বিদায়ী রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ
এন ডি টিভি সাক্ষাৎকারে মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি ভাষণ দিয়েছেন। বাবাসাহেব অম্বেদকারের বক্তৃতা উদ্ধৃত করে তিনি প্রশ্ন করেছেন, সামাজিক গণতন্ত্র বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ এমন একটি জীবন পদ্ধতি যা স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বকে জীবনের নীতি হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। "স্বাধীনতা, সমতা এবং ভ্রাতৃত্ব - এই তিনটি বিষয়কে পৃথক অস্তিত্ব হিসাবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং এই ত্রয়ী সত্তার মিলিত অভাবের অর্থ গণতন্ত্রের উদ্দেশ্যকে পরাজিত করা।"
১৯১৫ সালে গান্ধীজি যখন মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন, তখন জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা গতি পায়, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকর, জওহরলাল নেহেরু এবং শ্যামা প্রসাদ মুখার্জির কথা উল্লেখ করে বলেন। তিনি আরও বলেন যে "তিলক এবং গোখলে থেকে ভগত সিং এবং নেতাজি, জওহরলাল নেহরু, সর্দার প্যাটেল এবং শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি থেকে সরোজিনী নাইডু এবং কমলাদেবী চট্টোপাধ্যায়" - মানবজাতির ইতিহাসে কোথাও এত মহান মন একইসঙ্গে একত্রিত হয়নি জনগণের স্বার্থে।
"From Tilak and Gokhale to Bhagat Singh and Netaji, from Jawaharlal Nehru, Sardar Patel and Shyama Prasad Mukherjee to Sarojini Naidu and Kamaladevi Chattopadhyay – nowhere in the history of humankind have so many great minds come together for a common cause," he said.
এর অন্তর্নিহিত অর্থ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে রাষ্ট্রপতি জাতীয় অখণ্ডতা, রাজনৈতিক দুর্নীতি দমন, আমলাতন্ত্র ও বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা নিশ্চিতকরণ, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা ইত্যাদির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জোর দিয়ে খোলাখুলি কথাগুলি বলেছেন। বিদায়ী মুহূর্ত হলেও, এ কথাগুলোর যথেষ্ট গুরুত্ব আছে।
কিন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে সাম্প্রতিককালে কার্যকালের মেয়াদে থাকাকালীন কোনও রাষ্ট্রপতি, শাসকবিরোধী কথা তুলে বিতর্কে যাননি। ফলে জনমানসে রাষ্ট্রপতি পদটিকে "পুতুল রাষ্ট্রপতি" বা "রাবার স্ট্যাম্প রাষ্ট্রপতি" হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে যথাযথ আলোচনা ও বিতর্ক কমই হয়েছে।
এমন অনেক মুহূর্ত হয়তো এসেছে যা নিশ্চিতভাবে বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে কষ্ট দিয়েছে। কারণ, সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাংসদদের বিতর্ক ও ভিন্নমতের অধিকার প্রয়োগ করার সময় গান্ধীবাদী পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন। হয়তো এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে যা নিশ্চিতভাবে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির মনকে নাড়া দিয়েছে।
মোদ্দাকথা, বাস্তবতা হল অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে যথাযথ আলোচনা ও বিতর্ক কমই হয়েছে। এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে যা বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে ব্যথিত করেছে। কিন্তু কোবিন্দ সাহেব চুপ করে থেকেছেন।
প্রশ্ন হ'ল এটা কি রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার ফল? যাইহোক, দেরিতে হলেও বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সুচিন্তিত পরামর্শ, পরবর্তী রাষ্ট্রপধানের কার্যকলাপে প্রভাব ফেলবে, অন্তত গণতান্ত্রিক দেশে আমরা, সাধারণ নাগরিকরা, এই আশা তো করতেই পারি।
নবাগতা রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু
গত ২/৩ দিন হ'ল সম্মানীয়া দ্রৌপদী মুর্মু ভারতবর্ষের ১৫ তম রাষ্ট্রপতির পদ অলঙ্কৃত করে রাইসিনা হিলের রাষ্ট্রপতি ভবনের দায়ভার গ্রহণ করেছেন। ভারতের গণতন্ত্র শক্তপোক্ত কাঠামোর উপর প্রতিষ্ঠিত হবার ফলেই আদিবাসী জনজাতি থেকে উঠে আসা লড়াকু দ্রোপদী আজ এই মহান দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হতে পারলেন। এটা অবশ্যই গণতন্ত্রের জয়। ওঁর প্রশাসনিক দক্ষতা সম্বন্ধে কারো কোনও দ্বিধা আছে বলে মন হয় না। ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপালের দায়িত্ব অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে সামলেছেন। আশা করা যায় যে সংবিধানের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে, প্রয়োজনে সংসদে উনি ওঁর উপস্থিতির স্বাক্ষর রাখবেন এবং বিদায়ী রাষ্ট্রপতির ঋষিসুলভ অভিজ্ঞ পরামর্শের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবেন। সেটা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকব। জয় হিন্দ।


No comments:
Post a Comment