Thursday, October 27, 2022

U K Prime Minister designate Rishi Sunak

 UK Prime Minister designate Rishi Sunak


Rishi Sunak becoming UK PM, has created a lot of flutter among the Indians  both in India and elsewhere, the euphoria is going to be dissipated soon. It fascinates many Indians in India and Indian diaspora elsewhere in the world. The reason may be, that he's a practicing Hindu, becoming Prime Minister of the former colonial power that once ruled India. That's all- the only "feel-good" factor.

Coming to his job, in my assessment, he has nothing to lose and everything to GAIN from the situation that has pitchforked him to the country's top job. UK's economy is in the doldrums, inflation has reached record levels, and energy crisis looms, particularly as the winter is knocking at the door. The skyrocketing food price and energy forcing increasing number of families to choose between  eating and heating. From this state, Sunak's supporters could well believe that from here there's no place to go but up. However, if Tories led by Sunak survive for next six months, he will complete the term till the next general election due in 2024.

Finally, it is not understood how India is going to be in a favourable position for Sunak's elevation to UK's Prime Ministerial berth. A comparison readily comes in mind- how Kamala Harris as the US Vice President was of additional help to India or the Indian diaspora in that country, except for that "feel-good" factor !!

Sunday, October 23, 2022

Thursday, October 20, 2022

মাধুর্যময় বার্ধক্য

বার্ধক্যজনিত শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা মনে রেখেই মাধুর্যময় বার্ধক্যের জীবন কাটানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন আপনার সময় শেষ হয়ে যায় নি। আজও অনেক কিছু পৃথিবীকে দেবার জন্য আপনার প্রাসঙ্গিকতা এখনও ফুরিয়ে যায় নি। প্যাট্রিসিয়া এ ফ্লেমিং-এর লেখা একটি অনুপ্রেরণামূলক  কবিতা পড়ে উজ্জীবিত হয়ে কবিতাটির একটা ভাবানুবাদ করলাম। কবিতাটির নাম "I still matter"- by Patricia A Fleming. ইংরেজি কবিতাটি পাঠ করেছেন সীমেরজিৎ সিং

https://youtu.be/pLV0r50peyw

Poetry that matters, written by PATRICIA A FLEMING:

Aging gracefully letting off the things that we took for granted, except the change of the challenges, the old age will bring with it and also at the same time never letting off the belief that you still matter.

And you're someone to tell us lot to contribute and give to the world .The poem titled "I STILL MATTER", by Patricia A Fleming. (In picture)


I'm still here, I'm still here.

My face reveals my age,

My body shows some wear and tear,

And my energy's not the same.

 

Too often my memory fails me,

And I lose things all the time.

One minute I know what I plan to do,

And the next it may just slip my mind.


I try hard to avoid my mirror.

There are things I would rather not see,

And even those times when I just catch a glimpse,

I can no longer recognize me.


The things I used to do with ease

Can now cause aches and pains,

And the quality of the things I do

Will never be quite the same


I always compare my older self

To those younger versions of me,

And I know I'm wasting too much time

Missing who I used to be


But the thing that really makes me sad

Is despite what people see,

Underneath my tattered, worn out shell,

I'm still the same old me


My heart can still feel endless love,

And at times it still can ache.

My heart can fill with so much joy,

And then it can suddenly break.


My soul can still feel sympathy

And longs for forgiveness and peace,

And there are times its light shines boldly through,

And times when it longs for release.


It's true, maybe now that I'm older,

Feeling lonely may be status quo,

But it also has made me more willing

To forgive and let past conflicts go.


So maybe to some I look ugly and old,

A person who barely exists.

I'm still quite aware of the beauty inside,

And my value should not be dismissed.


So although not as strong and no beauty, it's true,

I'm still here and want so much to live,

And I know that there's no one in this world quite like me,

And no one who has more to give

------------

 Reaction by Sophia Loren, who said:

There is a fountain of youth

There is s fountain of youth- It's your mind.

The talents, the creativity, you bring to your life.

And the lives of people you love.

When you learn to tap the source,

you truly have defeated age.

You my friends, still matter.


         আজও আমি প্রাসঙ্গিক 

https://youtu.be/D-E5g-_Lyto


আমি এখনও আছি, এখনও আমি আছি,

আমি ভীষণভাবে বেঁচে আছি,

মুখাবয়বই আমার বয়সের আয়না,

ভাঙাচোরা মুখের চেহারায় শক্তিক্ষয়ের উপস্থিতি স্পষ্ট, 

তবুও আমি ভীষণভাবেই বেঁচে আছি।


সর্বক্ষণ আমি কিছু না কিছু হারিয়ে ফেলছি,

হতে পারে কোনও প্রয়োজনীয় বস্তু

অথবা কোনো কাজ, 

পরক্ষণেই সেটা আবার মনে উঁকি দিয়ে যাচ্ছে। 

স্মৃতির সঙ্গে এভাবেই আমার লুকোচুরি খেলা চলছে।


আয়নাকে আমি যদ্দুর সম্ভব এড়িয়ে চলি,

যাতে সব কিছু আমাকে দেখতে না হয়,

কিন্ত অজান্তেই, যখনই এক ঝলক দেখে ফেলি,

তখন আর আগের নিজেকেই যেন চেনা দায় !


যে কাজগুলো আগে করতাম অনায়াসে,

 সেটা এখন যন্ত্রনার কারণ মনে হয়,

 কাজের সেই গুণমানও আগের থেকে

             তাই খাটো বলেই মনে হয়;

 মনে হয় না আর কোনোদিন পারব ফিরে যেতে;

                               সেই জায়গাতে।


নিরন্তর আমার যুবক আমির সঙ্গে তুলনা করে                                                                             চলেছি,

জানি, এ সব ভেবে আমার অমূল্য সময় নষ্ট করছি,

ফলে, সোনালী অতীতের ভাবনাটাই যেন হারিয়ে                                                                            ফেলছি।


আমার অস্থি সার জীর্ণ খোলসের নিচের 

 যে চেহারাটা মানুষ দেখে, হয়তো বা করুণাও  করে ;

 সেটা আমাকে বড়ই ব্যাথা দেয়,   

অথচ এ-তো সেই আগেরই আমি, আমার সর্বক্ষণ মনে                                                             হয়!


হৃদয় আমার এখনও সীমাহীন ভালবাসা অনুভব                                                                   করতে  পারে।

 আবার মাঝে-মধ্যে বিক্ষিপ্ত অতৃপ্তি তা দগ্ধও করে।         হৃদয় আমার কখনও আত্মহারা আনন্দে পরিপূর্ণ হয়,

পরক্ষণেই সেই আনন্দের রেশ দুঃস্বপ্নের মতো                                                                        ভেঙে যায়।

 হয়তো বা শেষ তরী বাইবার প্রতীক্ষায়।


আমার আত্মা এখনও সহানুভূতি অনুভব করতে পারে, 

এবং একই সঙ্গে ক্ষমা এবং শান্তি কামনা করে।

 সময়ে সময়ে দীপ্ত আত্মা প্রজ্জ্বলিত  হয়ে ওঠে, 

আবার পরক্ষণেই তা মুক্তির জন্য আকুলতা বোধ করে।


সত্যি বটে দেহ আমার এখন অনেকটা বার্ধক্যে পৌঁছে গেছে,

 তবুও নিখাদ বাঁচতে চাওয়া যেন একখণ্ড হৃদপিন্ডের        বিশ্বাসে।

 জানি, একাকীত্ব বোধ করাটাই একমাত্র স্থিতাবস্থা, 

কিন্ত এটাই আমাকে অনেক বেশি  ইচ্ছেশক্তি জুগিয়েছে, ক্ষমা করার শক্তি জুগিয়েছে, আর অতীতের দ্বন্দ্বগুলোকে ভুলে যেতে শিখিয়েছে।

কারো কাছে আমি কুৎসিত, বৃদ্ধ এবং অস্তিত্বহীন এক  ব্যক্তি,

আবার করো কাছে আমি অন্তহীন প্রাসঙ্গিক। 

বৃহত্তর পরিবারের সম্পর্কগুলো হয়েছে দূর থেকে দূরতর,

 স্নেহ-ভালবাসার বন্ধন হয়েছে শীতল থেকে শীতলতর,

জীবনের ক্রান্তিলগ্নে শরীরে নিত্যনতুন ব্যাধি বাসা বাঁধে,

মৃত্যু তাড়া করে বেড়ায় সারাক্ষণ, 

তবুও ভিতরের সৌন্দর্যে আমি আজও যথেষ্ট সচেতন,

আমার মানকে খাটো করে দেখা কখনোই উচিত হবে না।

                                           

শক্তিশালী এবং দেহসৌন্দর্যে সমৃদ্ধ না হলেও, এটা সত্যি,

আমি এখনও এখানে আছি এবং বেঁচে থাকতে চাই,

এটাও জানি যে এই পৃথিবীতে আমার মতো কী আর কেউ আছে !

 যে আমার থেকে বেশি দেওয়ার ক্ষমতা রাখে !



---------------

কবিতাটি শুনে পুরোনো দিনের হলিউডের প্রখ্যাত চিত্র তারকা সোফিয়া লোরেনের  প্রতিক্রিয়া:


যৌবনের ফোয়ারা আজও শুকিয়ে যায়নি,

যৌবনের এই ঝর্ণার উৎপত্তি স্থল হল আপনার মন।

প্রতিভা, সৃজনশীলতা, আপনি আপনার জীবনে নিয়ে আসেন।

এখনও আপনি ভালবাসেন মানুষের জীবন.

 যখনই আপনি উৎসটি আলতোভাবে স্পর্শ করতে  শিখবেন,

তখনই বুঝবেন যে আপনি সত্যিই বয়সকে পরাজিত করেছেন.

