Monday, December 26, 2022

জিডিপি ধাঁধা

জিডিপি ধাঁধা


আমি অর্থনীতির ছাত্র নই। খবরের কাগজ, টেলিভিশনের চ্যানেলগুলোতে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বক্তাদের  মধ্যে অর্থনৈতিক আলোচনা, এবং অনেক লেখা থেকে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য কুড়িয়ে আত্মবিশ্বাসের ওপর আস্থা রেখে, নিজের রাজ্যের এবং সর্বোপরি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করি। 

প্রচলিত প্রথায় বলা হয় যে একটা দেশের  জিডিপি-ই হ'ল অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের সর্বোতম মাপকাঠি। মুস্কিল হ'ল আমার মতো অ-বিশেষজ্ঞ মানুষজনেরা কেউ কেউ এটাকে মন থেকে যেন মেনে নিতে পারিনা; প্রায়শই ধন্ধে পড়ে যাই। জিডিপি কথাটাকে কেমন যেন একটা ধাঁধা বলে মনে হয়। সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী বললেন যে ভারত বিশ্বের জিডিপির অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যকে অর্থাৎ ইউনাইটেড কিংডমকে পেছনে ফেলে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এর সপ্তাহখানেক বাদেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় অমিত শাহজীও একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। এমনকি তিনি তাঁদের রাজত্বকালের মেয়াদের খতিয়ান তুলে জানালেন যে ২০১৪ সালে বিশ্বের জিডিপির  অংশীদারিত্বের নিরিখে যেখানে ভারতের অবস্থা ছিল দশম স্থানে, সেখানে এখন তা এগিয়ে দাঁড়িয়েছে পঞ্চম স্থানে। এগুলো হ'ল মন্ত্রী-সান্ত্রীদের দরাজ ভাষ্য। এবার খোলামনে আমার মতো সাধারণ মানুষের চোখ দিয়ে একটু কাটাছেঁড়া করে দেখা যাক যে জিডিপি নামক বস্তুটি দেশের মানুষের ভাল থাকার সূচক হিসেবে ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

জিডিপি বনাম মাথাপিছু আয়:

দেশের জিডিপির সঙ্গে মাথা পিছু আয়ের সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে থাকার কথা। অর্থাৎ দেশের সম্পদ নাগরিকদের মধ্যে সমবন্টন হওয়া উচিৎ। আমার ধারণা সেটা কোনো দেশেই হয় না। উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি পরিচালনার পদ্ধতিগত বিষয়গুলো যথেষ্ট আঁটোসাটো হওয়ার ফলে গড় নাগরিকের অবস্থা আদৌ অসচ্ছল নয়।    কিন্ত আমাদের মতো দেশে ঢিলেঢালা ব্যবস্থার ফলে তলার দিকের জনসাধারণের প্রাপ্তির সঙ্গে জিডিপির কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। ঢাকুরিয়া অঞ্চলের বাসিন্দা। প্রায় রোজই রেল লাইন সংলগ্ন বাজারে যাচ্ছি, চার দশক তো হবেই। লাইনের একেবারে ধার ঘেঁষা বস্তিগুলো দেখে মনে হয় না জিডিপির উন্নতির সঙ্গে হতদরিদ্র হাজার হাজার  বস্তিবাসীর কোনো যোগসূত্র আছে। অথচ মানুষ নিয়েই দেশ। সিংহভাগ মানুষের যদি এই আর্থিক অবস্থা হয় তাহলে "অচ্ছে দিন" কাদের জন্য?

এর মানে হ'ল যে আমাদের মতো উন্নয়নশীল গরীব দেশের সমাজের নিম্নবর্গের মানুষেরা উন্নত দেশগুলোর কম আয়ের নাগরিকদের তুলনায় অনেকটাই গরিব।জিডিপি শুধুমাত্র গড় আয় প্রকাশ করে এবং এটি সংখ্যাগরিষ্ঠরা কী উপার্জন করছে বা তারা কীভাবে জীবনযাপন করছে তার প্রতিফলন নয়।


