মেকানিক্যাল পার্কিন্স ব্রেলার
দৃষ্টিহীনের লাইটহাউস
বছর চারেক আগেকার কথা। ১৯৯৩ সালের মাঝামাঝি। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও এঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের প্রফেসর প্রদীপ দাস একখানা আমন্ত্রণপত্র পাঠালেন। নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমিতে একটা কম্পিউটারচালিত ব্রেল মেশিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল চালু যন্ত্রটির পরিদর্শন।
তখনই যাওয়া সম্ভব না হওয়ায়, বছর আড়াই পরে সুযোগটা আবার এসে গেল। কীভাবে এল বলার আগে পার্কিন্স ব্রেলার (Perkins Brailler) যন্ত্র এবং দৃষ্টিহীন মানুষের পড়াশোনা সংক্রান্ত ব্যাপারে একটু বলা দরকার। তা হলেই বোঝা যাবে দৃষ্টিহীনদের পঠন-পাঠনের পদ্ধতি এবং একই সঙ্গে যন্ত্রটির সীমাবদ্ধতা। দৃষ্টিহীন মানুষের অনুভূতিশক্তি প্রবল এবং তা কাজে লাগিয়েই তাঁরা অন্য আরও অনেক কাজের মতো লেখাপড়াও করেন। দৃষ্টি ছাড়া অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের অনুভূতিকে আশ্রয় করে রূপ রস গন্ধ স্পর্শের বিচিত্র জগৎ তাঁদের চেতনায় সাড়া জাগায়। হেলেন কেলারের নাম আমরা অনেকেই জানি। হাইওয়ের ওপর দিয়ে গাড়ি চড়ে যাওয়ার সময় ঘ্রাণশক্তির অনুভূতিতে হেলেন কেলার নির্ভুলভাবে অনায়াসে বলে দিতে পারতেন, রাস্তার দুপাশে কোথায় গ্রাম আছে, কোথায় খেত-খামার আছে। কারণ গ্রাম্য পরিবেশের আকাশে-বাতাসের একটা আলাদা বিশেষ.গন্ধ আছে। প্রত্যক্ষ উপায় না থাকলে বিকল্পের কথা তো ভাবতেই হয়। এটা যে কোনও মানুষের সহজাত। হেলেন কেলার
যাইহোক, দেখা যাক অন্ধ মানুষের লেখাপড়া করার পদ্ধতিটা কেমন। মসৃণ যে-কোনও তলের ওপর উঁচুনিচু থাকলে আঙুলের স্পর্শে সেটা টের পাওয়া যাবে। এর জন্য দৃষ্টির প্রয়োজন হয় না। ছ'টি বুটির বিন্যাসের সাহায্যে সৃষ্টি হয়েছে দৃষ্টিহীনদের অক্ষর এবং সংখ্যা। অনেকদিন আগে ফরাসি দেশে লুই ব্রেল এই ধরনের সঙ্কেত আবিষ্কার করেন। নির্দিষ্ট পরিসরের মধ্যে বুটিগুলোর আপেক্ষিক অবস্থান নির্দিষ্ট। পার্কিন্স ব্রেলারের কাজ হ'ল বিশেষ ধরনের পুরু কাগজে লেখার হরফগুলো মুদ্রিত করা। অর্থাৎ অক্ষর বা সংখ্যা অনুযায়ী যেখানে বুটি থাকা দরকার, কাগজের সেই জায়গাটা কাগজের মসৃণ তল থেকে সামান্য একটু উঠে থাকে যাতে আঙুলের স্পর্শে ঠাওর করা যায় যে জায়গাটা কাগজের তল থেকে উঁচুতে অবস্থান করছে। সুতরাং দৃষ্টিসম্পন্ন ভাগ্যবানদের কাছে ব্রেল মুদ্রিত কাগজকে মনে হবে উঁচু উঁচু সাদা বুটি ডিজাইনের একখানা কাগজ। মুদ্রিত কাগজের ওপরের বাঁ-কোনা থেকে শুরু করে লাইন বরাবর আঙুল বুলিয়ে বুটির অবস্থানের স্পর্শ অনুভূতিতে দৃষ্টিহীনেরা তাঁদের ভাষা অনায়াসে পড়ে ফেলেন।
