অপরাজিত:
গতকাল আমাদের বুড়ো-বুড়ির একটা বিশেষ দিন ছিল। আমাদের একমাত্র পুত্রবধূ, অমৃতা বলল, "বাবা আমরা সবাই মিলে, মানে তোমাদের নাতি নাতনি সমেত, South City Inox-এর multiplex-এ অপরাজিত দেখতে যাব।" ওদের ন্যায্য অনুরোধে আমরা কোনোদিন প্রত্যাখান করিনি। গতকালও তার ব্যতিক্রম হ'ল না।
প্রায় ১২ বছর বাদে, হ্যাঁ তা এক যুগই হবে, হলে গিয়ে, তাও আবার Multiplex-এর চমৎকার বড় Screen with sterioscopic sound effects, যা আমাদের আগে দেখা ছিল না, সেটাও প্রত্যক্ষ করা যাবে - এইসব সাত সতের ভেবে রাজি হয়ে সবাইকে নিয়ে চলে গেলাম।
বহু বহুদিন বাদে একটা অসাধারণ ভাল সিনেমা দেখে মুগ্ধ হলাম। অনীক দত্ত পরিচালিত ছবিটির প্রেক্ষাপট খবরের কাগজের review-তে পড়েছিলাম। সেটা সবারই জানা আছে আশা করব। অতীতকে ভালবেসে বেঁচে থাকা আমার অত্যন্ত প্রিয়। পথের পাঁচালি-র নির্মাণকে নিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি করা শুধু কঠিনই নয়, বানিজ্যিক ব্যাপারটার কথা ভেবে সেটা রূপায়ণের ঝুঁকি নেওয়া একটা দুঃসাহসিক কাজ। অনীক দত্ত কোনও ত্রুটি রাখেননি। কাগজে পড়লাম যে ছবিটির নির্মাণে ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা খরচ করে প্রথম ১০ দিনেই প্রায় ৩ কোটি টাকার sale দিয়েছে। Inox-এর মত প্রেক্ষাগৃহ প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ।
আসা যাক ছবির বিষয়ে। সত্যজিত রায় সদৃশ একজন অভিনেতাকে বেছে আনা প্রথম challenge. ছোটো পর্দা থেকে উঠে আসা জীতু কমল কামাল করে দিয়েছে। অসাধারণ অভিনয়। সেইদিনে এইরকম একটা ছবি তৈরি করা যে কি শ্রমসাদ্ধ এবং সময় সাপেক্ষ ছিল সেটা ছবিটার প্রতি ধাপে ধরা দিয়েছে। দেখতে দেখতে কয়েকবার চোখের জল বাধা মানেনি। কারণ আজও অপু, দুর্গা, সর্বজয়া, হরিহর পন্ডিত, ইন্দিরা ঠাকরুন -এদের সবাইকে আমরা কল্পনায় ধরে রেখেছি। আজও আমরা কাশ ফুলের মাঠ পেরিয়ে ট্রেন দেখতে দৌড় লাগাই। জীতু কমল ছাড়া আরও যাঁরা অভিনয় করেছেন, ছোট্ট পরিসরে তাঁরাও তাঁদের কর্মকীর্তির ছাপ রেখে গেছেন। তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায়ের ভূমিকায় পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষনের স্ত্রীর ভূমিকায় মানসী সিনহা, অপুর স্ত্রী এবং মায়ের ভূমিকায় যথাক্রমে সায়নী ঘোষ ও অনসূয়া মজুমদার এবং হরিহর পত্নী হিসেবে অঞ্জনা বসুর অভিনয়শিল্প নজর কেড়েছে। ইন্দিরা ঠাকরুনের ভূমিকায় যে বৃদ্ধাকে কাজে লাগিয়ে অভিনয় করানো হয়েছে, তা বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। কালো-সাদা ছবিটিতে দৃশ্যগুলো দেখতে দেখতে কেমন যেন নিজের মধ্যে হারিয়ে গেছিলাম। ২ ঘন্টা ১৮ মিনিটের ছবিটি যখন শেষ হয়ে গেল মনে হ'ল বড্ড তাড়াতাড়ি হয়ে গেল।
No comments:
Post a Comment