Sunday, December 31, 2023

ইসরাইল বনাম হামাস

                        এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ 

সদ্য সমাপ্ত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের শুরু। দিনে দিনে এর বীভৎসতা বেড়ে চলেছে। শুরুতে অর্থাত অক্টোবর ৭ তারিখে হামাসের আচমকা আক্রমণে ইসরাইল জনসাধারণের ১৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর শুরু হয় লাগাতার ইসরাইল সেনা বাহিনীর হানা এবং কাতারে কাতারে প্যালেস্টাইনিদের মৃত্যু। ইসরাইল ও আমেরিকার বক্তব্য,  হামাস বাহিনীর নৃশংস আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইসরাইলের এই সশস্ত্র যুদ্ধ এবং তা জারি থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত গাজা ভূখন্ড হামাসমুক্ত করা যাবে। অথচ প্যালেস্টাইনিদের কোনও স্বীকৃত রাষ্ট্র নেই। প্যালেস্টাইনিদের মৃত্যুতে ইসরাইল এবং আমেরিকার একই সুর, "হামাসমুক্ত করতে গেলে প্যালেস্টাইনিদের বলিদান অনিবার্য কারণেই মেনে নিতে হবে, এরই নাম নাকি কোল্যাটারাল ড্যামেজ"। গাজা এবং জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর - প্যালেস্টাইনের দুই অংশেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শেষ কথা বলে ইসরাইল পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। তাদের দেশে ইসরাইলের অন্যায় দখলদারির বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনিদের কোনও মিটিং-মিছিল-সমাবেশ-ধর্মঘট, অর্থাত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলার এতটুকু সুযোগও নেই। সুতরাং অনিবার্য কারণেই গড়ে উঠেছে সশস্ত্র জঙ্গি প্রতিরোধ। 

খবরের কাগজের বহু প্রতিবেদন পড়ে ইসরাইল বনাম হামাস যুদ্ধের এটাই হ'ল সংক্ষিপ্ত বিবরণ। মানুষ সাধারণত কবিতা পড়তে পছন্দ করে। তাই এই যুদ্ধের বিবরণ আধুনিক কবিতার মোড়কে ভরে পাঠকের সামনে তুলে ধরছি যাতে ছোট্ট পরিসরে সব ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পারে।


প্যালেস্টাইনের ওপর ইজরায়েলর আস্ফালন 

এ যেন দুর্বলের ওপর আগ্রাসী সবলের আক্রমণ। 

চোখের উপর গুঁড়িয়ে যাচ্ছে জনপদ, ত্রাণশিবির;

                   বাদ নেই হাসপাতাল থেকে বিদ্যালয়,

জ্বলছে গণচিতা, তবুও যে যুদ্ধবাজরা যুদ্ধ চায় !

গাজা ভূখন্ড আর প্যালেস্টাইনে গোলা-বারুদের ছাই                                                               বেড়াচ্ছে উড়ে                                                       

নারী-পুরুষ তো কোন ছার, বাদ নেই শিশু নিধন 

মরছে কাতারে কাতারে বোমার আঘাতে, 

                                     কিংবা ঝলসে আর পুড়ে।

যুদ্ধের নিয়মনীতি সময়ের অন্তরালে যাচ্ছে হারিয়ে

কারণ যুদ্ধবাজরা লড়াই চায় অমানবিকতার নামাবলি গায়ে                                                                       জড়িয়ে।

নেতানিহায়ু জানিয়ে দিয়েছেন এই যুদ্ধ দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে

যতক্ষণ না গাজা থেকে হামাসের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে।

সভ্যতার অগ্রগতি যতই এগোচ্ছে, 

রাষ্ট্রনায়কদের মানবিকতা ততই লোপ পাচ্ছে।

হোক না তা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ,

কিংবা ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্ব!

সবাই সমানে পাশবিক প্রতিযোগিতার প্রমাণ দিয়ে চলেছে।

রাষ্ট্র নায়করা কোনও রকম প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে নারাজ 

তাহলেই চালাতে পারবে তাদের স্বেচ্ছাচারীতার স্বরাজ।

এক প্রবল দক্ষিণপন্থী হাওয়া সমগ্র পশ্চিমে বইছে

বর্ণবিদ্বেষী পরিবেশের মধ্যেও প্রতিবাদও সমানে চলছে।

বর্ণবাদ বৃদ্ধির জন্য আধিপত্য আর শক্তি প্রদর্শন প্রয়োজন

যার অর্থই হ'ল প্যালেস্টাইনি বিতাড়ন, সঙ্গে অর্থনৈতিক                                                                                শোষণ।

এ যেন বর্ণবিদ্বেষ এবং জাত্যাভিমানের এক জীবন্ত                                . .                                       উদাহরণ ! 

