Saturday, October 28, 2023

লন্ডন উবাচ

           


                                    লন্ডন উবাচ 

সৈয়দ মুজতবা আলী রচনাবলীর প্রথম খন্ড পড়তে পড়তে প্রায় শেষের দিকে পৌঁছে গেছি। উনি একসময় সত্যপীর ছদ্মনামে আনন্দবাজারের পাতায় ছোট ছোট গল্প লিখতেন। সেই গল্পগুলোর 'সিলেটি সাগা' নামে একটি গল্পের শুরুতেই, উনি এ কথা ও কথার মাঝে পড়তে গিয়ে, দুটি বাক্যে আমার চোখ আটকে গেল এবং স্মৃতির সরণি বেয়ে ৪২/৪৩ বছর পিছিয়ে গেলাম। প্রায় একই রকমের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আমার জীবনেও ঘটেছিল। যাইহোক, ওঁর উদ্ধৃতির অবিকৃত অংশটা আগে তুলে ধরছি -

"..........কথায় বলে, ওট নামক বস্তুটি স্কটল্যান্ডে খায় মানুষ, ইংল্যান্ডে খায় ঘোড়া। কিন্ত ঐ আমলে লন্ডনের পোশাকী খানা স্কটল্যান্ড ঘোড়া পর্যন্ত খেতে রাজি হত না - এই আমার বিশ্বাস। তাই আমি লন্ডনের "লাঞ্চকে" বলতাম "লাঞ্ছনা" আর সাপারকে বলতাম "suffer"

ঠিক একই রকম কথা বহুকাল আগে আমি ইংরেজিতে পড়েছিলাম। আমি ইংরেজিতে যেটা পড়েছিলাম সেটা হ'ল অনেকটা এরকম। 

In fact, asked to define the word "Heaven", someone called it a way of life that would include a British house, an American salary, Chinese food and Indian family. Accordingly,  the word "Hell" Was defined as a state of affairs that subsumes the worst form of the same four cultures - an Indian salary, a Chinese house, British food and an American family. 

প্রায় ৪২/৪৩ বছর আগে আমেরিকা থেকে ফেরার পথে লন্ডনে সংক্ষিপ্ত কয়েকটা দিন, সাকুল্যে দিন চারেক, যখন কাটিয়েছিলাম লন্ডনের পোশাকী খাবার সম্পর্কেও আমার ঐ একই ধারণার কথা মনে হয়েছিল। না আছে স্বাদ, না আছে কোনও মসলা; টেবিলের ওপর সাজানো ছ্যাঁদা করা লম্বাটে ধরনের দুটি বস্তু যার একটির মধ্যে আছে নুন অপরটিতে গুঁড়ো মরিচ। হ্যাঁ, আরও একটা জায়গায় সাদা সস্ জাতীয় কিছু একটা আর একটিতে সর্ষে কাসুন্দি। যাইহোক, ওখানে বাংলাদেশীদের খাবার দোকানের অভাব নেই, ফলে বাকি দুটো দিন বাংলাদেশ শেফের রান্না,  মুখরোচক খাবার খেয়ে মন ভরিয়ে ছিলাম।

ইংরেজি লেখাটার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় :

প্রকৃতপক্ষে, "স্বর্গ" শব্দটি সংজ্ঞায়িত করতে বললে কেউ  কেউ এটিকে এমন একটি জীবনযাত্রা বলে অভিহিত করেছেন যাতে একটি ব্রিটিশ বাড়ি, একটি আমেরিকান বেতন, চীনা খাবার এবং ভারতীয় পরিবার থাকবে। তদনুসারে, "নরক" শব্দটিকে এমন একটি অবস্থা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে যা এই চারটি সংস্কৃতির সবচেয়ে খারাপ রূপকে অন্তর্ভুক্ত করে - একটি ভারতীয় বেতন, একটি চীনা বাড়ি, ব্রিটিশ খাবার এবং একটি আমেরিকান পরিবার।


Saturday, October 21, 2023

Find out the FALLACY

                Find out the fallacy


      Here I'm going to prove that 1 = 2 


Let's assume.        a = b ..........(1)

Then, evidently,   ab=b²

Subtracting from both sides, we get,

           ab - b² = a² - b², Now factoring we get

b(a - b) = (a +b) (a - b), dividing  both sides by

 ( a-b ), we get,  b = a + b, But according to equation (1) a = b

Therefore b = 2b

Dividing both sides by 'b', we have the required result  1= 2

This is impossible, right ??

Find out the FALLACY.


Sunday, October 15, 2023

ডোল রাজনীতি !!

 টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই বিরোধীদের, দল নির্বিশেষে, একটাই কথা - এই সরকার খেলা, মেলা বা উৎসবে টাকা বিলোতে কোনও খামতি রাখে না। অথচ বড় শিল্পে লগ্নির বেলায় জমি, টাকা, বা উদ্যোগের অভাব দেখা যায়। বিরোধীদল গুলো ছাড়াও এগুলো মোটামুটি শহুরে মানুষের কথা। কথাটার মধ্যে কোনও অসত্য নেই।  কিন্ত একটু গভীর ভাবে ভাবলে বুঝতে পারা যায় যে এই পুজোর মরসুমে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক মানুষের প্রায় (৭৫%) সারা বছরের রুটিরুজির একটা সংস্থান হয়। এর পেছনে একটা মস্তবড় অর্থনীতির গূঢ় তত্ত্ব লুকিয়ে আছে। বিরোধী দল বা শহুরে উচ্চবিত্তরা আখ্যা দিয় থাকেন "ডোল রাজনীতী"। মানে বিনা পরিশ্রমে কিছু পাইয়ে দেবার রাজনীতি। যদিও দেরিতে হলেও এ দেশেরই অন্যান্য বেশ কিছু রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পথেই হেঁটেছে। হেরফের শুধুমাত্র টাকার অঙ্কে। পশ্চিমবঙ্গের সরকার ৫০০ টাকা দিলে, অন্য রাজ্যের সরকার সেটা বাড়িয়ে করেছে ১০০০ টাকাপাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি না হলে এই dole politics -এ কোনও ভুল নেই, অন্তত পৃথিবীর তাবড় তাবড় অর্থনীতিবিদরা তাই বলেন। উদাহরণ: কোভিদের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের জায়গা থেকে স্থানান্তরিত করা আটকাতে ভারত সরকারের কাছে, অমর্ত্য সেন এবং অভিজিত বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়ের মতো অর্থনীতিবিদদের নিদান ছিল মানুষের হাতে নগদ টাকার জোগান, প্রয়োজনে নোট ছাপিয়ে। বাজারের চাহিদা না বাড়লে অর্থনীতির চাকাটা ঘোরাবে কে! যাই হোক, সরকার সে কথা কানে তোলেননি যার করুন পরিণতি আমরা সবাই দেখেছি। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ, জন মেনার্ড কেইনস ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। কেইনস-এর তত্ত্বের নির্যাস বুঝে নিতে বিশাল পাণ্ডিত্যের দরকার নেই। যুক্তিগ্রাহ্য মন নিয়ে পড়লে কথাগুলো সহজেই বুঝতে পারা যায়। অন্তত বিজ্ঞানের ছাত্রদের অসুবিধে হবার কোনও কারণ নেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে great depression-এর সময় ওবামা সাহেব কেইনস-এর তত্ত্ব মেনে বেশ কয়েকশ বিলিয়ন ডলার ex-chequer থেকে মঞ্জুর করেন। ফলে বহু মানুষের  চাকরি বাঁচানো সম্ভব হয় তো বটেই এবং তার সুফল পরবর্তীকালে আমেরিকার অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙা করতে সমর্থ হয়।


ফিরে আসি প্রসঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের এই পুজো মরসুমের অর্থনীতির চেহারা বাড়তে বাড়তে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌছে গেছে। ২০২১ সালের শেষ লগ্নে কলকাতার দুর্গাপুজো যখন ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে ঋদ্ধ হ'ল, ইউনেস্কোর নয়াদিল্লির পরিচালক বললেন, এই স্বীকৃতি মাঝারি এবং প্রান্তিক শিল্পী, কারিগর, ঢাকি, ছোট-বড় ব্যবসায়ী, বিক্রেতাসহ বহু মানুষের প্রায় সম্বৎসরের জীবিকা উপার্জনের উৎস হিসেবে কাজ করবে। কাজেই কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের এই অনন্য উৎসবের অমিত সম্ভাবনাকে মন্থন করে অর্থনৈতিক লাভের কথা ভাবা সম্ভব এবং উচিতও। 


আজকের আনন্দবাজারের ৪ নম্বর পাতায় অতনু বিশ্বাসের একটি প্রবন্ধ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে এই লেখাটায় ব্রতী হলাম। তথ্যগুলো ওর লেখা থেকেই নেওয়া এবং দুটো বাক্য অবিকৃত রেখে ওঁর পরামর্শ ছাড়াই ধার করে নিয়েছি।

