শুধুমাত্র দেহের দীর্ঘ আয়ুষ্কাল কাঙ্খিত নয়। ৮১ বছর পার করলাম। এখনও সচল আছি, বাজার-দোকান নিজেই করি। মাথাটা-ও রীতিমত কাজ করছে এবং দৈনন্দিন চলাফেরার মতোই সচল রাখার চেষ্টা করি। লেখালেখি, music- এই সব সৃষ্টিশীল কাজে আজও ভীষণ আগ্রহ। কাজেই সৃষ্টির দীর্ঘ আয়ু, আর তার ভিতর দিয়েই অন্য এক বেঁচে থাকাকে খুঁজে নিতে চেষ্টা করি। গড়পড়তা হয়ে বেঁচে থাকার ইচ্ছে আমার একদমই নেই। আমি কখনোই চাইব না যে কত দীর্ঘ সময় আমি বেঁচে আছি, বরং আমার আয়ুষ্কালে সামান্য সৃষ্টির কী রেখে গেলাম সেটা দিয়েই যেন আমার মূল্যায়ন হয়।
কর্মব্যস্ততা, এবং সামাজিক যোগাযোগের মধ্যে ব্যস্ত থাকলেও আমি একটু বেশিই পরিবারমুখী, বরং বলব একটু বেশি রকম বাঙালি। মনেপ্রাণে আমি চাই যে আমার বংশ পরম্পরা যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঙালি হয়ে বেঁচে থাকে। তাই পরিবারকে এককাট্টা করে রাখাটা এই ভাগাভাগির যুগে আমরা একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছি। আমরা কেউ কাউকে ছেড়ে থাকতে পারিনা। স্ত্রী, ছেলে-বৌ, নাতি-নাতনি নিয়ে বেশ আনন্দেই আছি। তারা সবাই আমার অস্তিত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। কাজেই, স্বাস্থ্যের অবনতি হলেও পরলোকে পাড়ি দেবার আমার কোনও তাড়া নেই।
No comments:
Post a Comment