Tuesday, September 27, 2022

আমাদের দেশে কম্পিউটার

                     আমাদের দেশে কম্পিউটার        


                   আমাদের দেশে কম্পিউটার 

১৯৮৭ সালের ১০ই জুন "আজকাল" পত্রিকায় এই লেখাটি ছাপানো হয়।

আমাদের দেশের সঙ্গে কম্পিউটারের পরিচয় হ'ল ষাটের দশকের গোড়া থেকে। পরবর্তী দু'দশক অর্থাৎ আশি সাল পর্যন্ত কম্পিউটারকে কাজে লাগানো হয়েছে প্রায় সবটাই বিজ্ঞান গবেষণার কাজে। আসল ব্যাপারটা হ'ল কম্পিউটারের ব্যবহারের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্কটা আমাদের মতো জনবহুল দেশে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে এবং সেই কারণেই গুরুত্বপূর্ণও বটে।

বিভিন্ন শিল্পে কম্পিউটারের প্রয়োগে পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের দ্রুততা, ফলে ব্যবসায়িক সাফল্যের সুযোগ ব্যাপকভাবে থাকলেও, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে তা বাঞ্ছনীয় নয়, কারণ সেক্ষেত্রে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা প্রবল। যেমন ধরা যাক, গাড়ি তৈরির কারখানা, চটকল বা সূতোকল ইত্যাদি শ্রমিকনিবিড় শিল্প, ইলেকট্রনিক্সের সাহায্য নিয়ে হয়তো আংশিক আধুনিকীকরণ করা যেতে পারে, কিন্ত কম্পিউটারচালিত যন্ত্র বসিয়ে শ্রমিক পঙ্গু করা যায় না। অন্যদিকে উচ্চমান সম্পন্ন বা সূক্ষ্ম যন্ত্রাংশ তৈরির কাজে কম্পিউটারচালিত যন্ত্রের প্রয়োজন। 

স্বয়ংক্রিয় টেলিফোন ব্যবস্থা প্রায় তিন দশক হ'ল দেশে চালু আছে। সয়ংক্রিয় টেলিফোন এক্সচেঞ্জ মারফত একজনের সঙ্গে আর একজনের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হয় এক্সচেঞ্জের গতিশীল ইলেকট্রোমেকানিক্যাল যন্ত্রাংশগুলোর কলাকৌশলে। যন্ত্রাংশগুলো যেহেতু সর্বদাই নড়াচড়া করছে, সেহেতু সেগুলোর ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি এবং খুবই দক্ষতার সঙ্গে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন। অর্থাৎ, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জগুলো দীর্ঘস্থায়ী  নির্ভরতার নিরিখে তেমন যুতসই নয়। ভারতবর্ষের বড় বড় শহরগুলোতে, বিশেষ করে কলকাতায় বসে সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই টেলিফোন এক্সচেঞ্জগুলোর আধুনিকীকরণের ব্যাপারে কম্পিউটারের একটা বিশেষ ভূমিকা আছে। কম্পিউটারচালিত এক্সচেঞ্জ বা ইলেকট্রনিক্স এক্সচেঞ্জ অনেক বেশি নির্ভরশীল।  কারণ সেখানে গতিশীল যন্ত্রপাতি প্রায় নেই বললেই চলে এবং ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সুইচগুলোর বদলে আছে কম্পিউটারচালিত সলিড স্টেট সুইচ। সল্ট লেকের টেলিফোন এক্সচেঞ্জটি (৩৭) ইলেকট্রনিক এক্সচেঞ্জ।  এই সূত্রে বলা যেতে পারে যে কলকাতায় আপাতত সল্ট লেক (৩৭) ও বড়বাজার (৩৯), দুটোই ইলেকট্রনিক এক্সচেঞ্জ  এবং টেলিফোন ভবনে এক্সচেঞ্জ ২০ ও ২৮ - এই দুটিতেও আধুনিকীকরণের কাজ অব্যাহত আছে।

