজন

যার অর্থই হ'ল প্যালেস্টাইনি বিতাড়ন, সঙ্গে অর্থনৈতিক                                                                                শোষণ।

এ যেন বর্ণবিদ্বেষ এবং জাত্যাভিমানের এক জীবন্ত                                . .                                       উদাহরণ ! 

মৃত্যু বিভীষীকা থেকে বাদ গেল না অগুন্তি সাংবাদিক কুল

দোষ তাঁদের, তাঁরা যা বিলি করছেন, তা না কি সবটাই ভুল !

যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রেই প্রথম বলি হয় তথ্য আর সত্য

কারণ রক্তচক্ষু আগ্রাসী যুদ্ধবাজরা যে এই যুদ্ধে লিপ্ত !

প্যালেস্টাইনিদের দৃঢ়তা এখনও টিকে আছে,

তাই তো তাদের ওপর বিশ্বব্যাপী সহমর্মিতা বাড়ছে।

অমানবিক কাজকর্মের প্রতিরোধের ভূমিকায় যারা;

সেই রাষ্ট্রপুঞ্জও আজ কেবল নীরব দর্শক, 

কারণ, যারা ক্ষমতাবান, স্বেচ্ছাচারী,

তারাই সেই সংস্থার মাথায় বিরাজমান এবং নিয়ন্ত্রক।

বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনে দেশ নির্বিশেষে পরিবেশ দূষণ রুখতে চাইছে।

অথচ যুদ্ধের গোলা-বারুদের ধোঁয়ার কুন্ডলী পরিবেশ বিষিয়ে চলেছে।

Tuesday, December 26, 2023

পুস্তক পরিচিতি


পুস্তক পরিচিতি


রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধির ক্রমবিকাশ - প্রবীর পাল

ভাবা পরমাণু অনুসন্ধান কেন্দ্র (মুম্বই) থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী, অনুজপ্রতীম, প্রবীর পালের লেখা বইটি পড়ে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছি।

শিক্ষিত সব মানুষই এখন কম-বেশি ডিজিটাল মানুষ,  তাদের বিচরণ ডিজিটাল স্পেসে। খুব শিগগিরই ডিজিটাল মানুষ আকৃতির দিক দিয়ে বাস্তব মানুষের মতো দেখতে হবে, কাজ করবে এবং চিন্তা করবে মানুষেরই মতোই। আমরা সম্ভবত এখন মানবোত্তর এবং ট্রান্স-হিউম্যানে পরিণত হতে যাচ্ছি ! প্রাচীন বিশ্বে, একটি মানুষ এবং একটি ঘোড়ার মধ্যে প্রজণনে এবং একটি ঘোড়া এবং একটি পাখির মধ্যে প্রজণনে একটি পেগাসাসকে দানব হিসাবে বিবেচনা করা হত। আজকের প্রযুক্তি-জগতে, ভয় এবং বিদ্রোহের বিষয়ের পরিবর্তে, পোস্ট-হিউম্যান এবং ট্রান্স-হিউম্যানকে আকর্ষণীয় এবং প্রশংসনীয় হিসাবে দেখা হয়।

আইনস্টাইন বলেছিলেন যে, "আমি কখনোই ভবিষ্যতের কথা ভাবি না, এটা খুব তাড়াতাড়ি চলে আসে"

১৯৭০ সালে, ভবিষ্যতবিদ অ্যালভিন টফলার তার পুরস্কার বিজয়ী কাজ "ফিউচার শক"-এ ঘোষণা করেছিলেন যে "ভবিষ্যত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।"

প্রযুক্তি বিলিয়নেয়াররা মনে করতে শুরু করেছেন যেত অদূর ভবিষ্যতে বিভিন্ন শাখার প্রযুক্তিগত এককতা (Unification) এমন জায়গাতে পৌঁছবে, যেখানে পরিচিত মানুষ এবং মেশিন একত্রিত হবে।

এমন একটি দিন আসবে, যখন আমরা ভার্চুয়াল অমরত্ব অর্জন করতে পারব,আমাদের ডিজিটাল ক্লোন সৃষ্টি করতে পারব। ভবিষ্যতে আমাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে অ-জৈবিক মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়তো অসম্ভব না-ও হতে পারে।

অনুজপ্রতীম প্রবীরের লেখা বইটা পড়ে আমার সেরকমই মনে হয়েছে। সহজ সরল বাংলায় লেখা বইটার উপজীব্য পড়ে আমার মনে হয়েছে, যে-কোনও বিজ্ঞান গবেষণাগারের পাঠাগারে বইটি বিজ্ঞানীদের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবার যোগ্য। 

তদুপরি, দেশের যাবতীয় আঞ্চলিক ভাষায় যদি বইটি অনুবাদ করা সম্ভব হয়, সেটা দেশের উঠতি বিজ্ঞানীদের, বিশেষত ভাবী কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের অনুপ্রেরণার রসদ জোগাবে।




Saturday, December 23, 2023

IT Sector-এ অনেক চাকরি

                           উপলব্ধি ২

দেশে একটা ক্ষেত্রেই চাকরির সুযোগ, যে ক্ষেত্রের নাম ইনফরমেশন টেকনোলজি, সংক্ষেপে আই টি। "আই টি সেক্টরে নতুন চাকরি যা সৃষ্টি হচ্ছে, তার সিংহভাগই লোয়ার এন্ড জবস. নির্দিষ্ট কোনও প্রশিক্ষণের আদৌ প্রয়োজন নেই।  ভারতের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতিতে তার গুরুত্ব অপরিসীম হলেও,  দেশের পক্ষে, দেশের বিজ্ঞান চর্চার পক্ষে অনেক অনেক বেশি সম্মানের হতে পারতো যদি নিজেদের গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রত্যক্ষ প্রয়োগ ঘটিয়ে কল কারখানা ও শিল্প সংস্থা গড়ে তোলা যেত।"

Thursday, December 14, 2023

উপলব্ধি ১

যে ফ্ল্যাটবাড়িটার একটা অংশে আমার বসবাস, সেখানে ক্ষেত্রবিশেষে 'আপনি' থেকে 'তুমি' সম্বোধন হচ্ছে "উত্তরণ", সমবয়সীদের মধ্যেও। সেখানে মূল প্রেরণা: ভালবাসা, ঘনিষ্ঠতা বা প্রেম। আবার ঐ 'আপনি' থেকে 'তুমি' হয় অবরোহন- সেখানে মূল প্রেরণা অর্থনৈতিক, সামাজিক, শ্রেণীসচেতনতা।

যে ফ্ল্যাটবাড়ির একটা অংশে আমার বসবাস, সেখানে আরও ১১ টি ফ্ল্যাট আছে। একজন বাদে সকলেই আজ  বরিষ্ঠ নাগরিক, বিভিন্ন পেশার চাকরি থেকে এখন সবাই অবসর নিয়েছেন। সবাই কম-বেশি শিক্ষিত। এই আবাসনের দু'ঘরে বরিষ্ঠ নাগরিক থাকলেও তাঁরা এক আবাসনেরই এক যথেষ্ট বয়ঃকনিষ্ঠ  ডাক্তারকে নাম ধরে দাদা এবং আপনি বলে সম্বোধন করেন। আগে কানে লাগতো, এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। আমার ধারণা যিনি একই বাড়ির বয়জ্যোষ্ঠ  বাসিন্দা হয়েও ডাক্তার বাবুকে 'আপনি' সম্বোধন করছেন, তিনি আপনা থেকেই নিজেকে হীনমন্য প্রতিপন্ন করছেন বলেই এটা করছেন।

এ রাজ্যে কিছু হবে না

                      এখানে কিস্যু হবে না



লেখার শিরোনাম দিয়েই শুরু করি। এই কথাটা শুনতে শুনতে এতটাই ক্লিসে হয়ে গেছে যে এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। মনে ভীষণ কষ্ট পাই। কিছু করার নেই, কারণ আমার মতাবলম্বি মানুষের সংখ্যা সেখানে শুধু সংখ্যালঘুই নয়, সংখ্যার নিরিখে এতটাই কম, যে কোনও হিসেবেই আসে না।

আগেই বলে রাখি যে আমি নিতান্তই ছা-পোষা একজন  ভেতো বাঙালি। কাজেই পশ্চিম বাঙলাটাই আমার কাছে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দের জায়গা। স্বীকার করতে অসুবিধে নেই যে বহুদিন যাবত পশ্চিম বাংলায় কোনো বড় শিল্প  শিকড় গেড়ে বসেনি। তবে এটাও ঠিক যে তথাকথিত শিল্পে টইটম্বুর রাজ্যের পড়াশোনার উচ্চতা মাপার শক্তি আমার নেই। পশ্চিম বাংলার শিক্ষার আজ বেহাল অবস্থা ঠিকই। কিন্ত এতটাই খারাপ নয়, যে অন্য রাজ্যের তুলনায় সেটা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে কথায় কথায় উঠে আসে এ বছরের শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার ঘোষণার প্রসঙ্গ। ভাটনগর পুরস্কার হ'ল মৌলিক বিজ্ঞানে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত মেধাবি ছাত্র/ছাত্রীদের নোবেল পুরস্কারের ভারতীয় সংস্করণ। পেশায় বিজ্ঞানী (অবসরপ্রাপ্ত)। বহু দশক কলকাতার বাইরে কাটিয়ে গত এক দশকের কিছুটা বেশি সময় সে এখন কলকাতাবাসী। প্রায়ই টেলিফোনে কথা হয়। আমার বাংলা তথা কলকাতা প্রীতি তার অজানা নয়। যাইহোক, ভাটনগর পুরস্কার প্রসঙ্গে আমি যখন তাকে বললাম যে, বন্ধু এবার তো ১২ জন পুরস্কারের তালিকায় ৪ জনই বাঙালি ! প্রত্যুত্তরে সে বলল তিনজনই তো কলকাতার বাইরের। এমনই একটা যুক্তি আশা করেছিলাম। সেজন্য আমি প্রস্তুতও ছিলাম। আমার প্রত্যুত্তর ছিল যে তাদের সবাইকার স্কুলশিক্ষা আদতে কলকাতাতেই, এবং তারা সবাই রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। আসলে বুনিয়াদি শিক্ষার ভিতটা নড়েবড়ে না হলে তাদের পক্ষে পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় প্রতিষ্ঠা পাওয়াটা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। এরপরের আলোচনায় পরস্পরের কেউই আর এগোতে দিইনি।

কিছুদিন আগে আনন্দবাজারের চার নম্বর পাতায় অর্থনীতিবিদ সুগত মার্জিত মহাশয়ের একটা প্রবন্ধ পড়ে আমি এই লেখাটার অনুপ্রেরণার রসদ খুঁজে পেলাম। লেখাটার একটা অবিকৃত  অংশ তুলে ধরলাম:

"মনে পড়ে যায়, কিছু বছর আগে দেশের বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তাদের একটি আলোচ্য বিষয় ছিল, যাঁরা গবেষণা করতে আসছেন, তাঁদের আঞ্চলিক পরিচিতির ব্যাপারটা। দেখা গেল যে, বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় অংশ আসছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে। মনে রাখতে হবে, এইসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ পেতে গেলে মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষায় যে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়, সেই প্রতিযোগিতার ধারেকাছে পৃথিবীর শয়ে শয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আসতে পারে না। সেইসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ অর্জন করা গবেষকদের ছোটবেলা থেকে বড়বেলার ইতিহাসের পরতে  পরতে একেবারেই অচেনা অখ্যাত স্কুল-কলেজ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদান,  এবং সর্বোপরি পড়াশোনাকে নিরন্তর সম্মান করা পরিবারের গঠিত আত্মত্যাগের কাহিনিও ফেলে দেবার মতো নয়।"

লেখার এই অংশটা পড়তে পড়তে তিরিশ বছর পেছনের দিকে নজর চলে গেছিল। আমাদেরই এক বরিষ্ঠ বন্ধুসহকর্মী, ডঃ ভি এস রামমূর্তি তখন ভারত সরকারের DST-র চেয়ারম্যান (DST - Department of Science &Technology) পেশায় ছিলেন তিনি একজন experimental Nuclear Physicist. আমাদের কলকাতার সল্টলেকের Cyclotron যন্ত্র (Particle Accelerator) ব্যবহার করে উনি অনেক experiment করে গেছেন। যাইহোক, কলকাতায় আসলেই উনি আমাদের সেন্টারের অতিথিশালায় থাকতেন এবং আমাদের অধিকর্তা সমেত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন সারতেন। এই রকম একটা আড্ডার পরিবেশে একবার আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, দেশের Science technology-র অবস্থা। তাঁর কথাতেই উত্তরটা দিচ্ছি: "You see SK, nobody is interested in science-technology, I think Bengal is the main supplier of Science researchers in this country."

আরও কিছুটা সময় পিছিয়ে যাই।  বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী, E C G Sudarshan একবার  রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের অডিটোরিয়ামে একটা বক্তৃতা দিয়েছিলেন। প্রেক্ষাগৃহ উপচে পড়েছিল। শ্রোতাদের মধ্যে আমিও ছিলাম, যদিও অকপটে স্বীকার করতে বাধা নেই যে, বক্তৃতার সবটাই আমার মাথার ওপর দিয়ে চলে গিয়েছিল। কিন্ত বিখ্যাত মানুষদের চোখে দেখার লোভ আমি কখনোই ছাড়তে পারিনা। পরবর্তীকালে সমর ঝা নামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক ওঁর একটা  ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন যেটি Statesman পত্রিকার পাতায় আমি পড়ি। সেখানে সমর ঝা মহাশয় ওঁকে আমারই মত একটা প্রশ্ন করেন। উত্তরটা ছিল প্রায় ডঃ রামমূর্তির উত্তরের প্রতিধ্বনি। "You see Mr. Jha, In India, mainly Bengalee researchers and researchers from a few pockets of Kerala still believe that they find future and can make their career doing Science. 



## শুধুমাত্র দক্ষিণ কলকাতায় আই এ সি এস, আই আই সি বি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার ছাত্র/ছাত্রীরা পড়া শোনায় ব্রতি। এ ছাড়া, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, প্রেসিডেন্সির  মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপস্থিতি। আরও একটু বৃহত্তর পরিসরে আই আই টি খড়্গপুর, আই আই ই এস টি (আগে বি ই কলেজ নামে পরিচিত), বিশ্বভারতীর বা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।  পশ্চিম বঙ্গের শিক্ষায় কুৎসা যাঁরা করে বেড়াচ্ছেন, আমার ধারণা, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যাপকের পড়াশোনার বহর কতটা দীর্ঘ, সে সম্বোধে আঁচ করতে গেলেও খানিকটা শিক্ষার প্রয়োজন হয়।


Saturday, December 9, 2023

উপলব্ধি

                               উপলব্ধি (১)


আমার কন্যাসমা এবং অত্যন্ত সুরুচিসম্পন্না, স্বাগতা কুন্ডু নামে ফেসবুকের এক বন্ধুর থেকে এই শিরোনাম ধার করে নিলাম। মা স্বাগতাকে, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেকে ছোট করব না। বরং তোমার জন্য রইল আমার আশীর্বাদ। ছোট ছোট অনুভূতিকে এই শিরোনামে প্রকাশ করার ধারাটা আমি তোমার থেকে শিখলাম। আমি মনে করি শেখার কোনও বয়সসীমা নেই। 

"আজকের সমাজে মানুষের প্রাথমিক মর্যাদা তার পোশাকে,মধ্যমানের মর্যাদা তার চলন-বলনে আর অন্তিম স্বীকৃতি তার আর্থিক কৌলিন্যে।"

Tuesday, December 5, 2023

আত্মমর্যাদা/অভিমান


কার না কার সঙ্গে মন কষাকষি করে এসে

অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজে দিচ্ছে ভাসিয়ে

লঘু-গুরু জ্ঞান হারিয়ে নজর নেই,

আশেপাশের সবাই দেখছে চেয়ে চেয়ে।

উদ্দীপ্ত কথার ভঙ্গীতে মনে হ'ল

প্রতিপক্ষ যেন মুখোমুখি দাড়িয়ে।


আত্মসম্মানে আঘাত হানল, অভিমানও হ'ল, 

যে অভিমানী হয়, সে নিজে থেকে দূরে সরে যায়।

কখন যে কোথায় মন চলে যায় !

মুখের ভাষা হারিয়ে যায়,

পরিত্রাণের পথ খুঁজে বেড়ায়, 

তবুও পায় না খুঁজে কোনও নিরাময়।


ভেতরে ভেতরে একটা উৎকন্ঠার দাপাদাপি চলে,

নিজেকেই নিজে অনেক কথা বলে চলে,

তাই বলাটা হয় না উচ্চারণে, বরং নিরুচ্চারে।

আসলে অভিমান, আত্মসম্মান তো অন্তর্জগতের ব্যাপার !

মনে মনে ভেবে নিই, এদের অন্তর্জগৎ বলেই কিছু নেই।

ছায়ার সঙ্গে অভিমান করে জোর করে সম্পর্ক রাখারই বা                                                                    কি দরকার ?



Friday, November 24, 2023

শব্দ বিন্যাসের ক্যালিগ্রাফি

প্রতিবছর জন্মদিনে আমার ছেলে-বৌ আমার পছন্দমতো একটা উপহার দেয়। বই পড়াটা আমার কাছে একটা অন্যতম পছন্দের জায়গা। বইয়ের মধ্যে আবার প্রথম পছন্দ হ'ল বিশিষ্ট মানুষদের জীবনালেখ্য। আর সেই কাহিনী যদি বিজ্ঞানীর জীবন ঘিরে হয়, তা হলে তো আর কথাই নেই। কোন লেখকদের লেখা বই আমার পছন্দের তালিকায়, সে ব্যাপারে আমার ছেলে-বৌ এর সম্যক ধারণা আছে। যাইহোক, এ বছর যে বইটা আমার হাতে এল, সেই লেখকের লেখা প্রায় সব বই আমার সঙ্কলনে আছে বলেই আমি জানতাম। কিন্ত বইটা হাতে পাওয়ার পরে মনে হ'ল এটা আমার পড়া নয়।  


             ৮০ বছর বয়সের উপহার পাওয়া বইখানা 

তার মানে এঁর লেখা বই এখনও বাজারে রীতিমত বেস্ট সেলারের তালিকায় আছে এবং সেটা আমার পুত্র জানতো। বইখানা হাতে পেয়ে মনে মনে ভীষণ খুশী হয়েছিলাম। মলাট উল্টোতেই  দেখলাম জন্মদিনের বয়স, হস্তাক্ষরে উল্লেখ করে তারিখ বসানো আছে। ওই লেখাটা দেখেই আমি একটু ধন্ধে পড়ে গেলাম। হ্যাঁ, ভাল কথা এ বছর আমি ৮০ পার করলাম। সেটাই কায়দা করে লেখা। হস্তাক্ষরের বক্তব্য বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না, আবার কেমন যেন একটা লাগছে ! আমার নাতিভাই আমার বিভ্রান্তি দূর করে দিয়ে বলল, "দাদাই আসলে লেখাটা লেখা হয়েছে Calligraphically - তুমি সেই ভেবে পড়বার চেষ্টা কর, তাহলে বুঝে যাবে।" 



চিত্র ১. হস্তাক্ষরে লেখা Calligraphy:  Happy Birthday কথাটা Calligraphically লেখা হয়েছে। সূক্ষ্ম ভাবে লক্ষ করলে বোঝা যাবে 80 সংখ্যাটির 8 এর নিচের মাকড়িতে একটা প্রচ্ছন্ন  লাইনের আঁচড়ে 8 এবং B এর কাজ একসঙ্গে হয়ে যাচ্ছে। আবার 80-র শুন্য "i" এর মাথার ওপর dot এক করে দেওয়া হয়েছে।

 Calligraphy কথাটা আমার চেনা কথা, কিন্ত তার মানেটা আমার আদৌ জানা ছিল না। যাইহোক, নাতিবাবু বলার পর গুগল অভিধান ঘাটাঘাটি করে কথাটার epistemological meaning, অর্থাত শব্দটার সারসত্তা উদ্ধার করে ফেললাম।

         
       চিত্র ২. ইংরেজি অক্ষরের Calligraphy-র নমুনা

ক্যালিগ্রাফি হ'ল একটি ইচ্ছাকৃত এবং শিল্পশৈলীতে লেখার অভ্যাস যেখানে একটা নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি আছে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হ'ল নানান শব্দবিন্যাসে তৈরি বেশ কিছু বাক্য বন্ধের মধ্যেও ক্যালিগ্রাফি জাতীয় ব্যাপার আছে অর্থাত বাক্যের অর্থ অটুট রেখেও তার সৌন্দর্যায়নে সাহায্য করে। 

চিত্র ৩. বাংলা অক্ষরে লেখা Calligraphy- র নমুনা

অনেক বাক্যের নির্মাণ শৈলীতে একটা ঘটনাকে বেশ উপভোগ্য করে পাঠকের কাছে তুলে ধরা যায়। বাঙালি আটপৌরে জীবনেই মিশে আছে শিল্প ও নান্দনিকতা। শিল্পকলার এক বিশাল ঐশ্বর্য ছড়িয়ে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনের নানান কথার পরিসরে। পরের উদাহরণ গুলোকে আমি কথার calligraphy আখ্যা দিলাম, মানে মূল calligraphy কথাটার একটা সমান্তরাল ব্যবস্থা। সমাজ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা কয়েকটা চমৎকার বাক্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছি :

১. সদ্য সমাপ্ত ICC World Cup প্রতিযোগিতায় ভারতের হারের পরে এমনই একটা "আমরা ভারতীয়রা প্লেটে চা খেতে পারি, কাপ তোরা রেখে দে।"

২. আজ ধনতেরাসে আমি তিনটে সোনা কিনলাম, Amul gold, Marie gold আর Tata tea gold.

৩. একদিন ক্লাস টিচার প্রশ্ন করলেন, যারা নিজেদেরকে বোকা ভাবিস, তারা উঠে দাঁড়া। কেউই উঠে দাঁড়াল না। কিছুক্ষণ পরে মুখে একটা শয়তানি হাসি নিয়ে উঠে দাঁড়াল ক্লাসের সবচেয়ে পাজি ছাত্র বল্টু !!

শিক্ষক: আচ্ছা তাহলে তুই নিজেকে বোকা ভাবিস ? 

বল্টু: স্যার ঠিক তা নয় ; আসলে আপনি একাই শুধু দাঁড়িয়ে আছেন, ব্যাপারটা কেমন দেখাচ্ছে না !! তাই আমিও....

এরকম আরও অনেক কথা আছে যেগুলো রঙ্গ-রসিকতার ছলে অনায়াসে তৈরি হয়ে যায় এবং এটাও এক ধরনের শিল্পচর্চা। 

বলাই বাহুল্য, উদাহরণ গুলো সবই সমাজ মাধ্যম থেকে ধার করা।

নাতি-নাতনির জায়গা অনেকের মতো আমাদের কাছেও একটা ব্যতিক্রমী অবস্থান। নাতিবাবুর জন্য তার সঙ্গে জুড়ল একটু বাড়তি ভালবাসা। ওর কাছে কথাটা শুনেই এই লেখাটার ভাবনা-চিন্তার প্রেরণা পেলাম। সামান্য একটা গবেষণা করে ফেললাম যে কথাটা অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় কি না। জানিনা গবেষণাটা ঠিকঠাক হ'ল কি না। পাঠককুলের কাছে বিনীত অনুরোধ রইল পড়ে দেখার জন্য। পারলে গঠনমূলক সমালোচনা করতে পিছিয়ে যাবেন না।

Wednesday, November 15, 2023


 CHARITY WRAPPED IN DIGNITY
______

Father bought goods from the poor.
The price was pretty high,
But that never bothered him to buy.
The children were amazed to see the charity;
Which made them a bit more fidgety !
Father continued the same practice again and again, 
Buying things without any bargain.
One day children asked Father, why this charity !
He replied, "it's charity wrapped in dignity"
That elevates the morale of humanity.

Saturday, November 11, 2023

নার্গিস মোহাম্মদী, তোমাকে কুর্নিশ

 

 বীরাঙ্গনা নার্গিস
 
কারাগারে বন্দি ইরানের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদী এবং শিরিন এবাদির জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। এঁরা দু'জনে ইরানে নারীবাদের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ;  এঁরা দু'জনেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। শিরিন এবাদি পেয়েছিলেন ২০০৩ সালে এবং নার্গিস পেলেন হালে, ২০২৩ সালে।

ইরানের আইনি ব্যবস্থা মূলত লিঙ্গ বৈষম্যে একপেশে, বিভিন্ন আইন পুরুষদের পক্ষে রয়েছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরে, আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা মহিলাদের জন্য বাধ্যতামূলক পর্দার আড়ালে থাকার আদেশ জারি করে এবং ভ্রমণ, শিশুর হেফাজত, উত্তরাধিকার এবং বিবাহবিচ্ছেদের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে যা সভ্য জগতে নারীদের কঠোর দমনের নীতি হিসেবেই চিহ্নিত করে।

আফগানিস্তানের মতো, ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রধান জোর হল ধর্মীয় পুরুষদের ভাবমূর্তি বজায় রাখা এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা নিশ্চিত করা।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে, ইরানের যৌন বিপ্লব ইরানী নারীদের সাহসিকতার সাক্ষ্য বহন করে। যাঁরা সাহসের সাথে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছিলেন এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সংগ্রামকে মুখোমুখি হতে হয়েছে বড় আকারের নিপীড়ন, কারাবরণ, রাজনৈতিক বন্দীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও সহিংসতা, এমনকি মৃত্যুও।

এমন এক সময়ে যখন নারীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, তাঁরা এখনও ইরানে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁরা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাগত, ভ্রমণ, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য এবং যৌন স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। নারীর ক্ষমতায়নের চেষ্টা করা সত্ত্বেও, সরকার নারী অধিকার কর্মীদের আন্দোলনকে সীমিত করে চলেছে।

গত সেপ্টেম্বরে, ইরানের ইসলামিক পোষাক পরিধানের রীতি-নীতি যাকে বলে ড্রেসকোড লঙ্ঘন করে ঢিলেঢালা হেডস্কার্ফ ব্যবহারের জন্য নীতি-পুলিশ একটি  যুবতী কুর্দিশ মহিলা, মাহসা জিনা আমিনিকে গ্রেপ্তার করে এবং পুলিশ হেফাজতে মেয়েটির মৃত্যু হয়। স্লোগান দিয়ে বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যার শিরোনাম ছিল, "নারী, জীবনের স্বাধীনতা"।

নৃশংস সরকারী দমন-পীড়নের ফলে শত শত মৃত্যু এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার হলেও, এই বিক্ষোভ নারীবাদী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন করেছে।

তারপর থেকে, নারীদের সক্রিয়তা আরও জোরদার, এবং সাহসী পদক্ষেপ নিতে পেরেছে কারণ নারীরা বিশ্বব্যাপী নারীবাদের বর্তমান প্রবণতা সম্পর্কে আরও বেশি অবহিত হবার সুযোগ পেয়েছে। তাঁরা এখন তাঁদের অধিকার এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। ইরানি নারীরা তাঁদের লড়াই ছেড়ে দেবেন এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

