Sunday, October 15, 2023

ডোল রাজনীতি !!

 টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই বিরোধীদের, দল নির্বিশেষে, একটাই কথা - এই সরকার খেলা, মেলা বা উৎসবে টাকা বিলোতে কোনও খামতি রাখে না। অথচ বড় শিল্পে লগ্নির বেলায় জমি, টাকা, বা উদ্যোগের অভাব দেখা যায়। বিরোধীদল গুলো ছাড়াও এগুলো মোটামুটি শহুরে মানুষের কথা। কথাটার মধ্যে কোনও অসত্য নেই।  কিন্ত একটু গভীর ভাবে ভাবলে বুঝতে পারা যায় যে এই পুজোর মরসুমে পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক মানুষের প্রায় (৭৫%) সারা বছরের রুটিরুজির একটা সংস্থান হয়। এর পেছনে একটা মস্তবড় অর্থনীতির গূঢ় তত্ত্ব লুকিয়ে আছে। বিরোধী দল বা শহুরে উচ্চবিত্তরা আখ্যা দিয় থাকেন "ডোল রাজনীতী"। মানে বিনা পরিশ্রমে কিছু পাইয়ে দেবার রাজনীতি। যদিও দেরিতে হলেও এ দেশেরই অন্যান্য বেশ কিছু রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের পথেই হেঁটেছে। হেরফের শুধুমাত্র টাকার অঙ্কে। পশ্চিমবঙ্গের সরকার ৫০০ টাকা দিলে, অন্য রাজ্যের সরকার সেটা বাড়িয়ে করেছে ১০০০ টাকাপাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি না হলে এই dole politics -এ কোনও ভুল নেই, অন্তত পৃথিবীর তাবড় তাবড় অর্থনীতিবিদরা তাই বলেন। উদাহরণ: কোভিদের সময় পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের জায়গা থেকে স্থানান্তরিত করা আটকাতে ভারত সরকারের কাছে, অমর্ত্য সেন এবং অভিজিত বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়ের মতো অর্থনীতিবিদদের নিদান ছিল মানুষের হাতে নগদ টাকার জোগান, প্রয়োজনে নোট ছাপিয়ে। বাজারের চাহিদা না বাড়লে অর্থনীতির চাকাটা ঘোরাবে কে! যাই হোক, সরকার সে কথা কানে তোলেননি যার করুন পরিণতি আমরা সবাই দেখেছি। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ, জন মেনার্ড কেইনস ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই তত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। কেইনস-এর তত্ত্বের নির্যাস বুঝে নিতে বিশাল পাণ্ডিত্যের দরকার নেই। যুক্তিগ্রাহ্য মন নিয়ে পড়লে কথাগুলো সহজেই বুঝতে পারা যায়। অন্তত বিজ্ঞানের ছাত্রদের অসুবিধে হবার কোনও কারণ নেই। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে great depression-এর সময় ওবামা সাহেব কেইনস-এর তত্ত্ব মেনে বেশ কয়েকশ বিলিয়ন ডলার ex-chequer থেকে মঞ্জুর করেন। ফলে বহু মানুষের  চাকরি বাঁচানো সম্ভব হয় তো বটেই এবং তার সুফল পরবর্তীকালে আমেরিকার অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙা করতে সমর্থ হয়।


ফিরে আসি প্রসঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের এই পুজো মরসুমের অর্থনীতির চেহারা বাড়তে বাড়তে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌছে গেছে। ২০২১ সালের শেষ লগ্নে কলকাতার দুর্গাপুজো যখন ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে ঋদ্ধ হ'ল, ইউনেস্কোর নয়াদিল্লির পরিচালক বললেন, এই স্বীকৃতি মাঝারি এবং প্রান্তিক শিল্পী, কারিগর, ঢাকি, ছোট-বড় ব্যবসায়ী, বিক্রেতাসহ বহু মানুষের প্রায় সম্বৎসরের জীবিকা উপার্জনের উৎস হিসেবে কাজ করবে। কাজেই কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের এই অনন্য উৎসবের অমিত সম্ভাবনাকে মন্থন করে অর্থনৈতিক লাভের কথা ভাবা সম্ভব এবং উচিতও। 


আজকের আনন্দবাজারের ৪ নম্বর পাতায় অতনু বিশ্বাসের একটি প্রবন্ধ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়ে এই লেখাটায় ব্রতী হলাম। তথ্যগুলো ওর লেখা থেকেই নেওয়া এবং দুটো বাক্য অবিকৃত রেখে ওঁর পরামর্শ ছাড়াই ধার করে নিয়েছি।

No comments: