Friday, November 29, 2024

উপলব্ধি

 বয়স বোধহয় বয়সের সংখ্যার বিচারে হয় না, হয় অভিজ্ঞতায়, হয় ব্যক্তিত্বে।

Tuesday, November 5, 2024

রতন নভল টাটা



                            রতন নভল টাটা



কিছুটা বংশ পরিচয় এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রিজমে আগে মানুষটিকে আমরা চিনে নিই। রতন নভল টাটা ছিলেন নেভাল টাটার (তলায় ডানদিকের ছবি) ছেলে, যাকে টাটা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জামশেদজি টাটার ছেলে রতনজি টাটা (তলায় বাঁ দিকের ছবি) দত্তক নিয়েছিলেন। তিনি কর্নেল ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ আর্কিটেকচার থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এবং ১৯৭৫ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল অ্যাডভান্স ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে যোগদান করেছিলেন।

একজন মানুষ যাঁর অন্তিম স্মশান যাত্রায় উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে তিনি যে কোনও জনপ্রিয় মহাতারকার চেয়েও জনপ্রিয় ছিলেন। শুধুমাত্র বিজনেস ম্যাগনেট হিসেবে এত জনপ্রিয় হওয়া যায় না। তিনি ছিলেন একেবারেই অন্য রকম । তিনি ১৯ বছর বয়সে এফ-১৬ ফাইটার জেট ও বোয়িং এফ-১৮ সুপার হরনেট চালিয়েছেন। তিনিই আবার ৬৯ বছর বয়সে সেই এফ-১৬ ফাইটার জেট চালিয়েছেন, যা ভারতে প্রথম। 

আমি তাঁকে একজন দেশপ্রেমিক মনে করি। কারণ,আমাদের দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর গ্রামীণ ভারত নিয়ে তিনি যা চিন্তা করেছেন, তা এই মুহূর্তে ভারতের ধনীতমদের লজ্জায় ফেলবে। কর্পোরেট লেভেলে সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রথম প্রবক্তা ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ টাটা গ্রুপের কাজের জন্যে তাঁকে 'নাইট গ্র্যান্ড ক্রস' পুরস্কার দেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার তাঁকে সে দেশের সবচেয়ে বড় সিভিল পুরস্কার 'অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া' প্রদান করে।

এত পুরস্কারের পরেও তাঁর পা যে মাটিতে ছিল, তার প্রমাণ মধ্যবিত্তের আওতায় ন্যানো গাড়ি তৈরির কারখানার স্বপ্ন। পশ্চিমবঙ্গের শিল্প শ্মশানটিকে ঘুরে দাঁড় করিয়ে শিল্পের ভবিষ্যত রচনার এবং এলাকার শিক্ষিত বেকারদের স্বপ্ন দেখানোর সেই স্বপ্ন ভেঙে গেল ২০০৮ সালে এক রাজনৈতিক আন্দোলনে, যা বঙ্গবাসীর কাছে চিরদিন ইতিহাস হয়ে থাকবে। ২০১১ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও আজও বাংলার শিল্পের ভবিষ্যত পাল্টাল না।

ভারত তার সবচেয়ে মানব-হিতৈষী শিল্পপতিদের একজন, সত্যিকারের "অসাধারণ নেতা" রতন টাটাকে হারানোর জন্য শোক প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে কোনও দ্বিমত নেই  যে রতন টাটার নেতৃত্বে টাটা গ্রুপ উদারভাবে বিভিন্ন জনহিতকর কাজে অর্থায়ন করেছে এবং মৃত্যুর আগে তাঁর উদারতা এবং অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্বের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন।

 জেআরডি টাটা, যিনি অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টাটা গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, ১৯৯১ সালে রতন টাটাকে তাঁর উত্তরসূরি হিসাবে নামকরণ করেছিলেন। দায়িত্ব হাতে নিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন যে সংস্থার কিছু লোক নিজেদেরকে শক্তি কেন্দ্র হিসাবে অবস্থান নিয়েছিল যেটা তাঁর কাজের শৈলীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে তিনি টাটা স্টিলের রুসি মোডি, টাটা কেমিক্যালসের দরবারী শেঠ এবং ইন্ডুয়ান হোটেলের অজিত কেলকারকে সরিয়ে দেন।

  ১৯৯১ সালে রতন টাটা, টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার প্রায় একই সময়ে, দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাস অর্থনৈতিক উদারীকরণের পরিবর্তন দেখেছিল।  এই অর্থনৈতিক অবস্থান থেকে রতন টাটার যাত্রাকে আলাদা করা অসম্ভব। ১৯৯১ সালে যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন টাটা গ্রুপের রাজস্ব ছিল $৪ বিলিয়ন, এবং ২০১২ সালে তিনি অবসর নেওয়ার সময় এটি $১০০ বিলিয়ন হয়ে গিয়েছিল, যা বর্তমানে প্রায় $১৬৫ বিলিয়ন। বর্তমানে, টাটা গ্রুপ সম্মিলিতভাবে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে নিয়োগ করেছে। এবং রতন টাটা এই অগ্রগতির একটি বড় অংশ তদারকি করেছিলেন।

তাঁর দেশপ্রেমের  তুলনা হয়তো তিনি নিজেই। তাঁর উত্তরাধিকারের একটি বিশেষ দিক যে  তিনি বিপরীত উপনিবেশকারীর ভূমিকায় নিজের স্বাক্ষর  রেখে গেছেন। ঠিক এই জায়গা থেকে একটু প্রসঙ্গান্তরে যাব এটা বোঝার জন্য, যে বিপরীত উপনিবেশে মানুষ কি দেখেছে ? 
এ বছর অর্থশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নিয়েছেন তিন জন- ড্যারন আসেমগ্লু, সাইমন জনসন এবং জেমস রবিনসন। তাঁদের লেখায় তিনটে শব্দবন্ধ বারবার চোখে পড়বেই: 'ঔপনিবেশিক  ইতিহাস ', 'প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা' আর 'অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি'। অবশ্য তাঁদের তত্ত্বের সঙ্গে সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনও সাধারণ ভারতবাসীও জানেন যে, আমাদের দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার পিছনে লুকিয়ে আছে প্রায় তিনশো বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এক 'কোম্পানির' ইতিহাস, তাদের কার্যকলাপ। আজও শুধু স্বাধীন ভারতের নয়, ইউরোপীয় দেশগুলোর উপনিবেশ আর তাঁদের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানের ছাপ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার অগণিত দেশের অর্থব্যবস্থা-পরিকাঠামো উন্নয়নের কক্ষপথে রয়েছে।

উপনিবেশ আর অর্থনীতি শব্দ দুটো একসঙ্গে উচ্চারিত হলে ভারতবাসী হিসেবে প্রথমেই প্রশ্ন জাগে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা আমাদের কি অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে পেরেছে? ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রায় আট দশক পার করেও আমরা গরিব, বড় জোর উন্নয়নশীল- এক দেশ। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হয়ে তা হলে আমাদের কী লাভ হল? নোবেল প্রাপকত্রয়ী অবশ্য আমাদের আশ্বস্ত করেছেন- গত শতাব্দীর শেষার্ধে ১৭৫ টি দেশের অর্থনৈতিক তথ্যের মাধ্যমে পরিসংখ্যান দিয়ে বিশ্লেষণে, প্রমাণ করেছেন যে, গণতন্ত্র ও আর্থিক বৃদ্ধির পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত। কোনও দেশে গণতন্ত্র কায়েম থাকলে, সেই দেশে দেরিতে হলেও সমৃদ্ধি আসে। 

একটি দেশে যেটি প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল, রতন টাটা অসংখ্য বিদেশী কোম্পানি অর্জনের জন্য তার সাহসিকতা প্রদর্শন করেছিলেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই ব্রিটিশ ছিল। এটা হয়তো আমার মতে, এই দেশের অনেক মানুষকে খুব গর্বিত করেছে। রতন টাটা তার চেয়ারম্যানের 
২১ বছরে এই ধরনের ৬০ টিরও বেশি চুক্তি করেছেন।
 টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান হওয়ার মাত্র তিন বছর পর তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চা প্রস্তুতকারক সংস্থা টেটলিকে অধিগ্রহণ করেন। এটি ছিল ইতিহাস তৈরির ভারতীয় সমষ্টির দ্বারা একটি উল্লেখযোগ্য বিদেশী কোম্পানি অধিগ্রহণের প্রথম উদাহরণ। 
সম্ভবত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধিগ্রহণ ঘটেছিল ২০০৭ সালে যখন তিনি ১৩ বিলিয়ন ডলারে অ্যাংলো-ডাচ ইস্পাত প্রস্তুতকারক এবং ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী কোরাসকে গ্রহণ করেছিলেন। এখন পর্যন্ত, এটি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আন্তঃসীমান্ত অধিগ্রহণ। টাটার অন্যান্য সুপরিচিত অধিগ্রহণের মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ সল্ট, টাইকো, ন্যাটস্টিল, ডেইউ, আট ওক্লক এবং সেন্ট জেমস কোর্ট। এবং অবশ্যই, ফোর্ডের যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গাড়ি ব্র্যান্ড, জাগুয়ার এবং ল্যান্ড রোভার ২০০৮ সালে। রতন টাটা বিদেশে ভারতের সেরা পরিচিত কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিশিষ্ট হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালের একটি ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনের প্রোফাইলে তাকে "টাইটান" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা তাঁর পারিবারিক ব্যবসাকে একটি "গ্লোবাল পাওয়ার হাউসে" পরিণত করার কৃতিত্ব দেয়। "তিনি তার পরিবারের নাম বহনকারী গোষ্ঠীর ১%-এরও কম মালিক৷ কিন্তু তবুও তিনি একজন টাইটান: ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যবসায়ী এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী।"

বিপরীত উপনিবেশে মানুষ কি দেখেছে? রতন টাটার মৃত্যুতে ভারত একজন নীতিবান ব্যবসায়ী এবং একজন দূরদর্শীকে হারালো। যদিও তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন, তবুও তিনি ব্যাপক জনসম্মান উপভোগ করতেন এবং টাটা পরিবার ও উত্তরাধিকারের ঐতিহ্যে তিনি তার সম্পদের একটি সিংহভাগ লোকহিতায় বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যবসা শুরু করার দিন থেকেই এন্টারপ্রাইজ এবং জনহিতকর কাজ টাটা এন্টারপ্রাইজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

রতন টাটা মহাশয়কে নিয়ে হয়তো একটা বই লিখে ফেলা যায়। তবে সেটা সময় সাপেক্ষ। শেষ করার আগে তাঁর জনহিতকর কাজের একটা মাইল ফলক উদাহরণ  দিয়ে এই প্রসঙ্গে ইতি টানব।

রতন টাটা শুধুমাত্র ব্যবসায়িক জগতেই একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ছিলেন না বরং ক্ষুদ্রতম কিন্তু সবচেয়ে প্রভাবশালী পার্সি সম্প্রদায়ের একজন বিশিষ্ট সদস্য ছিলেন। তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে ২০০৮ সালের মুম্বই সন্ত্রাসী হামলার সময় প্রধান লক্ষ্যগুলির মধ্যে একটি ছিল আইকনিক তাজমহল হোটেল, প্রচুর ক্ষতি হওয়া সত্ত্বেও এটি তিনি পুনর্নির্মাণ করার ব্যবস্থা করেন।

তিনি কখনই সেই কর্মচারীদের ভুলে যাননি যারা ভুক্তভোগী এবং ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করেছেন যে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের যত্ন নেওয়া হয়েছে, মৃত কর্মচারীদের আত্মীয়দের আজীবন বেতন নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরোপকারের প্রতি তার নিবেদন আবার প্রদর্শিত হয়েছিল যখন কোভিড মহামারী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং টাটা স্টিল ঘোষণা করেছিল যে তারা ভাইরাসে মারা যাওয়া ভারতীয় কর্মচারীদের পরিবারকে বেতন এবং চিকিৎসা সুবিধা প্রদান চালিয়ে যাবে, যতক্ষণ না মৃত শ্রমিকের বয়স ৬০ হবে। অন্য কোনও ব্যবসায়ী বা শিল্পপতি এই উদারতা বা সাহস দেখাতে পেরেছিলেন বলে আমার জানা নেই। ভারতের শিল্প, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং জনহিতৈষীকর কাজে টাটা পরিবারের অবদান অপরিসীম যা টাকার অঙ্কে মাপা যায় না।







Thursday, October 24, 2024

আজ ৮২ তে পা দিলাম

শুধুমাত্র দেহের দীর্ঘ আয়ুষ্কাল কাঙ্খিত নয়। ৮১ বছর পার করলাম। এখনও সচল আছি, বাজার-দোকান নিজেই করি। মাথাটা-ও রীতিমত কাজ করছে এবং দৈনন্দিন চলাফেরার মতোই  সচল রাখার চেষ্টা করি। লেখালেখি, music- এই সব সৃষ্টিশীল কাজে আজও ভীষণ আগ্রহ। কাজেই সৃষ্টির দীর্ঘ আয়ু, আর তার ভিতর দিয়েই অন্য এক বেঁচে থাকাকে খুঁজে নিতে চেষ্টা করি।  গড়পড়তা হয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছে আমার  একদমই নেই।  আমি কখনোই চাইব না যে কত দীর্ঘ সময় আমি বেঁচে আছি, বরং আমার আয়ুষ্কালে সামান্য সৃষ্টির কী রেখে গেলাম সেটা দিয়েই যেন আমার মূল্যায়ন হয়।

কর্মব্যস্ততা, এবং সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে ব্যস্ত থাকলেও আমি একটু বেশিই পরিবারমুখী, বরং বলব একটু বেশি রকম বাঙালি। মনেপ্রাণে আমি চাই যে আমার বংশ পরম্পরা যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঙালি হয়ে বেঁচে থাকে। তাই পরিবারকে এককাট্টা করে রাখাটা এই ভাগাভাগির যুগে আমরা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। আমরা কেউ কাউকে ছেড়ে থাকতে পারিনা। স্ত্রী, ছেলে-বৌ, নাতি-নাতনি নিয়ে বেশ আনন্দেই আছি। তারা সবাই আমার অস্তিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। কাজেই, স্বাস্থ্যের অবনতি হলেও পরলোকে পাড়ি দেবার আমার কোনও তাড়া নেই।

Friday, October 11, 2024

সরকারি চিকিৎসকদের অবসরের বয়স বৃদ্ধির সুপারিশ


  

সরকারি চিকিৎসকদের অবসরের বয়স সীমা বৃদ্ধির সুপারিশ 

দিনটা অগাস্ট ৯, ২০২৪। আর জি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসক-পড়ুয়া টানা ৩৬ ঘন্টা কাজে থাকার পরে কিছুটা বিশ্রামের জন্য সেমিনার ঘরটি বেছে নেন। পরের ঘটনাক্রম প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া মারফত ইতিমধ্যেই আমরা বিস্তারিত জেনেছি। এককথায়, মেয়েটির উপর অকথ্য অশালীন ব্যবহারের পরে তাকে খুন করা হয়।  

 এই ঘটনার পর থেকে শুভবুদ্ধি সম্পন্ন কোনও মানুষই খুব একটা স্বস্তিতে নেই। কিছু মানুষ আবার সমাজ মাধ্যমে ট্রোল করে এবং মিম ছড়িয়ে এমন একটা স্পর্শকাতর ঘটনাকে নিয়ে বেশ মস্করায় মজে উঠেছেন। আজকের দিনে স্কুল পড়ুয়া শিশু থেকে আমার মতো অশীতিপর বৃদ্ধরাও বুঝতে পারে যে রাজ্যের বা দেশের শাসক গোষ্ঠী ঘনিষ্ঠ কিছু মানুষের প্রত্যক্ষ/পরোক্ষ মদত ছাড়া এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। ফলে রাজ্যের শাসকের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর তাঁদের বিষোদ্গার উগরে দেন। সমাজ মাধ্যমে ট্রোল বা মিম যাঁরা করছেন তাঁদের কিছু কিছু মানুষের রুচির উপর ব্যক্তিগত ভাবে আমিও বেশ হতাশ। কেউ কিন্ত এমন কোনও সুপরামর্শ দিচ্ছেন না যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা কমানো সম্ভব হয়।  অতিসাম্প্রতিক অতীতে স্টেটশম্যান পত্রিকায় তথ্যবহুল একটি প্রবন্ধ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে এই লেখাটি লিখলাম। স্টেটসম্যান বা অন্যান্য ইংরেজি দৈনিকের গ্রাহকের সংখ্যা খুবই সীমিত। ফেসবুক একটি জনপ্রিয় সমাজ মাধ্যম। অনেকের চোখ লেখাটার ওপর পড়বে বলেই আশা করছি। এবার পরামর্শগুলো তুলে ধরছি।

প্রথমত, মৃতা মেয়েটিকে টানা ৩৬ ঘন্টা কাজের মধ্যে থাকতে হয়। এই তথ্য হাসপাতাল গুলোতে শিক্ষাপ্রাপ্ত ডাক্তারদের এবং সরাসরি যুক্ত অন্যান্য স্তরের স্বাস্থ্য কর্মীদের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুলতার ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে  দেখিয়ে দেয়। 

সাম্প্রতিক দশকগুলিতে, ভারত স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি এবং জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৫০ সালে ভারতীয় নাগরিকের গড় আয়ু ছিল ৩৭ বছর। সেটা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ এর কাছাকাছি। কিন্ত চিকিৎসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্বাস্থ্য কর্মীদের, বিশেষত ডাক্তার বাবুদের অবসরের বয়স এই পরিবর্তনের সঙ্গে আদৌ তাল মিলিয়ে চলেনি। এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোতে নিযুক্ত ডাক্তারদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে ভারত তার নাগরিকদের কল্যাণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে।

ডাঃ আর কে ক্যারোলি,যিনি পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু এবং লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর চিকিত্সক ছিলেন, তিনি রাজধানীর রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের সাথে যুক্ত একজন কার্ডিওলজিস্ট, এবং ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘন্টা রোগীদের দেখতেন। 

মুম্বাইতে, প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ বি কে গোয়েল ৮০ টিরও বেশি বসন্ত পার করার পরেও সক্রিয় ছিলেন। এরকম অনেক দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে সরকারি ডাক্তারদের অবসরের বয়স ৭০-এ উন্নীত করা শুধুমাত্র অভিজ্ঞ ডাক্তারের ঘাটতি দূর করবে না, তাঁদের উপস্থিতি তরুণ ডাক্তারদের নির্দেশনার প্রয়োজনেও উদ্বুদ্ধ করবে। আসলে, অভিজ্ঞতা চিকিৎসার জগতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ সিনিয়র ডাক্তার এবং পেশায় আসা নতুন ডাক্তাররা একসাথে কাজ করে রোগীদের আরও ভাল চিকিৎসা দিতে সক্ষম হবেন। কাজেই সরকারি চিকিৎসকদের অবসরের বয়স বাড়ানো একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলেই মনে হয়। ডাক্তারবাবুরা সাধারণত স্বাস্থ্য সচেতন এবং নিয়ম নিষ্ঠতায় অনড়। ফলে অনেকেই ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করার জন্য পুরোপুরি তৈরি থাকেন।

দেশের গ্রামাঞ্চলে এখনো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের তীব্র সংকট রয়েছে। প্রত্যন্ত রাজ্য থেকে গ্রামীণ ভারতের লোকেরা চিকিৎসার জন্য জাতীয় রাজধানীর AIIMS, রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল ইত্যাদিতে যান। এটা খুবই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। অবসরের বয়স বাড়ানো হলে অভিজ্ঞ ডাক্তারবাবুদের সেখানে স্থানান্তরিত করে সমাজ সেবার পরিসরকে অনেকটাই বাড়ানো যায়।

ডাক্তারদের চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর ফলে গ্রামে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব পূরণ হবে। সিনিয়র চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরিষেবায় নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। তাঁদের অবসরের বয়স বাড়ালে তাঁদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নীতি গঠন এবং একই সঙ্গে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে অনেকটাই সক্ষম হবেন। ব্যবস্থাপনায় কর্পোরেট পেশাদারিত্বের দুয়েক জন থাকলে তো আর কথাই নেই। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে, গবেষণার সাথে জড়িত ডাক্তারবাবুদের অবসরের কোনও নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। তাঁরা আজীবন চাকরিতে থাকতে পারেন। এই ব্যবস্থা যখন অন্য দেশে কাজ করতে পারে, ভারতে কেন নয়? ভারতবর্ষ, যেখানে চিকিৎসকের অনেকটাই অভাব, সেখানে ডাক্তারদের অবসরের বয়সের উর্দ্ধসীমা পর্যালোচনা করার এটাই বোধহয় উপযুক্ত সময়। 

বেসরকারী হাসপাতালগুলি অস্বাভাবিক ব্যয়বহুল। ফলে সিংহভাগ নাগরিকের নাগালের বাইরে। নিজেদের নিয়মনীতি তৈরি করে, বেশি উপার্জনের এই হাসপাতালগুলি অতিরিক্ত  এবং ব্যয়বহুল পরীক্ষা এবং পদ্ধতিগুলি করায়। আমি নিজেই এই পদ্ধতির শিকার। এই হাসপাতালগলিতে রোগীর এক সপ্তাহের ভর্তি থাকার খরচের সামাল দিতে হয় কয়েক বছরের জন্য যা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে ভাল রকমই প্রভাব ফেলে। সাধারণ মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারের ভরসার জায়গা সেই সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা।


কৃতজ্ঞতা স্বীকার:

বিবেক শুক্লার লেখা ০৩‌/১০/২৪ তারিখে Statesman, ইংরেজি দৈনিকে লেখা একটি তথ্য বহুল প্রবন্ধ। 




Wednesday, October 2, 2024

Discovery




                               আবিষ্কার 

                

আবিষ্কার হল অন্য সবাই যা দেখেছে তা দেখা এবং কেউ যা ভাবেনি তা চিন্তা করার ফসল।

                         Perception

Discovery consists in seeing what everybody else has seen and thinking what nobody has thought.


Thursday, September 26, 2024

We want Justice

                    We want justice



As justice delayed

is justice denied 

Justice hurried

is always justice buried

But, we the civil society

want justice.

Of course, not in a manner

so sluggish.