Saturday, October 28, 2023

লন্ডন উবাচ

           


                                    লন্ডন উবাচ 

সৈয়দ মুজতবা আলী রচনাবলীর প্রথম খন্ড পড়তে পড়তে প্রায় শেষের দিকে পৌঁছে গেছি। উনি একসময় সত্যপীর ছদ্মনামে আনন্দবাজারের পাতায় ছোট ছোট গল্প লিখতেন। সেই গল্পগুলোর 'সিলেটি সাগা' নামে একটি গল্পের শুরুতেই, উনি এ কথা ও কথার মাঝে পড়তে গিয়ে, দুটি বাক্যে আমার চোখ আটকে গেল এবং স্মৃতির সরণি বেয়ে ৪২/৪৩ বছর পিছিয়ে গেলাম। প্রায় একই রকমের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আমার জীবনেও ঘটেছিল। যাইহোক, ওঁর উদ্ধৃতির অবিকৃত অংশটা আগে তুলে ধরছি -

"..........কথায় বলে, ওট নামক বস্তুটি স্কটল্যান্ডে খায় মানুষ, ইংল্যান্ডে খায় ঘোড়া। কিন্ত ঐ আমলে লন্ডনের পোশাকী খানা স্কটল্যান্ড ঘোড়া পর্যন্ত খেতে রাজি হত না - এই আমার বিশ্বাস। তাই আমি লন্ডনের "লাঞ্চকে" বলতাম "লাঞ্ছনা" আর সাপারকে বলতাম "suffer"

ঠিক একই রকম কথা বহুকাল আগে আমি ইংরেজিতে পড়েছিলাম। আমি ইংরেজিতে যেটা পড়েছিলাম সেটা হ'ল অনেকটা এরকম। 

In fact, asked to define the word "Heaven", someone called it a way of life that would include a British house, an American salary, Chinese food and Indian family. Accordingly,  the word "Hell" Was defined as a state of affairs that subsumes the worst form of the same four cultures - an Indian salary, a Chinese house, British food and an American family. 

প্রায় ৪২/৪৩ বছর আগে আমেরিকা থেকে ফেরার পথে লন্ডনে সংক্ষিপ্ত কয়েকটা দিন, সাকুল্যে দিন চারেক, যখন কাটিয়েছিলাম লন্ডনের পোশাকী খাবার সম্পর্কেও আমার ঐ একই ধারণার কথা মনে হয়েছিল। না আছে স্বাদ, না আছে কোনও মসলা; টেবিলের ওপর সাজানো ছ্যাঁদা করা লম্বাটে ধরনের দুটি বস্তু যার একটির মধ্যে আছে নুন অপরটিতে গুঁড়ো মরিচ। হ্যাঁ, আরও একটা জায়গায় সাদা সস্ জাতীয় কিছু একটা আর একটিতে সর্ষে কাসুন্দি। যাইহোক, ওখানে বাংলাদেশীদের খাবার দোকানের অভাব নেই, ফলে বাকি দুটো দিন বাংলাদেশ শেফের রান্না,  মুখরোচক খাবার খেয়ে মন ভরিয়ে ছিলাম।

ইংরেজি লেখাটার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় :

প্রকৃতপক্ষে, "স্বর্গ" শব্দটি সংজ্ঞায়িত করতে বললে কেউ  কেউ এটিকে এমন একটি জীবনযাত্রা বলে অভিহিত করেছেন যাতে একটি ব্রিটিশ বাড়ি, একটি আমেরিকান বেতন, চীনা খাবার এবং ভারতীয় পরিবার থাকবে। তদনুসারে, "নরক" শব্দটিকে এমন একটি অবস্থা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে যা এই চারটি সংস্কৃতির সবচেয়ে খারাপ রূপকে অন্তর্ভুক্ত করে - একটি ভারতীয় বেতন, একটি চীনা বাড়ি, ব্রিটিশ খাবার এবং একটি আমেরিকান পরিবার।


Saturday, October 21, 2023

Find out the FALLACY

                Find out the fallacy


      Here I'm going to prove that 1 = 2 


Let's assume.        a = b ..........(1)

Then, evidently,   ab=b²

Subtracting from both sides, we get,

           ab - b² = a² - b², Now factoring we get

b(a - b) = (a +b) (a - b), dividing  both sides by

 ( a-b ), we get,  b = a + b, But according to equation (1) a = b

Therefore b = 2b

Dividing both sides by 'b', we have the required result  1= 2

This is impossible, right ??

Find out the FALLACY.


Sunday, October 15, 2023

ডোল রাজনীতি !!

 টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই বিরোধীদের, দল নির্বিশেষে, একটাই কথা - এই সরকার খেলা, মেলা বা উৎসবে টাকা বিলোতে কোনও খামতি রাখে না। অথচ বড় শিল্পে লগ্নির বেলায় জমি, টাকা, বা উদ্যোগের অভাব দেখা যায়। বিরোধীদল গুলো ছাড়াও এগুলো মোটামুটি শহুরে মানুষের কথা। কথাটার মধ্যে কোনও অসত্য নেই।  কিন্ত একটু গভীর ভাবে ভাবলে বুঝতে পারা যায় যে এই পুজোর মরসুমে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক মানুষের প্রায় (৭৫%) সারা বছরের রুটিরুজির একটা সংস্থান হয়। এর পেছনে একটা মস্তবড় অর্থনীতির গূঢ় তত্ত্ব লুকিয়ে আছে। বিরোধী দল বা শহুরে উচ্চবিত্তরা আখ্যা দিয় থাকেন "ডোল রাজনীতী"। মানে বিনা পরিশ্রমে কিছু পাইয়ে দেবার রাজনীতি। যদিও দেরিতে হলেও এ দেশেরই অন্যান্য বেশ কিছু রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পথেই হেঁটেছে। হেরফের শুধুমাত্র টাকার অঙ্কে। পশ্চিমবঙ্গের সরকার ৫০০ টাকা দিলে, অন্য রাজ্যের সরকার সেটা বাড়িয়ে করেছে ১০০০ টাকাপাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি না হলে এই dole politics -এ কোনও ভুল নেই, অন্তত পৃথিবীর তাবড় তাবড় অর্থনীতিবিদরা তাই বলেন। উদাহরণ: কোভিদের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের জায়গা থেকে স্থানান্তরিত করা আটকাতে ভারত সরকারের কাছে, অমর্ত্য সেন এবং অভিজিত বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়ের মতো অর্থনীতিবিদদের নিদান ছিল মানুষের হাতে নগদ টাকার জোগান, প্রয়োজনে নোট ছাপিয়ে। বাজারের চাহিদা না বাড়লে অর্থনীতির চাকাটা ঘোরাবে কে! যাই হোক, সরকার সে কথা কানে তোলেননি যার করুন পরিণতি আমরা সবাই দেখেছি। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ, জন মেনার্ড কেইনস ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। কেইনস-এর তত্ত্বের নির্যাস বুঝে নিতে বিশাল পাণ্ডিত্যের দরকার নেই। যুক্তিগ্রাহ্য মন নিয়ে পড়লে কথাগুলো সহজেই বুঝতে পারা যায়। অন্তত বিজ্ঞানের ছাত্রদের অসুবিধে হবার কোনও কারণ নেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে great depression-এর সময় ওবামা সাহেব কেইনস-এর তত্ত্ব মেনে বেশ কয়েকশ বিলিয়ন ডলার ex-chequer থেকে মঞ্জুর করেন। ফলে বহু মানুষের  চাকরি বাঁচানো সম্ভব হয় তো বটেই এবং তার সুফল পরবর্তীকালে আমেরিকার অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙা করতে সমর্থ হয়।


ফিরে আসি প্রসঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের এই পুজো মরসুমের অর্থনীতির চেহারা বাড়তে বাড়তে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌছে গেছে। ২০২১ সালের শেষ লগ্নে কলকাতার দুর্গাপুজো যখন ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে ঋদ্ধ হ'ল, ইউনেস্কোর নয়াদিল্লির পরিচালক বললেন, এই স্বীকৃতি মাঝারি এবং প্রান্তিক শিল্পী, কারিগর, ঢাকি, ছোট-বড় ব্যবসায়ী, বিক্রেতাসহ বহু মানুষের প্রায় সম্বৎসরের জীবিকা উপার্জনের উৎস হিসেবে কাজ করবে। কাজেই কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের এই অনন্য উৎসবের অমিত সম্ভাবনাকে মন্থন করে অর্থনৈতিক লাভের কথা ভাবা সম্ভব এবং উচিতও। 


আজকের আনন্দবাজারের ৪ নম্বর পাতায় অতনু বিশ্বাসের একটি প্রবন্ধ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে এই লেখাটায় ব্রতী হলাম। তথ্যগুলো ওর লেখা থেকেই নেওয়া এবং দুটো বাক্য অবিকৃত রেখে ওঁর পরামর্শ ছাড়াই ধার করে নিয়েছি।

অজানা আশঙ্কা

 বিগত তিন মাসের প্রতিটা মুহূর্ত একটা অজানা আশঙ্কার মধ্যে কেটেছে আমাদের। আমাদের ছোট্ট পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে কালাতিপাত করেছি। কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবারের গৃহকর্তৃ। অসুস্থতার কোনও না কোনও উপসর্গ তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। চিকিৎসাও চলছিল পাল্লা দিয়ে। যাইহোক, শেষ উপসর্গটি আমাদের ভীষণভাবে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছিল। প্রায় মাসখানেক ধরে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষার ফলাফলে বোঝা গেল যে দেহের কোনও একটি অঙ্গের ক্রিটিক্লাল এক জায়গায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সপ্তাহখানেক আগে ল্যাবরেটরি থেকে পাঠানো সন্তোষজনক রিপোর্ট পেয়ে আমরা সবাই অজানা আশঙ্কার সেই মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তি পেলাম। আবেগ তাড়িত হয়ে লিখে ফেললাম এক টুকরো কবিতা। আসলে ছোট্ট পরিসরে মনের ভাব প্রকাশের চমৎকার বাহন হল আধুনিক কবিতা। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যে দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনার আঘাতে জীবন একটা অর্থহীন শুন্যতায় ভরে ওঠার পরেই, তার থেকে মুক্তি মানুষের মধ্যে বোধহয় নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা আর সৃজনশীলতার উপকরণ যোগায়। এই কবিতাটা তারই ফসল।

________________________


                       আশঙ্কার নিরসন

                        _____________


ভালবাসা হ'ল একটা সাদা ক্যানভাস 


সেটার ওপর যাই আঁকি মেটেনা কখনও আশ।


আবার আঁকি, আবার মুছে সৃষ্টি করি নতুন বিগ্রহ 


জানি ওটা দু'দিন বই তো নয় ;


তবুও মেটেনা মনের সুপ্ত আগ্রহ।


ভালবাসা যেন অনন্ত আকাশ 


কোনও কোনও রাত ঘুমানোর হয়।


ঘুমের মধ্যেই দেখি কত রঙ্গিন স্বপ্ন। 


আবার কোনও কোনও ঘুম হয় স্বপ্নহীন। 


তবে কষ্ট হয় যখন মানুষকে দুঃস্বপ্ন নিয়ে


           জেগে কাটাতে হয় সমস্ত রাত।


তবুও সকাল আসে। 


মেঘ কেটে গিয়ে নীলাকাশে


দেখা যায় রোদের ঝলকানি।


মনের কোনায় কোনায় সেই ঝলক প্রতিফলিত হয়ে


 মনটাকে দীপ্তিময়  করে তোলে।


শেষ হয় সমস্ত অজানা আশঙ্কার।

Saturday, October 7, 2023

আশঙ্কার নিরসন



বিগত তিন মাসের প্রতিটা মুহূর্ত একটা অজানা আশঙ্কার মধ্যে কেটেছে আমাদের। আমাদের ছোট্ট পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে কালাতিপাত করেছি। কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবারের গৃহকর্তৃ। অসুস্থতার কোনও না কোনও উপসর্গ তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। চিকিৎসাও চলছিল পাল্লা দিয়ে। যাইহোক, শেষ উপসর্গটি আমাদের ভীষণভাবে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছিল। প্রায় মাসখানেক ধরে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষার ফলাফলে বোঝা গেল যে দেহের কোনও একটি অঙ্গের ক্রিটিক্লাল এক জায়গায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সপ্তাহখানেক আগে ল্যাবরেটরি থেকে পাঠানো সন্তোষজনক রিপোর্ট পেয়ে আমরা সবাই অজানা আশঙ্কার সেই মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তি পেলাম। আবেগ তাড়িত হয়ে লিখে ফেললাম এক টুকরো কবিতা। আসলে ছোট্ট পরিসরে মনের ভাব প্রকাশের চমৎকার বাহন হল আধুনিক কবিতা। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যে দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনার আঘাতে জীবন একটা অর্থহীন শুন্যতায় ভরে ওঠার পরেই, তার থেকে মুক্তি মানুষের মধ্যে বোধহয় নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা আর সৃজনশীলতার উপকরণ যোগায়। এই কবিতাটা তারই ফসল।

_____________________________________________

                    আশঙ্কার নিরসন 

          

ভালবাসা হ'ল একটা সাদা ক্যানভাস 

সেটার ওপর যাই আঁকি মেটেনা কখনও আশ।

আবার আঁকি, আবার মুছে সৃষ্টি করি নতুন বিগ্রহ 

জানি ওটা দু'দিন বই তো নয় ;

তবুও মেটেনা মনের সুপ্ত আগ্রহ।

ভালবাসা যেন অনন্ত আকাশ 


কোনও কোনও রাত ঘুমানোর হয়।

ঘুমের মধ্যেই দেখি কত রঙ্গিন স্বপ্ন। 

আবার কোনও কোনও ঘুম হয় স্বপ্নহীন। 

তবে কষ্ট হয় যখন মানুষকে দুঃস্বপ্ন নিয়ে

           জেগে কাটাতে হয় সমস্ত রাত।

তবুও সকাল আসে। 

মেঘ কেটে গিয়ে নীলাকাশে

দেখা যায় রোদের ঝলকানি।

মনের কোনায় কোনায় সেই ঝলক প্রতিফলিত হয়ে

 মনটাকে দীপ্তিময়  করে তোলে।

শেষ হয় সমস্ত অজানা আশঙ্কার। 

Tuesday, September 5, 2023

Menace of social media

 Social Media is a platform which reminds of an old proverb, "empty vessels sound much", The way a good number of users, having the slightest knowledge, or No knowledge at all, display flamboyant knowledge in almost all possible fields of human endeavor and their superficial wisdom. It thus exposes the meek nature of acceptance of a good number of people on any subject concerning human life. This is a grave reminder of great George Bernard Shaw quote, "Two percent of people think; three percent of the people think they think; and ninety-five percent of the people would rather die than think."

সমাজ মাধ্যমের ভয়াবহ দিক

সোশ্যাল মিডিয়া হল এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা একটি পুরানো প্রবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়, "খালি পাত্রগুলি অনেক বেশি শব্দ করে", ব্যবহারকারীদের একটা বড় অংশ, যাদের সামান্যতম জ্ঞান রয়েছে বা একেবারেই অজ্ঞ, তাঁরা মানুষের প্রচেষ্টার প্রায় সমস্ত সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বর্ণাঢ্য অথচ ভাসা ভাসা জ্ঞান প্রদর্শন করে পাঠককুলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। এটি মহান জর্জ বার্নার্ড শ-এর উদ্ধৃতির একটি গুরুতর অনুস্মারক, "দুই শতাংশ মানুষ ভাবেন; তিন শতাংশ মানুষ ভাবেন তাঁরা ভাবেন; এবং পঁচানব্বই শতাংশ মানুষ মনে করেন চিন্তা করার চেয়ে মৃত্যুবরণ বরং ভাল।"

Thursday, March 16, 2023

Tyranny of coaching classes

       TYRANNY of COACHING CLASSES 


I just heard a part of a  lecture by NR Narayan Murthy, the creator of INFOSYS, that reads :

"There is NOT a single Indian University of Higher learning in the TOP 250 of the world University of global ranking. 

Even IITs have become the victims of this syndrome.

He further articulated his view in the last line of his talk.

"THANKS TO THE TYRANNY OF COACHING CLASSES."

Educated parents, are you really concerned about it !!

-----------------

 



                   কোচিং ক্লাসের উৎপীড়ন

এইমাত্র ইনফোসিস-এর স্রষ্টা এন আর নারায়ণ মূর্তি মহাশয়ের বক্তৃতার একটি অংশ শুনেছি, যেটার অনুবাদ করলে দাঁড়ায়:

"গ্লোবাল র‌্যাঙ্কিংয়ের বিশ্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ২৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটিও ভারতীয় উচ্চশিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

এমনকি আই আই টি গুলোও বাতিলের দলে

তিনি বক্তৃতার শেষ বাক্যটিতে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আরও সুস্পষ্ট ভাবে প্রকাশ করেছেন:

       "কোচিং ক্লাসের অত্যাচারের জন্য ধন্যবাদ।"

শিক্ষিত অভিভাবকরা একটু ভাববেন কি ??

Thursday, March 9, 2023

নতুন আঙ্গিকে ফটো অ্যালবাম

                   অভিনব ভাবনার ফটো অ্যালবাম 


এ বারের দোলের দিনটা, বিগত ৫১ বছরের দোল পূর্ণিমার থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। দিনটা ছিল ৭ই মার্চ, আমাদের বিবাহের দিন। গত বছর আজকের দিনের রেশটা মিলিয়ে যাবার আগেই উচ্ছ্বাস আবার আমাদের ভাসিয়ে নিয়ে গেল। নাতনির পরীক্ষা সবে শেষ হয়েছে, নাতির অ্যানুয়াল পরীক্ষা চলছে। সেই ভেবে ছেলে-বৌকে বলেছিলাম যে সন্ধ্যেবেলা এ-বাড়িতে মানে ছায়ানীড়-এ চলে আসবি; চা-টা খেয়ে একেবারে রাতের খাবার খেয়ে ফিরে যাবি। নাতিবাবুও  একটু relaxed mood-এ থাকবে। সেই মতো ঠিকঠাক ছিল। ওমা! প্রতি বছরের মতো সকাল সাড়ে দশটায় এবারও সদলবলেই  হাজির, সঙ্গে দু'জনের হাতে দু'রঙের আবিরের প্যাকেট। যথারীতি বাবা-মা'র পায়ে আবির ছুঁয়ে প্রণাম সেরে, বলল, "Happy Anniversary Ma-Baba"; পরক্ষণেই নাতি-নাতনির সংযোজন, "Happy Anniversary Dadai-Amma". পরের মুহূর্তটার জন্য ঠিক মানসিক প্রস্তুতি ছিল না " তোমাদের দু'জনের ৭ই মার্চের উপহার। আমি একটা কপট বিরক্তির সুরে বললাম, "এ-বয়সে এত বড় একটা ব্যাগ কোন কাজে লাগবে !" ওরা সমস্বরে বলল, "খুলেই দেখনা"।

প্রথমেই বলে রাখি যে আমার মতাদর্শের মানুষের প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা ছোট ছোট চাওয়া-পাওয়ার মধ্যেই। অথচ প্রায় সব মানুষের মধ্যেই সব কিছু পাওয়ার জন্য কী প্রচন্ড ছুটোছুটি। সে কারণে আজকের সমাজের সঙ্গে নিজস্ব কল্পিত সমাজকে ঠিক মেলাতে পারিনা। অনেক দামি উপহার নিয়ে খুসী থাকা আমার একেবারেই অপছন্দ। যথার্থ কারণেই একান্নবর্তী পরিবারগুলো ভেঙে গিয়ে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির জন্ম হয়েছে। ভাল কথা। কিন্ত ছোট ইউনিটের প্রত্যেকটি, মূল পরিবারের নিয়মগুলোকেও এমনভাবে পরিবর্তন করে ফেলেছে যে মনে হয় আজকের সমাজের কোনো গোটা চেহারা নেই, সে খন্ড, ছিন্ন, টুকরো টুকরো।পারস্পরিক মূল্যবোধ তলানিতে এসে ঠেকেছে। আমি ওই টুকরোগুলোর একটা ভগ্নাংশমাত্র। এটুকুই বলতে পারি এ সমাজ হালভাঙা, খাপছাড়া।

আত্মীয় পরিজন সবাইকার সাথে আমার সামাজিক আদান-প্রদান আছে। কিন্ত তবুও কে জানে কোথাও একটা দূরত্ব আছে। কোথাও একটা অনন্ত ব্যবধান। সেটাই ধরা পড়ে যায় সামাজিক অনুষ্ঠানে। আসলে একমাত্রিক পরিচয় আমাদের বড়ই প্রিয়। কিন্ত মূর্খ মানুষগুলো জানে না যে সেই পরিচয়ের ব্যাপ্তি কোনোদিন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

আজকাল যে কোনও অনুষ্ঠান বাড়িতে, বিশেষ করে তথাকথিত আত্মীয়স্বজনের অনুষ্ঠানে যাওয়া মানে একটা বিড়ম্বনা। নিমন্ত্রণ করার ধরন, নিমন্ত্রণ পত্রের চাকচিক্য থেকে শুরু করে ভূরিভোজের আয়োজন পর্যন্ত একেবারে ত্রুটিহীন, বরং একটু বাড়াবাড়ি রকমের ত্রুটিহীন। ত্রুটি শুধুমাত্র আপ্যায়নের জায়গায়। অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি তো দূরের কথা, বৃহত্তর পরিবারের বৃত্তে অগ্রজ বলে যাঁরা র্স্বীকৃতি পেয়েছেন, নিমন্ত্রণপত্র পত্র পাবার আগে পর্যন্ত, অনুষ্ঠানের আসরে পৌঁছেই তাঁরা বুঝতে পারেন তাঁদের গুরুত্ব ওই আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণপত্র পাওয়া পর্যন্তই। অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্তি কেবল নিজেদের ছোট্ট গন্ডীর সস্যদের মধ্যেই। অন্তত আজকের আধুনিক যুগের মোবাইল ক্যামেরার ঝলকানি যখন সব কিছুই বন্দি করে রাখতে সক্ষম, আর সেই ক্যামেরার ছবিগুলো যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সাক্ষী বয়ে় বেড়ায় তখন আন্তরিকতার নিরিখে নিজের অবস্থান বুঝতে অসুবিধে হয় না।  আর সেখানেই আলাদা আমাদের ছেলে-বৌ। নিজেদের অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিত অতিথিদের সর্বদা তাদের তীক্ষ্ণ নজর। কারণ খাওয়া-দাওয়া ছাড়াও অতিথিদের সবাই যে ওই অনুষ্ঠানের  অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ- সেই অন্তর্ভুক্তির উপলব্ধি, যাকে বলে sense of inclusivity, সেটা তাদের মধ্যে সব সময় কাজ করে চলে। এটা ওদের আমরা কোনোদিন শিখিয়ে দিইনি, শৈশব থেকে  বড় হয়ে ওঠার পরিবেশ থেকে সেগুলো ওরা সংগ্রহ করে নিয়েছ এটাই দস্তুর হওয়া উচিত বলেই আমার মনে হয়। আসলে এটাকেই বলে পরম্পরা।


অ্যালবামটা হাতে পেয়ে মিঞা-বিবি, দু'জনে মিলে মনের আনন্দে  বেশ কয়েকবার খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে  মনে হল ভেতরের ছবিগুলোর বিন্যাসের ব্যবস্থা, অনেক পরিশ্রম এবং ভাবনা চিন্তার ফসলে পরিপুষ্ট। পরে জিজ্ঞেস করে জেনেছি যে ওরা দু'জন ছাড়াও নাতিবাবু, পরীক্ষার পড়া করার ফাঁকে ফাঁকে এ ব্যাপারে মা-বাবাকে অনেক সাহায্য করেছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের সংখ্যা ছিল কম-বেশি ২০০ জন। প্রত্যেকটি ছবিতে যে মুখগুলো দেখা যাচ্ছে তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে মনে হবে তাঁদের উদ্দেশ্যেই অর্থাত তাঁদের গুরুত্ব দিয়েই ছবিগুলো তোলা হয়েছে। কারণ ফোকাসে একমাত্র তাঁদেরই উপস্থিতি, বিক্ষিপ্ত দূরে কেউ দাঁড়িয়ে বা বসে আছেন, তেমন নয়। কাজেই বুঝতে অসুবিধে হয় না যে অতিথি আপ্যায়নে ওরা কোনো ত্রুটি রেখেছিল। এমনটাই তো হওয়া উচিত। এই লেখাটা ওদের উৎসর্গ করেই লেখা এবং একই সঙ্গে আমাদের দু'জনের তরফ থেকে চমৎকার একটা উপহার গ্রহণের স্বীকৃতির দলিল। বাড়িতে ভবিষ্যতে যাঁরা আসবেন, তাঁদের সবাইকে উপযাচক হয়ে অ্যালবামটি দেখিয়ে মুখ মিষ্টি করিয়ে বিদায় জানাবো। বলাই বাহুল্য, ছেলে-বৌ এর নামে প্রশংসা কুড়োবার অভিপ্রায়ে নয়। এই অ্যালবামটা আসলে আমাদের কাছে একটা অমূল্য অলঙ্কার। 

Monday, March 6, 2023

"Holy" Holi

                           "Holy" Holi


It ushers the arrival of spring,

Announces dawns with cukcoos singing. 

It's the day of friendship 

And mending of chasms and broken.                                                 relationships

A celebration to forget mutual grievances,

and smearing of colors on each others' faces.

It's the day when people forget age barriers,

and fill their heart, drenched in colors.

It's the day when colors run riot,

as they come out of sprinklers jet.


It reminds the eternal love of Radha and                                                             Krishna

That fills the day with enchanting charisma.










 


        '                     It's the b'day of Chaitanya Mahaprabhu, 

                          the great spiritual icon

Followers revere him as another Krishna,

                       with similar mood and complexion.

Everyone waits for this day of the year,

and the all-round merriment reigns

                                           the atmosphere. 

Yes, it's Holi, the great Holi, the festival of.                                                                     colors,

Shades of "Abir" fills the air with fragrance

                                                          of flowers.

Colors fill the mind, colors fill the air,

Colors fill the horizon, colors everywhere. 

                           Welcome Holi welcome,

with your spectrum of spectacular colors,

it's awesome, indeed it's awesome.



Saturday, March 4, 2023

এথিক্স বা নীতিশাস্ত্র

                        এথিক্স বা নীতিশাস্ত্র


নীতিশাস্ত্র 
এমন একটা বিষয় যা একজন ব্যক্তির বা কর্পোরেট জগতের মতো বৃহত্তর গোষ্ঠীর আচরণ বা কার্যকলাপ পরিচালনা করে।

আজকের পৃথিবীর প্রায় সর্বক্ষেত্রেই, ব্যাপকভাবে নেতিবাচক কার্যকলাপে বিদীর্ণ: ব্যাপক দুর্নীতি, জালিয়াতি, আর্থিক কেলেঙ্কারি থেক শুরু করে জাতীয় সম্পদের পাচার, মানব পাচার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, লিঙ্গ বৈষম্য, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ধ্বংস, বিশ্ব উষ্ণায়ন; ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এই গ্রহের মানুষ প্রকৃতি ও পরিবেশের আজ সবচেয়ে বড় ধ্বংসকারী। মানুষের অস্তিত্ব, শান্তি এবং পরিশেষে বিশ্বের বেঁচে থাকা আজ নিজেই হুমকির মুখে।কেন এই সুন্দর পৃথিবীতে এটা ঘটানো হবে? গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, এসবের মূল কারণ হলো নৈতিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতার সম্পূর্ণ ভাঙ্গন।

যেহেতু ভারতের মতো দেশের অর্থনৈতিক রূপরেখা বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ মাথায় রেখেই চূড়ান্ত করা হয়, কর্পোরেট দুনিয়ার হাতে গোনা গুটিকয়েক মানুষ, দেশের তথা সমাজের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কান্ডারীর ভূমিকা পালন করেন। বলাই বাহুল্য, কর্পোরেট দুর্নীতিই হ'ল এদেশের যাবতীয় অর্থনৈতিক দুর্নীতির উৎসস্থল। তাঁরা তাঁদের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য, রাজনৈতিক-পুলিশ-অপরাধী ~ এই ত্র্যহস্প্রশের কায়েমী স্বার্থের সম্পর্ক ব্যবহার করে, এবং রাজনীতিবিদ এবং সরকারী কর্মকর্তাদের ক্রয় করে। এই ব্যবস্থা ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে, সব দেশের জন্য প্রযোজ্য, এমনকি এই গ্রহের ধনীতম দেশ আমেরিকার জন্যও। আমেরিকার একটা পরিসংখ্যান দিলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারা যাবে। ওদেশে প্রতি ১০০ জন ষানুষের জন্য বরাদ্দ ১১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র। কারণ ঐ দেশটির কর্পোরেট জগতের কুশীলবরা হ'ল  হয় মূলত অস্ত্র ব্যবসায়ী, নয় ওষুধ ব্যবসায়ী অথবা পেট্রপণ্য ব্যবসায়ী। তারাই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং এদের কায়েমী স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে গরীব দেশের মতো ওদেশের বা পশ্চিমী অন্যান্য দেশের মানুষজনের তো গরিব দেশের মানুষের মতো এমন দৈন্যদশা নয়! একেবারেই অকাট্য প্রশ্ন। তফাত এক জায়গাতেই, তা হল অর্থনৈতিক দুর্নীতি ওখানে ব্যাপক আকার ধারণ করেনি, কারণ নিয়ম কানুন খুবই আঁটোসাটো এবং সর্বস্তরেই প্রসাশনিক নিয়ন্ত্রণের স্বাধীন প্রভাব। ফলে দুর্নীতি করতে হলেও অনেক ছাঁকনির মধ্যে দিয়ে দুর্নীতির শিকড়কে গলে যেতে হবে। দুর্নীতির কারবারিদের এত দম নেই! তাঁরা  Physics এর নিয়ম মেনে path of least action- এর পক্ষপাতি। আমাদের মতো দেশে সেই পথটা হ'ল সরাসরি ওপরের সারির ২/১ জনের শরণাপন্ন হওয়া।

এদেশে যখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তখন স্টেকহোল্ডার অর্থাত ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষরা নিজের স্বার্থেই পাল্লা দিয়ে আরও বেশি সচেতন হচ্ছে এবং ব্যবসার সমস্ত কিছুকে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। এছাড়া ব্যবসাগুলোর নৈতিকতার দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করার জন্য শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ, দেশের শাসক, সরকারের বিরোধীগোষ্ঠী, এমনকি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান চাহিদা বেড়ে চলেছে। 

এ ব্যাপারে বিখ্যাত কয়েকজনের উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে। পাঠকের কাছে সেগুলো তুলে ধরছি।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অন্যতম দার্শনিক, ইমানুয়েল কান্ট বলেছিলেন যে এই বিশ্বে বা বাইরের জগতে 'বিশুদ্ধ শুভেচ্ছা' ছাড়া কোনও নীতিবোধ নেই যা ব্যক্তিগত নিঃশর্ত দায়িত্ববোধের বাধ্যতামূলক আচরণ থেকে আসে। কান্টের মতে, চার্চ বা ঈশ্বরের কাছে কোনটি তাঁর সঠিক, কোনটিই বা ভুল তা বলার প্রয়োজন নেই। মানবিক মর্যাদা, যৌক্তিকতার ধারাবাহিকতা, সার্বজনীনতা, কর্তব্য, নিঃশর্ত ভালবাসা এবং সদিচ্ছা কান্টিয়ান নীতিশাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য। 

নৈতিক মূল্যবোধগুলি যুক্তিযুক্ততা, বিনম্রতা এবং কৃতজ্ঞতার অনুভূতিকে সম্মান করে। যতক্ষণ না একজন ব্যক্তি, তাঁর নিজের ক্ষুদ্রতম সত্ত্বা উপলব্ধি করে এবং বুঝতে না পারে যে সে তার এইটুকু অস্তিত্বের জন্যও কীভাবে অন্যের কাছে ঋণী, সে নৈতিকতাকে জীবনের দর্শনে পরিণত করার জন্য প্রয়োজনীয় নম্রতা বিকাশ করতে পারে না।

আলবার্ট আইনস্টাইন, মহান বিজ্ঞানী-দার্শনিক, তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনে মানুষের কাছে কৃতজ্ঞতা বোধের স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন, দ্য ওয়ার্ল্ড  অ্যাজ আই সি ইট (মূলত জার্মান ভাষায় লেখা), তাঁর লেখা বইটিতে, আইনস্টাইন লিখেছেন: "প্রতিদিন একশবার আমি নিজেকে মনে করিয়ে দিই যে আমার অভ্যন্তরীণ এবং বাইরের জীবন, জীবিত এবং মৃত অন্য পুরুষদের শ্রমের উপর নির্ভর করে এবং আমাকে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে যাতে আমি যেভাবে পেয়েছি এবং এখনও পাচ্ছি সেই পরিমাপে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমি সাধারণ জীবন যাপনের পক্ষপাতী এবং প্রায়ই এই অনুভূতি দ্বারা নিপীড়িত হই যে আমি আমার সহকর্মীদের শ্রমের অনেকখানি আত্মসাৎ করছি নিষ্প্রয়োজনে।"

আইনস্টাইন আমাদের অস্তিত্ব এবং মানব জীবনের উদ্দেশ্যে বলেছেন: ~ পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী এবং আশ্চর্য হয়েছিলেন এবং নিশ্চিত ছিলেন যে আমরা নিজেদের জন্য নয়, অন্যদের জন্য বিদ্যমান। তিনি লিখেছেন: কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে, গভীরে না গিয়ে, আমরা আমাদের সহপুরুষদের জন্য বিদ্যমান ~ প্রথম স্থানে যাঁদের হাসি এবং কল্যাণের উপর আমাদের সমস্ত সুখ নির্ভর করে এবং একই সঙ্গে তাঁদের জন্যও যাঁরা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের কাছে অজানা; যাঁদের ভাগ্যের সঙ্গে আমরা সহানুভূতির বন্ধনে আবদ্ধ"। বিখ্যাত মানুষদের এই উক্তিগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসাম্যের বিরুদ্ধে তাঁদের বিদ্রোহের ইঙ্গিত। 

আব্রাহাম লিংকন একবার উল্লেখ করেছিলেন, পুঁজি হল শুধুমাত্র শ্রমের ফল, এবং শ্রম যদি প্রথম না থাকত তাহলে তা কখনোই থাকত না।

ডক্টর বি আর আম্বেদকর 25 নভেম্বর, 1949-এ তাঁর সমাপনী বক্তৃতায় সতর্ক করেছিলেন, "আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে কতদিন সমতাকে অস্বীকার করতে হবে? যদি আমরা এটি খুব বেশি সময় ধরে চালিয়ে যাই, তাহলে আমরা কেবল আমাদের রাজনৈতিক গণতন্ত্রের মধ্যে রেখেই তা করব৷ আমাদের এই দ্বন্দ্বকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দূর করতে হবে, অন্যথায় যাঁরা বৈষম্যের শিকার, তাঁরা একদিন এত পরিশ্রম করে গড়ে তোলা গণতন্ত্রের এই কাঠামোকে ধ্বংস করে দেবে।  

নীতি ও নৈতিক মূল্যবোধের অনিয়ন্ত্রিত অবক্ষয়ের কারণে আমরা অহরহ আজ উদ্বেগের মধ্যে কটাচ্ছি। মানুষের দুর্বলতার আধিক্য প্রকাশ পেয়েছে।  ভারতবর্ষের সাফল্যের তালিকাটা খুব খারাপ না হলেও ভাল  করে লক্ষ করলে বোঝা যাবে যে এই সাফল্যের শরীর জুড়ে অনেক ক্ষত। আমরাও যে ব্যক্তিগত ক্ষমতার স্বপ্নপূরণের অংশীদার হতে চেয়ে আত্মঅবলুপ্তির ইচ্ছা করতে থাকছি অহরহ, যাকে বলে one upmanship, প্রেক্ষাপট রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংসারিক- যাই হোক না কেন, সেটা স্পষ্ট। 

একটি বিষণ্ণ ছবি আঁকা কিছু অনৈতিক বিষয় এবং অনুশীলন যা ব্যবসা এবং কর্পোরেটকে কলঙ্কিত করে তা দিবারাত্র টেলিভিশনের পর্দায় ভেসে উঠছে আর তাই নিয়ে অপযুক্তি এবং তার উল্টো প্রত্যুত্তর প্রমাণ করে চলেছে যে আমরা এক লোভী এবং নিষ্ঠুর বিশ্বে বাস করছি। অবশ্য সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের লাভ হল যে এই ব্যাপারগুলো সম্পর্কে আমরা সচেতন হচ্ছি যাতে ভবিষ্যতে প্রতারণার শিকার না হই। ভাল কর্পোরেট শাসনের জন্য সরকার আইন প্রণয়ন করেছে এবং নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁরা তাঁদের কাজ যদি করে যান, তাহলে সাধারণ মানুষের হয়রানি হয় না।

কিন্তু সরকারই যদি  নিজেদের "লাভের সর্বাধিকীকরণ"এর জন্য নিজের দেশের মানুষকে প্রতারণা করে চলে, তাহলে সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি অনিবার্য।

যে কোন কর্পোরেট বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যেহেতু ব্যক্তির একটি সংস্থা ছাড়া আর কিছুই নয়, তাই ব্যক্তির নৈতিকতা বা নৈতিক মূল্যবোধের প্রশ্নটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি রাখে। একটি দেশের গৌরব পরিমাপ করা হয় জনসংখ্যার আকার দিয়ে নয়, তার গুণ বা চরিত্র দিয়েএকটা পরিবারের জন্যও একই নিয়ম খাটে। যেমন একটা ছোট্ট পরিবারের বাবা মা ছেলে মেয়ে~ সবাই মস্ত পন্ডিত এবং রীতিমত স্বচ্ছল পরিবার, কিন্ত সবাই ভীষণভাবে অনৈতিক এবং পক্ষপাতদুষ্ট। এমনকি ছোট্ট পরিবারটির সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেও সব সময় একটা ঠান্ডা লড়াই চলছে। পৃথিবীকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে আজ আমাদের অটুট নৈতিক সততার লোকদের প্রয়োজন। তার প্রথম ধাপটা শুরু হয় পরিবার থেকেই।

আধ্যাত্মিকতা ছাড়া জীবন সুখী ও শান্তিময় হতে পারে না। আমাদের বস্তুগত উন্নতির প্রয়োজন অনস্বীকার্য কিন্ত  আধ্যাত্মিক উন্নতির পরিসরকে বাদ দিয়ে নয়; যার অর্থ মানুষের মধ্যে দেবত্বের উপলব্ধি। ভারত ঋষিদের দেশ, আধ্যাত্মিকতার দেশ; ত্যাগ, প্রেম, করুণা ও সেবার দেশ।আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে উচ্চ আদর্শ পেয়েছি। সেটা বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।





 

Wednesday, March 1, 2023

Poem on Russo-Ukraine war



 US President Joe Biden made an unannounced visit to Ukraine Monday, February 20, to meet with President Volodymyr Zelensky, a gesture of solidarity that comes days before the one-year anniversary of Russia's invasion of the country. I saw his speech in the BBC world News

"One year later, Kyiv stands," Biden said. "And Ukraine stands. Democracy stands. The Americans stand with you, and the world stands with you." Biden spent more than five hours in the Ukrainian capital, consulting with Zelensky on next steps, honoring the country’s fallen soldiers and meeting with US embassy staff in the war-torn country.


 Russo-Ukraine war

The connected events in the form of a verse 


The first world war happened;

The league of Nations was created hurriedly.

Powerful Nations agreed on several treaties,

To ensure lasting peace.

And the world breathed a sigh of relief;

          Alas! The organization failed miserably.

The longer the Russo-Ukraine war goes on,

the further the hope of peace is pushed away.

The war is not just 

making two warring Nations bleed 

It's the sole purpose of misadventurism 

                        of US-led NATO indeed. 

And the high hope of post-covid boom,

have given way to terrible gloom.

Inflation grew exponentially, 

The scale of poverty is set to rise phenomenally.

War and destruction

are not new phenomenon

to our civilization 

Time and again, we promise ourselves,

We'll not embark on wars again

but soon we seem to forget 

and get embroiled in them.

often, I wonder what'll happen to our leaders

who flaunt their strength and arrogance and 

unleash acts of hegemony, 

rather than ensuring for humanity 

To live with peace and harmony.