আপনি, আমার বন্ধুরা, এখনও প্রাসঙ্গিক। 


----------------






Tuesday, October 11, 2022

অর্থনীতিতে 'K' অক্ষরের তাৎপর্য


       অর্থনীতি বিজ্ঞানে "K" অক্ষরের তাৎপর্য 

বিশ্ব অর্থনীতির আকাশে ফের দীর্ঘমেয়াদি কালো মেঘ। তাবড় অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বড়কর্তা, সকলেই এক বাক্যে মানছেন যে, বিশ্বব্যাপী আর্থিক সঙ্কট শুরু হয়ে গিয়েছে। মন্দার চোখরাঙানিতে সামনের বছরদেড়েক সেগুলো আরও বহু গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।....

তাবড় অর্থনীতিরা তথ্য নিয়ে দেখাচ্ছেন, কোভিদ-উত্তর অর্থনীতির পুনরুত্থানের রূপরেখা অনেকটা ইংরেজি "K" অক্ষরের মতো - ব্যক্তির ক্ষেত্রেও, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। "K" এর একটা হাত উর্ধমুখী, এক্ষেত্রে যা ধনীদের আরও সম্পদ বৃদ্ধির নির্দেশক।"K" এর নিম্নমুখী হাতটা নির্দেশ করে এক অতল গহ্বরের দিকে, সংখ্যাগরিষ্ঠ  দরিদ্ররা যেখানে তলিয়ে যাচ্ছে আরও। 

একটি ভিন্নতর প্রশ্নও অবশ্য ভারতকে উদ্বিগ্ন করবে। সম্প্রতি সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি নামক সংস্থার পরিসংখ্যানে প্রকাশ পেয়েছে যে, ২০২০ সালে সাড়ে পাঁচ কোটির বেশি ভারতীয় অতিমারি ও তজ্জনিত আর্থিক সংকটের কারণে দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে গিয়েছেন। সংখ্যাটি তাৎপর্যপূর্ণ। অতিমারির সময়কাল প্রশ্নাতীত ভাবে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ভারতে আর্থিক সঙ্কটের ধাক্কা দরিদ্র মানুষের গায়ে লাগে অনেক বেশি। বর্তমান আর্থিক সঙ্কটটি আসছে অতিমারির সেই দগদগে ক্ষত শুকোনোর আগেই। ফলে,যাঁরা এমনিতেই বিপর্যস্ত, বর্তমান সঙ্কট তাঁদের আরও বেশি বিপন্ন করবে, এমন আশঙ্কা প্রবল। অতএব কেন্দ্রীয় সরকারই  হোক, বা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সব প্রতিষ্ঠানেরই কর্তব্য আর্থিক সঙ্কট বা মূল্যস্ফীতির লড়াইয়ের সময় এই মানুষগুলোর কথা বিশেষ ভাবে স্মরণে রাখা। অর্থব্যবস্থার স্বাস্থ্য বলতে যদি শুধুমাত্র গড় পরিসংখ্যানের কথা ভাবা হয়, তা হলে মস্ত ভুল হবে। "গড়" ব্যাপারটা বেশ গোলমেলে। দশ জনের মধ্যে শুধুমাত্র একজনের একটা বড়সড় অঙ্কের উপার্জন,বাকি ন'জন অনেক অনেক কম উপার্জনের মানুষের চরম অভাবকে ঢেকে দেবে, এবং রোজগারের অসাম্য বোঝার কোন অবকাশ থাকবে না।  একটা ছোট্ট উদাহরণ নেওয়া যাক: ধরা যাক ১০ জনের মধ্যে একজনের মাসিক বেতন ৫০০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা। বাকি ন'জনের মাস মাইনে ১০০০০ টাকা। তাহলে ১০ জনের মাসিক গড় বেতন দাঁড়াল ১৪০০০ টাকা। কাজেই আর্থিক অসাম্য বুঝতে হলে আর্থিক বন্টনের অন্য কোনও সূচকের সাহায্য নিতে হবে। হিসেবটা একটু অতি সরলীকরণ করে দেখানো হয়েছে বোঝার সুুবিধের জন্য। মনে হ'ল সবাই ১৪০০০ টাকা পাচ্ছেন, কিন্ত আদতে ব্যাপারটা কি তাই ? আর্থিক এই অসাম্য প্রকট হয়ে দেখা দেবে যখন আমরা দেখি যে দেশের ৮১ কোটি মানুষ সরকারি ভর্তুকির রেশন ব্যবস্থায় কালাতিপাত করছেন এবং মনোরেগা (MGNREGS) প্রকল্পে যোগদানের চাহিদা দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে। অথচ বিগত কয়েক বছরের মধ্যে বিলিয়োনেয়ারের সংখ্যা ১০২ থেকে লাফিয়ে বেড়ে ২০৩ এ পৌঁছেছে। শুধু কি তাই! তাঁদের সম্পদের পরিমাণে বৃদ্ধি হয়েছে ২৩ লক্ষ কোটি থেকে ৬০ লক্ষ কোটি টাকা। সুতরাং সঙ্কটের সময়, যাঁরা সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন তাঁদের কথা আলাদা ভাবে মাথায় রাখা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবশ্য কর্তব্য। সরকার মানুষের ক্ষোভ কমানোর কৌশলী চেষ্টা চালানোর কোনও ত্রুটি রাখছে না, তবু অর্থনীতির যে হাল তা যেন তলিয়ে যাবার কালের যাত্রার ধ্বনি 

একদিকে জ্বালানির বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে খাবার কেনার সঙ্গতি নেই, অন্য দিকে টান খাবারের জোগানের। আমাদের দেশের অবস্থাটা সম্ভবত এতটা খারাপ নয়।  ব্রিটেনের বরিস জনসন সরকারের পূর্ণ মেয়াদ সম্পূর্ণ করার আগেই পড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ এই লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি যদিও ব্রিটেনের মানব উন্নয়ন সূচক (Human Development Index) এবং ক্ষুধা সূচকের (Hunger Index) মান ভারতের তুলনায় অনেকটাই উন্নত, যতই প্রধানমন্ত্রী মোদীজি দাবি করুন যে ভারতের জিডিপি ব্রিটেনের জিডিপিকে ছাড়িয়ে গেছে। "গড়" ব্যাপারটার মতো "জিডিপির" হিসেবটাও একটা ধাঁধা। এ বিষয়ে স্বল্প পরিসরে একটা পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ লেখার ইচ্ছে আছে।

 ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে টানা ছ'মাস জাতীয় আয়ের পরিমাণই কমেছে। বৃদ্ধির হার নয়, জিডিপির পরিমাণই কমে গিয়েছে সরাসরি। তা-ও একনাগাড়ে ছ'মাস। স্বাধীনোত্তর ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম। অনেকে বলছেন, শুধু ২০২০-২১ সালে দারিদ্র্যসীমার নীচে নেমে গিয়েছেন বহু কোটি ভারতীয়। সঠিক সংখ্যাটা আগেই বলা হয়েছে। জেরবার অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতি যখন সবে মুখ তোলার চেষ্টা করতে পারত, তখন আবার এই নতুন সঙ্কট। একে অর্থনীতির সমস্যা অঢেল। বৃদ্ধির গতি এখনও ঢিমে। বেসরকারি লগ্নির আগ্রহ সীমিত। বেকারত্বের হার চড়া। স্বাধীন বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, সাড়ে চার দশকে সর্বোচ্চ। 

ভারতের (মিডিয়ান এজ) ২৮/২৯ বছর। অর্থাৎ, ১৩০/১৩৫ কোটির দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যায় যুবক-যুবতীর এই বিপুল অনুপাত অবশ্যই সম্পদ, যাকে আমরা 'ডেমোগ্র্যাফিক ডিভিডেন্ড বলি। কিন্ত হাতে কাজ না পেলে, এই সম্পদেরই  বোঝা হয়ে উঠতে দেরি হয় না। Demographic dividend will turn into demographic disaster, rather demographic curse.


তথ্যসূত্র:

আনন্দবাজার এবং Statesman পত্রিকার বিগত কয়েক সপ্তাহের সম্পাদকীয় ছাড়াও বাংলা এবং ইংরেজিতে লেখা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠিত অর্থনীতিবিদ ও সংখ্যাতত্ববিদের সুুপাঠ্য প্রবন্ধের সাহায্য নেওয়া হয়েছে।



Monday, October 10, 2022

Pauli Effect

         

             Pauli effect

Just a couple of days ago, I posted some very important and thought-provoking 
 anecdotes made by legendary physicist Wolfgang Pauli.(in photo) Taking  cue of  that, two of my brilliant physicist friends reacted describing "Pauli Effect", a term used for the mysterious malfunctioning of equipments in the presence of a certain person. We all know someone who has this effect.

How Disaster Accompanied a Quantum Physicist Wherever He Went. To the world, Austrian physicist Wolfgang Pauli was an esteemed theoretical physicist, a Nobel laureate. 

To the depth psychology community associated with Carl Gustav Jung (adjacent photo) his extraordinary, vivid dreams, packed with symbolism (according to Jung), and anonymously conveyed to preserve patient privacy, were widely discussed. (Once Pauli and Jung published a book together, the thin cloak of anonymity dropped away). Finally to the circle of physicists surrounding Pauli, he was admired for his brilliance, feared for his scathing criticisms, and mocked for the "Pauli Effect", a propensity for disaster striking whenever he was in the vicinity of a laboratory or other structure.
 
If Wolfgang Pauli set foot in an experimental physics laboratory, the legend went, sheer mayhem would result. Beakers would crack, bunsen burners fail to ignite, oscilloscopes would cease to function, and expensive equipment would catch on fire. Collecting data would be useless, except perhaps calculating the total damage for an insurance report. Thus the Pauli Effect, succinctly stated, is that Pauli and labs were an explosive mix. No wonder researcher Otto Stern decided to bar Pauli from passing through the doors of his laboratory.

Pauli's friend and colleague, Rudolf Peierls (shown in photo) described the Pauli Effect as follows: "This was a kind of spell he was supposed to cast on people or objects in his neighborhood, particularly in physics laboratories, causing accidents of all sorts: Machines would stop
running when he arrived  in a laboratory, a glass apparatus would suddenly break, a leak would appear in a vacuum system, BUT none of these accidents would even hurt or inconvenience Pauli himself"



When important experimental equipments in Professor James Frank's laboratory at the Physics Institute at the University of Gottingen blew up for no apparent reason, someone remarked that this could be the Pauli Effect. However, Pauli was nowhere near in the area; he was on a train, travelling to Denmark. It was later discovered that at the time of the lab explosion, the train carrying Pauli from Zurich to Copenhagen was making a STOP at Gottingen. 