পার্কিন্স ব্রেলার যন্ত্রে ন'টি "কী" বা বোতাম যুক্ত একটি "কী বোর্ড" আছে, অনেকটা পুরোনো দিনের টাইপ মেশিনের মতো। পাশাপাশি দুটি উলম্ব লাইনের প্রত্যেকটিতে তিনটে বুটি, সবশুদ্ধ ছ'টি বুটির জন্য ছ'টি নির্দিষ্ট কী, এছাড়া 'স্পেস', 'ক্যারেজ রিটার্ন' ও 'লাইন ফিড' এর জন্য একটি করে। এ ছাড়া আছে কচ্ছপের মাথা সদৃশ মাথা চেরা একটি মুদ্রণ-মুন্ড। যে কাগজের ওপর মুদ্রিত করা হয় সেটা চেরা মাথার মধ্যে দিয়ে গলিয়ে রোলারে জড়িয়ে রাখার ব্যবস্থা আছে। ছ'টি বুটির জন্য চেরা মাথার নীচের অংশের নির্দিষ্ট অবস্থানে ছ'টি ছিদ্র আছে। ওপরের অংশের মতো সঠিক জায়গাতেও একদিক বন্ধ অগভীর বন্ধ ছিদ্র আছে। ওপরের ছিদ্রের গভীরতা বুটির উচ্চতার মাপ বরাবর। এক বা একাধিক বোতাম একসঙ্গে টিপে দিলে সেগুলোর জন্য নির্দিষ্ট সরু পিন বা হ্যামার নীচের ছিদ্রপথে কাগজ ঠেলে উঠে আসবে। একই সঙ্গে মাথার ওপরের অংশ চাপ দিয়ে কাগজে বুটির ছাপ ফুটিয়ে তুলবে।
১৯৯৩ সালে কম্পিউটার চালিত পার্কিন্স ব্রেলারের সার্থক রূপায়ণের কারিগর অধ্যাপক প্রদীপ দাস। উদ্যোগ নেন আরও একজন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, রীনা দাস। যন্ত্রটির সর্বাত্মক রূপায়ণে প্রদীপকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, সহকর্মী ডঃ অটল চৌধুরী এবং সৌরভ দত্ত। ছোট্ট করে দেখে নেওয়া যাক স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটির কার্যপ্রণালী: যন্ত্রটির কী-বোর্ডের প্রত্যেকটি কী-এর ওপরে শক্তপোক্ত ভাবে ঝুলিয়ে রাখা আছে বাতাসচালিত রোবট ফিঙ্গার। কম্প্রেসরতাড়িত উচ্চচাপযুক্ত বাতাসের সাহায্যে কম্পিউটারের উপযুক্ত নির্দেশে এই রোবট ফিঙ্গারগুলো পার্কিন্স ব্রেলারের ন'টি কী-এর ওপর কাজ করে। রোবট ফিঙ্গার সংক্রান্ত ব্যাপারটার ডিজাইন ও ফ্যাব্রিকেশনের কাজে বিনা পারিশ্রমিকে সহায়তা করেছেন বেলঘরিয়ার আর কে ইন্ডাস্ট্রির রথীন মিত্র। খরচের বেশিরভাগটাই বহন করেছে রামকৃষ্ণ মিশন। রীনার ব্যক্তিগত উদ্যমে জোগাড় করা অনুদানের ভাগও নেহাত কম নয়। যন্ত্রটি দ্রতগতিসম্পন্ন, নির্ভরশীল এবং নির্ভুলভাবে আজও কাজ করে চলেছে। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন স্বয়ং প্রদীপ দাস ও তাঁর 'টিম'। আমার ধারণা,পার্কিন্স ব্রেলারকে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়সাধনে সয়ংক্রিয়করণের এই প্রয়াস ভারতবর্ষে প্রথম।
পুরনো দিনের মেকানিক্যাল পার্কিন্স ব্রেলার দেখে মনে হয়েছিল যে, পরবর্তী ডিজাইনের যন্ত্রে কী-গুলো বিদ্যুতচালিত হবে, যেমন আধুনিক ইলেকট্রিক টাইপরাইটারে হয়। তাতে সুবিধে এই যে, সামান্য স্পর্শেই ওগুলো কার্যকর হবে এবং প্রয়োজনে কম্পিউটারের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে পারবে। আমদানি হয়ে আসার পর একটু আশাহতই হয়েছিলাম। বিদ্যুতচালিত পার্কিন্স ব্রেলার নামে মার্কিন শিল্পসংস্থা যে যন্ত্রটি পাঠিয়ে দিল, তাতে 'মুদ্রণ-মুন্ড' বা 'এমবসিং হেড' ছাড়া আর কিছুই বিদ্যুতচালিত নয়। প্রদীপ যন্ত্রটি আমার হাতে তুলে দিয়েছিল, যদি এটি কম্পিউটারের সঙ্গে সহজভাবে জুড়ে দেওয়া যায়। যে ধরনের কাজের জন্য আমার বরাবরের আগ্রহ, তার সুযোগটা এসে গেল এইভাবেই। ভেবে দেখলাম যে, যন্ত্রটিকে কম্পিউটারচালিত করতে হলে কী-বোর্ডের এখনকার ব্যবস্থার খোল-নলচে পাল্টে ফেলতে হবে। দুটি জায়গায় নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরী- (১) কী-বোর্ড ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন; (২) পরিবর্তিত কী-বোর্ডের সঙ্গে উপযুক্ত হার্ডওয়্যার-সফ্টওয়্যারের সমন্বয় সাধন করা। কম্পিউটার সংক্রান্ত ব্যাপারটার সম্ভাব্য রূপায়ণের পরিকল্পনা মনে মনে নিজেই ছকে ফেলেছিলাম। বহু বছরের অভিজ্ঞতায় এ ব্যাপারে স্বচ্ছ চিন্তা করতে কোনও অসুবিধে হয়নি। কারণ বিগত ২৫ বছর ধরে এ-ধরনের কাজে অসংখ্য ভুলের মাসুল দিয়ে এইটুকু বুঝতে পেরেছি যে, নির্ভুলভাবে কোনটা করা যায়। প্রথম কাজটা অর্থাৎ, যন্ত্রের মেকানিক্যাল অংশের আমূল পরিবর্তনের ব্যাপারটা প্রতিষ্ঠিত এবং অভিজ্ঞ মেকানিক্যাল এঞ্জিনিয়ার বন্ধু সহকর্মী, সুনীল দাসের সামর্থ্যের মধ্যে, এই কথা ভেবেই কাজটা হাতে নিয়েছিলাম। আসলে আমাদের এই প্রতিষ্ঠান, 'ভেরিয়েবল্ এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টার' এমন একটি জায়গা, যেখানে যাবতীয় সূক্ষ্ম বিজ্ঞান-প্রযুক্তির রূপায়ণ সর্বদাই হয়ে থাকে এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির নানা বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা খুব কম জায়গাতেই আছেন। যাইহোক, আত্মবিশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে কাজটা হাতে নিয়ে ফেললাম।
পার্কিন্স ব্রেলার যন্ত্রটির স্বয়ংক্রিয়করণের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাতের প্রয়োজন বোধ করছি। দৃষ্টিহীনদের জন্য বেশি সংখ্যায় পাঠ্যপুস্তক ছাপার কাজে আজকের দিনে ব্যবহার করা হয় "ব্রেল প্রেস"। পাঠ্য বিষয়টির প্রতিটি পাতার জন্য অ্যালুমনিয়াম প্লেটের ওপর ছাঁচ তুলে নেওয়া হয়। পরে এই ছাঁচ ব্যবহার করে তৈরি হয় বহু কপি। কিন্ত দুঃখের বিষয়, পূর্ব ভারতের একমাত্র ব্রেল প্রেসটি আছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকডেমিতে। বাংলা ছাড়াও এই প্রেসে তৈরি হচ্ছে অসমিয়, ওড়িশা, মণিপুরী, সংস্কৃত এবং ইংরেজি ভাষায় লেখা বই। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে, অসংখ্য দৃষ্টিহীনের চাহিদার তুলনায় জোগান ভীষণভাবে অপ্রতুল। "চাহিদার মাত্র ১০ শতাংশ জোগান আমরা দিতে পারি," বললেন ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমির কতৃপক্ষ। এদিকে মেকানিক্যাল পার্কিন্স ব্রেলারে একখানা কাগজ তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় আধঘন্টা। ছ'টি বুটিযুক্ত 'ব্রেল কোড' বা ব্রেল সংকেত অনুশীলন করা মানুষই একমাত্র পারবেন এই যন্ত্র ব্যবহার করতে। শুধু তাই নয়, কাজে মনোঃসংযোগের এতটুক ভুল হলেই কাজটি বাতিল করে দিতে হবে। ভুল হবার সম্ভাবনাও প্রবল, কারণ ব্রেল কোডে অসংখ্য শব্দ সঙ্কোচনের ব্যবহার আছে। সুতরাং সাধারণ পার্কিন্স ব্রেলার ব্যবহার করে পান্ডুলিপি তৈরির কাজ মানুষের পক্ষে, এমনকি দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের পক্ষেও শুধু সময় সাপেক্ষই নয়, ক্লান্তিকরও এবং একটানা কাজ করা প্রায় অসম্ভব।
