Friday, May 13, 2022

মর্ত্যের ঈশ্বর হরখচাদ সাওলা

 বন্ধুবর রাজকুমার মৈত্রের ইংরেজিতে লেখা একটি সত্য ঘটনা ফেসবুকের দেওয়ালে পড়ে মনে হ'ল এটার বঙ্গানুবাদ করে repost করলে বাংলাভাষী হাজার হাজার মানুষ এই খবরে উপকৃত হবেন। ওর সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটার জন্য আমার ইচ্ছা প্রকাশ করে ওর পরামর্শ নিলাম। ও আমার ইচ্ছায় সায় দিয়ে অনুরোধ জানালো। এমন বন্ধুর অনুরোধ শিরোধার্য। কাজেই কালক্ষেপ না করে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কাজে লেগে পড়লাম। এখন সত্য ঘটনাটি উন্মোচনের পালা।


'বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর'

একজন বন্ধু (RB) লিখেছেন :

মুম্বাইয়ের বিখ্যাত টাটা ক্যান্সার হাসপাতালের উল্টো ফুটপাথে বছর তিরিশের এক যুবক নিত্য হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অজস্র মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের মুখের উপর স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠা উদ্বেগ এবং তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের উদ্ভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি দেখে অসহায় বোধ করতেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ রোগীই ছিলেন দূরবর্তী শহরের প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের কাছে না থাকতো ওষুধের জন্য টাকা, এমনকি খাবার পয়সাও। প্রতিদিনই যুবক বিষন্ন বদনে বাড়ি ফিরতেন। এই মানুষগুলোর জন্য কিছু করার ভাবনায় দিবারাত্র তিনি আচ্ছন্ন থাকতেন।

অবশেষে তিনি একটি উপায় খুঁজে পেলেন। তাঁর রীতিমতো লাভজনক ব্যবসার হোটেল বাড়িটি ভাড়ায় খাটিয়ে  কিছু মূলধন সংগ্রহ করে একটি তহবিল তৈরি করলেন। এই তহবিল থেকে তিনি টাটা হাসপাতালের উল্টো ফুটপাথে,    কোন্ডাজি বিল্ডিংয়ের পাশেই একটি দাতব্য কার্যালয়ের কাজ শুরু করলেন। ২৭ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও কাজের গতি যে অব্যাহত থাকবে, তা উনি ধারনাও করেননি। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী এবং তাঁদের পরিজনবর্গের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ ছিল এই কার্যক্রমের প্রধান ভূমিকা। প্রতিবেশী মানুষজনের পূর্ণ সমর্থন থাকার ফলে পঞ্চাশ থেকে শুরু করে খুব শিগগিরই সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে ১০০,২০০ এবং তিনশতে। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সাহায্যকারীর সংখ্যাও। 

কার্যক্রমের গতি বছর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরলস ভাবে বেড়ে চলে। শীত, গ্রীষ্ম, এমনকি মুম্বাইয়ের ভয়ঙ্কর বর্ষা কর্মীদের নিরুৎসাহিত করতে পারেনি। সুবিধাভোগীর  সংখ্যা শীঘ্রই ৭০০ ছুঁয়ে যায়।

প্রচারবিমুখ ঈশ্বরবেশী ৫৭ বছরের এই মহান পুরুষটির নাম  হরখচাঁদ  শাওলা। প্রকৃতপক্ষে, তিনি তিনজন ডাক্তার এবং তিনজন ফার্মাসিস্টের স্বেচ্ছাসেবী পরিষেবা তালিকাভুক্ত করে একটি মেডিসিন ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে  অভাবীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। শ্রী শাওলা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত "জীবন জ্যোত" ট্রাস্ট এই মুহূর্তে ৬০ টিরও বেশি মানবিক প্রকল্পের কাজে নিযুক্ত আছে। তাঁর অসীম কর্মোদ্যোগ এবং অসামান্য সামাজিক অবদানকে নত মস্তকে কুর্নিশ জানাই। 


এদেশে এমন কিছু মানুষ আছেন তাঁরা শচীন তেন্ডুলকারকে, দুই দশকে ২০০ টি টেস্ট ম্যাচ খেলা, কয়েকশ ওয়ানডে ম্যাচ এবং ১০০টি সেঞ্চুরি, সঙ্গে ৩০০০০ হাজার রানের খতিয়ান দেখিয়ে তাঁকে ঈশ্বরজ্ঞানে শ্রদ্ধা করেন। কিন্ত দুঃখের বিষয়, যে হরখচাঁদ শাওলা যাঁর সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান নিত্য ১০ থেকে ১২ লাখ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের বিনা মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করে, তাঁকে ঈশ্বরজ্ঞানে শ্রদ্ধা করা তো দূরের কথা, তাঁর নাম পর্যন্ত অনেকে শোনেন নি। 


পন্ধরপুরের বিঠোবা মন্দিরে, শিরডির সাঁই মন্দিরে, তিরুপতির বালাজি মন্দিরে 'ভগবান' খোঁজা কোটি কোটি ভক্ত কখনও ঈশ্বর খুঁজে পাবেন না। ঈশ্বর আমাদের সান্নিধ্যেই বাস করেন। অথচ আমরা পাগলের মতো বিভিন্ন বেশধারী বাবা, বাপু বা মহারাজ জাতীয় ঈশ্বর-মানবের পেছনে ছুটছি। এসব মানুষ  কোটিপতি হয়ে যাচ্ছেন, অথচ সাধারণ মানুষের অসুবিধা, যন্ত্রনা আর বিপর্যয় মৃত্যু অবধি থেকে যাচ্ছে। বিগত ২৭ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ ক্যান্সার রোগী ও তাঁদের স্বজনরা হরখচাঁদ শাওলা রূপে 'ঈশ্বর' খুঁজে পেয়েছেন।


শ্রী শাওলা তাঁর ন্যায্য খ্যাতির স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। কাজেই আপনারা যেমন মজাদার কৌতুক এবং কবিতা অবিলম্বে উৎসাহ নিয়ে ফরওয়ার্ড করেন, ঠিক তেমনই শ্রী শাওলার এই বার্তাটি অবিলম্বে ফরওয়ার্ড করুন।


Sunday, May 1, 2022

India's stand in Russia-Ukraine war

 India's stand in Russia-Ukraine war.

-------


From the very beginning, India has adopted a neutral line, seeking an end to hostilities, insisting that dialogue is the only solution. The world (Read West and it's allies) criticized Russia, while India maintained silence. India has steadfastly stuck to its national interest and historical belief of neutrality. Prime Minister Narendra Modi commented, "today the world has witnessed the emergence of such an India which stands firm to safeguard it's interest against fear or pressure." - a very bold stand indeed. 


However, India at the same time called for the strict adherence to the UN charter on sovereignty and the territorial integrety of all nations. It has also sent humanitarian assistance for the beleaguered people of Ukraine -- both are commendable diplomatic steps.


In my opinion this is Mr. Modi's second bold step, he has delivered to the nation since he'd taken charge of the PM's office in 2014, the first one being the revocation of Articles 370 and 35A in J & K, a few years ago, that no PM of India before had the courage to take such a major decision. 


Mr. S Jaishankar, minister of external affairs and a very competent bureaucrat who represented India in meetings of Russia- Ukraine issues deserves special mention.

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

 রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ভারতের অবস্থান

--------


২৪ শে ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া, ইউক্রেনে যুদ্ধ শানিয়েছে এবং উত্তরোত্তর তার তীব্রতা বেড়ে চলেছে। যেখানে সারা বিশ্ব (পড়ুন আমেরিকা এবং ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত পশ্চিমা দেশগুলো) রাশিয়ার নিন্দায় সরব, ভারতের অবস্থান সেখানে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ এবং নিরপেক্ষতার ঐতিহাসিক বিশ্বাসে অটল থেকে একটা কথাই বলেছে যে, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান আসবে। যুদ্ধ-বিগ্রহ কোনো স্থায়ী সমাধান সূত্র নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জোর দিয়ে বলেছেন যে, " সারা বিশ্ব আজ প্রত্যক্ষ করছে, কোনো দেশের চাপ বা ভয়ের কাছে স্বীকার না করে ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় সংকল্প।" সত্যিই এটা একটা নির্ভীক পদক্ষেপ। 


একই সময়ে জাতিসংঘের (UN) সনদ কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে সমস্ত জাতির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখন্ডতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এবং ইউক্রেনের বিপর্যস্ত জনগনের জন্য যথাযথ মানবতাবাদী সহায়তাও পাঠিয়েছে ভারত -- উভয় সিদ্ধান্তই প্রশংসনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ। 


আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, মোদী সরকারের  ৮ বছরের রাজত্ব কালে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের এই সিদ্ধান্ত দ্বিতীয় সাহসী পদক্ষেপ। প্রথমটি হ'ল কয়েক বছর আগে জম্মু ও কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা প্রতাহার করা যা, তাঁর আগে ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী সেই সাহস দেখাতে পারেননি।


শেষে উল্লেখ করতে চাই যে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং একই সঙ্গে একজন অত্যন্ত দক্ষ আমলা এস জয়শঙ্করের ভূমিকা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রশংসার দাবি রাখে।