Friday, July 15, 2022

বন্দুকবাজের আমেরিকা

 আমেরিকা আছে আমেরিকাতেই


এই মাসেই বন্দুকবাজ হানার চতুর্থ ঘটনা ঘটে গেল গতকাল খোদ রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। কয়েকদিন আগে গুগল্ ঘাঁটতে ঘাঁটতে দেখলাম যে ফি-বছর আমেরিকাতে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় শুধুমাত্র বন্দুকবাজদের হানায়। Gun violence ওই দেশটাতে একটা প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিয়েছে বলে মনে হয়। হয়তো বা Constitutional right. আমার জানা নেই, অনুমান মাত্র। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারী এবং শিশুরাই হয় লক্ষ্যবস্তু। কারণ তারাই soft target.


 ভারতবর্ষে, বরং বলব পশ্চিমবঙ্গে বাস করে তোলাবাজি কথাটার সঙ্গে পরিচয় বহু ব্যবহারে জীর্ণ হয়ে গেছে। ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের তোলাবাজির চেহারার চরিত্র আলাদা। যেমন বর্তমান সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের  তোলাবাজি হয় একেবারে প্রকাশ্যে, অন্যান্য দলগুলো এই ব্যাপারটা করে একটু রাখঢাক করে। যাইহোক, রাজনৈতিক তোলাবাজির ওপর একটা পূর্ণাঙ্গ প্রবন্ধ লেখার ইচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখলাম। আসা যাক "সুসভ্য দেশ" আমেরিকার তোলাবাজির কথায়। আজ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টের জমানায় আমেরিকা বন্দুকবাজদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। তার মূল কারণ, আমেরিকান কংগ্রেসের অনেকে অস্ত্র ব্যবসায়ী এবং তারা প্রেসিডেন্টের দলের (রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাট যাইহোক না কেন) পার্টিফান্ডে মোটা অঙ্কের চাঁদা দেয়। আর অস্ত্রব্যবসা আমেরিকান ইকনমির একটা মস্তবড় আয়ের উৎস। প্রসঙ্গক্রমে মনে পড়ল যে বছর পাঁচেক আগে, ট্রাম্পের রাজত্বকালের শুরুতেই ওলাথে নামের একটি শহরে শ্রীনিবাস কুচিবোটলা নামে এক তরতাজা ভারতীয় যুবক তার স্ত্রী এবং বন্ধুর সঙ্গে একটা রেস্তোঁরায় বসে খাওয়া-দাওয়া করছিল। আমেরিকান নেভির এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী গাল-মন্দ করতে করতে তার টেবিলে এসে সটান তাকে লক্ষ্য করে বলে, " get out of my country " অব্যবহিত পরেই, কোনও সুযোগ না দিয়ে বন্দুক বার করে তাকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয়। দুঃখের বিষয়, আমার জানা নেই (আমি মোটামুটি পড়ুয়া মানুষ) কোনও ভারতবাসী অন্তত সহমর্মিতা দেখিয়ে প্রতিবাদসভা করে বলেছিলেন কি না, "This is our country too." কারণ তাঁরা তো অভিবাসী, তথাকথিত "American citizen, Green card holder"। আরও দুঃখের বিষয় যে শ্রীনিবাসের স্ত্রী, শিশুসন্তান নিয়ে সেই দেশেই বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন। আমার মতো দুর্জনেরা বলে, "ডলারের কি মহিমা"। ঘটনাটা এতটাই মর্মস্পর্শী ছিল যে আজ পাঁচ বছর বাদেও আমার মনে দাগ কেটে আছে। 


আমার কাছে আমেরিকা দেশটা অত্যন্ত অসভ্য একটা দেশ। সারা পৃথিবীতে অশান্তির মূলে ওই দেশটাই একমাত্র দায়ী। পৃথিবীতে সব জায়গায় তারা হানাহানিতে উস্কানি দিয়ে, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানির কারবার চালিয়ে যাচ্ছে দশকের পর দশক, যার সাম্প্রতিকতম সংযোজন হ'ল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। গোরবাচভের আমলে সোভিয়েত ইউনিয়ন খানখান হয়ে যাবার পর ঠান্ডাযুদ্ধের অবসান হয় আর আমেরিকা তার cheerleader (পড়ুন NATO) সঙ্গে নিয়ে ক্রমশ তার পাখা বিস্তার করতে থাকে পূবের দিকে, প্রায় আজকের রাশিয়ার দোরগোড়া পর্যন্ত। NATO-র সদস্য সংখ্যা ১২ থেকে বাড়তে বাড়তে এখন ৩০শে দাঁড়িয়েছে। একনায়কতান্ত্রিকতা "গণতন্ত্রের প্রতিভূ" আমেরিকার জিনের মধ্যে ঢুকে গেছে। দাঙ্গা ছাড়া তাদের খাবার হজম হয় না। ইউক্রেন যুদ্ধ তিন মাসের বেশি গড়িয়ে গেল, থামার কোনও লক্ষণ দেখছি না। একটু রয়েসয়ে এ ব্যাপারে আমার একটা বিশ্লেষণ আছে। সেটা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রেখেছি। BBC world News-এ বেশ কিছু বোদ্ধা মানুষের interview শুনেছি। এছাড়া খবরের কাগজ আর গুগল্ তো আছেই।

No comments: