Tuesday, September 10, 2024

Educate your son

 

'অভয়া'-র নির্মম মৃত্যু সভ্য সমাজের মানুষকে বেশ কিছু মৌলিক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করে দিয়েছে- কিছু কথা, কিছু ব্যাথা।


৯ আগস্ট কলকাতায় একজন শিক্ষানবিশ ডাক্তারের নৃশংস ও জঘন্য ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আমাকে এবং অন্য অনেকের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে এবং ক্ষুব্ধ করেছে। এই ট্র্যাজেডি একটি বেদনাদায়ক অনুস্মারক যা নারীর প্রতি সহিংসতা শুধুমাত্র একটি দেশে সীমাবদ্ধ নয় ~ এটি এমন কিছু যা সর্বত্র, ধনী থেকে দরিদ্রতম জাতি, এই গ্রহের নারীকুল প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে থাকে।

পৃথিবীর বর্তমান পরিস্থিতিতে, মহিলাদের ভোগ্যবস্তু হিসেবে দেখা হয়। 'আপনার মেয়েকে রক্ষা করুন বা সাবধানে রাখুন' কথাটি প্রায়শই বলা হয় এবং শোনা যায়।

কিন্ত, 'আপনার ছেলেকে শিক্ষিত করুন, সহবত শেখান', এমন কথা কি কখনও শোনা যায় ! এই অসামঞ্জস্যই লিঙ্গ সমতা এবং সম্মানের মূল দিকগুলিকে সমাধান করতে ব্যর্থতা প্রকাশ করে। এই চক্রটি ভাঙতে, আমাদের অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে যাতে ছেলেরা, মেয়েদের প্রতি সম্মান  এবং সমতা সম্পর্কে নিজেদের শিক্ষিত করতে পারে। 

ছোটবেলা থেকেই, মেয়েদের সতর্ক এবং অনুগত হতে শেখানো হয়, এবং ক্রমাগত তাদের দুর্বলতার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়। অথচ ছেলেদের বেলাগাম আচরণে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ কী অসহায় এবং উদাসীন; ভাবা যায়!

ছেলেমেয়েদের মানুষ করার এই বৈষম্য এমনএকটি সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই শিখতে হবে যে তাদের অধিকারের মধ্যে অন্যদের নিয়ন্ত্রণ বা ক্ষতি করার ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা চালিয়ে যাওয়া বিষাক্ত এই পুরুষতন্ত্রের ক্ষতিকর চক্রকে ভেঙে ফেলার জন্য এ ধরনের শিক্ষা অপরিহার্য। 

আমার দৃষ্টিতে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের চেয়েও কঠোর হওয়া উচিত। সেটা ঠিক কী রকম সেটা আমার জানা নেই। কারণ কারাগারের অন্ধকূপের পরিমার্জিত নামকরণ হয়েছে সংশোধনাগার। কাজেই দোষী সাব্যস্ত হওয়া অপরাধীদের ব্রিটিশ আমলের নিয়ম মেনে থার্ড ডিগ্রি দেওয়া যাবে না। কিন্ত আইনের  ফাঁক গলে   মাথা খাটিয়ে তাদের জন্য এমন এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা দরকার যাতে তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে জীবনের চেয়ে মৃত্যু ভাল। মৃত্যুদণ্ড যে একমাত্র প্রতিরোধক নয়, দিল্লির  নির্ভয়া  কান্ডের পরে তা অসংখ্য  বার প্রমাণিত হয়েছে। সারা দেশ জুড়ে ধর্ষণের কান্ড উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে।




No comments: