Sunday, October 31, 2021

Shame to BCCI & Saurabh

 Just a couple of minutes ago I posted a shameful act by a part of obsessed supporters in favour of Indian cricket in Bengali. I try to portray an equivalent English translation.


Three cheers for Virat Kohli and shame to Saurabh Ganguly and BCCI.


INDIA cricket captain Virat Kohli has strongly slammed the abuse hurled at Indian pacer, Mohammed Shami on social media after Pakistan defeated India by 10 wickets in their opening match of ICC Men's T20 World Cup. They have no understanding of the fact that some cricketers like Mohammed Shami has brought win to India in umpteen number of matches in the last few years and has been our primary bowler with Jaspreet Bumrah when it comes to making an impact in the games in Test Cricket. Shami was subjected to vicious online trolling on social media after the match in which he conceded 43 runs in 3.5 overs. In fact some people has termed him as traitor and advised to go back to Pakistan. Kohli termed the trollers as "bunch of spineless people." Rightly said Virat. Kohli also aimed at BCCI office bearers, telling, "Are you listening to it !"

Many former and current cricketers condemned the abuse strongly but unfortunately Board President Saurabh Ganguly never featured in the list. My reaction as an individual is "SHAME TO SAURABH". You may be a great cricketer and a great captain, but certainly NOT a great sportsman. Virat Kohli is rather "ALL IN ONE." After the match, India had conceded defeat and Virat came forward and hugged Mohammed Rizwan. He's indeed a real captain as well as a great cricketer. After all, cricket is a gentleman's game which turned to a trade now.

ছিঃ সৌরভ ছিঃ

 বিরাট কোহলীর জন্য তিনটি চিয়ার্স এবং সৌরভ গাঙ্গুলি আর জয় সাহ-র জন্য ছিঃ ছিঃ ছিঃ


আই সি সি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান ভারতকে ১০ উইকেটে পরাজিত করার পরে সোশ্যাল মিডিয়ার একাংশে মহম্মদ শামির বিরুদ্ধে করা গালিগালাজের তীব্র নিন্দা করেছেন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

গত কয়েক বছরে মহম্মদ শামির মতো কেউ কেউ ভারতকে অসংখ্য ম্যাচে জিতিয়েছে এবং টেস্ট ক্রিকেটে প্রভাব ফেলতে গেলে জসপ্রীত বুমরাহের সাথে আমাদের প্রাথমিক বোলার ছিলেন, তা তাঁরা বুঝতে পারে না। শামির ৩.৫ ওভারে ৪৩ রান দেওয়ার ম্যাচের পরে শামি সামাজিক মিডিয়াতে ভয়ঙ্কর অনলাইন ট্রোলিংয়ের শিকার হন। কিছু মানুষ শামিকে বিশ্বাসাতক বলে অভিহিত করে পাকিস্তানে ফিরে যাবার নিদান দিয়ে ফেলেছেন। কোহলি ট্রোলারদের "মেরুদন্ডহীন মানুষের দল বলে অভিহিত করেছেন।" কোহলি বিসিসি আই-এর পদাধিকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা কি এগুলো শুনছেন !" অনেক বর্তমান এবং প্রাক্তন ক্রিকেটাররা শামির প্রতি এই অভব্য আচরণের নিন্দা করেছেন। কিন্ত দুর্ভাগ্যবশত, বোর্ড সভাপতি, বঙ্গসন্তান, সৌরভ গাঙ্গুলির সেই তালিকায় নাম দেখা যায়নি। একজন ব্যক্তি হিসেবে সৌরভের প্রতি আমার প্রতিক্রিয়া, "ছিঃ সৌরভ ছিঃ।" আপনি একজন দুর্দান্ত ক্রিকেটার এবং দুর্দান্ত অধিনায়ক হতে পারেন। অবশ্যই আপনি দুর্দান্ত ক্রীড়াবিদ আদৌ নন। মুখ বন্ধ রেখে আপনি খেলোয়াড় সুলভ মনোভাব দেখাননি। বিরাট কোহলি বরং "অল ইন ওয়ান"। ম্যাচের পর ভারত হার মনে নেয় তো বটেই এবং বিরাট,  মহম্মদ রিজওয়ানকে জড়িয়ে ধরেন। এটাই খেলোয়াড় সুলভ মানসিকতা। তিনি সত্যিই একজন সত্যিকারের নায়কোচিত অধিনায়ক।

Thursday, October 28, 2021

আবুল কালাম আজাদ

 



 


  স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী, আবুল কালাম আজাদ- দু'চার কথা।


                                      

 "ভারতের অখন্ডতা বজায় রাখায় ব্রতী আবুল কালামের নাম তেমন শোনা যায় না।" আজ রাজৈনতিক অস্থিরতা ও টানাপোড়েনের ফলে ভারতবর্ষের বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা যখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে, সেখানে আবুল কালামের নামটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং আজাদের বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানোর তাগিদ অনুভব করছি।

 বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে মধ্যপ্রাচ্যের ইরাক, সিরিয়া ও মিশরের অবস্থান ছিল ঔপনিবেশিকতার ছত্রছায়ায়। মাত্র কুড়ি বছর বয়সে আজাদ ঐ দেশগুলোতে যান এবং সেখানে ক্রীস্টান মৌলবাদী সমেত তুর্কী ও আরব জাতীয়তাবাদী যুবসম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আশ্বাস দেন যে ভারত কিভাবে তাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের শরিক হতে পারে। ফিরে এসে ১৯১২ সালে স্বধীন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে 'আল-হিলাল' নামে তিনি একটি পত্রিকার সৃত্রপাত করেন। দুবছরের মধ্যেই পত্রিকাটি এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে সংখ্যার নিরিখে সেটির প্রচার তিরিশ হাজারে পৌঁছে যায়। ফলে আজাদ ইংরেজ সরকারের চোখ রাঙানির শিকার হন এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত  আইনের উপযুক্ত ধারায় আজাদকে গ্রেপ্তার করে রাঁচি কারাগারে পাঠানো হয়। পত্রিকা প্রচার বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার ছাপাখানাটিও বাজেয়াপ্ত করে। রাঁচি কারাগারে তিনি অকথ্য অত্যাচারের শিকার হন।  জেল থেকে মুক্তির পরেই তিনি শিক্ষা-সংস্কৃতি বিষয়ে প্রবন্ধ প্রকাশ করতে থাকেন। এই প্রবন্ধগুলোর সারাংশই আগে আল-হিলাল পত্রিকার বিভিন্ন সংস্করনের সম্পাদকীয় হিসেবে প্রকাশিত হতো।

আল-হিলাল পত্রিকার ছাপাখানা বাজেয়াপ্ত করার পরেও আজাদ থেমে থাকেননি। 'আল-বালাগ' নামে তিনি আরও একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদনায় ব্রতী হন। কিন্তু বেশিদিন চালানো সম্ভব হয়নি। ইংরেজ সরকারের কতৃত্ববাদের কদর্য হাত যে কতদূর প্রসারিত হতে পারে, সেটা আজাদ আন্দাজ করতে পারেননি। আজাদ গৃহবন্দী হন এবং খুব শিগগিরি দ্বিতীয় বারের জন্য কারাবরণ করেন । এবারে সুদীর্ঘ চার বছরের জন্য। ১৯২০ সালে, জেল থেকে বেরিয়ে উনি মহাত্মা গাঁধী এবং লোকমান্য তিলকের সাক্ষাৎ পান। এই সাক্ষাৎ ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। তাঁর চোখে কংগ্রেসের এই দুই নেতা ছিলেন হিমালয় সদৃশ।


ঊনিশশ সাতচল্লিশে দেশভাগের অব্যবহিত পরেই দিল্লীর হাজার হাজার মুষলিমের পাকিস্তানমুখি হবার আঁচ পেয়েই আজাদ জামা মসজিদের প্রাচীর ববাবর সুউচ্চ ঢিবি থেকে যে বক্তৃতা করেন তার জেরে আবেগতাড়িত মুষলমান সম্প্রদায় তল্পিতল্পা গুটিয়ে রাতারাতি ভারতমুখি হয়। এই বক্তৃতা ১৮৮৭ সালে আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় আব্রাহাম লিঙ্কনের গেটিসবার্গ বক্তৃতার সঙ্গেই তুলনীয়। দেশ এবং দেশের মানুষের প্রতি কতটা আন্তরিক ও দায়বদ্ধ হলে এমন একটা বক্তৃতার পরিকল্পনা করা যায়।

স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন শাখায় শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে ১৯৫০ সাল থেকে আজাদ ব্রতী হন। প্রথমেই তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় সংস্কৃতি সম্পর্ক মন্ত্রনা পরিষদ্ (ইন্ডিয়ান কাউনসিল অব কালচারাল রিলেশনস্)। ১৯৫৩-৫৪ সালে তাঁর উদ্যোগে তৈরি হয় তিনটি জাতীয় অ্যাকাডেমি, সঙ্গীত-নাটক, সাহিত্য এবং ললিতকলা অ্যাকাডেমি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্দিষ্টি শিক্ষার মান বজায় রাখতে আর্থিক অনুদান বরাদ্দ করার উদ্দেশ্যে, ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন, তাঁরই মস্তিষ্কপসূত।

সামাজিক অবস্থান নির্বশেষে ব্যক্তিগত স্তরে মানুষের প্রতি আবুল কালামের দায়বদ্ধতার একটা নজির দিচ্ছি। দেশ ভাগের সময় ভারতীয় রেলের আবদুর রহিম নামে এক খালাসী, পাকিস্তানে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় এই সর্তে, যে ছ-মাসের মধ্যে ভারতে ফিরলে তার চাকরি বহাল থাকবে। বলাই বাহুল্য যে পাকিস্তানের পরিস্থিতি দেখে চার মাসের মধ্যেই তার পাকিস্তানে স্থায়ী বসবাস করার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় এবং সে ভারতে ফিরে আসে। কিন্তু তার চাকরির সর্ত অস্বীকার করা হয়। সংস্লিষ্ট দপ্তরে বছরখানেক চিঠি চালাচালি করার পরেও সমস্যার কোনো সুরাহা না হওয়ায় আবদুর রহিম আজাদের দ্বরস্থ হন। কাল বিলম্ব না করে আজাদ, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে একটা চিঠি লেখেন এবং লাগাতার প্রয়াস চালিয়ে যান। বেশ কিছু বছর বাদে রহিম চাকরিতে বহাল হন। 

অনাড়ম্বর জীবনদর্শনে বিশ্বাসী আজাদের মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহারের দেরাজ খুলে উদ্ধার হয় কয়েকটি সূতির আচকান, গোটাকতক খাদির কুর্তা এবং পাজামা আর পায়ের দুজোড়া চপ্পল। আর পাওয়া যায় সারা জীবনের সংগ্রহ করা বিরল কয়েকশ বই, যেগুলো এখন জাতীয় সম্পত্তি হিসেবে সংরক্ষিত আছে।





Sunday, October 10, 2021

বেশ বেমানান

 বেশ বেমানান


জলখাবারের পরে রোজই একটু হাঁটতে বেরোই। আজকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উদ্দেশ্য ছিল আশপাশের ঠাকুর গুলো দেখে আসব। রথ দেখা কলা বেচার মত অনেকটা। ওই এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যে যেগুলো পড়ে। বাবুবাগান আমার বাসস্থানের প্রায় দোরগোড়ায়। ওখানেই প্রথমে গেলাম। প্যান্ডেল দেখে চোখ আটকে গেল। গ্রন্থাগারের ধাঁচে তৈরি করা সমস্ত প্যান্ডেলটা, ভাস্কর্য আর শিল্পের এক অভিনব মেলবন্ধন। বাঙালিদের সৃজনশীলতাকে মনে মনে আরও একবার কুর্নিশ জানালাম। প্যান্ডেলের ভেতরে বাইরে, সর্বত্র লাইব্রেরী আর লাইব্রেরির তাকগুলো ভর্তি শুধুই বই। 

মণ্ডপের ভেতরের গ্রন্থাগারের দুই সারিতে দেশপ্রেমিক, সমাজসংস্কারক থেকে শুরু করে কবি, সাহিত্যিক, বিদ্রোহী- বাঙলার মণীশীদের ছবি বেশ যত্ন করে টাঙানো আছে। কয়েকজনের নাম নিলেই বোঝা যাবে কোন্ মাপের মানুষ তাঁরা। যেমন রবিঠাকুর, চিত্তরঞ্জন, নজরুল, বিদ্যাসাগর, রামমোহন, ব্রজেন্দ্র শীল, স্বামীজী, নেতাজী....। ঘড়ির কাঁটার মতো বাঁ দিক থেকে ডান দিক, চোখ ঘুরছে আমার। উপরের সারি শেষ করে নিচের সারি দেখার পালা এবার। হঠাৎই এক জায়গায় চোখ আটকে ছন্দপতন হ'ল। ছবিটা ছিল এই অঙ্গরাজ্যের দিদির ছবি। পাঁচ-সাতজন ছিল। মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল এটা তো বড্ড বেমানান হয়ে গেল! এক ছোকরা কানের কাছে এসে বলে গেল ঠিক বলেছেন কাকু। বয়স ৭৮ হলেও চুলের রঙে তেমন পাক না ধরার ফলে, কাকুর তকমাতেই এখনও আটকে আছি। যাইহোক, আর একজন প্রৌঢ়ের প্রতিক্রিয়া - কেন উনি তো অনেক বই, কবিতার বই লিখেছেন,  তাহলে অসুবিধে কোথায় ? আমি বললাম, অসুবিধে দৃষ্টিভঙ্গির। আমার নিজের মনে হ'ল এঁদের সঙ্গে ওঁর ছবি ঠিক যায় না। যেমন যায় না, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নামকরণ করা গুজরাতের মোতেরা স্টেডিয়াম, ৮০০ কোটি টাকায় ঝাড়পোঁছ করে ১,৪০,০০০ দর্শক আসনের ব্যবস্থা করে পৃথিবীর বৃহত্তম   স্টেডিয়ামের লেবেল লাগিয়ে নাম বদলে নরেন্দ্র মোদীর নামে করা হয়েছে, সেরকম। এটা তো গণতান্ত্রিক দেশ, অন্তত প্রধানমন্ত্রী বা এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাই বলেন। কাজেই বাকস্বাধীনতায় তো এখনও লাগাম পরানো হয়নি। আপনার যুক্তিটা ভুল নয়। আমার উক্তিও অযৌক্তিক বলে মনে করছি না। আচ্ছা আসি তাহলে। দাঁড়ান দাঁড়ান,  দাদা। ওই ছেলেটি আপনার কানে কানে ফিসফিস করে কী বলে গেল ? ভদ্রলোককে বললাম ওই তো ছেলেটা যাচ্ছে, এখনও দেখা যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করে নিন্। বাড়ি ফিরতে ফিরতে মনে হ'ল সংগঠকরা একটু বেশি স্তাবকতা করে ফেলেছে। মুখ্যমন্ত্রীরও হয়তো তাতে সায় নেই। যদিও উনি স্বয়ং বেশ দিন কয়েক আগে ওই ঠাকুর উদ্বোধন করে গেছেন। জানিনা তখন ছবিগুলো লাগানো ছিল কিনা !!!

Wednesday, October 6, 2021

উপনির্বাচনের ফলাফল

 উপনির্বাচনের কাঙ্খিত ফলাফল।


আমি গত মাসের ১৩ তারিখে, ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হবার ঠিক পরেই এই ফেসবুকের এই দেওয়ালে ফলাফলের একটা আভাস দিয়েছিলাম। সেখানে, দিদি ছাড়া বাকি দুজনের ভবিষ্যৎ আদৌ যে ভাল নয় সেটা ওই লেখাতে প্রকাশ করেছিলাম।  পাঠকদের মনে করিয়ে দেবার জন্য সংক্ষেপে সেটা একটু সেরে নিই। শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে বলেছিলাম যে প্রচারের আগে বাঙলা ভাষাটায় একটু শাণ দিয়ে নিতে। তবে তখন ওঁর ঔদ্ধত্ব মেশানো শরীরী ভাষাটা যে আরও অনেকটাই খারাপ সেটা বুঝতে পারিনি। প্রচার যত বেড়েছে উনি ততই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছেন। তার ফল কি হল ? অবাঙালি অধ্যুষিত ভবানীপুর পাড়ার দুটি ওয়ার্ডেও উনি হেরে গেলেন। আর দিদি ৫৮,৮৩৫ ভোটে নিজের তৈরি আগের রেকর্ড ছাপিয়ে জিতে গেলেন। ভোট পেলেন ৩.৫৬%। রুদ্রনীল শোভনবাবুর কাছেও হেরেছিল। কিন্ত ভোট পেয়েছিল প্রায় সাড়ে চার শতাংশ। মনে রাখা দরকার ভোটের সংখ্যার থেকে শতাংশের হিসেবটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ  এবং বিজ্ঞান সম্মত। আসলে যে দুটি ওয়ার্ডের ওপর ওঁর ভরসা ছিল তাঁরা ওকে ডুবিয়েছে। কারণ, তাঁরা অবাঙালি ঠিকই, কিন্ত বংশ পরম্পরায় কলকাতাবাসী। তাঁরা অনেক নরম স্বভাবের মানুষ। প্রিয়াঙ্কার কাছে আমার অনুরোধ, পরে কোন নির্বাচনে প্রার্থী হলে আপনি সাধন পান্ডে, শশী পাঁজাদের মত বাঙলা শিখে নিন এবং ওঁদের মত শান্ত স্বভাবের ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যান। কলকাতা বাঙালি-অবাঙালি বিভেদ কোনোদিন করেনি, আজও করেনা। চাকরির সুবাদে, ভারতবর্ষের অনেক রাজ্যে যাতায়াত করেছি। আমার মনে হয়েছে, মহারাষ্ট্র আর পশ্চিমবাঙলা হ'ল সবচাইতে উদার পন্থী রাজ্য। হার স্বীকার করে প্রিয়াঙ্কা, দিদিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যঙ্গের সুরে বলেছেন যে ওঁর সংগঠন কিছুই করেনি আর দিদির সংগঠন ব্যাপক ছাপ্পা ভোট দিয়েছে। কিন্ত একথাও তো ঠিক যে বুথ পিছু অন্তত পাঁচজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ছিলেন। আর ওঁরা তো মোটামুটি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে। আর নির্বাচন কমিশনে উনি যা নালিস জানিয়েছেন, সেগুলোকে কমিশন গুরুত্ব দিয়ে বিচার করেছে। ধাঁধাটা বুঝতে পারলাম না।

আসি বামপন্থী প্রার্থী শ্রীজীবের কথায়। ওঁর ব্যাপারে লিখেছিলাম যে বাম শিবির সত্যিই আশাবাদী। এবং সেই আশার কথা ভেবে মনে হয়েছিল অলৌকিক তো কখনও কখনও ঘটেও থাকে। সেই মতো আমার নিজের মনে হয়েছিল যে উনি যদি এই নির্বাচনে দাগ কাটতে পারেন, তাহলে আমার ভেঙে যাওয়া শরীরটা একদিন জুড়ে যাবে। কিছুই হ'ল না। আমার আশাতেও ঠান্ডা জল ঢেলে দিলাম। এবার সামান্য পরিসংখ্যান দিয়ে শেষ করি। কয়েক মাস আগে জোটের প্রার্থী হিসেবে ভবানীপুরে কংগ্রেসের সাদাব খানের জমানাত বাজেয়াপ্ত হলেও ভোট পেয়েছিলেন ৪.০৯%, যে কারণে কংগ্রেস বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে আর প্রার্থী দেবার দুঃসাহস দেখায় নি। আর শ্রীজীবের জমানাত জব্দ তো হলই, আর ভোট শতাংশও কমে গেল ০.৫৩ শতাংশ। কাজেই এটা বামেদের দূরদর্শীতার অভাব ছাড়া আর কিই বা বলা যায়। ওদের এখনও বহুদিন আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আছে বলেই মনে হয়।