The Supreme Authority

must awake from their deep slumber

to make realize civil society their power,

that springs neither from any political party

nor from any State machinery;

but from the people of the country.


Tuesday, September 10, 2024

Educate your son

 

'অভয়া'-র নির্মম মৃত্যু সভ্য সমাজের মানুষকে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করে দিয়েছে- কিছু কথা, কিছু ব্যাথা।


৯ আগস্ট কলকাতায় একজন শিক্ষানবিশ ডাক্তারের নৃশংস ও জঘন্য ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আমাকে এবং অন্য অনেকের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে এবং ক্ষুব্ধ করেছে। এই ট্র্যাজেডি একটি বেদনাদায়ক অনুস্মারক যা নারীর প্রতি সহিংসতা শুধুমাত্র একটি দেশে সীমাবদ্ধ নয় ~ এটি এমন কিছু যা সর্বত্র, ধনী থেকে দরিদ্রতম জাতি, এই গ্রহের নারীকুল প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে থাকে।

পৃথিবীর বর্তমান পরিস্থিতিতে, মহিলাদের ভোগ্যবস্তু হিসেবে দেখা হয়। 'আপনার মেয়েকে রক্ষা করুন বা সাবধানে রাখুন' কথাটি প্রায়শই বলা হয় এবং শোনা যায়।

কিন্ত, 'আপনার ছেলেকে শিক্ষিত করুন, সহবত শেখান', এমন কথা কি কখনও শোনা যায় ! এই অসামঞ্জস্যই লিঙ্গ সমতা এবং সম্মানের মূল দিকগুলিকে সমাধান করতে ব্যর্থতা প্রকাশ করে। এই চক্রটি ভাঙতে, আমাদের অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে যাতে ছেলেরা, মেয়েদের প্রতি সম্মান  এবং সমতা সম্পর্কে নিজেদের শিক্ষিত করতে পারে। 

ছোটবেলা থেকেই, মেয়েদের সতর্ক এবং অনুগত হতে শেখানো হয়, এবং ক্রমাগত তাদের দুর্বলতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অথচ ছেলেদের বেলাগাম আচরণে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কী অসহায় এবং উদাসীন; ভাবা যায়!

ছেলেমেয়েদের মানুষ করার এই বৈষম্য এমনএকটি সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই শিখতে হবে যে তাদের অধিকারের মধ্যে অন্যদের নিয়ন্ত্রণ বা ক্ষতি করার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা চালিয়ে যাওয়া বিষাক্ত এই পুরুষতন্ত্রের ক্ষতিকর চক্রকে ভেঙে ফেলার জন্য এ ধরনের শিক্ষা অপরিহার্য। 

আমার দৃষ্টিতে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের চেয়েও কঠোর হওয়া উচিত। সেটা ঠিক কী রকম সেটা আমার জানা নেই। কারণ কারাগারের অন্ধকূপের পরিমার্জিত নামকরণ হয়েছে সংশোধনাগার। কাজেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া অপরাধীদের ব্রিটিশ আমলের নিয়ম মেনে থার্ড ডিগ্রি দেওয়া যাবে না। কিন্ত আইনের  ফাঁক গলে   মাথা খাটিয়ে তাদের জন্য এমন এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা দরকার যাতে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে জীবনের চেয়ে মৃত্যু ভাল। মৃত্যুদণ্ড যে একমাত্র প্রতিরোধক নয়, দিল্লির  নির্ভয়া  কান্ডের পরে তা অসংখ্য  বার প্রমাণিত হয়েছে। সারা দেশ জুড়ে ধর্ষণের কান্ড উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।




Saturday, August 17, 2024

ডাক্তারবাবুরা একটু ভাবুন !

 দুটি ভুল কখনও একই  সঙ্গে সঠিকের দিশা দেখাতে পারেনা।

Two wrongs can never make a right

_________

পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারত জুড়ে ডাক্তারবাবুরা, এমনকি ভূভারতের তথা সারা বিশ্বের মানুষজন জানেন যে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের একজন তরুণী ডাক্তারের উপর পাশবিক এবং নৃশংস অত্যাচারের ফলে মেয়েটি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই ঘটনার  প্রতিবাদে ডাক্তারবাবুরা গত ১২ আগস্ট  থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য "ডাক্তারদের ধর্মঘট" শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

আমরা সকলেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষুব্ধ এবং চিকিৎসক সম্প্রদায়ের ক্ষুব্ধ সদস্যদের দ্বারা করা দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচারের আহ্বানকে সমর্থন করি। এই মর্মান্তিক ঘটনা যে স্বাস্থ্য দফতরের বিরাট ব্যর্থতার প্রতিফলন তা নিয়ে কারও কোনও সংশয় থাকার কথা নয়।

দুর্ভাগ্যবশত, ডাক্তারদের এই ব্যাপক ধর্মঘটের ডাক যে জনমানসে বিপুল প্রভাব ফেলেছে যা নিয়মিত হাসপাতালের পরিষেবাগুলিকে সর্বক্ষণ ব্যাহত করে চলেছে এবং অসহায় রোগীদের আরও অসহায় করে তুলেছে, স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নয়, যাঁরা একজন তরুণ ডাক্তারের মর্মান্তিক হত্যার জন্য দায়ী।

"ডাক্তারদের ধর্মঘট" অসহায় রোগীদের বেদনা, আঘাত এবং মৃত্যু ঘটাবে, প্রাথমিকভাবে প্রান্তিক মানুষজনের যাঁরা বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিতে অক্ষম।

সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্ট বারবার ঘোষণা করেছে যে রোগীদের বঞ্চিত রেখে "ধর্মঘট" করার কোনও আইনি বা নৈতিক অধিকার ডাক্তারদের থাকতে পারে না। "ডাক্তারদের ধর্মঘট" অসাংবিধানিক-ও কারণ এটি মানুষের "মৌলিক অধিকার" লঙ্ঘন করে যা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে সকল নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ডাক্তাররা অনির্দিষ্টকালের "ধর্মঘট" চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের নিহত সহকর্মীর জন্য ন্যায়বিচারের লক্ষ্য নিয়ে হাসপাতাল পরিষেবাকে প্রায় নিশ্চল করে দিচ্ছেন সেটা একাধিক কারণে বিপথগামী।

দুটি ভুল কখনোও একই সঙ্গে সঠিক হতে পারে না, Two wrongs can never make a right. শুধুমাত্র অসহায় রোগীদেরই এর  মূল্য চোকাতে হবে, এমনকি তাঁদের কারও না কারোর জীবনের বিনিময়ে। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবাগুলি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থায় অবহেলার ঘটনাগুলো আজকাল প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। কলকাতার একটি সুপ্রাচীন এবং প্রধান সরকারি হাসপাতালের ভিতরে একজন ডাক্তারকে জঘন্য হত্যার ঘটনা স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার প্রশাসনের অকথ্য অবস্থা দেখিয়ে দিল।

ডাক্তারবাবুদের কাছে আবেদন রইল যে আন্দোলন এবং রোগী পরিষেবা তো এক সঙ্গেই চলতে পারে ! দু'টো ব্যাপারের মধ্যে কোনও বিরোধ আছে বলে তো মনে হয় না। ডাক্তারবাবুদের কাছে প্রান্তিক রোগীদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে একটু ভেবে দেখার জন্য আন্তরিক অনুরোধ রইল। 




Friday, August 16, 2024

আর জি কর

মা রিমঝিম,

 আজকের আনন্দবাজার (আমি e-paper-এর কথা বলছি, http:/paper.abp.in) পড়ে জানলাম যে আর জি কর কান্ডে ডাক দেওয়া তোমার আবেদন, রাজ্যের, এমনকি দেশের সীমারেখা ছাড়িয়ে সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারে আছড়ে পড়েছে। দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দিল্লি, মুম্বই, পুণে, পাটনা, ঝাড়খণ্ড...ছাড়াও আমেরিকার বস্টন, আটলান্টা, সানফ্রানসিসকো বে এরিয়ার ডাবলিন, ইউরোপের ক্রাকোভ, এডিনবরা, ..... এইসব জায়গার ডাক্তার ছাত্র-ছাত্রীরা এবং পেশাদার ডাক্তাররা এই ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়েছে।

এতটা ব্যাপ্তি পাওয়ার কারণ যেটা আমার মনে হয়েছে তা হ'ল তোমার আবেদনের কন্ঠস্বরে কোথায় একটা অখন্ডনীয় যুক্তির স্বচ্ছতা ছিল, ছিল আবেগহীন সত্যের দৃঢ়তা। সেটা যে কোনও সিরিয়াস মানুষের পক্ষেই উপেক্ষা করার উপায় ছিল না। তোমাকে আবার কুর্ণিশ জানাই। আরও একটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে সেটাও ব্যক্ত করছি। টেলিভিশনের পর্দার আলোচনায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের চিৎকার শুনে মনে হচ্ছে তাঁদের বেশ কিছু মানুষ ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছেন। খবরে থাকাটাই তাঁদের কাজ। উষ্মার তেজ তাঁদের এতটাই উচ্চগ্রামে যে মা দুর্গার অষ্টমী পুজোর ১০৮ টি প্রদীপের স্বল্প কিছু প্রদীপের মতো; যত না আলো দিচ্ছে তার দ্বিগুণ কালি উগরোচ্ছে। আবার ডঃ শান্তনু সেনের মতো তৃণমূল সমর্থক এবং প্রাক্তন সাংসদ, দলের মুখপাত্র পদ থেকে বাদ পড়া সত্বেও দলে থেকেই আর জি করের সদ্য ছুটিতে যাওয়া ডাক্তার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবার সুপারিশ করছেন। হ্যাঁ অবশ্যই ডঃ সেনের কন্যা ঐ কলেজেরই ছাত্রী এবং উনি ঐ কলেজের প্রাক্তনী। তিনি পিতার দায়িত্ব পালন তো করেছেনই, এছাড়াও দলের সুপ্রিমোর রোষানলের তোয়াক্কা না করে ওই দলে থেকেই যথাযোগ্য রাজধর্ম পালন করেছেন।  ডঃ সেন, আপনাকে নমস্কার জানাই।  কারণ দল ছেড়ে যাওয়াটা কোনও কাজের কাজ নয়। It has been proved again and again that it is like from frying pan to fire.

Monday, May 27, 2024

উপলব্ধি

 উপলব্ধি

"আমার মূল্য ততক্ষণ , যতক্ষণ কারোর কাজের জন্য আমাকে প্রয়োজন আছে।"

Monday, May 20, 2024

সাত পাকে বাঁধা

 আমি কৈশোর এবং যৌবনে খুবই সিনেমা প্রেমিক ছিলাম। যে সময়ের কথা বলছি, সেটা ছিল বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগ। সিনেমা দেখতে আজও ভীষণভাবেই ভাল লাগে। কিন্ত শারীরিক অক্ষমতার কারণে প্রেক্ষাগৃহ পর্যন্ত পৌঁছানো যায় না। বাড়িতে বসে ইউটিউবের সিনেমার চ্যানেলে পুরনো দিনের বাংলা সিনেমা দেখি। গত তিন সপ্তাহ হল এই অভ্যেস চালু করেছি। 

গতকাল সুচিত্রা সেন সৌমিত্র চ্যাটার্জী অভিনীত ১৯৬৩ সালে মুক্তি পাওয়া "সাত পাকে বাঁধা" ছায়াছবিটা দেখলাম। 

দেখা শেষ হবার পরে আমার একটা কথাই মনে হয়েছে বিগত ৬১ বছর পরেও বাঙালি সমাজ ব্যবস্থার তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। আজও সাধারণ মানুষ ছোট্ট গন্ডীর ভেতর ছোটখাট সুখ-দুঃখ, আনন্দ, ব্যর্থতা, সাফল্য, ইত্যাদি নিয়ে মুখগুঁজে থাকতে ভালবাসে। তাঁদের কাছে সাফল্যের মাপকাঠি একমাত্র আর্থিক উপার্জন দিয়েই বিচার করা হয়। তার সঙ্গে যদি বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে তো আর কথাই নেই ! এই টেক্কাটেক্কি ছোট ছোট পরিবার গুলোর মধ্যে সেই সময়েও যা ছিল, আজও আদৌ তার কিছু পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। পরিবার গুলোর সদস্যদের মধ্যে মনে হয় সব সময় কেমন যেন গোপন প্রতিযোগিতা চলে। মানুষের সঙ্গে সংস্পর্শে, সুখ-দুঃখের ঘাত প্রতিঘাতে, ভাল মন্দের দ্বন্দ্বে নিত্য মথিত হয়েই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এই কথাগুলো বেরিয়ে এল। দজ্জাল, উন্নাশিক শাশুড়িরা, অপেক্ষাকৃত আর্থিক আনুকুল্য সম্পন্ন হবার কারণে সচেতন ভাবেই কত মেয়ের সংসার যে ভেঙ্গেছেন তার ইয়ত্তা নেই। "সাত পাকে বাঁধা" কাহিনি এই ঘটনাকে সিলমোহর দেয়।

আজকের দিনে ব্যাপারটা বরং একটু উল্টো স্রোতে বইছে। বাড়ির চাকুরিরতা বৌদের সাজ পোশাকে রীতিমত সাহসিকতার ছাপ এবং শরীরী ভাষাও যথেষ্ট উদ্ধত । শ্বশুর-শাশুড়িরা সব দেখলেও, অশান্তি এড়াতে দেহ নিয়ে পালিয়ে যান, মন নিয়ে পালাতে পারেন কিনা, সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে!

Sunday, May 12, 2024

নাতনির চিঠি

 আমাদের নাতনির চিঠি

আমাদের আদরের নাতনি অদ্রিজা। ওকে ওর আম্মা, মানে আমার স্ত্রী চিঠি লিখতে শিখিয়েছে। এখন ওর বয়স সাড়ে নয়। সাউথ পয়েন্ট স্কুলে ক্লাস ফোর-এর ছাত্রী। আমরা একই পাড়ার খুব কাছাকাছি দু'টি আলাদা ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকি। ওর এখন গ্রীষ্মের ছুটি চলছে। 

প্রতি সপ্তাহে ও আমাকে আর ওর আম্মাকে উদ্দেশ্য করে প্রায় ৩/৪ টে চিঠি দেয়। আমরাও নিয়ম করে উত্তর পাঠাই। মনে হচ্ছে এ ব্যাপারে ওর উৎসাহ বেড়ে চলেছে। হাতের লেখাটা খুব একটা ভাল না হলেও চিঠির বক্তব্যে ওর স্পষ্ট ধারণা দেখে আমরা যারপরনাই মুগ্ধ। আঁকার ব্যাপারে ওর খুব ঝোঁক আছে এবং কল্পনা শক্তিরও স্বাক্ষর আছে। সেটার প্রমাণ পেলাম চিঠির শেষে ওর নিজের এবং আমাদের নাম লেখার কায়দা দেখে। এগুলো নিজে থেকেই ও লিখেছে Calligraphically. ছবিতে আজকে লেখা ওর চিঠির বয়ান রাখলাম। 










Wednesday, April 3, 2024

স্বার্থ বড়ই বিষম বস্তু


 

                         স্বার্থ বড়ই বিষম বস্ত

আড্ডাটা বেশ জমে উঠেছিল, 

তর্ক-বিতর্কের কোনও এক মুহূর্তে স্বার্থ সংঘাত হল

ওর শরীরী ভাষাটা-ও প্রায়  সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টে গেল

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম 

ওর ক্রোধারক্ত মুখের দিকে,

আর ক্ষণপূর্বের বিগলিত হাস্য মুখটার সঙ্গে

মেলানোর চেষ্টা করতে,

স্পষ্ট লক্ষ্য করলাম মুখাবয়বের চেহারাটা

মনে হ'ল যেন আগের তুলনায় অনেকটাই ফিকে।

Sunday, March 24, 2024

উপলব্ধি

 

আমি ফেসবুকের দেওয়ালে যেগুলো লিখি, সেগুলো আমার ব্লগ থেকে সরাসরি পাঠানো হয়, যাতে আমার নিজের কাছে একটা প্রতিলিপি থাকে। এ ছাড়া ব্লগের আরও একটা সুবিধে আছে- কতজন লেখাটা পড়েছে তারও একটা হিসেব থাকে। আমি দেখেছি যে দেওয়াল লিখনে প্রতিক্রিয়া যা পাওয়া যায়, সেটা ব্লগের হিসেবের থেকে অনেকটাই কম। প্রতিক্রিয়ার দু'টো উপায় হ'ল হয় একটা "লাইক" বা অন্য কোনও প্রতীক দিয়ে চিহ্নিত করা, অথবা লিখিত কোনও মন্তব্য বা দুটোই। আমার মতো অদেখা, অজানা এবং অখ্যাত কারুর লেখার প্রশংসা করাতে আমার থেকেও সাধারণদের আত্মসম্মানে হয়তো আঘাত করে, কারণ কিছু একটা লেখা খুব একটা অনায়াস কাজ নয়, তার জন্য যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনার এবং অনুশীলনের প্রয়োজন আছে। কাজেই তাঁরা পড়ে মনে মনে হয়তো তারিফই করেন, কিন্ত সেটা জনসমক্ষে স্বীকার করতে লজ্জা পান। তুলনামূলক ভাবে অজানা/জানা অথচ অখ্যাত মানুষকে স্বীকৃতি দেওয়া তাঁদের কাছে নিজের পরাজয় বলে মনে করেন। এই ভাবনা থেকেই আমার এই উপলব্ধি।

উপলব্ধি

"অসাধারণের জন্য সাধারণ মানুষরা পথ ছাড়তে রাজি নয়, কারণ তাহলে অসাধারণের অস্তিত্বে সাধারণদের সাধারণত্বের দৈন্য বড়ই নগ্ন ভাবে  প্রকট হয়ে পড়ে"


Tuesday, March 19, 2024

Letters to Editor1

 সন্দেহের অবকাশ আছে

প্রশ্ন হল একজন বিচারক অবসর গ্রহণের অব্যবহিত পরে বা কর্মকাল শেষ করার কয়েক মাস আগে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগদান করা সমীচীন কি না ! এটা সর্বজনবিদিত যে, বিচারক এবং রাজনীতির সমন্বয় সর্বদাই বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের ধারণাকে প্রভাবিত করবে। বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

রাজনীতিতে আসা কি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় বিচারকের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে না? এটা কি বিচারের নৈতিকতার নীতি লঙ্ঘন করে না এবং সামগ্রিকভাবে বিচার বিভাগের ক্ষতি সাধন করে না? সমতুল্য আরও একটা উদাহরণ দেওয়া যায়। সিবিআই-এর ডিরেক্টর অবসর নেওয়ার পরে যদি একটি বড় কোম্পানিতে যোগ দেন, যেটি সিবিআই-এর তদন্তাধীন ছিল, তাঁর প্রতিক্রিয়া কী হবে? এটা মানুষকে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় এবং জনমানসে অবিশ্বাসের বাতাবরণ সৃষ্টি করে, যে কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারক, যিনি সম্প্রতি বিজেপিতে যোগদান করেছেন, তিনি খুব সম্প্রতি বিচারের আসন অলঙ্কৃত করা সত্ত্বেও নিরপেক্ষ রায় দিয়েছিলেন কি না ?

রঙ্গনাথন শিবকুমার

চেন্নাই, ১৫ মার্চ।

Casting a doubt

It is well known that co-mingling of judges and politics will always harm the public perception of the judiciary as an institution that is supposed to be independent and non-partisan. The question is whether it is right for a judge to join active politics, either after retirement or by resigning from judicial office. Does not venturing into politics cast a doubt on the impartiality of the judge in politically sensitive areas ? Does this not violate the tenets of judicial ethics and harm the institution of the judiciary as a whole ? What will be one's reaction if the CBI director, after his retirement,  joins a big company, which was being subjected to investigation by the CBI? Will it not be foolish to believe that the Calcutta Highcourt judge, who recently joined the BJP, gave judgements that were unbiased and impartial while he was on the bench until very recently?

Ranganathan Sivakumar

Chennai, 15 March.


Sunday, March 17, 2024

দিল্লীশ্বরদের চোখে পশ্চিমবঙ্গ

 রাজনৈতিক উদ্বেগ https://www.anandabazar.com/editorial/our-opinion/our-opinion-economy-of-west-bengal/cid/1503664

আজকের আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় পাঠকের সামনে তুলে ধরলাম। দু'ধরনের বাঙালির জন্য এটা খুব একটা সুখপাঠ্য হবে না। প্রথমত যাঁরা কলকাতার বাইরে প্রবাসী বাঙালি তাঁদের সিংহভাগের কাছে আনন্দবাজার পৌঁছায় না, এবং তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের বদনামকে মনে মনে, (অবশ্যই এক জাতের ঈর্ষায়, যেটা বাঙালি হয়েও পশ্চিমবঙ্গে না থাকার দরুন হতাশা থেকে উদ্ভূত) আনন্দানুভূতি অনুভব করেন। আর দ্বিতীয়ত পশ্চিমবঙ্গের শহুরে অর্ধশিক্ষিত কিছু বাঙালি যাঁরা খবরের কাগজের দিকে "সন্দেশখালির" ঘটনার মতো কিছু খবরের দিকে মুখিয়ে থাকেন। বলে রাখা ভাল যে নিন্দে-মন্দের খবর কখনও অসত্য হয় না এবং সেই খবর আলোর গতিতে বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে জুড়ে দিতে চাই এই সব বাঙালি মনে করেন "পশ্চিমবঙ্গ  প্রায় সব দিক দিয়েই পিছিয়ে, কারণটা তলিয়ে দেখার অবসর নেই।" আমি অবসর জীবন যাপন করি। আনন্দবাজার এবং The Statesman নিয়মিত পড়ি। তাছাড়া দেশ সম্বন্ধে আমার সম্যক একটা ধারণা আছে (পড়াশোনার সুবাদেই)

এটা একটা link পাঠালাম, Editorial-এর link. এটা mark করলে link-টা নীল হয়ে যাবে এবং ওপরে অনেকগুলো option আসবে। "open" option click করলে লেখাটা পাওয়া যাবে।

Thursday, March 14, 2024

উপলব্ধি ২

 উপলব্ধি:

সব জানার মতো গভীর অজ্ঞানতা বোধহয় আর কিছুই হতে পারে না। জানার সীমা তো থাকেই; থাকে না অজানার সীমা।