উপাচার্য উপাখ্যান – পরশু, যা শুনেছি এবং পড়েছি।
১৯৬৮ সাল। অধ্যাপক সত্যেন সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। আমরা তখন যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্নাতকোত্তর পর্বে মাস্টার্সের ক্লাস শুরু করেছি।
*******
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের শেষের দিকে, যখন পশ্চিম বাংলার বামদলের সবে শেষের শুরু হয়েছে, তখন খবরের কাগজের একটি সংবাদ পড়ে বেশ কৌতুক বোধ করলাম। রাজ্যের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সম্মিলিত হয়ে শাসক গোষ্ঠীর সমর্থনে সরব হয়েছেন। উপাচার্য পদাধিকারি অ্যাকাডেমিকস বা শিক্ষাবিদদের এমন আচরণ, এর আগে কখনও দেখা যায়নি বা শোনা যায়নি। আমরা ওই পদমর্যাদার যাঁদের দেখে বেড়ে উঠেছি, এবং যে আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়েছি, মনে হ'ল এই ঘটনা তারই মূলে কুঠারাঘাত করল। তখন অবশ্য গণতান্ত্রিক অধিকার বোধে মানুষ এমনই উগ্র সচেতন যে, আমার অনুমান, উপাচার্যকুল ভাবলেন সবাই যদি দল করতে পারে, উপাচার্যরাই বা করতে পারবেন না কেন ? এটাই বোধহয় তখনকার উপাচার্যদের মানসিকতা।
*******
এবার কয়েকটা আশাব্যঞ্জক ঘটনার গল্পে আসি। সেইসব উপাচার্যদের আখ্যানে, যাঁরা নিজেদের যোগ্যতায় কোনও রাজনৈতিক ছত্রছায়া অবলম্বন না করে সম্মানজনক ভাবে নিজেদের অধিকার বলে তাঁদের মেয়াদকাল শেষ করেছেন। বরং বলব রাইটার্স বিল্ডিং-এর কর্তাদের চোখে চোখ রেখে মর্যাদার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। সত্যেন সেন মহাশয়ের নামটা নিয়েই সেই কারণে শুরু করেছিলাম। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনৈক অধ্যাপকের সঙ্গে সত্যেন বাবুর ব্যক্তিগত পরিচয় থাকার ফলে, ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। বহুদিন আগে আনন্দবাজারের “সম্পাদক সমীপেষু" কলমে অধ্যাপক মহাশয়ের একটা চিঠির প্রাসঙ্গিক অংশ তুলে ধরলে সত্যেন বাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বুঝতে পারা যাবে। ওঁর কথায়, -"…..একদিন ওঁর (সত্যেন বাবুর) ঘরে গেছি, দেখলাম বেশ বিরক্ত এবং উত্তেজিত। বললেন, ‘দেখেছ কান্ড ! রাইটার্স বিল্ডিং থেকে এডুকেশন সেক্রেটারি ফোন করে বলছেন, কী দরকার আছে, আমি যেন একটু রাইটার্সে যাই। আমি বললাম, ‘ডোন্ট ইউ নো, আই অ্যাম দ্য ভাইস-চ্যান্সেলর অব দ্য ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ? আপনার কোনও দরকার থাকলে মাই রেজিষ্ট্রার উইল গো টু সি ইউ, নট মি।“
জনৈক অধ্যাপক, প্রফেসর সেনের সম্পর্কে আরও একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। উনি দায়িত্বশীল এক রাজনৈতিক নেতার মুখে শুনেছিলেন, - “১৯৭৬-৭৭ সাল, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, দেশের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী এবং তিনি দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। একদিন নাকি মুখ্যমন্ত্রী সত্যেন বাবুকে এক বার দেখা করতে অনুরোধ করেন। সিদ্ধার্থ রায় নাকি কথায় কথায় বলেন, ‘ আপনি মশাই কলকাতার ভাইস-চ্যান্সেলর, এটাও বলতে পারছেন না এমন কিছু একটা।