বন্ধুবর রাজকুমার মৈত্রের ইংরেজিতে লেখা একটি সত্য ঘটনা ফেসবুকের দেওয়ালে পড়ে মনে হ'ল এটার বঙ্গানুবাদ করে repost করলে বাংলাভাষী হাজার হাজার মানুষ এই খবরে উপকৃত হবেন। ওর সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটার জন্য আমার ইচ্ছা প্রকাশ করে ওর পরামর্শ নিলাম। ও আমার ইচ্ছায় সায় দিয়ে অনুরোধ জানালো। এমন বন্ধুর অনুরোধ শিরোধার্য। কাজেই কালক্ষেপ না করে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কাজে লেগে পড়লাম। এখন সত্য ঘটনাটি উন্মোচনের পালা।
'বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর'
একজন বন্ধু (RB) লিখেছেন :
মুম্বাইয়ের বিখ্যাত টাটা ক্যান্সার হাসপাতালের উল্টো ফুটপাথে বছর তিরিশের এক যুবক নিত্য হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অজস্র মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের মুখের উপর স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠা উদ্বেগ এবং তাঁদের আত্মীয়-স্বজনের উদ্ভ্রান্তের মতো ছোটাছুটি দেখে অসহায় বোধ করতেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ রোগীই ছিলেন দূরবর্তী শহরের প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের কাছে না থাকতো ওষুধের জন্য টাকা, এমনকি খাবার পয়সাও। প্রতিদিনই যুবক বিষন্ন বদনে বাড়ি ফিরতেন। এই মানুষগুলোর জন্য কিছু করার ভাবনায় দিবারাত্র তিনি আচ্ছন্ন থাকতেন।
অবশেষে তিনি একটি উপায় খুঁজে পেলেন। তাঁর রীতিমতো লাভজনক ব্যবসার হোটেল বাড়িটি ভাড়ায় খাটিয়ে কিছু মূলধন সংগ্রহ করে একটি তহবিল তৈরি করলেন। এই তহবিল থেকে তিনি টাটা হাসপাতালের উল্টো ফুটপাথে, কোন্ডাজি বিল্ডিংয়ের পাশেই একটি দাতব্য কার্যালয়ের কাজ শুরু করলেন। ২৭ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও কাজের গতি যে অব্যাহত থাকবে, তা উনি ধারনাও করেননি। ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী এবং তাঁদের পরিজনবর্গের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ ছিল এই কার্যক্রমের প্রধান ভূমিকা। প্রতিবেশী মানুষজনের পূর্ণ সমর্থন থাকার ফলে পঞ্চাশ থেকে শুরু করে খুব শিগগিরই সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে ১০০,২০০ এবং তিনশতে। রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সাহায্যকারীর সংখ্যাও।
কার্যক্রমের গতি বছর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরলস ভাবে বেড়ে চলে। শীত, গ্রীষ্ম, এমনকি মুম্বাইয়ের ভয়ঙ্কর বর্ষা কর্মীদের নিরুৎসাহিত করতে পারেনি। সুবিধাভোগীর সংখ্যা শীঘ্রই ৭০০ ছুঁয়ে যায়।
প্রচারবিমুখ ঈশ্বরবেশী ৫৭ বছরের এই মহান পুরুষটির নাম হরখচাঁদ শাওলা। প্রকৃতপক্ষে, তিনি তিনজন ডাক্তার এবং তিনজন ফার্মাসিস্টের স্বেচ্ছাসেবী পরিষেবা তালিকাভুক্ত করে একটি মেডিসিন ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে অভাবীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। শ্রী শাওলা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত "জীবন জ্যোত" ট্রাস্ট এই মুহূর্তে ৬০ টিরও বেশি মানবিক প্রকল্পের কাজে নিযুক্ত আছে। তাঁর অসীম কর্মোদ্যোগ এবং অসামান্য সামাজিক অবদানকে নত মস্তকে কুর্নিশ জানাই।
এদেশে এমন কিছু মানুষ আছেন তাঁরা শচীন তেন্ডুলকারকে, দুই দশকে ২০০ টি টেস্ট ম্যাচ খেলা, কয়েকশ ওয়ানডে ম্যাচ এবং ১০০টি সেঞ্চুরি, সঙ্গে ৩০০০০ হাজার রানের খতিয়ান দেখিয়ে তাঁকে ঈশ্বরজ্ঞানে শ্রদ্ধা করেন। কিন্ত দুঃখের বিষয়, যে হরখচাঁদ শাওলা যাঁর সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান নিত্য ১০ থেকে ১২ লাখ ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের বিনা মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করে, তাঁকে ঈশ্বরজ্ঞানে শ্রদ্ধা করা তো দূরের কথা, তাঁর নাম পর্যন্ত অনেকে শোনেন নি।
পন্ধরপুরের বিঠোবা মন্দিরে, শিরডির সাঁই মন্দিরে, তিরুপতির বালাজি মন্দিরে 'ভগবান' খোঁজা কোটি কোটি ভক্ত কখনও ঈশ্বর খুঁজে পাবেন না। ঈশ্বর আমাদের সান্নিধ্যেই বাস করেন। অথচ আমরা পাগলের মতো বিভিন্ন বেশধারী বাবা, বাপু বা মহারাজ জাতীয় ঈশ্বর-মানবের পেছনে ছুটছি। এসব মানুষ কোটিপতি হয়ে যাচ্ছেন, অথচ সাধারণ মানুষের অসুবিধা, যন্ত্রনা আর বিপর্যয় মৃত্যু অবধি থেকে যাচ্ছে। বিগত ২৭ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ ক্যান্সার রোগী ও তাঁদের স্বজনরা হরখচাঁদ শাওলা রূপে 'ঈশ্বর' খুঁজে পেয়েছেন।
শ্রী শাওলা তাঁর ন্যায্য খ্যাতির স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। কাজেই আপনারা যেমন মজাদার কৌতুক এবং কবিতা অবিলম্বে উৎসাহ নিয়ে ফরওয়ার্ড করেন, ঠিক তেমনই শ্রী শাওলার এই বার্তাটি অবিলম্বে ফরওয়ার্ড করুন।