Sunday, September 12, 2021

ভবানীপুরের উপনির্বাচনের প্রার্থীরা

 


ভবানীপুর কেন্দ্রের ৮-টি ওয়ার্ডের ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আরও একটি সুযোগ আসছে আগামী ৩০ তারিখ। তৃণমূল, বি জে পি এবং সি পি এম দলের প্রার্থী ঘোষণা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।  বলাই বাহুল্য যে তৃণমূল প্রার্থী হলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন উঠেছিল, আরও কয়েকটা জায়গার উপনির্বাচনও তো হবার কথা। সব বাদ দিয়ে তড়িঘড়ি ভবানীপুরের নির্বাচন আগে কেন ? এক কথায়, সাংবিধানিক সংকট এড়াতে। কারণ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সীতে, অথচ বিধানসভা নির্বাচনে হেরে গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী,  একজন হেরে যাওয়া প্রার্থীকে ছ'মাসের মধ্যে ভোটে জিতে না আসলে, তিনি বিধান সভার সভ্য থাকতে পারেন না। আর এখানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী আর বাংলা ওঁকেই চায় ওই চেয়ারে।ppp

যাইহোক, এবারের প্রার্থীদের মধ্যে এক জায়গায় মিল আছে। তাঁরা তিনজনেই আইনের মানুষ, আমাদের দিদি ছাড়া বাকি দু'জন রীতিমত পেশাদার উকিল। দিদি একবার বলেওছিলেন তিনি নাকি কয়েকবার কেস লড়েছেন ! এল এল বি ডিগ্রি হয়তো আছে একটা। নিশ্চিত ভাবে আমার জানা নেই।

সি পি এম গত পরশু, শ্রীজীব বিশ্বাসকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সি পি এম এখনও আশাবাদী দেখে আমি ব্যক্তিগত ভাবে অনুপ্রেরণা পেয়েছি।অনেকটা বয়স হয়ে গেলেও এবং যথেষ্ট সক্রিয় হওয়া সত্বেও সম্প্রতি বেশ কিছুদিন শারীরিক অসুস্থতা আমাকে কাবু করে ফেলেছে। আমার হতাশ হবার কোনও  কারণ নেই যে, আমি আবার স্বাস্থ্যোদ্ধার করতে পারব না।

এবার আসি বি জে পি প্রার্থী, শ্রীমতী প্রিয়াঙ্কা তিবরেওয়ালের কথায়। তিনিও গত বিধানসভার নির্বাচনে এন্টালি কেন্দ্র থেকে পরাজিত প্রার্থী। এর আগে ২০১৫ সালে পুরসভা নির্বাচনেও তিনি হেরে গেছিলেন। গতকাল, গণেশ চতুর্থীর শুভলগ্নে দিদি মনোনয়ন জমা করলেন। বিকেলে বি জে পি প্রার্থী ঘোষণা হ'ল। এখন প্রশ্ন হ'ল, রাজ্য বি জে পি তরফ থেকে অনেক নাম পাঠানো হয়েছিল হাই কমান্ডের কাছে। কিন্ত প্রিয়াঙ্কাকে বেছে নেবার কারণ কি ? অনেকগুলো তত্ব উঠে এসেছে।

(১) দিল্লির কর্তাদের একটাই পথ জানা আছে। রাজ্যে ক্ষমতায় যে সরকার আছে, তাকে যে বা যারা অপদস্থ করতে পারবে সেই পুরস্কৃত হবে। প্রিয়াঙ্কা বি জে পি হাইকমান্ডের নজরে এসেছেন কারণ, ভোট পরবর্তী হিংসার সি বি আই তদন্ত চেয়ে বি জে পি-র পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন পিয়াঙ্কাই। একদম সঠিক পদক্ষেপ। প্রিয়াঙ্কার জন্য শুভেচ্ছা রইল। শুধু একটা উপদেশ। প্রচারের আগে আশা করব প্রিয়াঙ্কা নিজের বাঙলা উচ্চারণে একটু শাণ দিয়ে নেবেন।

(২) রাজ্য সভাপতি দিলীপ বাবুর তত্ব হ'ল, "একজন মহিলার বিরুদ্ধে একজন মহিলাকে সামনে রেখে লড়াই ভাল। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী প্রতিকূলতা দেখলেই নাকি বলেন, মহিলাকে আক্রমণ করা হচ্ছে। কাজেই মহিলা হিসেবে তিনি যাতে বাড়তি রক্ষাকবচ না পান, তার জন্য একজন মহিলাকে প্রার্থী করা হয়েছে, - একেবারেই জোলো যুক্তি বলেই আমার মনে হয়েছে।

(৩) আমার নিজের যুক্তিটা এরকম- জনবিন্যাসের ভিত্তিতে ভবানীপুরের একটা বড় অংশ অবাঙালী। কাজেই সেখানে হয়তো প্রিয়াঙ্কার একটা বাড়তি সুবিধে পাবার সম্ভাবনা আছে।

সময় কথা বলবে। কাজেই সব সম্ভাবনার অবসান হবে আগামী মাসের তিন তারিখ।

1 comment:

FUN-IN SCIENCE said...

চমৎকার যুক্তি ।লেখাটা ভালোই লাগল।