Wednesday, January 12, 2022

পশ্চিমবঙ্গে চাকরি নেই

 "পশ্চিমবঙ্গে কোনো চাকরি নেই। তাই সবাই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পাড়ি দেয় রুজি রোজগারের জন্য"

এই আপ্তবাক্য দু'টি প্রায়ই উচ্চারিত হয় এ রাজ্যের বহু অর্ধশিক্ষিত এবং ভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী সুপ্রতিষ্ঠিত এবং তথাকথিত সুশিক্ষিত বঙ্গসন্তানদের মুখ থেকে শুনে শুনে ক্লিশে হয়ে গেছে। দু'দশক আগে এটা আরও প্রকট ছিল। আজ সারাদেশে অর্থনৈতিক অবস্থা মুখ থুবড়ে পড়ায় তাঁদের হুঁশ অনেকটাই ফিরেছে। এগুলো যাঁরা বলেন তাঁদের পড়াশুনা করার অভ্যাসটা বহুদিন অন্তর্হিত হয়েছে, এমনকি তাঁরা রোজের খবরের কাগজটাও মন দিয়ে পড়েন না। বা পড়েন, সেটুকুই যেখানে ব্যক্তিগত অর্থনীতির উন্নতির সম্ভাবনা আছে। খুব গোদা কথায় বলতে গেলে বলব যেখানে শেয়ার বাজারের খবর থাকে। 

প্রথমে নিজের অবস্থানকে একটু খোলশা করে বলি। আমি মনেপ্রানে ভারতবাসী, কিন্ত প্রথমে বাঙালি। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যে যতবার পুনর্জন্ম হবে, ততবারই যেন এই গরীব বাঙলার পূণ্যভূমিতেই ভুমিষ্ঠ হই এবং নিজের যোগ্যতায় সন্তুষ্টি থেকে এখানেই রুজি-রোজগারের ব্যবস্থা করতে পারি। আমার পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক অবস্থার আজ যে চেহারাটা দেখছি, তার সূত্রপাত পাঁচ দশক আগে। পশ্চিমবঙ্গ বরাবরই বঞ্চনার শিকার হয়ে এসেছে, কেন্দ্রে যে সরকারই থাকুক না কেন। কংগ্রেসের আমল থেকেই এটা শুরু হয়েছিল। তাই আজ কংগ্রেসের আসন সংখ্যা এই রাজ্যে প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছে। আমার অভিমান,ক্ষোভ এবং কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত যে কোনো সরকারের প্রতি বিদ্বেষ, যথার্থ কারণেই, আমাকে এই কথাগুলো লিখতে বাধ্য করেছে। স্বাধীনতা উত্তর ভারতের জন্মলগ্ন থেকেই পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে বৈমাতৃসুলভ আচরণে অভ্যস্থ হয়ে গেছে। 

ফেসবুকের বন্ধুদের বা বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শ  ঘেঁষা কিছু মানুষের কাছে আমার করজোড়ে নিবেদন, এই লেখাটা পড়ে প্রতিক্রিয়া দেবার আগে আজকের আনন্দ বাজার পত্রিকার ৪ নম্বর পৃষ্ঠার একটি প্রবন্ধ পড়ে নেবেন দয়া করে। যদি এই কাগজ না রাখেন, তাহলে ৬ টাকা খরচ করে কিনে নিয়ে পড়বেন। অথবা, গুগল ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে গিয়ে পড়ে নেবেন। প্রবন্ধটির শিরোনাম "যন্ত্রনার খতিয়ানের অর্ধশতক পূর্ণ হল নিঃশব্দে, যে ভাবে বঞ্চিত হল রাজ্য " প্রবন্ধকার: শুভজিৎ বাগচী।

No comments: