এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
সদ্য সমাপ্ত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের শুরু। দিনে দিনে এর বীভৎসতা বেড়ে চলেছে। শুরুতে অর্থাত অক্টোবর ৭ তারিখে হামাসের আচমকা আক্রমণে ইসরাইল জনসাধারণের ১৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর শুরু হয় লাগাতার ইসরাইল সেনা বাহিনীর হানা এবং কাতারে কাতারে প্যালেস্টাইনিদের মৃত্যু। ইসরাইল ও আমেরিকার বক্তব্য, হামাস বাহিনীর নৃশংস আক্রমণের বিরুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইসরাইলের এই সশস্ত্র যুদ্ধ এবং তা জারি থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত গাজা ভূখন্ড হামাসমুক্ত করা যাবে। অথচ প্যালেস্টাইনিদের কোনও স্বীকৃত রাষ্ট্র নেই। প্যালেস্টাইনিদের মৃত্যুতে ইসরাইল এবং আমেরিকার একই সুর, "হামাসমুক্ত করতে গেলে প্যালেস্টাইনিদের বলিদান অনিবার্য কারণেই মেনে নিতে হবে, এরই নাম নাকি কোল্যাটারাল ড্যামেজ"। গাজা এবং জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর - প্যালেস্টাইনের দুই অংশেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শেষ কথা বলে ইসরাইল পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। তাদের দেশে ইসরাইলের অন্যায় দখলদারির বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনিদের কোনও মিটিং-মিছিল-সমাবেশ-ধর্মঘট, অর্থাত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলার এতটুকু সুযোগও নেই। সুতরাং অনিবার্য কারণেই গড়ে উঠেছে সশস্ত্র জঙ্গি প্রতিরোধ।
খবরের কাগজের বহু প্রতিবেদন পড়ে ইসরাইল বনাম হামাস যুদ্ধের এটাই হ'ল সংক্ষিপ্ত বিবরণ। মানুষ সাধারণত কবিতা পড়তে পছন্দ করে। তাই এই যুদ্ধের বিবরণ আধুনিক কবিতার মোড়কে ভরে পাঠকের সামনে তুলে ধরছি যাতে ছোট্ট পরিসরে সব ব্যাপারটা অনুধাবন করতে পারে।
প্যালেস্টাইনের ওপর ইজরায়েলর আস্ফালন
এ যেন দুর্বলের ওপর আগ্রাসী সবলের আক্রমণ।
চোখের উপর গুঁড়িয়ে যাচ্ছে জনপদ, ত্রাণশিবির;
বাদ নেই হাসপাতাল থেকে বিদ্যালয়,
জ্বলছে গণচিতা, তবুও যে যুদ্ধবাজরা যুদ্ধ চায় !
গাজা ভূখন্ড আর প্যালেস্টাইনে গোলা-বারুদের ছাই বেড়াচ্ছে উড়ে
নারী-পুরুষ তো কোন ছার, বাদ নেই শিশু নিধন
মরছে কাতারে কাতারে বোমার আঘাতে,
কিংবা ঝলসে আর পুড়ে।
যুদ্ধের নিয়মনীতি সময়ের অন্তরালে যাচ্ছে হারিয়ে
কারণ যুদ্ধবাজরা লড়াই চায় অমানবিকতার নামাবলি গায়ে জড়িয়ে।
নেতানিহায়ু জানিয়ে দিয়েছেন এই যুদ্ধ দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হবে
যতক্ষণ না গাজা থেকে হামাসের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে।
সভ্যতার অগ্রগতি যতই এগোচ্ছে,
রাষ্ট্রনায়কদের মানবিকতা ততই লোপ পাচ্ছে।
হোক না তা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ,
কিংবা ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্ব!
সবাই সমানে পাশবিক প্রতিযোগিতার প্রমাণ দিয়ে চলেছে।
রাষ্ট্র নায়করা কোনও রকম প্রতিদ্বন্দ্বী রাখতে নারাজ
তাহলেই চালাতে পারবে তাদের স্বেচ্ছাচারীতার স্বরাজ।
এক প্রবল দক্ষিণপন্থী হাওয়া সমগ্র পশ্চিমে বইছে
বর্ণবিদ্বেষী পরিবেশের মধ্যেও প্রতিবাদও সমানে চলছে।
বর্ণবাদ বৃদ্ধির জন্য আধিপত্য আর শক্তি প্রদর্শন প্রয়োজন
যার অর্থই হ'ল প্যালেস্টাইনি বিতাড়ন, সঙ্গে অর্থনৈতিক শোষণ।
এ যেন বর্ণবিদ্বেষ এবং জাত্যাভিমানের এক জীবন্ত . . উদাহরণ !
মৃত্যু বিভীষীকা থেকে বাদ গেল না অগুন্তি সাংবাদিক কুল
দোষ তাঁদের, তাঁরা যা বিলি করছেন, তা না কি সবটাই ভুল !
যে কোনও যুদ্ধের ক্ষেত্রেই প্রথম বলি হয় তথ্য আর সত্য
কারণ রক্তচক্ষু আগ্রাসী যুদ্ধবাজরা যে এই যুদ্ধে লিপ্ত !
প্যালেস্টাইনিদের দৃঢ়তা এখনও টিকে আছে,
তাই তো তাদের ওপর বিশ্বব্যাপী সহমর্মিতা বাড়ছে।
অমানবিক কাজকর্মের প্রতিরোধের ভূমিকায় যারা;
সেই রাষ্ট্রপুঞ্জও আজ কেবল নীরব দর্শক,
কারণ, যারা ক্ষমতাবান, স্বেচ্ছাচারী,
তারাই সেই সংস্থার মাথায় বিরাজমান এবং নিয়ন্ত্রক।
বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনে দেশ নির্বিশেষে পরিবেশ দূষণ রুখতে চাইছে।
অথচ যুদ্ধের গোলা-বারুদের ধোঁয়ার কুন্ডলী পরিবেশ বিষিয়ে চলেছে।



(1).jpeg)
