বিগত তিন মাসের প্রতিটা মুহূর্ত একটা অজানা আশঙ্কার মধ্যে কেটেছে আমাদের। আমাদের ছোট্ট পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্য বেশ টানাপোড়েনের মধ্যে কালাতিপাত করেছি। কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবারের গৃহকর্তৃ। অসুস্থতার কোনও না কোনও উপসর্গ তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। চিকিৎসাও চলছিল পাল্লা দিয়ে। যাইহোক, শেষ উপসর্গটি আমাদের ভীষণভাবে দুশ্চিন্তার মধ্যে ফেলেছিল। প্রায় মাসখানেক ধরে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরিক্ষার ফলাফলে বোঝা গেল যে দেহের কোনও একটি অঙ্গের ক্রিটিক্লাল এক জায়গায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সপ্তাহখানেক আগে ল্যাবরেটরি থেকে পাঠানো সন্তোষজনক রিপোর্ট পেয়ে আমরা সবাই অজানা আশঙ্কার সেই মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তি পেলাম। আবেগ তাড়িত হয়ে লিখে ফেললাম এক টুকরো কবিতা। আসলে ছোট্ট পরিসরে মনের ভাব প্রকাশের চমৎকার বাহন হল আধুনিক কবিতা। অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি যে দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনার আঘাতে জীবন একটা অর্থহীন শুন্যতায় ভরে ওঠার পরেই, তার থেকে মুক্তি মানুষের মধ্যে বোধহয় নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা আর সৃজনশীলতার উপকরণ যোগায়। এই কবিতাটা তারই ফসল।
________________________
আশঙ্কার নিরসন
_____________
ভালবাসা হ'ল একটা সাদা ক্যানভাস
সেটার ওপর যাই আঁকি মেটেনা কখনও আশ।
আবার আঁকি, আবার মুছে সৃষ্টি করি নতুন বিগ্রহ
জানি ওটা দু'দিন বই তো নয় ;
তবুও মেটেনা মনের সুপ্ত আগ্রহ।
ভালবাসা যেন অনন্ত আকাশ
কোনও কোনও রাত ঘুমানোর হয়।
ঘুমের মধ্যেই দেখি কত রঙ্গিন স্বপ্ন।
আবার কোনও কোনও ঘুম হয় স্বপ্নহীন।
তবে কষ্ট হয় যখন মানুষকে দুঃস্বপ্ন নিয়ে
জেগে কাটাতে হয় সমস্ত রাত।
তবুও সকাল আসে।
মেঘ কেটে গিয়ে নীলাকাশে
দেখা যায় রোদের ঝলকানি।
মনের কোনায় কোনায় সেই ঝলক প্রতিফলিত হয়ে
মনটাকে দীপ্তিময় করে তোলে।
শেষ হয় সমস্ত অজানা আশঙ্কার।
No comments:
Post a Comment