Monday, May 27, 2024

উপলব্ধি

 উপলব্ধি

"আমার মূল্য ততক্ষণ , যতক্ষণ কারোর কাজের জন্য আমাকে প্রয়োজন আছে।"

Monday, May 20, 2024

সাত পাকে বাঁধা

 আমি কৈশোর এবং যৌবনে খুবই সিনেমা প্রেমিক ছিলাম। যে সময়ের কথা বলছি, সেটা ছিল বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগ। সিনেমা দেখতে আজও ভীষণভাবেই ভাল লাগে। কিন্ত শারীরিক অক্ষমতার কারণে প্রেক্ষাগৃহ পর্যন্ত পৌঁছানো যায় না। বাড়িতে বসে ইউটিউবের সিনেমার চ্যানেলে পুরনো দিনের বাংলা সিনেমা দেখি। গত তিন সপ্তাহ হল এই অভ্যেস চালু করেছি। 

গতকাল সুচিত্রা সেন সৌমিত্র চ্যাটার্জী অভিনীত ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া "সাত পাকে বাঁধা" ছায়াছবিটা দেখলাম। 

দেখা শেষ হবার পরে আমার একটা কথাই মনে হয়েছে বিগত ৬১ বছর পরেও বাঙালি সমাজ ব্যবস্থার তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। আজও সাধারণ মানুষ ছোট্ট গন্ডীর ভেতর ছোটখাট সুখ-দুঃখ, আনন্দ, ব্যর্থতা, সাফল্য, ইত্যাদি নিয়ে মুখগুঁজে থাকতে ভালবাসে। তাঁদের কাছে সাফল্যের মাপকাঠি একমাত্র আর্থিক উপার্জন দিয়েই বিচার করা হয়। তার সঙ্গে যদি বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে তো আর কথাই নেই ! এই টেক্কাটেক্কি ছোট ছোট পরিবার গুলোর মধ্যে সেই সময়েও যা ছিল, আজও আদৌ তার কিছু পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। পরিবার গুলোর সদস্যদের মধ্যে মনে হয় সব সময় কেমন যেন গোপন প্রতিযোগিতা চলে। মানুষের সঙ্গে সংস্পর্শে, সুখ-দুঃখের ঘাত প্রতিঘাতে, ভাল মন্দের দ্বন্দ্বে নিত্য মথিত হয়েই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই কথাগুলো বেরিয়ে এল। দজ্জাল, উন্নাশিক শাশুড়িরা, অপেক্ষাকৃত আর্থিক আনুকুল্য সম্পন্ন হবার কারণে সচেতন ভাবেই কত মেয়ের সংসার যে ভেঙ্গেছেন তার ইয়ত্তা নেই। "সাত পাকে বাঁধা" কাহিনি এই ঘটনাকে সিলমোহর দেয়।

আজকের দিনে ব্যাপারটা বরং একটু উল্টো স্রোতে বইছে। বাড়ির চাকুরিরতা বৌদের সাজ পোশাকে রীতিমত সাহসিকতার ছাপ এবং শরীরী ভাষাও যথেষ্ট উদ্ধত । শ্বশুর-শাশুড়িরা সব দেখলেও, অশান্তি এড়াতে দেহ নিয়ে পালিয়ে যান, মন নিয়ে পালাতে পারেন কিনা, সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে!

Sunday, May 12, 2024

নাতনির চিঠি

 আমাদের নাতনির চিঠি

আমাদের আদরের নাতনি অদ্রিজা। ওকে ওর আম্মা, মানে আমার স্ত্রী চিঠি লিখতে শিখিয়েছে। এখন ওর বয়স সাড়ে নয়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ক্লাস ফোর-এর ছাত্রী। আমরা একই পাড়ার খুব কাছাকাছি দু'টি আলাদা ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকি। ওর এখন গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। 

প্রতি সপ্তাহে ও আমাকে আর ওর আম্মাকে উদ্দেশ্য করে প্রায় ৩/৪ টে চিঠি দেয়। আমরাও নিয়ম করে উত্তর পাঠাই। মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে ওর উৎসাহ বেড়ে চলেছে। হাতের লেখাটা খুব একটা ভাল না হলেও চিঠির বক্তব্যে ওর স্পষ্ট ধারণা দেখে আমরা যারপরনাই মুগ্ধ। আঁকার ব্যাপারে ওর খুব ঝোঁক আছে এবং কল্পনা শক্তিরও স্বাক্ষর আছে। সেটার প্রমাণ পেলাম চিঠির শেষে ওর নিজের এবং আমাদের নাম লেখার কায়দা দেখে। এগুলো নিজে থেকেই ও লিখেছে Calligraphically. ছবিতে আজকে লেখা ওর চিঠির বয়ান রাখলাম।