গত এক বছরে সল্ট লেকের ইলেকট্রনিক এক্সচেঞ্জটির কোনও গন্ডগোল হয়নি। এই মাপের ৫০০০ লাইন বিশিষ্ট প্রচলিত এক্সচেঞ্জগুলোর স্বনির্ভরশীলতা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালু রাখা সত্ত্বেও অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কম। কাজের লোক বাড়তি হবার প্রশ্ন অবশ্যই আছে, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই, কারণ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয় না এবং আপাতত হাতে গোনা সুদক্ষ টেকনিসিয়ানরাই এইসব এক্সচেঞ্জের তদারকি করতে সক্ষম। তবে নতুন চাকরির পথও তৈরি হবার সম্ভাবনা আছে। কারণ এইসব কম্পিউটারচালিত এক্সচেঞ্জগুলোতে যে সব ইলেকট্রনিক কার্ড ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর মেরামতির জন্য দক্ষ টেকনিসিয়ান প্রয়োজন। ফলে দেশে আই  টি আই - এর মতো সংস্থার সংখ্যা বাড়তে থাকবে, যেখানে বেশ কিছু নতুন যুবক-যুবতী ট্রেনিংপ্রাপ্ত হয়ে এইসব কাজের সঙ্গে জুড়ে যাবে। ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা থাকছেই।

আমাদের দেশে কম্পিউটারের ব্যবহারটা নিয়ন্ত্রিত উপায়ে বিমান বা দূরপাল্লার ট্রেনে রিজার্ভেশন বা জায়গা সংরক্ষণের কাজে লাগানো যেতে পারে। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের যে অফিসগুলো কলকাতা, বম্বে, দিল্লি, মাদ্রাজ ইত্যাদি বড় বড় শহরগুলোতে আছে, সেখানে কম্পিউটারের মাধ্যমে রিজার্ভেশন ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই চালু আছে। আলোচনা করা যাক রেলওয়ে রিজার্ভেশনের ব্যাপারটা। কয়েকটা উদাহরণের মধ্যে দিয়ে পরিস্কার বোঝা যায় যে দূরপাল্লার ট্রেনের টিকিট কাটা কতটা সময়সাপেক্ষ ও অনিশ্চিত। "অমুক দিনের টিকিট পাওয়া যাবে না", এই কথাটা শোনার জন্য ভোরবেলা টিকিট ঘর খোলার আগে থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকটা সময় নষ্ট করতে হয়। প্রচলিত প্রথায় লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া কোনও বিকল্প ব্যবস্থা নেই। রিজার্ভেশনেব অবস্থাটা জানানোর জন্য যে বোর্ডটি টিকিট ঘরের বাইরে রাখা থাকে, সেখানে খুব কম সময়ই সঠিক তথ্য থাকে। দূরপাল্লার ট্রেনে জায়গা সংরক্ষণের প্রচলিত ব্যবস্থায় টিকিট কাটার ব্যপারটা হ'ল এরকম- স্তুপাকার জাবদা খাতা পরিবেষ্টিত হয়ে ভদ্রলোক অর্থাৎ "টিকিট বাবু" বসে আছেন কাউন্টারের সামনে। কোনো যাত্রীর কাছ থেকে যথাযথ পূরণ করা রিজার্ভেশন ফর্মটা হাতে পাওয়ার পরই তিনি খাতাপত্র দেখে বলে দেন নির্দিষ্ট দিনের টিকিট পাওয়া সম্ভব কিনা। ধরা যাক পাওয়া গেল। সেক্ষেত্রে ফর্মে লেখা সব তথ্যগুলো খাতায় লিখে টিকিট বের করে তাতে আরো একবার প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো লেখা হবে। তার পরও থাকে টাকা পয়সা লেনদেনের পালা। এটাই আদান-প্রদানের শেষ ধাপ। এই সব কিছু করতে কতটা সময় লাগে তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। নতুন করে বলার কিছু নেই। তাহলে উপায় কী ? উপায় হ'ল এই যে খাতাপত্র বাছাবাছি ও হিসেবপত্রের কাজটা কম্পিউটারকে দিয়ে করিয়ে নিলে যা পড়ে থাকে, তা হ'ল নাম-ধাম ইত্যাদি তথ্য টিকিটে বসিয়ে টাকা গুণে নেবার কাজ, যা কিনা মিনিটখানেকের মধ্যেই হয়ে যাবে। কাজটা আরও তাড়াতাড়ি হয়তো সম্ভব যদি নাকি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে টিকিটের ওপর নাম-ধাম ছাপিয়ে নেবার ব্যবস্থা থাকে। এতটা আধুনিকীকরণ আমাদের মতো জনবহুল দেশের পক্ষে এই মুহূর্তে হয়তো বিলাসিতা হবে। শুধুমাত্র রাজধানী দিল্লিতে কিছু কিছু ট্রেনের টিকিট পরিষেবার ব্যাপারটা সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটারচালিত হয়েছে। যাইহোক, মোদ্দাকথা এই ব্যবস্থায় বোধহয় কারোরই চাকরি গেল না। টিকিটবাবু কম্পিউটার টার্মিনালের সামনে অতিমাত্রায় বহাল, লাইনের লোক কম। পরিষেবার গুণমান একেবারেই ঝকঝকে পরিচ্ছন্ন। বাড়তি সুবিধে হ'ল যে রিজার্ভেশনের অবস্থা জানার জন্য আগের মতো ভয়ার্তচিত্তে দীর্ঘ সময় নষ্ট করে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। প্রতি মুহূর্তেই কম্পিউটার টেলিভিশনের পর্দায় রিজার্ভেশনের খবর জানিয়ে যাবে।

হাসপাতাল তদারকির কাজে কম্পিউটারের ব্যবহার মন্দ হবে বলে মনে হয় না। আজকাল ছোট ছোট কম্পিউটার (কম্পিউটারের পরিভাষায় যাদের পার্সোনাল কম্পিউটার বলা হয়) আমাদের দেশে পাওয়া যায় এবং দামও মোটামুটি আওতার মধ্যেই। রোগীদের রোগ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, এমনকি প্রত্যেক রোগীর ওষুধ খাওয়ানোর এবং ইঞ্জেকশন ইত্যাদি দেওয়ার সময় ছাড়াও আরও অনেক জরুরি তথ্য কম্পিউটারে প্রোগ্রাম করে রাখলে ঠিক সময়মতো কোনও না কোনও শব্দযোগে কম্পিউটার কর্তব্যরত নার্সের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। সুবিধে এই যে, রোগী সময়মতো ওষুধ এবং পথ্য পেয়ে গেল এবং নার্সকেও বাড়তি সজাগ থাকতে হ'ল না। বেসরকারি নার্সিংহোমগুলোতে এমনিতেই ডাক্তার বা নার্সের সংখ্যা বাড়ন্ত, স্পষ্টতই নার্সিংহোম চালাবার বাণিজ্যিক দিকটা সেখানে অগ্রাধিকার পায়। কাজেই সেখানে রোগী তদারকির ব্যপারে কম্পিউটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে হয়। এরকম আরও কয়েকটা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার কোনও ক্ষতি করবে বলে মনে হয় না।

আরও একটা প্রয়োগক্ষেত্রের কথা মনে হচ্ছে যেখানে কম্পিউটার ব্যবহারে চাকরি সঙ্কোচনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে: ব্যাঙ্ক পরিষেবার কাজে। তবে সেটা হয়তো রাতারাতি সম্ভব হবে না। কারণ যাঁরা বছরের পর বছর প্রচলিত পদ্ধতিতে খাতা-কলম নিয়ে হিসেব করে কাজ করে এসেছেন, তাঁদের পক্ষে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ব্যতীত ব্যাঙ্কের কাজ- যেখানে টাকা-পয়সার নির্ভুল হিসেবের ব্যাপার জড়িয়ে আছে, সেটা করতে দেবার দায়িত্ব ছাড়া যাবে না। তবে এটাও ঠিক যে কম্পিউটার সংক্রান্ত প্রাথমিক ব্যাপারগুলো শিখে নিয়ে, হিসেব সংশ্লিষ্ট সফ্টওয়্যার ব্যবহার করার অভ্যাসটা রপ্ত করতে সপ্তাহ-দুয়েকের বেশি লাগবে বলে মনে হয় না।