‘ সত্যেন বাবু অসন্তুষ্ট হয়ে কংগ্রেস মহলে কাউকে কাউকে জানান। তাঁরা যথারীতি প্রধানমন্ত্রীর কানে কথাটা তোলেন। ক'দিন পরে রাজ্য কংগ্রেসের একটা মিটিং ছিল ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে। মিটিং শেষে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধার্থ বাবুকে বলেন, ‘ মানু, (ওঁর ডাক নাম) হোয়েন ইউ গো ব্যাক টু ক্যালকাটা, ফার্স্ট থিং ইউ ডু ইজ টু অ্যাপোলজাইস টু ডঃ এস এন সেন। ডোন্ট ইউ নো হি ইজ দ্য ভাইস-চ্যান্সেলর অব ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি?’ সিদ্ধার্থ বাবু কলকাতায় ফিরে এসেই সত্যেন বাবুর সঙ্গে দেখা করে দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে নেন। জনৈক অধ্যাপক, উপাচার্য সত্যেন বাবুকে জিজ্ঞাসা করে এই ঘটনার সত্যাসত্য যাচাই করে নেন। উপাচার্য বলেছিলেন, ‘কথাগুলো একেবারে সত্যি।‘ এটা ছিল সেদিনের উপাচার্যের মর্যাদা।
১৯৭৭ সাল থেকে শুরু হয় বাম জমানা। কয়েক বছরের মধ্যেই শিক্ষাঙ্গনে ‘অনিলায়ন পর্বের' প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। ১৯৮৩ সালে সন্তোষ ভট্টাচার্য মহাশয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়ভার গ্রহণ করেন। সন্তোষ বাবু এক সময় কমিউনিস্ট পার্টি করতেন।
তাঁর উপাচার্য কার্যকাল ঘটনাবহুল। তাঁকে উপাচার্যের পদে বহাল করেছিলেন সেদিনের পশ্চিম বাংলার রাজ্যপাল, বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য, এ পি শর্মা। প্যানেলে তিনজনের নাম ছিল। বাকি দু'জন বাম সমর্থিত। সেই আমলের অনেক পাঠকের মনে থাকার কথা যে শাসক দলের কী প্রচন্ড বিরোধীতা ও বাধাবিপত্তির মধ্যে সন্তোষ বাবু উপাচার্য হয়েছিলেন। কার্যভার গ্রহণ করতে তিনি যে দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিপ্লবী কর্মচারী সমিতির সদস্যরা দ্বারভাঙা বিল্ডিংয়ের দোতলার সিঁড়ি পর্যন্ত সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে, ‘সন্তোষ ভট্টাচার্য মুর্দাবাদ’,’সন্তোষ ভট্টাচার্য নিপাত যাক’ স্লোগান দিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। জনৈক অধ্যাপক তাঁর বিভাগের কাজে ওঁর ঘরে ঢুকে সবে কথাবার্তা শুরু করেছেন। । এমন সময় কর্মচারী সমিতির জনা কুড়ি-পঁচিশ জন সদস্য ঘরে ঢুকে স্লোগান দিতে শুরু করে দিলেন। একজন আবার আধপোড়া বিড়ি ওঁর দিকে ছুঁড়ে দিলেন। উনি সারাক্ষণ নির্বিকার, মুখ নিচু করে বসে রইলেন। এই ছবি কাগজে প্রকাশিত হয়েছিল। এরকম প্রায় আধঘন্টা চলার পর কমরেডরা ক্লান্ত হয়ে প্রস্থান করলে, অধ্যাপক মহাশয় পুলিশ ডাকার প্রস্তাব দেন ওঁকে। ওঁর উত্তর ছিল, ‘পুলিশ ডাকব, তোমার মাথা খারাপ।‘
দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কর্মচারীরা কী প্রচন্ড মানসিক অত্যাচার করেছিলেন, তা কহতব্য নয়। সর্বশেষ সংকট দেখা দেয় যখন ডঃ ভট্টাচার্য পাঁচজন বাম ঘেঁষা কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এই কর্মচারীবৃন্দ চাকরি বাঁচিয়ে রাখার জন্য জাল প্রমাণপত্র জমা দিয়েছিলেন। বামপন্থী বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট কখনোই এই ধরনের আদেশ অনুমোদন করবে না জেনেই উপাচার্য তাঁর জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। সিপিআই (এম) নেতা অনিল বিশ্বাসের গর্জে ওঠা প্রতিক্রিয়া, “বিশ্ববিদ্যালয়টি উপাচার্যের বাবার সম্পত্তি নয়।“ বোঝাই যায় যে অনিলায়ন পর্ব তখন জোরদার শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যের তখনকার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী শম্ভু ঘোষ, অনিল বিশ্বাসের মতো ভাষা সন্ত্রাসের কুৎসিত দিকটা এড়িয়ে বললেন, “ডঃ ভট্টাচার্য ওঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।“ ইউনিভার্সিটি কাউন্সিল তাঁকে ইস্তফা দেবার জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী, কে সি পন্তের স্মরণাপন্ন হয়। সন্তোষ বাবুও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে তাঁর পদত্যাগের কোনও ইচ্ছা নেই। ইউনিভার্সিটি সেনেট কাউন্সিলের জেদের উপর জারি করা এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন: “আমি এই অনুমানে ভাইস-চ্যান্সেলর পদটি গ্রহণ করিনি যে, সংকট হলে কেন্দ্র আমার সাহায্যে আসবে।“
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সাহা ইনস্টিটিউট কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের পদে থাকেন। এটা নিয়ম মাফিক ব্যাপার। আমার দেখা একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করলে বোঝা যাবে, যে ব্যক্তি নির্বিশেষে সোজাসুজি কথা বলতে উনি কতটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন, অপ্রিয় সত্যি হলেও। ডঃ রাজা রামান্না, সাহা ইনস্টিটিউটয়ের রাজাবাজার ক্যাম্পাসের প্রেক্ষাগৃহে লেকচার দিতে এসেছেন। পৌরোহিত্যর দায়িত্বে স্বয়ং ডঃ সন্তোষ ভট্টাচার্য। প্রেক্ষাগৃহ কাণায় কাণায় পূর্ণ। বেশ কিছু শ্রোতা দাঁড়িয়ে লেকচার শুনছেন। উপাচার্য, বক্তার পরিচয় পর্ব শেষ করে রামান্না সাহেবেকে বক্তৃতার সূচনা করার অনুরোধ জানিয়ে নিজের জায়গায় বসলেন। বক্তৃতার বিষয়ের মধ্যে কিছুটা ভেজাল ছিল। রামান্না সাহেবের ব্যক্তিত্বের কাছে এরকম জোলো লেকচার কেউ আশা করেননি, অন্তত সন্তোষ ভট্টাচার্য মহাশয় তো নয়ই। সাধারণত স্পেশাল সেমিনারে প্রশ্নোত্তরের পালা থাকে না। যাইহোক, লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে পি এইচ ডি করা এবং বহুদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সন্তোষ বাবু মুচকি হাসির মোড়কে বক্তৃতার পরিসমাপ্তি করলেন এই ভাবে, “Well, we expected a cup of hot aromatic coffee from Dr Ramanna, however, he entertained us with some light tea.” অর্থাৎ ডঃ রামান্নার কাছে আমরা গরম সুগন্ধী কফি আশা করেছিলাম। যাইহোক, উনি আমাদের হাল্কা চায়ে আপ্যায়ন সেরেছেন। এই হলেন সন্তোষ ভট্টাচার্য।
মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু একদিন ওঁকে মহাকরণে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। এটা-ওটা কথার পর জ্যোতি বাবু নাকি ওঁকে বলেছিলেন, ‘শুনুন, যা হবার হয়ে গেছে। একটা কথা মনে রাখবেন, বেশি বাড়াবাড়ি কিন্ত করবেন না।‘ প্রচ্ছন্ন এই হুমকির কাছে মাথা নত করা তো দূরের কথা। তাঁর ভাবখানা ছিল ‘ আমি কি ডরাই কভু ভিখারি রাঘবে?’ সন্তোষ ভট্টাচার্য এক সময় কমিউনিস্ট পার্টি করতেন, কমিউন-এ থেকেছেন, চেয়ার ছেড়ে ওঠার আগে তিনি জ্যোতি বাবুকে বলে গেলেন, ‘আমাকে ইট-পাটকেল ছুড়লে আমি কি রসগোল্লা ছুড়ব ? গুড বাই।‘