মৃত্যু বিভীষীকা থেকে বাদ গেল না অগুন্তি সাংবাদিক কুল

দোষ তাঁদের, তাঁরা যা বিলি করছেন, তা না কি সবটাই ভুল !

যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রেই প্রথম বলি হয় তথ্য আর সত্য

কারণ রক্তচক্ষু আগ্রাসী যুদ্ধবাজরা যে এই যুদ্ধে লিপ্ত !

প্যালেস্টাইনিদের দৃঢ়তা এখনও টিকে আছে,

তাই তো তাদের ওপর বিশ্বব্যাপী সহমর্মিতা বাড়ছে।

অমানবিক কাজকর্মের প্রতিরোধের ভূমিকায় যারা;

সেই রাষ্ট্রপুঞ্জও আজ কেবল নীরব দর্শক, 

কারণ, যারা ক্ষমতাবান, স্বেচ্ছাচারী,

তারাই সেই সংস্থার মাথায় বিরাজমান এবং নিয়ন্ত্রক।

বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনে দেশ নির্বিশেষে পরিবেশ দূষণ রুখতে চাইছে।

অথচ যুদ্ধের গোলা-বারুদের ধোঁয়ার কুন্ডলী পরিবেশ বিষিয়ে চলেছে।

Tuesday, December 26, 2023

পুস্তক পরিচিতি


পুস্তক পরিচিতি


রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধির ক্রমবিকাশ - প্রবীর পাল

ভাবা পরমাণু অনুসন্ধান কেন্দ্র (মুম্বই) থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী, অনুজপ্রতীম, প্রবীর পালের লেখা বইটি পড়ে যারপরনাই মুগ্ধ হয়েছি।

শিক্ষিত সব মানুষই এখন কম-বেশি ডিজিটাল মানুষ,  তাদের বিচরণ ডিজিটাল স্পেসে। খুব শিগগিরই ডিজিটাল মানুষ আকৃতির দিক দিয়ে বাস্তব মানুষের মতো দেখতে হবে, কাজ করবে এবং চিন্তা করবে মানুষেরই মতোই। আমরা সম্ভবত এখন মানবোত্তর এবং ট্রান্স-হিউম্যানে পরিণত হতে যাচ্ছি ! প্রাচীন বিশ্বে, একটি মানুষ এবং একটি ঘোড়ার মধ্যে প্রজণনে এবং একটি ঘোড়া এবং একটি পাখির মধ্যে প্রজণনে একটি পেগাসাসকে দানব হিসাবে বিবেচনা করা হত। আজকের প্রযুক্তি-জগতে, ভয় এবং বিদ্রোহের বিষয়ের পরিবর্তে, পোস্ট-হিউম্যান এবং ট্রান্স-হিউম্যানকে আকর্ষণীয় এবং প্রশংসনীয় হিসাবে দেখা হয়।

আইনস্টাইন বলেছিলেন যে, "আমি কখনোই ভবিষ্যতের কথা ভাবি না, এটা খুব তাড়াতাড়ি চলে আসে"

১৯৭০ সালে, ভবিষ্যতবিদ অ্যালভিন টফলার তার পুরস্কার বিজয়ী কাজ "ফিউচার শক"-এ ঘোষণা করেছিলেন যে "ভবিষ্যত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।"

প্রযুক্তি বিলিয়নেয়াররা মনে করতে শুরু করেছেন যেত অদূর ভবিষ্যতে বিভিন্ন শাখার প্রযুক্তিগত এককতা (Unification) এমন জায়গাতে পৌঁছবে, যেখানে পরিচিত মানুষ এবং মেশিন একত্রিত হবে।

এমন একটি দিন আসবে, যখন আমরা ভার্চুয়াল অমরত্ব অর্জন করতে পারব,আমাদের ডিজিটাল ক্লোন সৃষ্টি করতে পারব। ভবিষ্যতে আমাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে অ-জৈবিক মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়তো অসম্ভব না-ও হতে পারে।

অনুজপ্রতীম প্রবীরের লেখা বইটা পড়ে আমার সেরকমই মনে হয়েছে। সহজ সরল বাংলায় লেখা বইটার উপজীব্য পড়ে আমার মনে হয়েছে, যে-কোনও বিজ্ঞান গবেষণাগারের পাঠাগারে বইটি বিজ্ঞানীদের সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবার যোগ্য। 

তদুপরি, দেশের যাবতীয় আঞ্চলিক ভাষায় যদি বইটি অনুবাদ করা সম্ভব হয়, সেটা দেশের উঠতি বিজ্ঞানীদের, বিশেষত ভাবী কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের অনুপ্রেরণার রসদ জোগাবে।




Saturday, December 23, 2023

IT Sector-এ অনেক চাকরি

                           উপলব্ধি ২

দেশে একটা ক্ষেত্রেই চাকরির সুযোগ, যে ক্ষেত্রের নাম ইনফরমেশন টেকনোলজি, সংক্ষেপে আই টি। "আই টি সেক্টরে নতুন চাকরি যা সৃষ্টি হচ্ছে, তার সিংহভাগই লোয়ার এন্ড জবস. নির্দিষ্ট কোনও প্রশিক্ষণের আদৌ প্রয়োজন নেই।  ভারতের আর্থ সামাজিক পরিস্থিতিতে তার গুরুত্ব অপরিসীম হলেও,  দেশের পক্ষে, দেশের বিজ্ঞান চর্চার পক্ষে অনেক অনেক বেশি সম্মানের হতে পারতো যদি নিজেদের গবেষণালব্ধ জ্ঞানের প্রত্যক্ষ প্রয়োগ ঘটিয়ে কল কারখানা ও শিল্প সংস্থা গড়ে তোলা যেত।"

Thursday, December 14, 2023

উপলব্ধি ১

যে ফ্ল্যাটবাড়িটার একটা অংশে আমার বসবাস, সেখানে ক্ষেত্রবিশেষে 'আপনি' থেকে 'তুমি' সম্বোধন হচ্ছে "উত্তরণ", সমবয়সীদের মধ্যেও। সেখানে মূল প্রেরণা: ভালবাসা, ঘনিষ্ঠতা বা প্রেম। আবার ঐ 'আপনি' থেকে 'তুমি' হয় অবরোহন- সেখানে মূল প্রেরণা অর্থনৈতিক, সামাজিক, শ্রেণীসচেতনতা।

যে ফ্ল্যাটবাড়ির একটা অংশে আমার বসবাস, সেখানে আরও ১১ টি ফ্ল্যাট আছে। একজন বাদে সকলেই আজ  বরিষ্ঠ নাগরিক, বিভিন্ন পেশার চাকরি থেকে এখন সবাই অবসর নিয়েছেন। সবাই কম-বেশি শিক্ষিত। এই আবাসনের দু'ঘরে বরিষ্ঠ নাগরিক থাকলেও তাঁরা এক আবাসনেরই এক যথেষ্ট বয়ঃকনিষ্ঠ  ডাক্তারকে নাম ধরে দাদা এবং আপনি বলে সম্বোধন করেন। আগে কানে লাগতো, এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। আমার ধারণা যিনি একই বাড়ির বয়জ্যোষ্ঠ  বাসিন্দা হয়েও ডাক্তার বাবুকে 'আপনি' সম্বোধন করছেন, তিনি আপনা থেকেই নিজেকে হীনমন্য প্রতিপন্ন করছেন বলেই এটা করছেন।

এ রাজ্যে কিছু হবে না

                      এখানে কিস্যু হবে না



লেখার শিরোনাম দিয়েই শুরু করি। এই কথাটা শুনতে শুনতে এতটাই ক্লিসে হয়ে গেছে যে এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। মনে ভীষণ কষ্ট পাই। কিছু করার নেই, কারণ আমার মতাবলম্বি মানুষের সংখ্যা সেখানে শুধু সংখ্যালঘুই নয়, সংখ্যার নিরিখে এতটাই কম, যে কোনও হিসেবেই আসে না।

আগেই বলে রাখি যে আমি নিতান্তই ছা-পোষা একজন  ভেতো বাঙালি। কাজেই পশ্চিম বাঙলাটাই আমার কাছে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দের জায়গা। স্বীকার করতে অসুবিধে নেই যে বহুদিন যাবত পশ্চিম বাংলায় কোনো বড় শিল্প  শিকড় গেড়ে বসেনি। তবে এটাও ঠিক যে তথাকথিত শিল্পে টইটম্বুর রাজ্যের পড়াশোনার উচ্চতা মাপার শক্তি আমার নেই। পশ্চিম বাংলার শিক্ষার আজ বেহাল অবস্থা ঠিকই। কিন্ত এতটাই খারাপ নয়, যে অন্য রাজ্যের তুলনায় সেটা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে কথায় কথায় উঠে আসে এ বছরের শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার ঘোষণার প্রসঙ্গ। ভাটনগর পুরস্কার হ'ল মৌলিক বিজ্ঞানে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত মেধাবি ছাত্র/ছাত্রীদের নোবেল পুরস্কারের ভারতীয় সংস্করণ। পেশায় বিজ্ঞানী (অবসরপ্রাপ্ত)। বহু দশক কলকাতার বাইরে কাটিয়ে গত এক দশকের কিছুটা বেশি সময় সে এখন কলকাতাবাসী। প্রায়ই টেলিফোনে কথা হয়। আমার বাংলা তথা কলকাতা প্রীতি তার অজানা নয়। যাইহোক, ভাটনগর পুরস্কার প্রসঙ্গে আমি যখন তাকে বললাম যে, বন্ধু এবার তো ১২ জন পুরস্কারের তালিকায় ৪ জনই বাঙালি ! প্রত্যুত্তরে সে বলল তিনজনই তো কলকাতার বাইরের। এমনই একটা যুক্তি আশা করেছিলাম। সেজন্য আমি প্রস্তুতও ছিলাম। আমার প্রত্যুত্তর ছিল যে তাদের সবাইকার স্কুলশিক্ষা আদতে কলকাতাতেই, এবং তারা সবাই রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র। আসলে বুনিয়াদি শিক্ষার ভিতটা নড়েবড়ে না হলে তাদের পক্ষে পৃথিবীর যে কোনও জায়গায় প্রতিষ্ঠা পাওয়াটা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। এরপরের আলোচনায় পরস্পরের কেউই আর এগোতে দিইনি।

কিছুদিন আগে আনন্দবাজারের চার নম্বর পাতায় অর্থনীতিবিদ সুগত মার্জিত মহাশয়ের একটা প্রবন্ধ পড়ে আমি এই লেখাটার অনুপ্রেরণার রসদ খুঁজে পেলাম। লেখাটার একটা অবিকৃত  অংশ তুলে ধরলাম:

"মনে পড়ে যায়, কিছু বছর আগে দেশের বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তাদের একটি আলোচ্য বিষয় ছিল, যাঁরা গবেষণা করতে আসছেন, তাঁদের আঞ্চলিক পরিচিতির ব্যাপারটা। দেখা গেল যে, বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় অংশ আসছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে। মনে রাখতে হবে, এইসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ পেতে গেলে মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষায় যে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়, সেই প্রতিযোগিতার ধারেকাছে পৃথিবীর শয়ে শয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আসতে পারে না। সেইসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ অর্জন করা গবেষকদের ছোটবেলা থেকে বড়বেলার ইতিহাসের পরতে  পরতে একেবারেই অচেনা অখ্যাত স্কুল-কলেজ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদান,  এবং সর্বোপরি পড়াশোনাকে নিরন্তর সম্মান করা পরিবারের গঠিত আত্মত্যাগের কাহিনিও ফেলে দেবার মতো নয়।"

লেখার এই অংশটা পড়তে পড়তে তিরিশ বছর পেছনের দিকে নজর চলে গেছিল। আমাদেরই এক বরিষ্ঠ বন্ধুসহকর্মী, ডঃ ভি এস রামমূর্তি তখন ভারত সরকারের DST-র চেয়ারম্যান (DST - Department of Science &Technology) পেশায় ছিলেন তিনি একজন experimental Nuclear Physicist. আমাদের কলকাতার সল্টলেকের Cyclotron যন্ত্র (Particle Accelerator) ব্যবহার করে উনি অনেক experiment করে গেছেন। যাইহোক, কলকাতায় আসলেই উনি আমাদের সেন্টারের অতিথিশালায় থাকতেন এবং আমাদের অধিকর্তা সমেত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন সারতেন। এই রকম একটা আড্ডার পরিবেশে একবার আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, দেশের Science technology-র অবস্থা। তাঁর কথাতেই উত্তরটা দিচ্ছি: "You see SK, nobody is interested in science-technology, I think Bengal is the main supplier of Science researchers in this country."

আরও কিছুটা সময় পিছিয়ে যাই।  বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী, E C G Sudarshan একবার  রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের অডিটোরিয়ামে একটা বক্তৃতা দিয়েছিলেন। প্রেক্ষাগৃহ উপচে পড়েছিল। শ্রোতাদের মধ্যে আমিও ছিলাম, যদিও অকপটে স্বীকার করতে বাধা নেই যে, বক্তৃতার সবটাই আমার মাথার ওপর দিয়ে চলে গিয়েছিল। কিন্ত বিখ্যাত মানুষদের চোখে দেখার লোভ আমি কখনোই ছাড়তে পারিনা। পরবর্তীকালে সমর ঝা নামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক ওঁর একটা  ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন যেটি Statesman পত্রিকার পাতায় আমি পড়ি। সেখানে সমর ঝা মহাশয় ওঁকে আমারই মত একটা প্রশ্ন করেন। উত্তরটা ছিল প্রায় ডঃ রামমূর্তির উত্তরের প্রতিধ্বনি। "You see Mr. Jha, In India, mainly Bengalee researchers and researchers from a few pockets of Kerala still believe that they find future and can make their career doing Science. 



## শুধুমাত্র দক্ষিণ কলকাতায় আই এ সি এস, আই আই সি বি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার ছাত্র/ছাত্রীরা পড়া শোনায় ব্রতি। এ ছাড়া, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজাবাজার সায়েন্স কলেজ, সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ, প্রেসিডেন্সির  মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপস্থিতি। আরও একটু বৃহত্তর পরিসরে আই আই টি খড়্গপুর, আই আই ই এস টি (আগে বি ই কলেজ নামে পরিচিত), বিশ্বভারতীর বা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে।  পশ্চিম বঙ্গের শিক্ষায় কুৎসা যাঁরা করে বেড়াচ্ছেন, আমার ধারণা, সেই প্রতিষ্ঠানগুলোর অধ্যাপকের পড়াশোনার বহর কতটা দীর্ঘ, সে সম্বোধে আঁচ করতে গেলেও খানিকটা শিক্ষার প্রয়োজন হয়।


Saturday, December 9, 2023

উপলব্ধি

                               উপলব্ধি (১)


আমার কন্যাসমা এবং অত্যন্ত সুরুচিসম্পন্না, স্বাগতা কুন্ডু নামে ফেসবুকের এক বন্ধুর থেকে এই শিরোনাম ধার করে নিলাম। মা স্বাগতাকে, কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেকে ছোট করব না। বরং তোমার জন্য রইল আমার আশীর্বাদ। ছোট ছোট অনুভূতিকে এই শিরোনামে প্রকাশ করার ধারাটা আমি তোমার থেকে শিখলাম। আমি মনে করি শেখার কোনও বয়সসীমা নেই। 

"আজকের সমাজে মানুষের প্রাথমিক মর্যাদা তার পোশাকে,মধ্যমানের মর্যাদা তার চলন-বলনে আর অন্তিম স্বীকৃতি তার আর্থিক কৌলিন্যে।"

Tuesday, December 5, 2023

আত্মমর্যাদা/অভিমান


কার না কার সঙ্গে মন কষাকষি করে এসে

অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজে দিচ্ছে ভাসিয়ে

লঘু-গুরু জ্ঞান হারিয়ে নজর নেই,

আশেপাশের সবাই দেখছে চেয়ে চেয়ে।

উদ্দীপ্ত কথার ভঙ্গীতে মনে হ'ল

প্রতিপক্ষ যেন মুখোমুখি দাড়িয়ে।


আত্মসম্মানে আঘাত হানল, অভিমানও হ'ল, 

যে অভিমানী হয়, সে নিজে থেকে দূরে সরে যায়।

কখন যে কোথায় মন চলে যায় !

মুখের ভাষা হারিয়ে যায়,

পরিত্রাণের পথ খুঁজে বেড়ায়, 

তবুও পায় না খুঁজে কোনও নিরাময়।


ভেতরে ভেতরে একটা উৎকন্ঠার দাপাদাপি চলে,

নিজেকেই নিজে অনেক কথা বলে চলে,

তাই বলাটা হয় না উচ্চারণে, বরং নিরুচ্চারে।

আসলে অভিমান, আত্মসম্মান তো অন্তর্জগতের ব্যাপার !

মনে মনে ভেবে নিই, এদের অন্তর্জগৎ বলেই কিছু নেই।

ছায়ার সঙ্গে অভিমান করে জোর করে সম্পর্ক রাখারই বা                                                                    কি দরকার ?