যেসব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহারের কথা আলোচনা করা  হ'ল, সেই সব ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে চাকরি চলে যাবার কোনো  ভয় না থাকলেও ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগ নিশ্চয়ই কমল। পক্ষান্তরে কম্পিউটার প্রয়োগ ক্ষেত্রের বিস্তারের ফলে প্রাসঙ্গিক যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য দেশে নতুন নতুন শিল্পের সুযোগ বাড়ল। আর একটা শিল্প বাড়া মানে সেটাকে ঘিরে আরও কিছু অনুসারী শিল্পের সম্ভাবনা তৈরি হ'ল। একই সঙ্গে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য স্কুল খোলার প্রয়োজন দেখা দেবে এবং সেসব জায়গাতেও কিছু চাকরির সংস্থান হবার সম্ভাবনা থাকবে। অর্থাৎ, এককথায় কম্পিউটার পরিচালিত সংস্থানে শুরুতে কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা ব্যাহত হলেও,  নতুন ধরনের শিল্প সেই ঘাটতি পুষিয় দেবে এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশ এবং সমাজ ধাপে ধাপে আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাবে। সমতা রক্ষা করার ভার তাঁদেরই ওপর যাঁদের ওপর ন্যস্ত আছে বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা দেশ চালানোর ভার। আশা করাই যায় যে তাঁদের যথাযথ যুক্তিসম্পন্ন সিদ্ধান্তের ফল, দেশ এবং তার নাগরিকদের ভবিষ্যতের উপযুক্ত পথ দেখাবে।

----------

১৯৮৭ সালের ২৩শে নভেম্বর আজকাল পত্রিকায় এই ছোট্ট পরিসরের প্রবন্ধটি ছাপানো হয়।

                              রেল কতৃপক্ষ ভাবুন

 রিজার্ভেশনে কম্পিউটার প্রয়োগে যাত্রীদের হয়রানি কি                            কমানো যায় না ?

ভারতবর্ষের প্রায় সব বড় বড় শহরে ট্রেনের কামরায় জায়গা সংরক্ষণের ব্যবস্থায় আজকাল কম্পিউটার ব্যবহার করা হচ্ছে। মোটামুটি ভালই কাজ হচ্ছে। তবে কম্পিউটারের ব্যবহার যখন হচ্ছে, তখন আরও কিছু সুযোগ-সুবিধে যাত্রীদের দেওয়াই যায়। নয়তো অমুক দিনের অমুক ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে না, এই কথাটা জানার জন্যও ধৈর্য ধরে সেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই যাত্রী কাউন্টারের সামনে পৌঁছান। এখন তফাৎ এটুকুই যে সংশ্লিষ্ট রেলকর্মী গতানুগতিক পদ্ধতিতে খাতার পাতা উল্টে উত্তর দেওয়ার বদলে কম্পিউটার মারফত জবাব দেবেন।

এই ব্যবস্থায় রেলকর্মীর ঝামেলা বেশ কিছুটা কমলেও, যাত্রীদের ঝামেলা খানিকটা থেকেই যাচ্ছে। ধরা যাক কারো নাম নির্দিষ্ট ট্রেনের অপেক্ষমান যাত্রীদের তালিকায় পাঁচ নম্বরে আছে। তিনি আদৌ যেতে পারছেন কিনা তা জানার জন্য তাঁকে টিকিট কাটার পর থেকে যাত্রার দিন পর্যন্ত হাপিত্যেশ করে উদ্বেগভরে অপেক্ষা করতে হবে। এইসব ব্যাপারগুলোর  সমাধান কম্পিউটার রিজার্ভেশনের পরিপ্রেক্ষিতে খুবই সহজে করা যাবে। এমনই একটা পরিকল্পনার কথা এখানে আলোচনা করা হ'ল। 

