লন্ডন উবাচ
সৈয়দ মুজতবা আলী রচনাবলীর প্রথম খন্ড পড়তে পড়তে প্রায় শেষের দিকে পৌঁছে গেছি। উনি একসময় সত্যপীর ছদ্মনামে আনন্দবাজারের পাতায় ছোট ছোট গল্প লিখতেন। সেই গল্পগুলোর 'সিলেটি সাগা' নামে একটি গল্পের শুরুতেই, উনি এ কথা ও কথার মাঝে পড়তে গিয়ে, দুটি বাক্যে আমার চোখ আটকে গেল এবং স্মৃতির সরণি বেয়ে ৪২/৪৩ বছর পিছিয়ে গেলাম। প্রায় একই রকমের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন আমার জীবনেও ঘটেছিল। যাইহোক, ওঁর উদ্ধৃতির অবিকৃত অংশটা আগে তুলে ধরছি -
"..........কথায় বলে, ওট নামক বস্তুটি স্কটল্যান্ডে খায় মানুষ, ইংল্যান্ডে খায় ঘোড়া। কিন্ত ঐ আমলে লন্ডনের পোশাকী খানা স্কটল্যান্ড ঘোড়া পর্যন্ত খেতে রাজি হত না - এই আমার বিশ্বাস। তাই আমি লন্ডনের "লাঞ্চকে" বলতাম "লাঞ্ছনা" আর সাপারকে বলতাম "suffer"
ঠিক একই রকম কথা বহুকাল আগে আমি ইংরেজিতে পড়েছিলাম। আমি ইংরেজিতে যেটা পড়েছিলাম সেটা হ'ল অনেকটা এরকম।
In fact, asked to define the word "Heaven", someone called it a way of life that would include a British house, an American salary, Chinese food and Indian family. Accordingly, the word "Hell" Was defined as a state of affairs that subsumes the worst form of the same four cultures - an Indian salary, a Chinese house, British food and an American family.
প্রায় ৪২/৪৩ বছর আগে আমেরিকা থেকে ফেরার পথে লন্ডনে সংক্ষিপ্ত কয়েকটা দিন, সাকুল্যে দিন চারেক, যখন কাটিয়েছিলাম লন্ডনের পোশাকী খাবার সম্পর্কেও আমার ঐ একই ধারণার কথা মনে হয়েছিল। না আছে স্বাদ, না আছে কোনও মসলা; টেবিলের ওপর সাজানো ছ্যাঁদা করা লম্বাটে ধরনের দুটি বস্তু যার একটির মধ্যে আছে নুন অপরটিতে গুঁড়ো মরিচ। হ্যাঁ, আরও একটা জায়গায় সাদা সস্ জাতীয় কিছু একটা আর একটিতে সর্ষে কাসুন্দি। যাইহোক, ওখানে বাংলাদেশীদের খাবার দোকানের অভাব নেই, ফলে বাকি দুটো দিন বাংলাদেশ শেফের রান্না, মুখরোচক খাবার খেয়ে মন ভরিয়ে ছিলাম।
ইংরেজি লেখাটার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায় :
প্রকৃতপক্ষে, "স্বর্গ" শব্দটি সংজ্ঞায়িত করতে বললে কেউ কেউ এটিকে এমন একটি জীবনযাত্রা বলে অভিহিত করেছেন যাতে একটি ব্রিটিশ বাড়ি, একটি আমেরিকান বেতন, চীনা খাবার এবং ভারতীয় পরিবার থাকবে। তদনুসারে, "নরক" শব্দটিকে এমন একটি অবস্থা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হবে যা এই চারটি সংস্কৃতির সবচেয়ে খারাপ রূপকে অন্তর্ভুক্ত করে - একটি ভারতীয় বেতন, একটি চীনা বাড়ি, ব্রিটিশ খাবার এবং একটি আমেরিকান পরিবার।
No comments:
Post a Comment