আমি কৈশোর এবং যৌবনে খুবই সিনেমা প্রেমিক ছিলাম। যে সময়ের কথা বলছি, সেটা ছিল বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগ। সিনেমা দেখতে আজও ভীষণভাবেই ভাল লাগে। কিন্ত শারীরিক অক্ষমতার কারণে প্রেক্ষাগৃহ পর্যন্ত পৌঁছানো যায় না। বাড়িতে বসে ইউটিউবের সিনেমার চ্যানেলে পুরনো দিনের বাংলা সিনেমা দেখি। গত তিন সপ্তাহ হল এই অভ্যেস চালু করেছি।
গতকাল সুচিত্রা সেন সৌমিত্র চ্যাটার্জী অভিনীত ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া "সাত পাকে বাঁধা" ছায়াছবিটা দেখলাম।
দেখা শেষ হবার পরে আমার একটা কথাই মনে হয়েছে বিগত ৬১ বছর পরেও বাঙালি সমাজ ব্যবস্থার তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। আজও সাধারণ মানুষ ছোট্ট গন্ডীর ভেতর ছোটখাট সুখ-দুঃখ, আনন্দ, ব্যর্থতা, সাফল্য, ইত্যাদি নিয়ে মুখগুঁজে থাকতে ভালবাসে। তাঁদের কাছে সাফল্যের মাপকাঠি একমাত্র আর্থিক উপার্জন দিয়েই বিচার করা হয়। তার সঙ্গে যদি বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে তো আর কথাই নেই ! এই টেক্কাটেক্কি ছোট ছোট পরিবার গুলোর মধ্যে সেই সময়েও যা ছিল, আজও আদৌ তার কিছু পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। পরিবার গুলোর সদস্যদের মধ্যে মনে হয় সব সময় কেমন যেন গোপন প্রতিযোগিতা চলে। মানুষের সঙ্গে সংস্পর্শে, সুখ-দুঃখের ঘাত প্রতিঘাতে, ভাল মন্দের দ্বন্দ্বে নিত্য মথিত হয়েই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই কথাগুলো বেরিয়ে এল। দজ্জাল, উন্নাশিক শাশুড়িরা, অপেক্ষাকৃত আর্থিক আনুকুল্য সম্পন্ন হবার কারণে সচেতন ভাবেই কত মেয়ের সংসার যে ভেঙ্গেছেন তার ইয়ত্তা নেই। "সাত পাকে বাঁধা" কাহিনি এই ঘটনাকে সিলমোহর দেয়।
আজকের দিনে ব্যাপারটা বরং একটু উল্টো স্রোতে বইছে। বাড়ির চাকুরিরতা বৌদের সাজ পোশাকে রীতিমত সাহসিকতার ছাপ এবং শরীরী ভাষাও যথেষ্ট উদ্ধত । শ্বশুর-শাশুড়িরা সব দেখলেও, অশান্তি এড়াতে দেহ নিয়ে পালিয়ে যান, মন নিয়ে পালাতে পারেন কিনা, সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে!
No comments:
Post a Comment