So goes the stories of Pauli Effect. Let me entertain my viewers with some such interesting facts.

When Pauli arrived at Princeton  in 1950, an expensive new Cyclotron that had recently been installed burned for NO obvious reason, and there was again speculation about the Pauli Effect.

Such phenomena happened outside the laboratory. When Jung Institute was inaugurated in Zurich in 1948, Pauli attended the opening ceremony, since Jung had asked him to become a "scientific patron" and so represent the convergence of physics and psychology.  At the time, Pauli's mind was turning on the tension between two earlier approaches to knowledge represented by the alchemist Robert Fludd and the scientist Johannes Kepler. When Pauli entered the reception room, for the Jung party, a large Chinese vase inexplicably slid off the table,  creating a flood that drenched some of the distinguished guests. Pauli saw huge symbolic significance of the echo of "Fludd" in the phenomenon of the spontaneous "Flood".This incident inspired him to write his paper "Background Physics". 

On another occasion, Pauli was sitting at a table in the window of a café Odeon, thinking intently about the colour RED and it's feeling tones. While thinking "red" he was unable to take his eyes off a large unoccupied car parked  in front of the restaurant. As he watched, the car burnt into flames and his field of vision was filled with fiery red.

In yet another, quite hilarious, incident in New York Pauli was lunching with Erwin Panofsky, the famous art historian and two other scholars. When they rose from the table, after dessert, three of the men found that they had been sitting - inexplicably on a whipped cream , now smeared over their trousers rumps. The only one unscathed, of course, was Pauli.

According to his close colleague, Marcus Fierz, "Pauli believed thoroughly in his Effect." He experienced an unpleasant inner tension before things blew up. After the event, he felt relief and release his from tension, even moments of euphoria. No doubt he enjoyed his ever growing reputation for producing wickedly strange phenomena. This was, after all, the man who dressed up as Mephistopheles for a skit in front of Niels Bohr's circle in Copenhagen. 

The best story on the Pauli Effect is from Rudolf peierls, a German- born physicist who moved to England and later worked on the Manhattan Project. Some of Pauli's fellow-scientists plotted to spoof the Effect attributed to him at a reception. They carefully suspended a chandelier by a rope that they intended to release when Pauli entered the room, causing the chandelier to crash down. But when Pauli came, the rope became wedged on a pulley and nothing happened - a typical example of Pauli Effect. 

It has been suggested that the reason Pauli was not invited to join the Manhattan project- which recruited many physicists from his circle was that the directors knew that Pauli's reputation and were worried that he would blow up something vital.



Saturday, October 8, 2022

Pauli anecdotes


 Four landmark anecdotes of Wolfgang Pauli, discoverer of  Exclusion principle for which he received the Nobel Prize in physics in 1945. Among many other contributions, he postulated the existence of Neutrino, a massless and chargeless particle in nature in 1932 soon after his discovery of Exclusion principle in 1925.


1. I've done a terrible thing. I've postulated   a particle that cannot be detected.

2. The fact that the author thinks slowly is not serious, but he publishes faster than he thinks is inexcusable. 

3. It is NOT ONLY not RIGHT, it is NOT EVEN WRONG.

4. Everything comes to him who knows how to wait.

Tuesday, October 4, 2022

দৃষ্টিহীনের লাইটহাউস

 

                    মেকানিক্যাল পার্কিন্স ব্রেলার

                         দৃষ্টিহীনের লাইটহাউস

বছর চারেক আগেকার কথা। ১৯৯৩ সালের মাঝামাঝি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও এঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর প্রদীপ দাস একখানা আমন্ত্রণপত্র পাঠালেন। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ব্লাইন্ড  বয়েজ অ্যাকাডেমিতে একটা কম্পিউটারচালিত ব্রেল মেশিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।  অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল চালু যন্ত্রটির পরিদর্শন। 

তখনই যাওয়া সম্ভব না হওয়ায়, বছর আড়াই পরে সুযোগটা আবার এসে গেল। কীভাবে এল বলার আগে পার্কিন্স ব্রেলার (Perkins Brailler) যন্ত্র এবং দৃষ্টিহীন মানুষের পড়াশোনা সংক্রান্ত ব্যাপারে একটু বলা দরকার। তা হলেই বোঝা যাবে দৃষ্টিহীনদের পঠন-পাঠনের পদ্ধতি এবং একই সঙ্গে যন্ত্রটির সীমাবদ্ধতা। দৃষ্টিহীন মানুষের অনুভূতিশক্তি প্রবল এবং তা কাজে লাগিয়েই তাঁরা অন্য আরও অনেক কাজের মতো লেখাপড়াও করেন। দৃষ্টি ছাড়া অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের অনুভূতিকে আশ্রয় করে রূপ রস গন্ধ স্পর্শের বিচিত্র জগৎ তাঁদের চেতনায় সাড়া জাগায়। হেলেন কেলারের নাম আমরা অনেকেই জানি। হাইওয়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চড়ে যাওয়ার সময় ঘ্রাণশক্তির অনুভূতিতে হেলেন কেলার নির্ভুলভাবে অনায়াসে বলে দিতে পারতেন, রাস্তার দুপাশে কোথায় গ্রাম আছে, কোথায় খেত-খামার আছে। কারণ গ্রাম্য পরিবেশের আকাশে-বাতাসের একটা আলাদা বিশেষ.গন্ধ আছে। প্রত্যক্ষ উপায় না থাকলে বিকল্পের কথা তো ভাবতেই হয়। এটা যে কোনও মানুষের সহজাত।              হেলেন কেলার 

যাইহোক,  দেখা যাক অন্ধ মানুষের লেখাপড়া করার পদ্ধতিটা কেমন। মসৃণ যে-কোনও তলের ওপর উঁচুনিচু থাকলে আঙুলের স্পর্শে সেটা টের পাওয়া যাবে। এর জন্য দৃষ্টির প্রয়োজন হয় না। ছ'টি বুটির বিন্যাসের সাহায্যে সৃষ্টি হয়েছে দৃষ্টিহীনদের অক্ষর এবং সংখ্যা। অনেকদিন আগে ফরাসি দেশে লুই ব্রেল এই ধরনের সঙ্কেত আবিষ্কার করেন।  নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে বুটিগুলোর আপেক্ষিক অবস্থান নির্দিষ্ট। পার্কিন্স ব্রেলারের কাজ হ'ল বিশেষ ধরনের পুরু কাগজে লেখার হরফগুলো  মুদ্রিত করা। অর্থাৎ অক্ষর বা সংখ্যা অনুযায়ী যেখানে বুটি থাকা দরকার, কাগজের সেই জায়গাটা কাগজের মসৃণ তল থেকে সামান্য একটু উঠে থাকে যাতে আঙুলের স্পর্শে ঠাওর করা যায় যে জায়গাটা কাগজের তল থেকে উঁচুতে অবস্থান করছে। সুতরাং দৃষ্টিসম্পন্ন ভাগ্যবানদের কাছে ব্রেল মুদ্রিত কাগজকে মনে হবে উঁচু উঁচু সাদা বুটি ডিজাইনের একখানা কাগজ। মুদ্রিত কাগজের ওপরের বাঁ-কোনা থেকে শুরু করে লাইন বরাবর আঙুল বুলিয়ে বুটির অবস্থানের স্পর্শ অনুভূতিতে দৃষ্টিহীনেরা তাঁদের ভাষা অনায়াসে পড়ে ফেলেন।

পার্কিন্স ব্রেলার যন্ত্রে ন'টি "কী" বা বোতাম যুক্ত একটি "কী বোর্ড" আছে, অনেকটা পুরোনো দিনের টাইপ মেশিনের মতো। পাশাপাশি দুটি উলম্ব লাইনের প্রত্যেকটিতে তিনটে বুটি, সবশুদ্ধ ছ'টি বুটির জন্য ছ'টি নির্দিষ্ট কী, এছাড়া 'স্পেস', 'ক্যারেজ রিটার্ন' ও 'লাইন ফিড' এর জন্য একটি করে। এ ছাড়া আছে কচ্ছপের মাথা সদৃশ মাথা চেরা একটি মুদ্রণ-মুন্ড। যে কাগজের ওপর মুদ্রিত করা হয় সেটা চেরা মাথার মধ্যে দিয়ে গলিয়ে রোলারে জড়িয়ে রাখার ব্যবস্থা আছে। ছ'টি বুটির জন্য চেরা মাথার নীচের অংশের নির্দিষ্ট অবস্থানে ছ'টি ছিদ্র আছে। ওপরের অংশের মতো সঠিক জায়গাতেও একদিক বন্ধ অগভীর বন্ধ ছিদ্র আছে। ওপরের ছিদ্রের গভীরতা বুটির উচ্চতার মাপ বরাবর। এক বা একাধিক বোতাম একসঙ্গে টিপে দিলে সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সরু পিন বা হ্যামার নীচের ছিদ্রপথে কাগজ ঠেলে উঠে আসবে। একই সঙ্গে মাথার ওপরের অংশ চাপ দিয়ে কাগজে বুটির ছাপ ফুটিয়ে তুলবে।

১৯৯৩ সালে কম্পিউটার চালিত পার্কিন্স ব্রেলারের সার্থক রূপায়ণের কারিগর অধ্যাপক প্রদীপ দাস। উদ্যোগ নেন আরও একজন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, রীনা দাস। যন্ত্রটির সর্বাত্মক রূপায়ণে প্রদীপকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সহকর্মী ডঃ অটল চৌধুরী এবং সৌরভ দত্ত। ছোট্ট করে দেখে নেওয়া যাক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটির কার্যপ্রণালী:  যন্ত্রটির কী-বোর্ডের প্রত্যেকটি কী-এর ওপরে শক্তপোক্ত ভাবে ঝুলিয়ে রাখা আছে বাতাসচালিত রোবট ফিঙ্গার। কম্প্রেসরতাড়িত উচ্চচাপযুক্ত বাতাসের সাহায্যে কম্পিউটারের উপযুক্ত নির্দেশে এই রোবট ফিঙ্গারগুলো পার্কিন্স ব্রেলারের ন'টি কী-এর ওপর কাজ করে। রোবট ফিঙ্গার সংক্রান্ত ব্যাপারটার ডিজাইন ও ফ্যাব্রিকেশনের কাজে বিনা পারিশ্রমিকে সহায়তা করেছেন বেলঘরিয়ার আর কে ইন্ডাস্ট্রির রথীন মিত্র। খরচের বেশিরভাগটাই  বহন করেছে রামকৃষ্ণ মিশন। রীনার ব্যক্তিগত উদ্যমে জোগাড় করা অনুদানের ভাগও নেহাত কম নয়। যন্ত্রটি দ্রতগতিসম্পন্ন, নির্ভরশীল এবং নির্ভুলভাবে আজও কাজ করে চলেছে। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন স্বয়ং প্রদীপ দাস ও তাঁর 'টিম'। আমার ধারণা,পার্কিন্স ব্রেলারকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়সাধনে সয়ংক্রিয়করণের এই প্রয়াস ভারতবর্ষে প্রথম।

পুরনো দিনের মেকানিক্যাল পার্কিন্স ব্রেলার দেখে মনে হয়েছিল যে, পরবর্তী ডিজাইনের যন্ত্রে কী-গুলো বিদ্যুতচালিত হবে, যেমন আধুনিক ইলেকট্রিক  টাইপরাইটারে হয়। তাতে সুবিধে এই যে, সামান্য স্পর্শেই ওগুলো কার্যকর হবে এবং প্রয়োজনে কম্পিউটারের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে পারবে। আমদানি হয়ে আসার পর একটু আশাহতই হয়েছিলাম। বিদ্যুতচালিত পার্কিন্স ব্রেলার নামে মার্কিন শিল্পসংস্থা যে যন্ত্রটি পাঠিয়ে দিল, তাতে 'মুদ্রণ-মুন্ড' বা 'এমবসিং হেড' ছাড়া আর কিছুই বিদ্যুতচালিত নয়। প্রদীপ যন্ত্রটি আমার হাতে তুলে দিয়েছিল, যদি এটি কম্পিউটারের সঙ্গে সহজভাবে জুড়ে দেওয়া যায়। যে ধরনের কাজের জন্য আমার বরাবরের আগ্রহ, তার সুযোগটা এসে গেল এইভাবেই। ভেবে দেখলাম যে, যন্ত্রটিকে কম্পিউটারচালিত করতে হলে কী-বোর্ডের এখনকার ব্যবস্থার খোল-নলচে পাল্টে ফেলতে হবে। দুটি জায়গায় নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরী- (১) কী-বোর্ড ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন; (২) পরিবর্তিত কী-বোর্ডের সঙ্গে উপযুক্ত হার্ডওয়্যার-সফ্টওয়্যারের সমন্বয় সাধন করা। কম্পিউটার সংক্রান্ত ব্যাপারটার সম্ভাব্য রূপায়ণের পরিকল্পনা মনে মনে নিজেই ছকে ফেলেছিলাম। বহু বছরের অভিজ্ঞতায় এ ব্যাপারে স্বচ্ছ চিন্তা করতে কোনও অসুবিধে হয়নি। কারণ বিগত ২৫ বছর ধরে এ-ধরনের কাজে অসংখ্য ভুলের মাসুল দিয়ে এইটুকু বুঝতে পেরেছি যে, নির্ভুলভাবে কোনটা করা যায়। প্রথম কাজটা অর্থাৎ, যন্ত্রের মেকানিক্যাল অংশের আমূল পরিবর্তনের ব্যাপারটা প্রতিষ্ঠিত এবং অভিজ্ঞ মেকানিক্যাল এঞ্জিনিয়ার বন্ধু সহকর্মী, সুনীল দাসের সামর্থ্যের মধ্যে, এই কথা ভেবেই কাজটা হাতে নিয়েছিলাম। আসলে আমাদের এই প্রতিষ্ঠান, 'ভেরিয়েবল্ এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টার' এমন একটি জায়গা, যেখানে যাবতীয় সূক্ষ্ম বিজ্ঞান-প্রযুক্তির রূপায়ণ সর্বদাই হয়ে থাকে এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নানা বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা খুব কম জায়গাতেই আছেন।  যাইহোক, আত্মবিশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে কাজটা হাতে নিয়ে ফেললাম। 

পার্কিন্স ব্রেলার যন্ত্রটির স্বয়ংক্রিয়করণের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাতের প্রয়োজন বোধ করছি। দৃষ্টিহীনদের জন্য বেশি সংখ্যায় পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজে আজকের দিনে ব্যবহার করা হয় "ব্রেল প্রেস"। পাঠ্য বিষয়টির প্রতিটি পাতার জন্য অ্যালুমনিয়াম প্লেটের ওপর ছাঁচ তুলে নেওয়া হয়। পরে এই ছাঁচ ব্যবহার করে তৈরি হয় বহু কপি। কিন্ত দুঃখের বিষয়, পূর্ব ভারতের একমাত্র ব্রেল প্রেসটি আছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকডেমিতে। বাংলা ছাড়াও এই প্রেসে তৈরি হচ্ছে অসমিয়, ওড়িশা, মণিপুরী, সংস্কৃত এবং ইংরেজি ভাষায় লেখা বই। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে, অসংখ্য দৃষ্টিহীনের চাহিদার তুলনায় জোগান ভীষণভাবে অপ্রতুল। "চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ জোগান আমরা দিতে পারি," বললেন ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমির কতৃপক্ষ। এদিকে মেকানিক্যাল পার্কিন্স ব্রেলারে একখানা কাগজ তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় আধঘন্টা। ছ'টি বুটিযুক্ত 'ব্রেল কোড' বা ব্রেল সংকেত অনুশীলন করা মানুষই একমাত্র পারবেন এই যন্ত্র ব্যবহার করতে। শুধু তাই নয়, কাজে মনোঃসংযোগের এতটুক ভুল হলেই কাজটি বাতিল করে দিতে হবে। ভুল হবার সম্ভাবনাও প্রবল, কারণ ব্রেল কোডে অসংখ্য শব্দ সঙ্কোচনের ব্যবহার আছে। সুতরাং সাধারণ পার্কিন্স ব্রেলার ব্যবহার করে পান্ডুলিপি তৈরির কাজ মানুষের পক্ষে, এমনকি দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের পক্ষেও শুধু সময় সাপেক্ষই নয়, ক্লান্তিকরও এবং একটানা কাজ করা প্রায় অসম্ভব। 

      কম্পিউটার মাইক্রো-কন্ট্রোলার সমেত স্বয়ংক্রিয়                                      পার্কিন্স   ব্রেলার 

কম্পিউটার ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়করণের ব্যবস্থা করলে এসব অসুবিধেও খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। মুদ্রণের দ্রুততা ছাড়াও পান্ডুলিপির যাবতীয় ত্রুটি কম্পিউটার সংশোধন করে দেবে এবং ইংরেজি হরফে টাইপের সামান্য জ্ঞান থাকা যে কেউই মুদ্রণের বিষয়টি কম্পিউটারে অনায়াসে ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন; ব্রেল কোড প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞের দরকার নেই। চালু অবস্থায় কম্পিউটারে রাখা উপযুক্ত সফ্টওয়্যার ইংরেজিতে (বা অন্য যে কোনও ভাষায়) ঢোকানো পান্ডুলিপির তথ্য যথোপযুক্ত ব্রেলকোডে অনুবাদ করে নিয়ে যন্ত্রটিকে চালাবে এবং কাগজের ওপর অনেক দ্রুতগতিতে ব্রেল কোড ছেপে দেবে। যন্ত্র যন্ত্রই, পুনরাবৃত্তি তার সহজাত লক্ষণ। কাজেই অক্লান্তভাবে একটানা কাজ করে যেতে তার কোনও বাধা নেই। ব্রেল প্রেস খুবই ব্যয়সাপেক্ষ, তুলনায় পার্কিন্স ব্রেলার অনেক সস্তা। স্বয়ংক্রিয়করণের খরচও আদৌ তেমন কিছু নয়। ফলে পাঠ্যপুস্তকের অভাব হয়তো অনেকটাই মিটবে।

যে কোনও গঠনমূলক, বিশেষত, জনকল্যানমূলক কাজের কৃতিত্ব একজন দাবি করতে পারেন না। টিমওয়ার্ক ছাড়া এই ধরনের কাজ সফলভাবে শেষ করা সম্ভব নয়। ভেরিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারে ব্রেল যন্ত্রকে কম্পিউটারচালিত স্বয়ংক্রিয় করার যে কাজ আমরা শেষ করেছি তা পরিচালনা করার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। মেকানিক্যাল ব্যবস্থার যাবতীয় পরিবর্তন ও তার গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন সুনীল দাস। কম্পিউটার-মাইক্রো-প্রসেসর সংক্রান্ত হার্ডওয়্যার ডিজাইনের মূল পরিকল্পনা ও কন্ট্রোল সফ্টওয়্যার প্রস্তুতির কাজে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন সুদক্ষ কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ার সর্বজিৎ পাল এবং শেষ পর্বে তাপস সামন্ত। সমস্ত কাজ রূপায়ণের জন্য দীর্ঘদিনের সুদক্ষ সহকর্মী যেসব টেকনিশিয়ানরা সব সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা হলেন জীবনকৃষ্ণ দাস,  সুনীল কর্মকার, নিখিল রায় এবং আর বি ভোলে। যন্ত্রটি রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমি, নরেন্দ্রপুরে বেশ কয়েক মাস ধরে নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। আমদানি করা পার্কিন্স ব্রেলারের প্রয়োজনীয় রূপান্তর ঘটিয়ে কম্পিউটারচালিত ব্রেলার তৈরি হয়েছে। পরবর্তী ধাপে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে সম্পূর্ণ দেশজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটা যন্ত্র তৈরি করা যায়।