কম্পিউটার মাইক্রো-কন্ট্রোলার সমেত স্বয়ংক্রিয় পার্কিন্স ব্রেলার
কম্পিউটার ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়করণের ব্যবস্থা করলে এসব অসুবিধেও খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যায়। মুদ্রণের দ্রুততা ছাড়াও পান্ডুলিপির যাবতীয় ত্রুটি কম্পিউটার সংশোধন করে দেবে এবং ইংরেজি হরফে টাইপের সামান্য জ্ঞান থাকা যে কেউই মুদ্রণের বিষয়টি কম্পিউটারে অনায়াসে ঢুকিয়ে রাখতে পারবেন; ব্রেল কোড প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞের দরকার নেই। চালু অবস্থায় কম্পিউটারে রাখা উপযুক্ত সফ্টওয়্যার ইংরেজিতে (বা অন্য যে কোনও ভাষায়) ঢোকানো পান্ডুলিপির তথ্য যথোপযুক্ত ব্রেলকোডে অনুবাদ করে নিয়ে যন্ত্রটিকে চালাবে এবং কাগজের ওপর অনেক দ্রুতগতিতে ব্রেল কোড ছেপে দেবে। যন্ত্র যন্ত্রই, পুনরাবৃত্তি তার সহজাত লক্ষণ। কাজেই অক্লান্তভাবে একটানা কাজ করে যেতে তার কোনও বাধা নেই। ব্রেল প্রেস খুবই ব্যয়সাপেক্ষ, তুলনায় পার্কিন্স ব্রেলার অনেক সস্তা। স্বয়ংক্রিয়করণের খরচও আদৌ তেমন কিছু নয়। ফলে পাঠ্যপুস্তকের অভাব হয়তো অনেকটাই মিটবে।
যে কোনও গঠনমূলক, বিশেষত, জনকল্যানমূলক কাজের কৃতিত্ব একজন দাবি করতে পারেন না। টিমওয়ার্ক ছাড়া এই ধরনের কাজ সফলভাবে শেষ করা সম্ভব নয়। ভেরিয়েবল এনার্জি সাইক্লোট্রন সেন্টারে ব্রেল যন্ত্রকে কম্পিউটারচালিত স্বয়ংক্রিয় করার যে কাজ আমরা শেষ করেছি তা পরিচালনা করার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। মেকানিক্যাল ব্যবস্থার যাবতীয় পরিবর্তন ও তার গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন সুনীল দাস। কম্পিউটার-মাইক্রো-প্রসেসর সংক্রান্ত হার্ডওয়্যার ডিজাইনের মূল পরিকল্পনা ও কন্ট্রোল সফ্টওয়্যার প্রস্তুতির কাজে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন সুদক্ষ কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ার সর্বজিৎ পাল এবং শেষ পর্বে তাপস সামন্ত। সমস্ত কাজ রূপায়ণের জন্য দীর্ঘদিনের সুদক্ষ সহকর্মী যেসব টেকনিশিয়ানরা সব সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা হলেন জীবনকৃষ্ণ দাস, সুনীল কর্মকার, নিখিল রায় এবং আর বি ভোলে। যন্ত্রটি রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমি, নরেন্দ্রপুরে বেশ কয়েক মাস ধরে নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। আমদানি করা পার্কিন্স ব্রেলারের প্রয়োজনীয় রূপান্তর ঘটিয়ে কম্পিউটারচালিত ব্রেলার তৈরি হয়েছে। পরবর্তী ধাপে চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে সম্পূর্ণ দেশজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটা যন্ত্র তৈরি করা যায়।



No comments:
Post a Comment