আলিমুদ্দিন স্ট্রীটের রোষানলের সব রকম নির্যাতন সহ্য করেও তিনি উপাচার্য হিসেবে তাঁর মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছিলেন, কোনও দিন পুলিশ ডাকেননি, আর শাসক সরকারের সাহায্য পাওয়া তো ছিল দূর অস্ত। কিন্ত সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা, ভালবাসা ও কৃতজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছিলেন। একদিন মেট্রো সিনেমার সামনে ট্র্যাফিক লাইটে তাঁর গাড়ি থেমেছে। ডিউটিরত এক কনস্টেবল হঠাৎই তাঁর গাড়ির সামনে এসে স্যালুট করে বলল, ‘স্যর, আপনি চালিয়ে যান , আমরা আপনার সঙ্গে আছি।‘ এর চেয়ে বড় পুরস্কার আর কী হতে পারে। আমার জানা নেই, রাজ্যের শাসক দলের সঙ্গে সারাজীবন লড়াই চালিয়ে, কার্যকালের মেয়াদ সম্পূর্ণ করা, ভারতবর্ষে আর কোনও রাজ্যে, কোনও উপাচার্যকে করতে হয়েছে কিনা। তাঁর লেখা, Red Hammer Over Calcutta University বইতে তাঁর অবস্থান উল্লেখ করে গেছেন। কঠোর অথচ ছাত্র দরদী মাস্টারমশাই সন্তোষ বাবুর আর একটা ঘটনা বলে ওঁর কথায় ইতি টানব।
১৯৮৪ সাল। কলকাতায় খুব লোডশেডিং চলছিল। বিডন রো-র পিজি হস্টেলের আবাসিক ছাত্ররা হস্টেলে একটি জেনারেটর বসানোর দাবি নিয়ে সন্তোষ ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল দ্বারভাঙা ভবনে। তাদের আশা সন্তোষ বাবু ছাত্রদের দাবি নিশ্চয়ই পূরণ করবেন। সমস্ত কথা মন দিয়ে শুনে স্মিত হেসে, তাঁর পরামর্শ, ‘ছাত্র বয়সেই তো কষ্ট স্বীকার করতে হবে। তালপাতার পাখা কিনে নাও সবাই। লোডশেডিং হলে তালপাতার পাখার বাতাস খাবে। আমার বাড়িতেও জেনারেটর নেই। আমিও তালপাতার পাখার বাতাস খাই। যাও ক্লাসে যাও। মন দিয়ে লেখা পড়া কর। ভাল রেজাল্ট করলে পরবর্তী জীবনে অনেক সুযোগসুবিধা পাবে।‘ তাঁর এই কথা শুনে সেদিন ছাত্ররা মাথা নিচু করে দ্বারভাঙা ভবনের সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে এসেছিল। অলিন্দ জুড়ে তখন চলছে : সন্তোষ ভট্টাচার্য গো ব্যাক।
বাম জমানাতে আরও একজন উপাচার্যের কথাও বলতে হয়। তিনি অত্যন্ত সফল ডাক্তারবাবু, ডঃ ভাস্কর রায়চৌধুরী, তিনিও নিতান্তই ব্যতিক্রম। তাঁর কাছে খবর এল যে কর্মচারী সমিতির এক নেতা একটা অ্যাকাডেমিক ব্যাপারে ঝামেলা করছে। ভাস্কর বাবু সেই নেতাকে ডেকে পাঠিয়ে বললেন, ‘পার্টি করেন বলে আপনারা সবাই নিজেদের ভিসি মনে করেন ? মনে রাখবেন ভিসি একজনই, এবং তাঁর নাম ভাস্কর রায়চৌধুরী।‘
প্রথম পর্ব শুরু করেছিলাম বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিদ্যুত বাবুর উপাখ্যান দিয়ে। আজ তৃতীয় এবং শেষ পর্ব যে তাঁকে দিয়েই শেষ করতে হবে সেটা ভাবিনি। কী অদ্ভুত সমাপতন। ফেসবুকে পোস্ট করব করব ভাবছি। আজ সকালের কাগজেই উনি আবার খবরে চলে এসেছেন। উনি পাঁচদিন বিশ্বভারতী থেকে ছুটি নিয়েছেন। নানা মহলে চর্চা চলছে যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর তলবে দিল্লি রওনা হয়েছেন উপাচার্য। দু'টি তত্ব চালু হয়েছে। এক, ছাত্রদের একাংশের লাগাতার আন্দোলন, একের পর এক বিতর্ক, অনলাইন বৈঠকে বলা কিছু মন্তব্য-সহ বিভিন্ন বিষয় জানতে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে বলে কিছু কিছু মহল থেকে দাবি করা হয়। দুই, বিশ্বভারতীতে কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে মন্ত্রকের কাছে নালিশ জানাতে নিজেই দিল্লি যাচ্ছেন উপাচার্য। ভাবছি আমরা কী ছিলাম আর কী হয়েছি !
বিঃ দ্রঃ : তিনটি পর্বের লেখাগুলোর প্রতিটি রীতিমত গবেষণা করে লেখা। কাজেই সব তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে নেওয়া হয়েছে। ফলে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।
No comments:
Post a Comment