অজানা আশঙ্কা

 বিগত তিন মাসের প্রতিটা মুহূর্ত একটা অজানা আশঙ্কার মধ্যে কেটেছে আমাদের। আমাদের ছোট্ট পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে কালাতিপাত করেছি। কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবারের গৃহকর্তৃ। অসুস্থতার কোনও না কোনও উপসর্গ তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। চিকিৎসাও চলছিল পাল্লা দিয়ে। যাইহোক, শেষ উপসর্গটি আমাদের ভীষণভাবে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছিল। প্রায় মাসখানেক ধরে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষার ফলাফলে বোঝা গেল যে দেহের কোনও একটি অঙ্গের ক্রিটিক্লাল এক জায়গায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সপ্তাহখানেক আগে ল্যাবরেটরি থেকে পাঠানো সন্তোষজনক রিপোর্ট পেয়ে আমরা সবাই অজানা আশঙ্কার সেই মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তি পেলাম। আবেগ তাড়িত হয়ে লিখে ফেললাম এক টুকরো কবিতা। আসলে ছোট্ট পরিসরে মনের ভাব প্রকাশের চমৎকার বাহন হল আধুনিক কবিতা। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যে দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনার আঘাতে জীবন একটা অর্থহীন শুন্যতায় ভরে ওঠার পরেই, তার থেকে মুক্তি মানুষের মধ্যে বোধহয় নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা আর সৃজনশীলতার উপকরণ যোগায়। এই কবিতাটা তারই ফসল।

________________________


                       আশঙ্কার নিরসন

                        _____________


ভালবাসা হ'ল একটা সাদা ক্যানভাস 


সেটার ওপর যাই আঁকি মেটেনা কখনও আশ।


আবার আঁকি, আবার মুছে সৃষ্টি করি নতুন বিগ্রহ 


জানি ওটা দু'দিন বই তো নয় ;


তবুও মেটেনা মনের সুপ্ত আগ্রহ।


ভালবাসা যেন অনন্ত আকাশ 


কোনও কোনও রাত ঘুমানোর হয়।


ঘুমের মধ্যেই দেখি কত রঙ্গিন স্বপ্ন। 


আবার কোনও কোনও ঘুম হয় স্বপ্নহীন। 


তবে কষ্ট হয় যখন মানুষকে দুঃস্বপ্ন নিয়ে


           জেগে কাটাতে হয় সমস্ত রাত।


তবুও সকাল আসে। 


মেঘ কেটে গিয়ে নীলাকাশে


দেখা যায় রোদের ঝলকানি।


মনের কোনায় কোনায় সেই ঝলক প্রতিফলিত হয়ে


 মনটাকে দীপ্তিময়  করে তোলে।


শেষ হয় সমস্ত অজানা আশঙ্কার।

Saturday, October 7, 2023

আশঙ্কার নিরসন



বিগত তিন মাসের প্রতিটা মুহূর্ত একটা অজানা আশঙ্কার মধ্যে কেটেছে আমাদের। আমাদের ছোট্ট পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে কালাতিপাত করেছি। কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবারের গৃহকর্তৃ। অসুস্থতার কোনও না কোনও উপসর্গ তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। চিকিৎসাও চলছিল পাল্লা দিয়ে। যাইহোক, শেষ উপসর্গটি আমাদের ভীষণভাবে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছিল। প্রায় মাসখানেক ধরে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষার ফলাফলে বোঝা গেল যে দেহের কোনও একটি অঙ্গের ক্রিটিক্লাল এক জায়গায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সপ্তাহখানেক আগে ল্যাবরেটরি থেকে পাঠানো সন্তোষজনক রিপোর্ট পেয়ে আমরা সবাই অজানা আশঙ্কার সেই মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তি পেলাম। আবেগ তাড়িত হয়ে লিখে ফেললাম এক টুকরো কবিতা। আসলে ছোট্ট পরিসরে মনের ভাব প্রকাশের চমৎকার বাহন হল আধুনিক কবিতা। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যে দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনার আঘাতে জীবন একটা অর্থহীন শুন্যতায় ভরে ওঠার পরেই, তার থেকে মুক্তি মানুষের মধ্যে বোধহয় নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা আর সৃজনশীলতার উপকরণ যোগায়। এই কবিতাটা তারই ফসল।

_____________________________________________

                    আশঙ্কার নিরসন 

          

ভালবাসা হ'ল একটা সাদা ক্যানভাস 

সেটার ওপর যাই আঁকি মেটেনা কখনও আশ।

আবার আঁকি, আবার মুছে সৃষ্টি করি নতুন বিগ্রহ 

জানি ওটা দু'দিন বই তো নয় ;

তবুও মেটেনা মনের সুপ্ত আগ্রহ।

ভালবাসা যেন অনন্ত আকাশ 


কোনও কোনও রাত ঘুমানোর হয়।

ঘুমের মধ্যেই দেখি কত রঙ্গিন স্বপ্ন। 

আবার কোনও কোনও ঘুম হয় স্বপ্নহীন। 

তবে কষ্ট হয় যখন মানুষকে দুঃস্বপ্ন নিয়ে

           জেগে কাটাতে হয় সমস্ত রাত।

তবুও সকাল আসে। 

মেঘ কেটে গিয়ে নীলাকাশে

দেখা যায় রোদের ঝলকানি।

মনের কোনায় কোনায় সেই ঝলক প্রতিফলিত হয়ে

 মনটাকে দীপ্তিময়  করে তোলে।

শেষ হয় সমস্ত অজানা আশঙ্কার।