প্রতিটি রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে প্রত্যেকটি ট্রেনের সিটের অবস্থা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য কম্পিউটারের ভান্ডারে নথিভুক্ত হয়ে চলেছে। যা প্রয়োজন তা হ'ল উপযুক্ত প্রোগ্রাম বা সফ্টওয়্যার দিয়ে এই তথ্য ঝাড়াই-বাছাই করার কাজ। এর পরে দরকার সেই তথ্যগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও রীতিবদ্ধভাবে সবিধেমতো জায়গায় একটা টিভির পর্দায় তুলে ধরা। প্রমাণ মাপের টিভির পর্দায় তিন সপ্তাহের তথ্য খুব সহজেই ধরে রাখা যাবে। তার বেশি হয়তো প্রয়োজনও নেই। ছবিতে যেমন দেখানো হয়েছে, টিভির পর্দা চারটে সারিতে ভাগ করে নিতে হবে। প্রথম সারিতে থাকবে ট্রেনের নম্বর, ট্রেনের নাম, যাত্রার সময়, শ্রেণী ও সেদিনের তারিখ। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ সারির প্রত্যেকটিতে থাকবে আবার এক জোড়া করে সারি।  জোড়ার প্রথম সারি নির্দেশ করবে তারিখ আর দ্বিতীয় সারিতে ইংরেজি "A" বা "W" ( A মানে Available অর্থাৎ টিকিট পাওয়া যাবে আর  W মানে waiting list বা অপেক্ষমান যাত্রীদের সংখ্যা বিবেচিত হবে) টিভির পর্দায় প্রথম সারি দেখাচ্ছে যে ওয়ান আপ (1up) কালকে মেল সন্ধ্যে ৭.১৫ মিনিটে রওনা হয়। এবং সেপ্টেম্বর মাসের ৪ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত ওই ট্রেনের এসি টু-টায়ার কোচের জায়গা পাবার কী অবস্থা তা টিভির দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ ভাগে দেখা যাচ্ছে। যেমন, ৪ তারিখের ২৪ টি জায়গা আছে, ৫ তারিখের আছে ৭ টি আবার ৬ তারিখের কোনও জায়গা নেই, তবে দুজন ওয়েটিং লিস্টে আছেন। টিভির পর্দাটি  রঙিন হলে ব্যাপারটা আরও আকর্ষণীয় করে তুলে ধরা যায়। যেমন  সবুজ রঙে A চিহ্নিত করলে W র জন্য লাল রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে। তারিখ গুলোর জন্য তৃতীয় আরও একটি রঙ ব্যবহার করলে কোনো সমস্যাই থাকবে না।

সমস্ত ব্যাপারটা কার্যকর করার জন্য যে সফ্টওয়্যার তৈরির প্রয়োজন, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞের কাছে সেটা কোনো সমস্যাই নয়। এই ব্যবস্থায় সুবিধেগুলো হ'ল এরকম:- (১) রিজার্ভেশন কক্ষে ভিড় কমে যাবে (২) জনসাধারণ পাঁচ-সাত মিনিটের মধ্যেই সংরক্ষণের অবস্থা জেনে নিয়ে বিকল্প চিন্তার সুযোগ পাবেন, (৩) ওয়েটিং লিস্টের যাত্রীদেরও হয়রানি কমবে, (৪) টিকিট রিজার্ভেশনের ব্যাপারে কারচুপির বিশেষ জায়গা থাকবে না।

কৃতজ্ঞতা স্বীকার: আমার পরামর্শে,শেষোক্ত প্রবন্ধটির চিত্র রূপায়ণের জন্য আমি আমার স্নেহের শিল্পী সহকর্মী, রঞ্জন কুন্ডুর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই। 







No comments: