Monday, January 17, 2022

উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন

 উত্তর প্রদেশের আগামী মাসের মাঝামাঝি বিধানসভা নির্বাচন: কিছু কথা


উত্তর প্রদেশের আগামী মাসের মাঝামাঝি

 বিধানসভার নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে সারা দেশের জনসাধারণ। কারণ তার ফলাফল ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলকে অনেকটাই প্রভাবিত করবে। দেশের বৃহত্তম রাজ্য উত্তরপ্রদেশের লোকসভার আসন সংখ্যা ৮০। এখন দেখার যে ২০১৭ তে ইউ পি তে বিধানসভার ফলাফলের মতো এবারেও সেখানে বিজেপির আর কেকওয়াক হবে কি ? না, ২০২১ এর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার পুনরাবৃত্তি হবে। অতটা হয়তো হবে না কারণ ইউ পির অবস্থান গোবলয়ে আর সেখানকার সামাজিক চালচিত্র বাঙলা এবং বাঙালিদের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।

যাইহোক, নির্বাচনের ফলাফল বলে দেবে যে জনমানসে বিজেপির মুষ্টি শিথিল হচ্ছে কিনা। আমি রাজনৈতিক বিশ্লেষক নই। কিংবা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে অন্ধ সমর্থন করি না। রাজনৈতিক ভাবে অবশ্যই সচেতন এবং ঘটনাপ্রবাহ অনুধাবন করে, সেটার কাটাছেঁড়া করে, যুক্তির ভিত্তিতে মন্তব্য করি।

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এইবারে ইউ পি-তে ভোটের ফলাফলের আগে পর্যন্ত বিজপিকে হয়তো স্বস্তিতে থাকতে দেবে না। অথচ এই ফলাফলের ওপর ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনকে রীতিমত প্রভাবিত করবে। দিল্লি, হয় বিজেপির কিংবা কংগ্রেসের জোট সরকার। কারণ প্রকৃত অর্থে এই দুটোই জাতীয় দল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাই বলুন না কেন। তাঁর কাছে দিল্লি এখনও অনেক অনেক দূর। 

এবার সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমের দিকে আলোকপাত করা যাক। এই কয়েক দিনের মধ্যে, ভোটের মুখে, যোগী আদিত্য নাথ সরকারের দুই বড় মাপের নেতা, স্বামীপ্রসাদ মৌর্য এবং  দারা সিং চৌহান পদত্যাগ করেছেন। এবং আরও ছ'জন এম এল এ এঁদের সঙ্গে জুড়ে গেছেন এবং এস পি-তে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ না দিলেও অখিলেশ যাদবের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।  আর এই দুই নেতা শুধুমাত্র ভারি মাপের নেতা নন, এঁদের পদত্যাগ অনগ্রসর, দলিত এবং প্রান্তিক, অর্থাত, সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষজনের কাছে অবশ্যই বার্তাবহ।

উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউ পির পশ্চিমাঞ্চলের মোরাদাবাদ, শাহজাহানপুর ইত্যাদি জায়গার  মুসলমান এবং দলিত অধ্যুষিত এলাকাতেও মোদী হাওয়ায় ২০১৭-তে ৫৫-টি আসনের ৩৮-টি গেছিল বিজেপির ঝুলিতে। কিন্ত সেই ভোটবাজারেও এস পির ঘরে আসে ১৫-টি আসন। গুরুত্বপূর্ণ যে এর মধ্যে ১১ জন মুসলমান প্রার্থী জয়ী হন এস পির টিকিটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এইবারে উপরোক্ত এলাকাগুলোতে বিজেপির দাঁত ফোটানো মুস্কিল হবে। কাজেই ওখানকার ফলাফল এবার যদি উল্টো হয়, যেটা অস্বাভাবিক বলেও মনে হয় না, তাহলে বিজেপির রক্তচাপ বৃদ্ধির যথেষ্ট কারণ আছে। এছাড়া যোগী জমানায় হাথরাস ও উন্নাও-এর গণধর্ষণ ঘটনার দগদগে ঘা বিজেপি বিরোধীদের কাছে একটা বিরাট ইস্যু। সাম্প্রতিক লছিমপুর খেরির ঘটনা এগুলোর সঙ্গে অন্য মাত্রা যোগ করেছে। 

এদিকে পিয়াঙ্কা গান্ধী উন্নাও-এর ধর্ষিতা কিশোরীর মা আশা সিংহকে কংগ্রেসের টিকিটে ময়দানে নামিয়েছন। এবং মহিলা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাছাড়া ভোটের আগে সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে সমঝোতা না হলেও, ভোটের পরে অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনার পথ খোলা রাখার যথেষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। সব মিলিয়ে এবারের ইউ পি নির্বাচনে বিজেপির শিরে সংক্রান্তি। কাজেই উত্তরপ্রদেশে বিজেপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ককে স্ট্র্যাটেজি পাল্টাতে হবে। কিন্ত দলের চানক্য, মোদী সাহেবের বিশ্বস্ত এবং প্রধান সেনাপতি অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গে ব্যর্থতা তাঁর চানক্য উপাধিতে অনেকটা কাদা লেপে দিয়েছে। কাজেই ২০১৭-র ৪০৩-এর মধ্যে ৩২৪ আসনে বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে আসা এবার বিজেপির কাছে শুধু দূর অস্তই নয়, ম্যাজিক ফিগার ২০২-তে পৌঁছোনোও খুব সহজ হবে বলে মনে হয় না। আশা করছি যে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই এবিপি আনন্দের সি-ভোটারের ফলাফল প্রকাশ হবে। এর মধ্যে হয়তো ওলট-পালট করার আরও কিছু ঘটনা খবরে আসবে।

Wednesday, January 12, 2022

পশ্চিমবঙ্গে চাকরি নেই

 "পশ্চিমবঙ্গে কোনো চাকরি নেই। তাই সবাই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দেয় রুজি রোজগারের জন্য"

এই আপ্তবাক্য দু'টি প্রায়ই উচ্চারিত হয় এ রাজ্যের বহু অর্ধশিক্ষিত এবং ভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী সুপ্রতিষ্ঠিত এবং তথাকথিত সুশিক্ষিত বঙ্গসন্তানদের মুখ থেকে শুনে শুনে ক্লিশে হয়ে গেছে। দু'দশক আগে এটা আরও প্রকট ছিল। আজ সারাদেশে অর্থনৈতিক অবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ায় তাঁদের হুঁশ অনেকটাই ফিরেছে। এগুলো যাঁরা বলেন তাঁদের পড়াশুনা করার অভ্যাসটা বহুদিন অন্তর্হিত হয়েছে, এমনকি তাঁরা রোজের খবরের কাগজটাও মন দিয়ে পড়েন না। বা পড়েন, সেটুকুই যেখানে ব্যক্তিগত অর্থনীতির উন্নতির সম্ভাবনা আছে। খুব গোদা কথায় বলতে গেলে বলব যেখানে শেয়ার বাজারের খবর থাকে। 

প্রথমে নিজের অবস্থানকে একটু খোলশা করে বলি। আমি মনেপ্রানে ভারতবাসী, কিন্ত প্রথমে বাঙালি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যে যতবার পুনর্জন্ম হবে, ততবারই যেন এই গরীব বাঙলার পূণ্যভূমিতেই ভুমিষ্ঠ হই এবং নিজের যোগ্যতায় সন্তুষ্টি থেকে এখানেই রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারি। আমার পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থার আজ যে চেহারাটা দেখছি, তার সূত্রপাত পাঁচ দশক আগে। পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই বঞ্চনার শিকার হয়ে এসেছে, কেন্দ্রে যে সরকারই থাকুক না কেন। কংগ্রেসের আমল থেকেই এটা শুরু হয়েছিল। তাই আজ কংগ্রেসের আসন সংখ্যা এই রাজ্যে প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছে। আমার অভিমান,ক্ষোভ এবং কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত যে কোনো সরকারের প্রতি বিদ্বেষ, যথার্থ কারণেই, আমাকে এই কথাগুলো লিখতে বাধ্য করেছে। স্বাধীনতা উত্তর ভারতের জন্মলগ্ন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বৈমাতৃসুলভ আচরণে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। 

ফেসবুকের বন্ধুদের বা বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শ  ঘেঁষা কিছু মানুষের কাছে আমার করজোড়ে নিবেদন, এই লেখাটা পড়ে প্রতিক্রিয়া দেবার আগে আজকের আনন্দ বাজার পত্রিকার ৪ নম্বর পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ পড়ে নেবেন দয়া করে। যদি এই কাগজ না রাখেন, তাহলে ৬ টাকা খরচ করে কিনে নিয়ে পড়বেন। অথবা, গুগল ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়ে নেবেন। প্রবন্ধটির শিরোনাম "যন্ত্রনার খতিয়ানের অর্ধশতক পূর্ণ হল নিঃশব্দে, যে ভাবে বঞ্চিত হল রাজ্য " প্রবন্ধকার: শুভজিৎ বাগচী।

Sunday, January 9, 2022

 Calcutta is chilling. Normally, during winter, like many,  I take bath picking up  mugfull of warm water from the bucket. Yesterday I took bath, still using the same  warm water. But this time I used shower to spray water. My feeling was somewhat uncomfortable, I felt little more shivering than when I poured the water from the mug. The question is !! TRUE/FALSE. If it's true  what's the science behind it ?