For humanity To live without agony.

Monday, February 27, 2023

বন্ধুত্বের বাঁধন

   


                        বন্ধুত্বের বাঁধন

জুলাই মাসের ৩০ তারিখ "আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব দিবস হিসেবে স্বীকৃত"  কিন্ত বন্ধুত্ব উদযাপনের কি আদৌ কোনও নির্দিষ্ট দিন হয়? শোলে  সিনেমার সেই বিখ্যাত গান— ‘ইয়ে দোস্তি, হম নেহি তোড়েঙ্গে' আজ আবার মনকে উত্তাল করল। তিন বছর পরে আবার আমরা বন্ধুরা- প্রণব,আশিস, দেবু এবং অবশ্যই আমি, সবাই সস্ত্রীক রাণার বাড়িতে meet করলাম। উদ্যোগটা রাণারই। খাওয়া-দাওয়া তো হলই, কিন্ত যেটা পরম প্রাপ্তি তা হ'ল ছকভাঙা নির্ভেজাল আড্ডা।  এ বয়সে অনেক অনিয়মও হ'ল। কিন্ত শরীরের ওপর এর কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখতে পেলাম না। পাঁচ ঘন্টা যে কোথা দিয়ে কেটে গেল, সত্যিই বুঝতে পারলাম না। আসলে আমাদের বন্ধুত্বের বয়স ছয় দশক পার হয়ে গেল। বন্ধুত্বের আর একটা নাম হ'ল ধারাবাহিকতা; বুঝতে পারলাম বন্ধুত্ব এক অদ্ভুত রসায়নের নাম। একবার শুরু হলে বিক্রিয়া চলতে থাকে, হয়তো আজীবন। শুধু আনন্দ নয়, বন্ধুত্ব আসলে দুঃখের দিনেরও অবলম্বন; শোক, তাপ থেকে বেরিয়ে আসার উত্তরের জানলা। বন্ধুত্বের স্বাদ যৌবনে একরকম, অনেক সময়েই লাগাম ছাড়া উদ্দাম, আবেগাশ্রিত। সেই বয়সে পাক ধরে যখন বার্ধক্যে উত্তীর্ণ হয় তখন তার বাঁধন একটা অন্য মাত্রা পায়। আসলে বয়স বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শরীর-স্বাস্থ্য ভাঙতে থাকে। শরীর কমজোরি হয়ে পড়ে, ফলে অজান্তেই মনের মধ্যে একটা নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে চলে। তাই হয়তো বন্ধুত্বের বাঁধন দৃঢ় হয়; আমরা পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সবল মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বন্ধুত্ব আবশ্যিক এক ‘ড্রাগ’। বন্ধুত্ব বদলে দেয় জীবনশৈলী, জীবনে আনে ইতিবাচক পরিবর্তন। ছ'দশকের পুরোনো বন্ধুত্ব নিঃশর্ত নির্ভেজাল বন্ধুত্ব। এই সত্যিটা আজ আবার নতুন করে মনে করিয়ে দিল। ওঠবার আগে অনুপ আর রামনন্দনকে ভিডিও কল করে ধরা হ'ল। আবার সেই রাণার উদ্যোগেই। মানতেই হবে আধুনিক ডিজিটাল যুগে এ এক পরম প্রাপ্তি। আজকের দিনটাকে নথিভুক্ত করে রাখার জন্যই বাড়ি ফিরেই ব্লগে লিখে ফেললাম। একটু বাদেই পোস্ট করে দেব।






Monday, February 13, 2023

পুস্তক পরিচয়

                               পুস্তক পরিচয়


দীপঙ্কর চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের, "তবু পেশাগত  গবেষনার মধ্যে তাঁকে পাওয়া যাবে না" ০৯/০৯/১৯৯৫ তারিখের  আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি। ভাইকিং প্রকাশিত সদ্য প্রয়াত নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ভারতীয় বিজ্ঞানী, এস চন্দ্রশেখরের  লেখা, "ট্রুথ অ্যান্ড বিউটি"  বইটির পর্যালোচনা করতে গিয়ে দীপঙ্করবাবু শেষের দিকে দু'একটি অনাবশ্যক বাক্য সংযোজন করেছেন, যার মধ্যে না আছে বিউটি না পুরোপুরি ট্রুথ। বইখানার চতুর্থ অধ্যায়ে নাকি বিজ্ঞানী চন্দ্রশেখর ফরাসী গণিতজ্ঞ, পোঁয়াকারের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, বিজ্ঞানী যে প্রকৃতিকে অধ্যয়ন করেন সেটা এই কারণে নয় যে ব্যাপারটা মানুষের কাজে লাগে। বরং এই কারণে যে এতে তিনি আনন্দ পান। দীপঙ্কর বাবুর সংযোজন, "কথাটা মনে রাখার মতো। কারণ এদেশে ছেলে-বুড়ো, সকলের মুখেই আমরা ক্রমাগত বিজ্ঞানের উপকারিতা (অথবা অপকারিতার) কথা শুনে থাকি। ওগুলো আসলে ইঞ্জিনিয়ার এবং ব্যবসায়ীদর কথা ('সাথে টু পাইস ভি আসবে'),বিজ্ঞানীর নয়।"

আসলে পোঁয়াকারে, চন্দ্রশেখর বা ঐ স্তরের বুদ্ধিজীবী মানুষদের গবেষণার ধারণাকে বলা হয় কিউরিওসিটি ড্রিভেন রিসার্চ, যে সব কিউরিওসিটি বা অনুসন্ধিৎসার  শিকড় চারিয়ে গেছে মননশীলতার অনেক অনেক গভীরে। নিজস্ব প্রতিভা এবং ধারাবাহিক কঠোর অনুশীলনের মধ্যে দিয়ে তাঁরা কিউরিওসিটিকে পোষ মানিয়েছেন। তাঁরা এটাও জানেন যে এই জাতের রিসার্চের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ব্যবহারিক বিজ্ঞানের নানান ধরনের বীজ  যা দক্ষ হাতের লালনপালনে একদিন ফল দেবে এবং সেটা মানুষের উপকারে আসবে। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এভাবেই হাত ধরাধরি করে চলে। তাছাড়া ঐসব ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষেরা পেশাগত উন্নতির চূড়ায় পৌঁছে তাঁদের উপলব্ধির কথা বলেছেন। সুতরাং তাঁদের আনন্দ ও উপলব্ধির মৌলিকতা আর যে কোনও দেশের রাম, শ্যাম, যদু বা দীপঙ্কর বাবুদের মতো দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির স্বভাবসিদ্ধ স্বয়ম্ভু আত্মম্ভরি বিজ্ঞানীদের বাস্তববর্জিত বিজ্ঞান সাধনার আনন্দস্ফূর্তি এক জিনিস নয়। গুটিকয়েক ব্যতিক্রম বাদ দিলে শেষোক্ত শ্রেণীর সিংহভাগ বিজ্ঞানীর আনন্দ সীমিত থাকে প্রথম সারির মানুষদের সূত্র ধরে হিসেব-পত্র করা কিছু গবেষণাপত্র প্রকাশনার মধ্যে। স্বপক্ষ যুক্তি হিসেবে পল ডিরাকের একটি সরস মন্তব্যের অবতারণা করছি : "....It was a good description to say that it was a good game, a very interesting game one could play. Whenever one solved one of the little problems, one could write a paper about it. It was very easy those days for any second-rate physicst to do first rate work...." কাজেই এটা খুবই পরিষ্কার যে, মননশীলতার রকমভেদে প্রকৃতি অধ্যয়নের আনন্দেরও রকমভেদ আছে। হাইজেনবার্গের ম্যাট্রিক্স মেকানিক্স আবিষ্কৃত হওয়ার অব্যবহিত পরেই সেটাকে ব্যবহার করে অনেক বিজ্ঞানী ছোটখাট বহু সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে পান। আমার মনে হয় তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো নিজেকে হাইজেনবার্গ  ভেবে বসেছিলেন তাই বোধহয় ডিরাকের ওই সরস মন্তব্য। যাইহোক, এ দেশের কচিকাঁচা থেকে শুরু করে ছেলে-বুড়ো-সবাই ক্রমাগত বিজ্ঞানের উপকারিতার কথা যে যানতে চান, তার কারণ, বোধহয় তাঁরা আজীবন শুনে আসছেন, "বিজ্ঞানের সাধনার ফসল সাধারণ মানুষের জীবনের মানকে উন্নত করে। দেখে শুনে তাঁরা ধন্ধে পড়ে যান যে বিজ্ঞান সাধনার আনন্দে মশগুল বিজ্ঞান সাধকরা ঘনঘন দেশে-বিদেশে ঘুরে সেমিনার সভা এবং পকেট গরম করে নিজেদের বেশ রসেবশেই রেখেছেন, অথচ দেশের সাধারণ মানুষের সার্বিক হাল যেখানে ছিল, তার থেকে আরও অনেক নেমে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তথ্যানুযায়ী মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index) বলছে যে ১৭৪ টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১৩৪।

আলোচনা করা যাক ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ীদর কথায়। টু-পাইসের জন্য ইঞ্জিনিয়ার বা ব্যবসাদার হবার দরকার আছে কি ? ভাল নম্বর পাইয়ে দেবার প্রচেষ্টায় পাড়ায় পাড়ায় যে সব প্রাইভেট কোচিং সেন্টারগুলো গজিয়ে উঠেছে, সেগুলো কি নিঃস্বার্থ বিদ্যা বিতরণের জন্য ? যাইহোক, এর মধ্যে অন্যায়ের কিছু দেখছি না। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী মানুষ টু-পাইস করবে, এর মধ্যে বলার ই বা কী আছে ! আর তাছাড়া কমার্সিয়াল ওয়ার্ল্ডের ভোগবাদী অপন্ডিত মানুষরা যখন প্রকৃতি অধ্যয়নের গরিমময় সৌন্দর্য ও আনন্দ থেকে বঞ্চিত, তখন তাঁদের একটা কিছু নিয়ে তো থাকতে হবে। তাই শিল্প-বাণিজ্যের চাকা সচল রাখার দায়িত্ব তাঁরাই নিয়েছেন। কারণ সেটি না করলে এদেশের কাতারে কাতারে পন্ডিতদের বাস্তব বর্জিত মৌল বিজ্ঞান অধ্যয়নের আনন্দের খোরাক আসবে কোত্থেকে ? আসলে তথাকথিত বিজ্ঞান মনস্ক উচ্চশিক্ষিত এক ধরণের মানুষের মধ্যে দু'দুটো কাল্পনিক সত্ত্বা সহাবস্থান করে। উন্নততর সম্প্রদায়ভুক্ত মনে করে তাঁরা নিজেদের গুটিয়ে এনেছেন এমন একটা বৃত্তের মধ্যে যেখানে তাঁরা এক একজন মনে করেন আইনস্টাইন। আবার কর্পোরেট পৃথিবীর ব্যস্ততা আর গ্ল্যামারের মোহকেও উপেক্ষা করতে পারেন না। সেখানেও তাঁরা এক একজন রুশী মোদী। আমার মনে হয় এটা এক ধরনের বিকার যাকে বলা হয় অ্যালবার্ট-মোদী সিনড্রোম। 

যাইহোক, একটা উঁচু জাতের ব্যবসার পথ আমার জানা আছে, যেটা একমাত্র বিজ্ঞানীরাই করতে পারেন। পৃথিবীর বিখ্যাত বেশ কিছু বিজ্ঞানীরা আজকাল পপ্যুলার সায়েন্সের বই লিখছেন, যেগুলো বেস্ট সেলার লিস্টের তালিকাভুক্ত থাকছে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর এবং তাদের কাটতিও হাজারে হাজারে। দুরূহ বিজ্ঞানকে চিন্তাশীল অবৈজ্ঞানিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য তাঁদের শতকোটি প্রণাম। বিজ্ঞানকে তাঁরা মনোপলি বলে ভাবেননি। তবে নিজেদের সৃষ্টির ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা তাঁরাও ভেবেছেন বৈকি। স্বপক্ষ যুক্তি হিসেবে Stephen Hawking-এর একটি মন্তব্য পাঠকের কাছে তুলে ধরছি। Hawking সাহেবের লেখা A brief history of time বইটির Acknowledgement-এ উনি মন্তব্য করেছেন, "....Someone told me that each equation I included in the book would halve the sales. I therefore resolved not to have any equation at all....." আমার প্রশ্ন এবং একই সঙ্গে আন্তরিক অনুরোধ- আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা কেন এই ধরনের বই লিখছেন না ?? তা করলে সব দিক বজায় থাকবে। একাধারে তিনি বিজ্ঞানীও থাকবেন, আবার টু-পাইস করেও অনুন্নত এবং নির্বোধ গোষ্ঠীভুক্ত ইঞ্জিনিয়ার বা ব্যবসাদারের বদনাম বহন করতে হবে না এবং প্রকৃতি বুঝতে পারার আনন্দের কিছুটা চিন্তাশীল ফসল অবৈজ্ঞানিক মানুষের মধ্যে বিতরণ করতে পারবেন। হয়তো বা নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞান অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করতেও পারবেন যাতে তারা ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ারিং বা ব্যবসার পথ না মাড়ায়। অকারণ অনাবশ্যক মন্তব্য করার আগে আমার মনে হয় ভেবে দেখা উচিত, যে সেটা সিরিয়াস, রুচিসম্পন্ন এবং মাটির অনেক কাছাকাছি থাকা বিজ্ঞানীদের ভাবমূর্তি যাতে খাটো না করতে পারে, যদিও বাস্তবজগতে তাঁরা অন্যান্য পেশার মানুষের সামাজিক ভূমিকা সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল। তাঁরা এমন কথা বলেন না।

Monday, February 6, 2023

লেখাচর্চা

                             লেখাচর্চা

বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সঙ্গে অল্প-বিস্তর যোগাযোগ আছে। সেই কারণেই আমার লেখার স্বতঃস্ফূর্ত উৎসাহ মেলে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি জগতের মাল-মসলা থেকে। কোনোটা হয়তো বিজ্ঞানীর জীবনী ঘিরে, আবার কোনোটা হয়তো বিজ্ঞানের আধুনিক কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে। আদতে লেখা আমার পেশা নয়। অকপটে স্বীকার করতে বাধা নেই যে, শিল্প-সাহিত্যে যথেষ্ট উৎসাহ থাকলেও, পেশা হিসেবে সেটা নেবার দুঃসাহস আমার নেই। করণ একটাই  - আর্থিক নিরাপত্তার অভাব। অসাধারণরাই পারেন সেটাকে পেশা হিসেবে নিতে। যাইহোক, তবুও একটা লেখা শেষ হলেই পরের লেখা আমায় যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। বিজ্ঞান ভিত্তিক কোনও বিষয়কে মনে রেখে, কাগজ, কলম আর অভিদান ছড়িয়ে লেখার জন্য মনোনিবেশ করি। তিন চার বা পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টির মোটামুটি একটা চেহারা খাড়া করে ফেলি। এর পরে চলে কাঠামোর মধ্যে সামর্থ্য মতো সূক্ষ্মতা সংযোজনের পালা। তাতেও সময় নেহাত কম লাগে না। যাইহোক, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন/চার হাজার শব্দের একটি বিজ্ঞান প্রবন্ধ লিখতে আমার সময় লাগে প্রায় দু'আড়াই মাস বা তারও বেশি সময়। কাজেই লেখালেখি যে আমার পেশা নয়, তা সহজেই অনুমেয়। আমি অত্যন্ত অধৈর্য, ছটফটে মানুষ। আমার আত্মীয়-পরিজন, পুরোনো বন্ধু-বান্ধব, সবাই এ কথা জানেন। বিশ্রামের অবসরে মাঝেমধ্যে নিজেকেই বহুবার প্রশ্ন করেছি- সামান্য এতটুকু লেখার জন্য এই দীর্ঘ সময় লেগে থাকার ধৈর্যের উৎসটা কোথায় ? উৎসের সন্ধান আমি অবশ্যই পেয়েছি, একটা নয়, বরং বলব অনেকগুলো। নিজস্ব অভিজ্ঞতালব্ধ সেগুলোর পর্যালোচনা করার জন্যই এই লেখা।

বহুদিন ধরে মনের মধ্যে আরও একটা মধুর প্রত্যাশা আনাগোনা করেছে, আমাকে সর্বক্ষণ তাড়া করে বেড়িয়েছে - বিজ্ঞান বিষয় ছাড়া অন্য কোনও বিষয় লিখলে কেমন হয় ? কাজটা নিঃসন্দেহে কঠিন। কিন্ত শেষ পর্যন্ত মনে হয়েছে চেষ্টা করে দেখলে লাভ ছাড়া লোকসানের কিছু নেই। যাইহোক, একই ঢিলে দুই পাখি মারার মতো এই শিরোনামের প্রবন্ধটি বেছে নিলাম। এটা আমার দু'দুটো অভিপ্রায় মেটাতে সাহায্য করবে।

অনেকের সাথে বহু ব্যাপারে আমি সহমত পোষণ করি না। একটা নির্দিষ্ট ব্যাপারে অবশ্যই করি না। প্রায়ই শুনি, "সবাইকার দ্বারা সবকিছু হয় না" আমার মনে হয়েছে  অনেকের দ্বারাই লেখালেখির মতো কিছু কিছু আপাত কঠিন কাজ সম্ভব। প্রয়োজন উদ্যোগের, প্রয়োজন নিষ্ঠা এবং ধৈর্যের, এবং প্রয়োজন আন্তরিক অনুশীলনের। লেখার মূল্য নির্ধারণের ভার পাঠককুলের। অসার্থক লেখার বক্তব্যের মধ্যেও হয়তো প্রথাভাঙা কোনও দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে। জনমানসকে আলোড়িত করার উপাদান হয়তো থাকতে পারে। শব্দ ও ভাষার নতুন ধরনের ব্যবহার থাকতে পারে। বিচার করার আরও কত কিছু থাকতে পারে তা আমার জানা নেই। অনেকবার মনে হয়েছে যে আমাদের মতো বিজ্ঞান প্রবন্ধ যাঁরা লেখেন তাঁদের বক্তব্যে নতুন কিছু থাকে কি ? থাকে না বললেই চলে। তবে নতুন যা থাকে, তা হ'ল লেখকের রচনাশৈলী। প্রত্যেক লেখকের ভঙ্গি আলাদা। যেটা বুঝি তা হ'ল, যে সর্বসাধারণের গ্রহণযোগ্য হিসেবে সাজিয়ে গুছিয়ে বিজ্ঞান প্রবন্ধ প্রকাশ করাও খুব সহজ ব্যাপার নয়। বিজ্ঞান প্রবন্ধ সাহিত্যের স্তরে জায়গা করে নেবার জন্য সাবলীল ভাষার প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরী। উপযুক্ত শব্দ সঙ্কলন ও তার বিন্যাস- বক্তব্যের পরিসর এবং রূপায়ণের মধ্যে নিহিত থাকে লেখকের সৃজনীশক্তির প্রকাশ। যাইহোক, সব কিছু মিলিয়ে ব্যাপারটা পরীক্ষামূলক ভাবে নেওয়া উচিত। অনেকবার অনেক অচেনা লেখকের, বিশেষ করে বেশ কিছু ছোট গল্প পড়ে ভীষণ ভাল লেগেছে। সীমিত সুযোগের মধ্যে সাধারণ লেখকের অসাধারণ কল্পনার গভীরতা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। মুগ্ধ হয়েছিলাম অ-ভাবিত নতুন টেকনিকের ব্যবহারে, বিষয়বস্তুর অভিনবত্বে এবং উপস্থাপনের সপ্রতিভতায়। ধারণা করতে পারিনি যে সাধারণ কথ্যভাষা ব্যবহার করে এত ঝকঝকে বর্ণনা করা যায়, ভাষাকে এতখানি গতি দিতে পারা যায়। এই লেখাগুলোর মধ্যে পাঠক হিসেবে আনন্দ পেয়েছি। মনে হয়েছে যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর না জানি আরও কত আনন্দ হয়েছে। অন্যদিকে নামী লেখকের উপন্যাস পড়েও মাঝে মাঝে মনে হয়েছে যে বড্ড ফেনিয়ে লেখা হয়েছে অথবা মনে হয়েছে যে এতটা উর্দ্ধশ্বাসে না লিখে ধীরে-মন্থরে লিখলে ঠিক জায়গায় এসে দাঁড়াতো। মোদ্দাকথা, এমনটা ভেবে নেওয়া ভুল যে, প্রথম লেখাটাই স্বীকৃতি পাবে জনপ্রিয়তার শীর্ষে। বিরল ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। আর তাছাড়া জনপ্রিয়তা আর আর সাহিত্য সৃষ্টি সব সময় সমার্থক নয়। আমার মনে হয় লেখার সাহিত্যগুণ নির্ধারিত হয় তাত্ত্বিক বিচারে এবং সেটা করতে পারেন বিশেষজ্ঞরা। জনপ্রিয়তার রায় দেন জনসাধারণ। এর মধ্যেও আবার গোলমেলে ব্যাপার আছে। আমার মতো সাধারণ মানুষেরা ধন্ধে পড়ে যান, যখন তাঁরা দেখেন যে নামী লেখকের সাহিত্যিকতা নির্ভেজাল অশ্লীলতার সঙ্গে মিশে গিয়ে প্রথমে বিশেষজ্ঞ এবং পরবর্তীকালে জনসাধারণ, উভয়ের কাছেই বিতর্কিত সাহিত্যগুণে বিবেচিত হচ্ছে। আবার বিভূতিভূষণের "পথের পাঁচালির"মতো উপন্যাস কে বটানি বই আখ্যা দিয়ে প্রকাশনায় নিরুৎসাহ দেখাবার মতো প্রকাশকের সংখ্যাও কম নয়। সেখানে নীরদচন্দ্র বা সজনীকান্তের মতো বোদ্ধার প্রয়োজন আছে। সব লেখাকেই প্রথম প্রথম সাফল্য ও জনপ্রিয়তার মূল্য দিতে হয়। কাজেই অতশত না ভেবে মস্তিষ্কের চিন্তা রূপায়ণে মনোনিবেশ করাই শ্রেয় বলে মনে করি।

জনসাধারণের ব্যবহারের উপযুক্ত পত্র-পত্রিকার পাতায় ছাপার অক্ষরে নিজের নামটা দেখার একটা রোমাঞ্চকর অনুভূতি আছে, অবশ্যই নামটা যদি না কোনো সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। তবে নামটা দেখার আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে যে ঝুঁকিটা থেকে যায়, তা হ'ল জনৈক পাঠক-পাঠিকাবৃন্দের লেখনী বেয়ে আসা এক হাত সমালোচনা। কখনও কখনও সমালোচনা মূল প্রবন্ধের দৈর্ঘ্যকেও টেক্কা দেয়। এ ব্যাপারে আমার কিছু ব্যক্তিগত মন্তব্য আছে। সরস ও বুদ্ধিদীপ্ত সমালোচনা ত্রুটি সংশোধনের সহায়ক এবং অনেক ক্ষেত্রে সাহিত্যগুণে উত্তীর্ণ হওয়ায় পঠনে উপভোগ্য,  তা বাংলা ইংরেজি, যে কোনও ভাষাতেই হোক না কেন। যুক্তিগ্রাহ্য সমালোচনা মূল প্রবন্ধের অপূর্ণতাকে অনেকাংশেই পূর্ণতা দানের সাহায্য করে উৎসাহী পাঠক-পাঠিকার কাছে সেটাকে আরও আকর্ষণীও করে তোলে। পাঠকের মধ্যে নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার মধ্যে অনুভূত হয় এক অনির্বচনীয় আনন্দ। মোদ্দা কথা, সংযত এবং নিরপেক্ষ সমালোচনা সব সময়ই লাভজনক- তা লেখার অনুকূল বা প্রতিকূল, যাই হোক না কেন। অনুকূল সমালোচনার বাড়তি লাভ হল লেখকের নিজস্ব বিচার-বুদ্ধির উপর আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠতে সাহায্য করা। এছাড়া এক অমূল্য সম্পদে পুরস্কৃত হবার অনুভূতি আছে। এটা একটা নতুন জাতের স্বাদ।

মুখে অনেক কিছু বলা যায়। জনসমাবেশে নেতা বা নেতৃদের, আঞ্চলিক মানুষদের সাক্ষী রেখে অঙ্গীকারবদ্ধ বক্তৃতার সঙ্গে বাস্তব মেলাতে গেলে সেটা প্রমাণ করতে অসুবিধে হয় না। কিন্ত লিখিত কিছু বলার মধ্যে একটা নৈতিক দায়িত্ব আছে।  প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার পৃষ্ঠাগুলো দেশে-বিদেশে কয়েক হাজার জোড়া চোখের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কাজেই সেই  সব পত্র-পত্রিকায় লেখা ছাপানোর মধ্যে ব্যক্তিগত ভাবে এক ধরনের গুরুতর দায়িত্বের স্বীকৃতি অনুভব করা যায়। এ ছাড়া অনুভব করা যায় আনন্দ-শঙ্কা মেশানো এক ধরনের উদ্বেগ যার চূড়ান্ত ফল নতুন এক আলাদা জাতের আনন্দানুভূতি। লেখালেখি হ'ল শব্দ-শিল্পের চর্চা।  লেখকের কলমেই নতুন নতুন শব্দ তৈরি হয়ে ভাষার মূল স্রোতে মিশে যায়। শব্দ জনপ্রিয় হলে সেগুলো একদিন অভিধানে জায়গা করে নেয়। উপযুক্ত শব্দ, ভাষার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির সহায়ক।

নামজাদা পত্রিকায় লেখার বাড়তি যে আকর্ষণ আছে- সেটা হ'ল রীতিমত ভাল অঙ্কের একটা পারিশ্রমিক। তবে সেটাকে ঠিক অর্থ উপার্জনের পর্যায় ফেলা যায় না। সেই অর্থকে বরং আমার ভাবতে ভাল লাগে পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে। কারণ লেখা জমা দিলেই সেটা গ্রহণযোগ্য হবে এবং ছাপানো হবে এমন কোনো নিয়ম নেই।মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়,মানে প্রখ্যাত সাহিত্যিক শংকর এর একটা উক্তি মনে পড়ছে। তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'কত অজানারে' লিখে যখন তিনি "দেশ" পত্রিকায় জমা করেন তখন সম্পাদক সাগরময় ঘোষ মহাশয় তাঁকে বলেন যে আড়াই মাস আগে যেন আর খবর না নেন। এরপর লেখকের উত্থান তো ইতিহাস হয়ে থাকবে। প্রসঙ্গে ফিরে আসি। লেখার পারিশ্রমিকের লক্ষ্মী লাভকে আমার ঠিক আর্থিক লাভের পর্যায়ে ফেলতে মন চায় না। এটা আমার আত্মার শান্তি। আর্থিক লাভ আর আত্মিক লাভের মধ্যে ফারাক অনেক। এ প্রসঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করব। একটা লেখা জমা দিয়ে ছাপানোর আগে পর্যন্ত অপেক্ষার দিনগুলো বেশ একটা অতৃপ্তি অস্বস্তির মধ্যে কাটে। কখনও বা বেশ কয়েকটা সপ্তাহ, হয়তো কয়েক মাস। অপেক্ষা করার সময় মনের ঘড়িটা বোধহয় থেমে থেমে চলে, কাজেই সময়টা বেশি বলেই মনে হয়। লেখাটা ছাপার হরফে দেখলে বোঝা যায় যে লাভজনক প্রত্যাশার উদ্বেগের মধ্যে এক ধরণের অন্য স্বাদের আনন্দানুভূতি আছে। শুধু তাই নয়, অপ্রত্যাশিত পাওয়ার মধ্যে যে মধুরতা আছে, তা রেখে চেপে বহুদিন উপভোগ করা যায়। এই মধুরতার স্বাদ জীবনে আমি বেশ কয়েকবার উপভোগ করেছি যখন "দেশ" পত্রিকায় আমার লেখা বিজ্ঞান প্রবন্ধ নিয়মিত ছাপানো হতো। তারপর একদিন ইতি টানতে হয়, কারণ চাকরি এবং লেখালেখির মতো দু'টো কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া রীতিমত কঠিন কাজ। 

