২৫ শে ডিসেম্বর, বড়দিনের দিন, "মন কি বাত" অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদিজী তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে ২০২২ সালে ভারতের প্রাপ্তির যে ভান্ডার তালিকাভুক্ত করেছেন সেগুলো এরকম; ১) ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠেছে; ২) বিশ্বব্যাপী, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষ করে পর্যটন এবং আতিথেয়তা খাতে তার আগের উচ্ছ্বাস পুনরুদ্ধার করেছে এবং লক-ডাউন উত্তর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আজ অতীতের বিষয় বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির কথা মাথায় রেখে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রাথমিক ভুল পদক্ষেপের পরে, আমরা বিশ্বের বৃহত্তম টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছি যা আমাদেরকে কোভিড-১৯ মহামারীর সবচেয়ে খারাপ বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়েছে। ২২০ কোটিরও বেশি কোভিড ভ্যাকসিন পরিচালনা করা হয়েছে; ৩) পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে দেশ $৪০০ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে; ৪) আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প ফলপ্রসূ ভাবে চালু করা গেছে; ৫) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, দেশের প্রথম বিমানবাহী বাহক আইএনএস বিক্রান্ত নির্মাণ, মহাকাশ প্রযুক্তি, ড্রোন উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা এবং খেলাধুলায় যুগান্তকারী সাফল্য এসেছে।
সামগ্রিকভাবে, ২০২২ সালে আমাদের উপর আসা অনেক দুর্ভাগ্য সত্ত্বেও, একটা আশার আলো আমরা দেখেছি। ভারত আমাদের প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের মতো জর্জরিত রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভোগে না। চীন একটি উদ্বেগজনক কারণ, এবং সর্বক্ষণ ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে বটে, তবে পরিস্থিতি সংকটে আসলে আমাদের কাছে তাকে মোকাবিলা করার উপায় আছে বলেই মনে হয়। ধীর গতি হলেও আমাদের অর্থনীতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। কৃষি খাতে আমরা বিশ্বের শস্যভাণ্ডার হতে না পারলেও, আমরা স্বনির্ভর তো বটেই, উপরন্তু কৃষিপন্য রপ্তানির মাধ্যমে আমরা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার পরিপুষ্ট করতে সমর্থ হয়েছি।
অনেক কিছু প্রত্যাশা যেমন পূরণ হয়েছে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তেমন ফাঁকও থেকে গেছে এবং রাষ্ট্রপ্রধান সেগুলো এড়িয়ে গেছেন, হয়তো সচেতন ভাবেই। কারণ কাজের ব্যাপারে উনি যতটা তৎপর, এ কথাগুলো ওঁর ভুলে যাবার কথা নয়। ভারতের ব্যর্থতার উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক দিকগুলো উনি সেদিনের "মন কি বাত"-এ রাখেননি।
আশি কোটি মানুষ এখনও ভর্তুকিযুক্ত রেশনে বেঁচে আছে, যদিও জিডিপির নিরিখে বিচার করলে তা মনে হয় না। কাজেই পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিভুক্ত দেশের তকমা পাওয়া সত্ত্বেও মাথাপিছু আয় কম এবং দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কম-বেশি ৬০%। উত্পাদন হ্রাস পাচ্ছে, চলতি হিসাবের ঘাটতি, রেকর্ড মাত্রা স্পর্শ করেছে, দেশের বেকারত্ব উদ্বেগজনকভাবে উচ্চ, এবং ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা আমাদের অর্থনীতিকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করেছে, যদিও মুদ্রাস্ফীতির হার এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে, প্রতিরক্ষায় যথেষ্ঠ ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে এবং মজবুত জমিতে অবস্থান করলেও চীন আমাদের সামরিকভাবে মোকাবিলা করছে, এবং আমরা তাকে উপযুক্ত জবাব দিতে অক্ষম বলে মনে হচ্ছে।


No comments:
Post a Comment