Friday, November 24, 2023

শব্দ বিন্যাসের ক্যালিগ্রাফি

প্রতিবছর জন্মদিনে আমার ছেলে-বৌ আমার পছন্দমতো একটা উপহার দেয়। বই পড়াটা আমার কাছে একটা অন্যতম পছন্দের জায়গা। বইয়ের মধ্যে আবার প্রথম পছন্দ হ'ল বিশিষ্ট মানুষদের জীবনালেখ্য। আর সেই কাহিনী যদি বিজ্ঞানীর জীবন ঘিরে হয়, তা হলে তো আর কথাই নেই। কোন লেখকদের লেখা বই আমার পছন্দের তালিকায়, সে ব্যাপারে আমার ছেলে-বৌ এর সম্যক ধারণা আছে। যাইহোক, এ বছর যে বইটা আমার হাতে এল, সেই লেখকের লেখা প্রায় সব বই আমার সঙ্কলনে আছে বলেই আমি জানতাম। কিন্ত বইটা হাতে পাওয়ার পরে মনে হ'ল এটা আমার পড়া নয়।  


             ৮০ বছর বয়সের উপহার পাওয়া বইখানা 

তার মানে এঁর লেখা বই এখনও বাজারে রীতিমত বেস্ট সেলারের তালিকায় আছে এবং সেটা আমার পুত্র জানতো। বইখানা হাতে পেয়ে মনে মনে ভীষণ খুশী হয়েছিলাম। মলাট উল্টোতেই  দেখলাম জন্মদিনের বয়স, হস্তাক্ষরে উল্লেখ করে তারিখ বসানো আছে। ওই লেখাটা দেখেই আমি একটু ধন্ধে পড়ে গেলাম। হ্যাঁ, ভাল কথা এ বছর আমি ৮০ পার করলাম। সেটাই কায়দা করে লেখা। হস্তাক্ষরের বক্তব্য বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না, আবার কেমন যেন একটা লাগছে ! আমার নাতিভাই আমার বিভ্রান্তি দূর করে দিয়ে বলল, "দাদাই আসলে লেখাটা লেখা হয়েছে Calligraphically - তুমি সেই ভেবে পড়বার চেষ্টা কর, তাহলে বুঝে যাবে।" 



চিত্র ১. হস্তাক্ষরে লেখা Calligraphy:  Happy Birthday কথাটা Calligraphically লেখা হয়েছে। সূক্ষ্ম ভাবে লক্ষ করলে বোঝা যাবে 80 সংখ্যাটির 8 এর নিচের মাকড়িতে একটা প্রচ্ছন্ন  লাইনের আঁচড়ে 8 এবং B এর কাজ একসঙ্গে হয়ে যাচ্ছে। আবার 80-র শুন্য "i" এর মাথার ওপর dot এক করে দেওয়া হয়েছে।

 Calligraphy কথাটা আমার চেনা কথা, কিন্ত তার মানেটা আমার আদৌ জানা ছিল না। যাইহোক, নাতিবাবু বলার পর গুগল অভিধান ঘাটাঘাটি করে কথাটার epistemological meaning, অর্থাত শব্দটার সারসত্তা উদ্ধার করে ফেললাম।

         
       চিত্র ২. ইংরেজি অক্ষরের Calligraphy-র নমুনা

ক্যালিগ্রাফি হ'ল একটি ইচ্ছাকৃত এবং শিল্পশৈলীতে লেখার অভ্যাস যেখানে একটা নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি আছে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আমার মনে হ'ল নানান শব্দবিন্যাসে তৈরি বেশ কিছু বাক্য বন্ধের মধ্যেও ক্যালিগ্রাফি জাতীয় ব্যাপার আছে অর্থাত বাক্যের অর্থ অটুট রেখেও তার সৌন্দর্যায়নে সাহায্য করে। 

চিত্র ৩. বাংলা অক্ষরে লেখা Calligraphy- র নমুনা

অনেক বাক্যের নির্মাণ শৈলীতে একটা ঘটনাকে বেশ উপভোগ্য করে পাঠকের কাছে তুলে ধরা যায়। বাঙালি আটপৌরে জীবনেই মিশে আছে শিল্প ও নান্দনিকতা। শিল্পকলার এক বিশাল ঐশ্বর্য ছড়িয়ে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনের নানান কথার পরিসরে। পরের উদাহরণ গুলোকে আমি কথার calligraphy আখ্যা দিলাম, মানে মূল calligraphy কথাটার একটা সমান্তরাল ব্যবস্থা। সমাজ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা কয়েকটা চমৎকার বাক্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছি :

১. সদ্য সমাপ্ত ICC World Cup প্রতিযোগিতায় ভারতের হারের পরে এমনই একটা "আমরা ভারতীয়রা প্লেটে চা খেতে পারি, কাপ তোরা রেখে দে।"

২. আজ ধনতেরাসে আমি তিনটে সোনা কিনলাম, Amul gold, Marie gold আর Tata tea gold.

৩. একদিন ক্লাস টিচার প্রশ্ন করলেন, যারা নিজেদেরকে বোকা ভাবিস, তারা উঠে দাঁড়া। কেউই উঠে দাঁড়াল না। কিছুক্ষণ পরে মুখে একটা শয়তানি হাসি নিয়ে উঠে দাঁড়াল ক্লাসের সবচেয়ে পাজি ছাত্র বল্টু !!

শিক্ষক: আচ্ছা তাহলে তুই নিজেকে বোকা ভাবিস ? 

বল্টু: স্যার ঠিক তা নয় ; আসলে আপনি একাই শুধু দাঁড়িয়ে আছেন, ব্যাপারটা কেমন দেখাচ্ছে না !! তাই আমিও....

এরকম আরও অনেক কথা আছে যেগুলো রঙ্গ-রসিকতার ছলে অনায়াসে তৈরি হয়ে যায় এবং এটাও এক ধরনের শিল্পচর্চা। 

বলাই বাহুল্য, উদাহরণ গুলো সবই সমাজ মাধ্যম থেকে ধার করা।

নাতি-নাতনির জায়গা অনেকের মতো আমাদের কাছেও একটা ব্যতিক্রমী অবস্থান। নাতিবাবুর জন্য তার সঙ্গে জুড়ল একটু বাড়তি ভালবাসা। ওর কাছে কথাটা শুনেই এই লেখাটার ভাবনা-চিন্তার প্রেরণা পেলাম। সামান্য একটা গবেষণা করে ফেললাম যে কথাটা অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় কি না। জানিনা গবেষণাটা ঠিকঠাক হ'ল কি না। পাঠককুলের কাছে বিনীত অনুরোধ রইল পড়ে দেখার জন্য। পারলে গঠনমূলক সমালোচনা করতে পিছিয়ে যাবেন না।

Wednesday, November 15, 2023


 CHARITY WRAPPED IN DIGNITY
______

Father bought goods from the poor.
The price was pretty high,
But that never bothered him to buy.
The children were amazed to see the charity;
Which made them a bit more fidgety !
Father continued the same practice again and again, 
Buying things without any bargain.
One day children asked Father, why this charity !
He replied, "it's charity wrapped in dignity"
That elevates the morale of humanity.

Saturday, November 11, 2023

নার্গিস মোহাম্মদী, তোমাকে কুর্নিশ

 

 বীরাঙ্গনা নার্গিস
 
কারাগারে বন্দি ইরানের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মোহাম্মদী এবং শিরিন এবাদির জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। এঁরা দু'জনে ইরানে নারীবাদের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন ;  এঁরা দু'জনেই নোবেল শান্তি পুরস্কারের স্বীকৃতি পেয়েছেন। শিরিন এবাদি পেয়েছিলেন ২০০৩ সালে এবং নার্গিস পেলেন হালে, ২০২৩ সালে।

ইরানের আইনি ব্যবস্থা মূলত লিঙ্গ বৈষম্যে একপেশে, বিভিন্ন আইন পুরুষদের পক্ষে রয়েছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরে, আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা মহিলাদের জন্য বাধ্যতামূলক পর্দার আড়ালে থাকার আদেশ জারি করে এবং ভ্রমণ, শিশুর হেফাজত, উত্তরাধিকার এবং বিবাহবিচ্ছেদের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে যা সভ্য জগতে নারীদের কঠোর দমনের নীতি হিসেবেই চিহ্নিত করে।

আফগানিস্তানের মতো, ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রধান জোর হল ধর্মীয় পুরুষদের ভাবমূর্তি বজায় রাখা এবং মহিলাদের নিরাপত্তা ও পবিত্রতা নিশ্চিত করা।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে, ইরানের যৌন বিপ্লব ইরানী নারীদের সাহসিকতার সাক্ষ্য বহন করে। যাঁরা সাহসের সাথে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছিলেন এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন। কিন্তু এই দীর্ঘ সংগ্রামকে মুখোমুখি হতে হয়েছে বড় আকারের নিপীড়ন, কারাবরণ, রাজনৈতিক বন্দীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও সহিংসতা, এমনকি মৃত্যুও।

এমন এক সময়ে যখন নারীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত, তাঁরা এখনও ইরানে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁরা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষাগত, ভ্রমণ, খেলাধুলা, স্বাস্থ্য এবং যৌন স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। নারীর ক্ষমতায়নের চেষ্টা করা সত্ত্বেও, সরকার নারী অধিকার কর্মীদের আন্দোলনকে সীমিত করে চলেছে।

গত সেপ্টেম্বরে, ইরানের ইসলামিক পোষাক পরিধানের রীতি-নীতি যাকে বলে ড্রেসকোড লঙ্ঘন করে ঢিলেঢালা হেডস্কার্ফ ব্যবহারের জন্য নীতি-পুলিশ একটি  যুবতী কুর্দিশ মহিলা, মাহসা জিনা আমিনিকে গ্রেপ্তার করে এবং পুলিশ হেফাজতে মেয়েটির মৃত্যু হয়। স্লোগান দিয়ে বাধ্যতামূলক হিজাব আইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যার শিরোনাম ছিল, "নারী, জীবনের স্বাধীনতা"।

নৃশংস সরকারী দমন-পীড়নের ফলে শত শত মৃত্যু এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার হলেও, এই বিক্ষোভ নারীবাদী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং ব্যাপক আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জন করেছে।

তারপর থেকে, নারীদের সক্রিয়তা আরও জোরদার, এবং সাহসী পদক্ষেপ নিতে পেরেছে কারণ নারীরা বিশ্বব্যাপী নারীবাদের বর্তমান প্রবণতা সম্পর্কে আরও বেশি অবহিত হবার সুযোগ পেয়েছে। তাঁরা এখন তাঁদের অধিকার এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। ইরানি নারীরা তাঁদের লড়াই ছেড়ে দেবেন এমন সম্ভাবনা খুবই কম।