মনের ইচ্ছেকে বা যন্ত্রনাকে উপযুক্ত ভাষায় প্রকাশ করার মধ্যে বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার এবং প্রয়োজনে তার মোকাবিলার প্রশ্ন আসে। কত রকমের মানুষের সাথে মেলামেশা করেছি। সামান্যতম স্বার্থের দ্বন্দে অসংখ্যবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। স্বার্থদ্বন্দে বহুদিনের পুরোনো সম্পর্ক একেবারে খানখান না হয়ে গেলেও তার পরিণতি হয়েছে শুধুমাত্র সৌজন্যবোধে, কোথাও বা সেটুকুও নিঃশেষ হয়ে গেছে। কে ঠিক কে-ই বা বেঠিক তার বিচার হয়নি, হয় না-ও। কে করবে বিচার? সবাই তো জোট অ-নিরপেক্ষ। পারিবারিক, রাজনৈতিক, বা পেশাগত নেতৃত্বের মধ্যে ক্রমশই অভাব হয়ে উঠছে যুক্তিপরায়ণ এবং বাস্তব পরিস্থিতি সচেতন অভিভাবকের। কারণ সর্বক্ষেত্রেই মিডিওক্রিটির শাসন। স্থান-কাল-পাত্র এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বুঝে একই মানুষকে দেখেছি কতবার খোলস পরিবর্তন করতে। প্রতিষ্ঠিত ও শিক্ষিত মানুষকে কত সহজে মিথ্যাচার ও অশুভ আঁতাতের আশ্রয় নিতে দেখেছি। আসলে আরও একটু সুখে থাকার লোভে তাঁরা নিজেদের গন্ডী গুটিয়ে এনেছেন পরিবার এবং বন্ধুবর্গের ক্ষুদ্রতম বৃত্তের মধ্যে। অন্যায় এড়িয়ে যাওয়া কাপুরুষতার নামান্তর। সোচ্চার প্রতিবাদ করলে প্রতিক্রিয়া হয় বিরুদ্ধ চক্রান্তে। স্বার্থান্বেসী মানুষ যেখানেই যুক্তির সমর্থন পায়নি, সেখানেই প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছে বয়সের উচ্চতা কিম্বা পদাধিকারের জোরে। ইচ্ছে করে উপন্যাসের চরিত্র সৃষ্টি করে সমাজের এই মানুষগুলোকে আমার দেখা চোখ দিয়ে চিনিয়ে দিই। কিন্ত আগেই বলেছি যে, উপন্যাস লেখা আমার ক্ষমতার বাইরে। উপন্যাস লেখার প্রত্যাশা মাঝেমধ্যেই উঁকি মারে। বেশ কিছুদিন লাগাতার ভাবনাচিন্তা করেছি। কিন্ত ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে। মনে হয়েছে, ওই কাজটা ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাক। জানিনা প্রত্যাশাটা হয়তো আমরণ ভবিষ্যতই থেকে যাবে কি না। তবে লেখার বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন, সেখানে বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ এসেই পড়ে আর সেই প্রসঙ্গ ধরেই নিজের পছন্দ-অপছন্দের কথাগুলো বলার সুযোগ হয়। মনে রাখার মত অভিব্যক্তি দৈনন্দিন জীবনে প্রায়শই শুনে থাকি। বাস্তব পরিবেশ থেকে সঙ্কলন করা ওই সব উপাদান পাঠকের কাছে পৌঁছে দেবার মধ্যে লেখকের একটা সার্থকতা আছে। কৃতকার্য হলে সেটা হয়তো আরও পাঁচজন পাঠকেরও সুখের কারণ হতে পারে। সামাজিক ও ব্যক্তিচেতনাকে জাগিয়ে তুলতে লেখালেখির একটা বিরাট ভূমিকা আছে। কিছু কিছু লেখা পাঠকমনে ভীষণ রকমের প্রভাব বিস্তার করে। মনে হয় লেখক যেন পাঠকের মনের গোপন কথাটি জেনে নিয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন জগতে। পাঠক-লেখকের মধ্যে গড়ে ওঠে একটা নিবিড় সম্পর্ক। 

কলেজ জীবনে বা অফিস ম্যাগাজিনে দু'একটা মামুলি লেখার পর মনোনিবেশ করেছিলাম বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখালেখিতে। লিখতে বসে উপলব্ধি করলাম প্রাসঙ্গিক বিষয়ে আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে কোয়ানটিটি সর্বস্ব কুইজ কম্পিটিসনে যোগ দেওয়া যায়, কিন্ত জনসাধারণকে তা পরিবেশন করা যায় না। তার জন্য প্রয়োজন বিষয় সম্বন্ধে নিয়মিত অনুশীলন এবং কিছুটা তলিয়ে দেখা। সেটা না করলে কঠিন বিষয়বস্তুকে সাধারণ মানুষের চিন্তায় স্থাপন করা বেশ দুরূহ কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞ না হওয়ার ফলে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি আমাকে প্রায়ই হতে হয়েছে। কিন্ত সমাধানও পাওয়া গেছে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের বই-কাগজের পাতায়। উপযুক্ত বই-কাগজ হাতের কাছে না থাকায় শরণাপন্ন হতে হয়েছে বিশেষজ্ঞদের। কাজেই লেখাচর্চা আমাকে চিনিয়ে দিতে সাহায্য করেছে প্রাসঙ্গিক বিষয়ের সঠিক বইকাগজের সঙ্গেও বটে।

বিজ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়ে লেখার জন্য বিভিন্ন বই, বিজ্ঞান পত্র-পত্রিকা থেকে তত্ত্ব এবং তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হয়। সমস্যা দাঁড়ায় আপাত বিচ্ছিন্ন এই তথ্যগুলোকে জোড়া লাগিয়ে সমস্ত লেখাটার মধ্যে একটা অবিচ্ছিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তোলার মধ্যে, যাতে না কি পাঠকের কাছে মনে হতে না পারে যে তথ্যগুলোর উৎস আলাদা আলাদা। যাইহোক, এই সমস্যা সমাধানের জন্য যুক্তিগ্রাহ্য কল্পনার আশ্রয় নেবার প্রয়োজন হয় এবং কল্পনার মধ্যে যুক্তি থাকলে তার মধ্যে থাকে সৃষ্টির আনন্দ। বলাই বাহুল্য, সৃষ্টি - তা যতই তুচ্ছ হোক না কেন, তার অনুভূতি গরিমময়। আশা, মুষ্টিমেয় কিছু পাঠকও যদি  সেই তুচ্ছ সৃষ্টির একটা টুকরো ধরে রাখতে পারে তবে তা হবে পরিশ্রমের সার্থকতা। মন যদি কখনও হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন তুচ্ছ সৃষ্টির সেই স্মৃতি হতাশাচ্ছন্ন মনকে চাঙা করতে ভীষণ সাহায্য করে। গল্প, উপন্যাস বা কবিতা নয় - সম্পূর্ণ টেকনিক্যাল, ফলিত গবেষণা সংক্রান্ত বেশ কিছু লেখার একটিকে বাদ দিয়ে বাকিগুলোতে আমার সহকর্মীদের সঙ্গে আমার নামটা জড়িয়ে আছে। স্বীকার করতে বাধা নেই যে ওই কাজগুলোতে আমার অবদান মুখ্যত লাগাতার উদ্যোগে এবং ডিপার্টমেন্টের স্বার্থে কাজগুলোর প্রয়োজনীয়তার বিচারে। সেটা অবশ্যই আমি কম বলে মনে করি না। যাইহোক, কাজগুলোর খুঁটিনাটি ব্যাপারে আমার অবদান নেই বললেই চলে। তবুও দেশী বা বিদেশী ম্যাগাজিনের পাতায় প্রকাশনা হওয়ার পর মুখ্য কর্মীদের সঙ্গে নিজের নামটা ছাপার অক্ষরে দেখে যারপরনাই খুশী হয়েছি। খুশী হয়েছি এই কারণে যে সুসম্পন্ন যৌথ কাজের দায়িত্বে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে একটা sense of achievement-এর অনুভূতি আছে। এর থেকে বেশি কিছু নয়। কিন্ত বহুদিন আগে দেশী টেকনিক্যাল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হওয়া ওই একটি কাজ, আজও আমার মনে শুধুমাত্র গরিমময় আনন্দের উপলব্ধি যোগায় না, তা আমার জীবনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে আছে। কারণ কাজটা ছিল সময়োপযোগী, আগাগোড় নিজের হাতে করা এবং কাজের ভাবনার মধ্যে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম কিছুটা মৌলিক চিন্তার স্পর্শ। টেকনোলজি অনেকটা এগিয়ে গেছে। কাজেই কাজটার কোনও গুরুত্ব নেই আজ। পাঠকের কৌতুহলকে মর্যাদা দিয়ে খুব সংক্ষেপে এ ব্যাপারে দু'চার কথা বলা যাক। কুড়ি-বাইশ বছর আগে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের একটি বিদেশী মেনফ্রেম কম্পিউটার কেনার পর সেটির কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে বিদেশী সাপ্লায়ার এবং ভারত সরকারের মধ্যে যে সর্ত আরোপিত হয়েছিল, সেখানে কিছু অনিচ্ছাকৃত ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আলোচনার টেবিলে পারস্পরিক ঠান্ডা লড়াইয়ের একটা চোরা স্রোত সব সময়ই বইছিল। সেদিন বিদেশী সাপ্লায়ারের প্রতিনিধির,দেশী মানুষের প্রতি অবজ্ঞা ও অবিশ্বাসের চাহনি অকাট্য টেকনিক্যাল যুক্তি দিয়ে দমন করতে আমার মতামতটা ভীষণ কাজে লেগেছিল  এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের যুক্তিটাই মেনে নেওয়া হয়েছিল।যুক্তিগ্রাহ্য টেকনিক্যাল মতামতটা সাজিয়ে গুছিয়ে লিখে একটা টেকনিক্যাল জার্নালে প্রকাশ করেছিলাম। প্রকাশনার কয়েক মাস পরে সাম্মানিক হিসেবে প্রকাশকের কাছ থেকে ডাকযোগে একটি চিঠি সমেত একখানা ১০০ টাকার ব্যাঙ্ক ড্রাফট গ্রহণের মধ্যে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম স্বীকৃতির স্পর্শ ছাড়াও অনির্বচনীয় এক আনন্দানুভূতি। গবেষণা যাঁদের পেশা- তা সে বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, যাই হোক না কেন, এই ধরনের মুহূর্ত উপভোগ করার সৌভাগ্য তাঁদের জীবনে একাধিকবার আসে। তাঁদের প্রতি আমি খুসীভরা ঈর্ষা অনুভব করি।

সব শ্রেণীর মানুষেরই নিত্য নৈমিত্তিক একঘেঁয়েমি এবং হতাশা আছে। নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে সেই একঘেঁয়েমিটা আসে মূলত অভাব-অনটন থেকে আর উঁচুকোঠার মানুষের মধ্যে সেটা আসে সাধারণত ভোগবাদ থেকে। একঘেঁয়েমি কাটাতে বৈচিত্রের প্রয়োজন। বেশিরভাগ উচ্চবিত্ত মনে করেন যে বাড়িতে বিলাশ-বহুল জিনিসপত্রের বৈচিত্র্য মানেই জীবনের একঘেঁয়েমি চুকে যাওয়া। বাস্তব কি তাই বলে ? আসলে বাস্তবের রকমভেদ আছে। বেশিরভাগই দীর্ঘস্থায়ী নয়। আমার মনে হয় সুস্থ কল্পনাকে রূপ দেওয়ার মধ্যে যে বৈচিত্র্য, তাতে এক ধরনের গরিমময় আত্মতৃপ্তি আছে এবং শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টির মধ্যেই হয়তো সেই ধরনের বৈচিত্র্য ঘটাবার একমাত্র সুযোগ আছে। গত এক শতাব্দীর অ-ভাবিত যন্ত্রশিল্প বিকাশের উর্দ্ধগতি মানুষকে যেখানে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে, সেখানে লেখালেখির আবেদন কোথায় ? আমার মনে হয় যন্ত্রনির্ভর যুগে যন্ত্রের বিকাশই  হয়তো একদিন হয়ে দাঁড়াবে আশঙ্কার কারণ। লেখালেখি মুখ্যত স্রষ্টার চিন্তা-নির্ভর। কাজেই তার আবেদন যুগ-কাল নির্বিশেষে, বলা যায় চিরন্তন।