পৃথিবীজুড়ে
 আবার করোনা শুরু হয়েছে। ২৩/১২/২০২২ তারিখে লকডাউনের কথা মাথায় রেখে আমার দেশের কেন্দ্রীয় সরকার তড়িঘড়ি ৮০ কোটি মানুষের জন্য ২০২৩-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত নিখরচায় রেশন বিলির কথা ঘোষণা করেছেন। নিন্দুকেরা বলছেন বছর ঘুরতে না ঘুরতেই বেশ ক'টা রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ছাড়াও ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মোদী সাহেবের এই সিদ্ধান্ত। এটা একটা কৌশল বই তো নয়। সে যাই হোক আমি রাজনীতির কারবারি নই। তবে এই ঘোষণার মধ্যে একটা ব্যাপার স্পষ্ট, যে কেন্দ্রের সরকার পরোক্ষে হলেও মেনে নিয়েছেন যে ১৩৫ কোটির দেশে ৮০ কোটি মানুষ, অর্থাৎ কম-বেশি ৬০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করেন। উন্নত দেশগুলোর গরিবানার অবস্থাটা সেরকম আদৌ নয়।

প্রায় প্রতিদিনই আমরা শুনি যে চীন এক নম্বর অর্থনীতি হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাবে এবং ভারতও পিছিয়ে থাকবে না। কিন্তু যেহেতু ভারত ও চীনের জনসংখ্যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার প্রায় পাঁচগুণ, বিশ্বের নিরিখে তারা এখনও অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশ হিসেবেই স্বীকৃত হবে।  ইংল্যান্ডের মাথাপিছু আয় ভারতের  তুলনায় ২০ গুণ বেশি। মাথাপিছু আয় গুরুত্বপূর্ণ।  আমার মনে হয় জিডিপি পরিসংখ্যান দেওয়া, ভারতের অর্থনীতি সম্পর্কে একটি রঙিন ছবি আঁকার চেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়। ভারত এখনও একটি অত্যন্ত দরিদ্র দেশ এবং বিশাল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, মুষ্টিমেয় বিত্তশালী মানুষের মধ্যেই সেই সম্পদের অবাধ যাতায়াত। বিপুল সংখ্যক ভারতীয় চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করে।

এতক্ষণ যেটা বলা হ'ল সেটা জিডিপি সংক্রান্ত গল্পের খোলস। এবার আস্তে আস্তে খোলস খুলে বেরোবার পালা। আমরা খোঁজার চেষ্টা করব যে মানুষের সত্যিকারের ভাল থাকার সূচক হিসেবে অন্য কোনও একটি বা একাধিক সূচক আছে কি না! জিডিপি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক কেন্দ্রীক। সেটা দরকার। কিন্ত এর সঙ্গে জুড়তে হবে সমাজকেন্দ্রীক বাস্তবতাকে।

এক শতক হতে হতে চলল আমরা কাজের মূল্যকে জিডিপির চোখে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। তাই আজ আই টি কোম্পানিগুলোর কাজের কদর বেশি, শিক্ষিকার কাজের কদর কম, পুরকর্মীর আদৌ কদর নেই। শুধুতাই নয়, তার সঙ্গে জ্ঞান, মেধা, ও দক্ষতা সম্পর্কেও একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। যে কাজ সর্বজনীন ন্যায় ও কল্যাণকে উর্ধগামী করে, বা পরিবেশ সংরক্ষণ করে, তাকে আমরা কম কদর করি। যে কাজ প্রতিষ্ঠানের ও ব্যক্তির পকেট ভরায়, তাকে আমরা বেশি কদর করেছি, সেই কর্মীদের বেশি "মেধাবী" ভেবেছি। যে কাজ মানুষ  বাঁচায়, পরিবেশ বাঁচায়, সেগুলোকে "সামান্য মেধার কাজ" বলে ভেবেছি।

জিডিপি আসলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিবিদ, প্রশাসক, নীতি নির্ধারক এবং সাংবাদিকদের জন্য ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা মেট্রিক বা মাপকাঠি। অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ অ্যাডাম ট্রুজ বলেছেন, এটি "বাস্তবতার একটি সংকীর্ণ এবং কিছুটা স্বেচ্ছাচারী অংশ।"

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তিতে আজাদী কা অমৃত মহোৎসব দিকে দিকে ধূমধাম করে পালিত হয়েছে।  আমিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করে ১৫ই অগাস্ট নিজের ফ্ল্যাটবাড়ির বারান্দায় জাতীয় পতাকা লাগিয়ে দেশমাতৃকার উদ্দেশ্যে করজোড়ে প্রণাম জানিয়ে নিজের মতো করে মহোৎসব পালন করেছি। কিন্ত মনের মধ্যে কেমন যেন একটা অস্বস্তি হচ্ছিল, প্রশ্ন জাগছিল যে সত্যিই কি আমাদের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল !! উদযাপন করছি বটে কিন্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোকে আমরা পাশ কাটিয়ে গেছি, হয়তো সচেতন ভাবেই। কারণ সাদা চোখে যেটা ধরা পড়ে তা হ'ল দারিদ্রকে বিপন্ন করছে ক্রমবর্ধমান আর্থিক অসাম্য। একদিকে ধনকুবেরদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, অন্য দিকে বাড়ছে কর্মহীন, অপুষ্ট, ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। অতিমারি এই চরিত্রকে আরও নগ্ন করে দিয়েছে।

বিশ্বের ক্ষুধা সূচকে ভারতের স্থান ১১৬ টি দেশের মধ্যে ১০১ নম্বরে। কেবল অন্য দেশের তুলনায় নয়, নিজের অতীত অবস্থানের তুলনাতেও ভারত দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে।

বেশিরভাগ স্বাস্থ্য সূচকে আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারত নীচের দিকে রয়েছে৷ এই দেশে প্রতি ১০০০০ জনে মাত্র ৮.৫ টি হাসপাতালের শয্যা এবং আটজন চিকিত্সক রয়েছে। জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে এটি তুলনা করুন যেখানে প্রতি ১০০০০ জনে যথাক্রমে ১২০ এবং ১৩০ টি শয্যা রয়েছে।

আমাদের এখন একটি নতুন অর্থনৈতিক বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প লক্ষ্য করা উচিত যা মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই।যখন আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ করতে জিডিপিকে লেন্স হিসাবে ব্যবহার করি, তখন আমরা কী পরিমাপ করা হয় তার উপর ফোকাস করি এবং যেগুলি পরিমাপ করা হয় না সেগুলিকে উপেক্ষা করি। জিডিপি শুধুমাত্র একটি দেশের অর্থনীতির আকার পরিমাপ করে। অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী জোসেফ ই স্টিগলিটজ যুক্তি দেন যে "জিডিপি সুস্থতার একটি ভাল পরিমাপ নয়"

একটি ক্রমবর্ধমান জিডিপি প্রায়ই অর্থনৈতিক সাফল্যের পরিমাপ হিসাবে দেখা হয় যা শুধুমাত্র সমাজের শীর্ষে সম্পদ তৈরি করতে পারে এবং ধনী-দরিদ্রের ফাটলকে আরও চওড়া করে। ফলে হতদরিদ্র মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে কোনোদিন বেরিয়ে আসতে পারে না।

জিডিপি নিজে থেকে কোনো দেশের উন্নয়নের পর্যাপ্ত পরিমাপক নয়। উন্নয়ন শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক মাত্রা অন্তর্ভুক্ত করে না বরং সামাজিক, পরিবেশগত এবং মানসিক মাত্রাও অন্তর্ভুক্ত করে। জিডিপি শুধুমাত্র পরিমাণের উপর ফোকাস করে, কিন্তু মানের দিকটিকে উপেক্ষা করা হয় যা অসম, বেকার বিলিয়নেয়ারের জন্ম দেয় - 

একটি দেশের উন্নয়ন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার প্রশ্নগুলি হল: "দারিদ্র্যের সাথে কি ঘটছে? বেকারত্বের সাথে কি ঘটছে? বৈষম্যের সাথে কি ঘটছে? প্রগতি মানে আরও ন্যায্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। অগ্রগতির এই দৃষ্টিভঙ্গি এখন আমাদের মনে রাখতে হবে। 


১৯৯০ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক প্রবর্তিত হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স HDI এবং OECD (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) বেটার লাইফ ইনডেক্স সহ অনেকগুলি বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে, যা জীবনের মানের ক্ষেত্রে অনেক উচ্চতর ব্যবস্থা। এবং মঙ্গল।

আমাদের নীতি নির্ধারকরা যত তাড়াতাড়ি স্থূল প্রবৃদ্ধি থেকে সর্বত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করবেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ততই মঙ্গলজনক হবে।



নীতিনির্ধারক এবং সুশীল সমাজকে "জিডিপি চিন্তা" থেকে দূরে সরে যেতে হবে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুযোগের সমতা, পরিবেশ, শারীরিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সুরক্ষার মতো জীবনমানের সূচকগুলিতে মনোযোগ দিতে হবে। এটা এখন সামাজিক ভাবে অপরিহার্য যে আমরা মূলধারার নীতি বক্তৃতা দ্বারা আমাদের দেওয়া সংকীর্ণ লেন্সের বাইরে তাকাই এবং অগ্রগতির মাপকাঠিগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করি যা জিডিপির সরল পরিমাপের চেয়ে বেশি অন্তর্ভুক্ত।

আমাদের  মতো দেশে ক্রমবর্ধমান জিডিপির আরও একটা সহজ ব্যাখ্যা হল, জনবহুল দেশে পন্যের চাহিদা থাকবে। ফলে উৎপাদন সমানুপাতে বাড়তে থাকবে এবং জিডিপি বাড়বে। অতএব, জিডিপি বাড়া মানেই যে দেশের অর্থনীতির *স্বাস্থ্য হৃষ্টপুষ্ট* হচ্ছে এমন ভাবার কোনও কারণ দেখছি না যদি না সেই জিডিপির বৃদ্ধি কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তার সুফল সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছোতে পারে।

  আরও একটা মামুলি (ব্যক্তিগত মতামত) অর্থনৈতিক তত্ত্বকথা বলে এই প্রবন্ধ শেষ করব। ট্রিকল-ডাউন তত্ত্ব বা চুঁইয়ে পড়া তত্ত্ব।  এটা হল এমন একটি তত্ত্ব যা বলে সিস্টেমের শীর্ষে থাকা লোকেদের দেওয়া সুবিধাগুলি শেষ পর্যন্ত সিস্টেমের নীচের লোকেদের কাছে পৌঁছে যাবে। উদাহরণ স্বরূপ, ধনীরা ব্যবসায় বিনিয়োগ করলে সরকারি কর ছাড় পাবেন। ফলে তাঁরা আরও বিনিয়োগ করে চাকরি তৈরি করবে। এইভাবেই সুবিধাগুলি দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে যাবে। ডাহা মিথ্যে কথা, অন্তত আমাদের দেশে। লকডাউনের সময় সংগঠিত ক্ষেত্রে, অর্থাৎ সরকারি চাকুরে/পেনশন ভোগী, সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক- তাঁরা নিয়মিত বেতন পেয়েছেন। অথচ মাসের পর মাস,  ট্রেন বন্ধ থাকার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে যেসব মহিলারা, মূলত গৃহ পরিচারিকারা, যাঁরা বহু বছরের পুরোনো মালিকদের বাড়িতে কাজে আসতে পারেননি, তাঁরা কেউ বেতন পাননি। সামান্য মিথ্যে থেকে গেল কথাটার মধ্যে। কোন কোনও মনিব ভিক্ষার দান হিসেবে একমাস, বড়জোর দু'মাসের মাইনে দিয়ে বিদায় করেছেন।

অসংগঠিত ক্ষেত্রের কথায় আসি। সেখানে বহু মানুষ কর্মহীন হয়েছেন, মালিকের যুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধের কারণে উৎপাদন বন্ধ, ফলে কর্মী ছাঁটাই। কিন্ত একটি নির্দিষ্ট লাভজনক বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কথা আমার জানা আছে যেখানে লকডাউনে রোজগার থাকা সত্ত্বেও তাঁরা কর্মীদের বেতনে কাটছাঁট করেছেন। হ্যাঁ, সে প্রতিষ্ঠানগুলো হ'ল বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। সেখানে শিক্ষক/শিক্ষিকারা বাড়ি থেকে নিয়মিত অন-লাইন ক্লাস নিয়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীরাও বাড়ি থেকেই পঠন-পাঠন চালিয়ে গেছে। কাজেই মালিকের রোজগার কমেনি তো বটেই, বরং বলা যেতে পারে বেড়েছে (কর্মীরা কলেজে না আসার ফলে আলো,পাখা, জলের বিদ্যুতের বিল অবশ্যই কমে গেছে)। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, যেখানেই শোষণের সুযোগ থাকে, মালিকপক্ষ সেখানেই তার সদ্ব্যবহার করতে পিছপা হননি, তা বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মালিক বা সরকারি কর্মে বহাল গৃহকর্তা হন না কেন।

 

No comments: