অবিশ্বাস্য আর্থিক বৈষম্যের একটি প্রতিবেদন
"বিশ্ব বৈষম্য প্রতিবেদন ২০২২" শিরোনামে একটি রিপোর্ট পেশ করেছেন পৃথিবীর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের একটি দল, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন দুই ফরাসী অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটি এবং লুকাস চ্যান্সেল। এই দুজনের অগ্রভাগে রয়েছেন দুই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী এস্থার ডুফ্লো। আরও একটি প্রতিবেদন, "বৈষম্য হত্যা" প্রকাশ করা হয়েছে অক্সফ্যাম ইন্টারন্যাশনাল এর তরফ থেকে।"
উভয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বৈষম্য কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং সরকারী নীতি এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল যা ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের স্বার্থ রক্ষা করে।
বৈষম্যের চেহারাটা একটু তলিয়ে দেখা যাক। কোভিদ-১৯ অতিমারি, ধনী ও দরিদ্রের জন্য ভিন্ন পরিণতি বহন করে এনেছে; বিশ্বের ১০ জন ধনী ব্যক্তির সম্পদ গত দেড় বছরে দ্বিগুণ হয়েছে, যেখানে ৯৯% মানুষের আয় কমেছে। ঠিক কতটা কমেছে তার নমুনা ক্রমশ উন্মোচিত হবে।
অতিমারির পর যেসব সরকার তাঁদের দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ব্যয় করেছেন তার পরিণতিতে শেয়ার বাজার চাঙা হয়েছে। শেয়ারের দাম নাটকীয় ভাবে স্ফীত হয়ে ধনী সম্প্রদায়ের সম্পদকে আরও বাড়িয়েছে। ধনী এবং দারিদ্রের সম্পদের মধ্যে বৈষম্য এতটাই যে বিশ্বের ১০ জন ধনী মানুষের সম্মিলিত সম্পদ দরিদ্রতম ৩.১ বিলিয়ন মানুষের, অর্থাৎ বিশ্বের ৪০% জনসংখ্যার বেশি। রিপোর্ট দুটিতে বৈষম্যের মাত্রা বোঝাতে অর্থনীতিবিদরা চোখ কপালে তোলার মতো দুটি সহজবোধ্য উদাহরণের অবতারণা করেছেন।
যে ১০ জন ধনী মানুষের কথা বলা হ'ল তাঁদের সম্মিলিত অর্থ ডলার বিলে রূপান্তরিত করে গোছা বেঁধে একটার ওপর আর একটা চাপিয়ে তার উপর কেউ যদি বসেন, তাহলে চাঁদের অর্ধেক দূরত্ব পর্যন্ত পৌঁছে যাবেন। আরও একটা পরিসংখ্যান বলছে যে তাঁদের প্রত্যেকে নিত্য এক মিলিয়ন ডলার খরচ করলে, সমস্ত সম্পদ খরচ হতে সময় লাগবে ৪১৪ বছর। হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন "চারশো চৌদ্দ বছর।

No comments:
Post a Comment