Wednesday, October 6, 2021

উপনির্বাচনের ফলাফল

 উপনির্বাচনের কাঙ্খিত ফলাফল।


আমি গত মাসের ১৩ তারিখে, ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হবার ঠিক পরেই এই ফেসবুকের এই দেওয়ালে ফলাফলের একটা আভাস দিয়েছিলাম। সেখানে, দিদি ছাড়া বাকি দুজনের ভবিষ্যৎ আদৌ যে ভাল নয় সেটা ওই লেখাতে প্রকাশ করেছিলাম।  পাঠকদের মনে করিয়ে দেবার জন্য সংক্ষেপে সেটা একটু সেরে নিই। শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে বলেছিলাম যে প্রচারের আগে বাঙলা ভাষাটায় একটু শাণ দিয়ে নিতে। তবে তখন ওঁর ঔদ্ধত্ব মেশানো শরীরী ভাষাটা যে আরও অনেকটাই খারাপ সেটা বুঝতে পারিনি। প্রচার যত বেড়েছে উনি ততই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছেন। তার ফল কি হল ? অবাঙালি অধ্যুষিত ভবানীপুর পাড়ার দুটি ওয়ার্ডেও উনি হেরে গেলেন। আর দিদি ৫৮,৮৩৫ ভোটে নিজের তৈরি আগের রেকর্ড ছাপিয়ে জিতে গেলেন। ভোট পেলেন ৩.৫৬%। রুদ্রনীল শোভনবাবুর কাছেও হেরেছিল। কিন্ত ভোট পেয়েছিল প্রায় সাড়ে চার শতাংশ। মনে রাখা দরকার ভোটের সংখ্যার থেকে শতাংশের হিসেবটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ  এবং বিজ্ঞান সম্মত। আসলে যে দুটি ওয়ার্ডের ওপর ওঁর ভরসা ছিল তাঁরা ওকে ডুবিয়েছে। কারণ, তাঁরা অবাঙালি ঠিকই, কিন্ত বংশ পরম্পরায় কলকাতাবাসী। তাঁরা অনেক নরম স্বভাবের মানুষ। প্রিয়াঙ্কার কাছে আমার অনুরোধ, পরে কোন নির্বাচনে প্রার্থী হলে আপনি সাধন পান্ডে, শশী পাঁজাদের মত বাঙলা শিখে নিন এবং ওঁদের মত শান্ত স্বভাবের ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে যান। কলকাতা বাঙালি-অবাঙালি বিভেদ কোনোদিন করেনি, আজও করেনা। চাকরির সুবাদে, ভারতবর্ষের অনেক রাজ্যে যাতায়াত করেছি। আমার মনে হয়েছে, মহারাষ্ট্র আর পশ্চিমবাঙলা হ'ল সবচাইতে উদার পন্থী রাজ্য। হার স্বীকার করে প্রিয়াঙ্কা, দিদিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যঙ্গের সুরে বলেছেন যে ওঁর সংগঠন কিছুই করেনি আর দিদির সংগঠন ব্যাপক ছাপ্পা ভোট দিয়েছে। কিন্ত একথাও তো ঠিক যে বুথ পিছু অন্তত পাঁচজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ছিলেন। আর ওঁরা তো মোটামুটি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে। আর নির্বাচন কমিশনে উনি যা নালিস জানিয়েছেন, সেগুলোকে কমিশন গুরুত্ব দিয়ে বিচার করেছে। ধাঁধাটা বুঝতে পারলাম না।

আসি বামপন্থী প্রার্থী শ্রীজীবের কথায়। ওঁর ব্যাপারে লিখেছিলাম যে বাম শিবির সত্যিই আশাবাদী। এবং সেই আশার কথা ভেবে মনে হয়েছিল অলৌকিক তো কখনও কখনও ঘটেও থাকে। সেই মতো আমার নিজের মনে হয়েছিল যে উনি যদি এই নির্বাচনে দাগ কাটতে পারেন, তাহলে আমার ভেঙে যাওয়া শরীরটা একদিন জুড়ে যাবে। কিছুই হ'ল না। আমার আশাতেও ঠান্ডা জল ঢেলে দিলাম। এবার সামান্য পরিসংখ্যান দিয়ে শেষ করি। কয়েক মাস আগে জোটের প্রার্থী হিসেবে ভবানীপুরে কংগ্রেসের সাদাব খানের জমানাত বাজেয়াপ্ত হলেও ভোট পেয়েছিলেন ৪.০৯%, যে কারণে কংগ্রেস বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে আর প্রার্থী দেবার দুঃসাহস দেখায় নি। আর শ্রীজীবের জমানাত জব্দ তো হলই, আর ভোট শতাংশও কমে গেল ০.৫৩ শতাংশ। কাজেই এটা বামেদের দূরদর্শীতার অভাব ছাড়া আর কিই বা বলা যায়। ওদের এখনও বহুদিন আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন আছে বলেই মনে হয়।

No comments: