প্রায় সপ্তাহ তিনেক পরে, গত ২/৩ দিন হ'ল আমি social media, মানে ফেসবুকের দেওয়াল লিখন শুরু করেছি। আসলে অসুস্থতার তীব্রতা আমার যাবতীয় কাজকর্মে বাদ সেধেছিল। ২০০৬ সাল থেকে একটা বিশেষ ধরণের অ্যালার্জী আমাকে এমনই কাবু করে ফেলে যে রাতের ঘুম পর্যন্ত কেড়ে নেয়। চিকিৎসা, নার্ভের ওষুধ। সেটা শুরু করলে অন্য আরেক উপসর্গ অর্থাৎ নতুন সমস্যা, এতটাই তার প্রভাব যে আমাদের প্রিয়তম নাতি-নাতনির সঙ্গও তখন ভাল লাগে না। যাইহোক, দুদিন হ'ল সেটাকে কাটিয়ে উঠেছি। তবে মনের মধ্যে একটা অনিশ্চিত ভয় কাজ করে চলেছে।
কাজের কথায় আসি। আগেই বলে রাখি, যে ২/৩ দিন আগে ইংরেজি ভাষায় এই দেওয়াল লিখনের আগেই ঠিক করেছিলাম যে, এটা আঞ্চলিক ভাষায়, মানে, বাংলাতে অনুবাদ করে আবার পোস্ট করব যাতে বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছোনো যায়। এবার আসল বিষয়ের ব্যাপারে আসা যাক।
সম্প্রতি দু-দুটো ভূ-রাজনৈতিক ঘটনা পৃথিবীজুড়ে সাড়া ফেলে দিয়েছে। এক, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এবং গণহত্যা, দুই, প্রতিবেশী দেশ, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ থেকে ইমরান খানের বহিষ্কার। প্রথমে আমি পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক নাটকের কথা উল্লেখ করছি। ইউক্রেন-রুস যুদ্ধের আরও অনেক কিছু দেখা বাকি থাকার ফলে সেটা আপাতত স্থগিত রাখছি।
ট্রাম্প এবং ইমরানের পালা বদলের কি অদ্ভুত মিল
----------‐---------------‐-----
ট্রাম্প প্রথমে যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে খুবই সামান্য তফাতে জিতেছিলেন। এ ব্যাপারে উনি যথেষ্ট সন্দিহান ছিলেন। যাইহোক, দ্বিতীয়বার অনেক নোংরামি করে শেষ পর্যন্ত জো বাইডেনের কাছে হার স্বীকার করে হোয়াইট হাউস ছাড়তে বাধ্য হলেন। কিন্ত তখন থেকেই ক্ষমতায় ফিরে আসার ফন্দি-ফিকির থেকে তিনি বিরত থাকেননি। শেষ চেষ্টা করেন তাঁর অনুগামীদের ক্যাপিটাল হিল, যা কিনা মার্কিন গণতন্ত্রের মন্দির হিসেবে সর্বজন স্বীকৃত, সেখানেও তাঁর সমর্থকরা সশস্ত্র হামলা চালায়। BBC World News-এ স্বচক্ষে আমি দেখেছি যে আন্দোলনকারীরা Capitol Hill-এর দেওয়াল বেয়ে উঠছে। কিন্ত আমেরিকার শক্তপোক্ত গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত তারা নাড়াতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত ৪৬ তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জোসেফ বাইডেন শপথ গ্রহণ করে হোয়াইট হাউসের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পক্ষান্তরে, পাকিস্তানের নড়বড়ে গণতন্ত্র, ইমরানের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হবার আগেই তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করলো। শুধুমাত্র তাই নয়, ইমরানের পদত্যাগ পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটা নতুন মাত্রা যোগ করল। তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি তাঁর পূর্ণ মেয়াদকাল শেষ করতে পারলেন না।
প্রশ্ন হ'ল কি ভাবে এই সমস্ত ঘটে গেল ? বেশ কিছুকাল পাকিস্তানের বিভিন্ন সমস্যা - মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, বৈদেশিক মুদ্রার ক্রমাবণতি ইত্যাদি ইমরান সরকারকে বেশ অস্বস্তির মুখে ফেলেছিল। সেই অবস্থার সুযোগ নিয়ে, বিরোধী দলনেতা, পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, নওয়াজ শরিফের ছোটভাই পি এম এল এন এর প্রেসিডেন্ট সেহবাজ শরিফ জাতীয় পরিষদে ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করে। মুত্তাহিদা কাইম মুভমেন্ট (এম কিউ এম) পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট, ইমরানের বিরুদ্ধেই সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে অনাস্থা প্রস্তাব ত্বরান্বিত হয় এবং ইমরান বুঝতে পারেন যে, জাতীয় পরিষদে তিনি সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারাবেন। ফলে ইমরান খান স্পষ্টতই অসাংবিধানিক কৌশল, রাজনৈতিক ছলচাতুরি এবং বিলম্বের মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াকে বাধা দেবার চেষ্টা করেন। ট্রাম্পের কৌশল অবলম্বন করে ,ইমরান খান তাঁর সমর্থকদের, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভয় দেখানোর প্রয়াসে বিক্ষোভ করার আহ্বান করেন। এটা ঠিক যেন ট্রাম্পের ক্যাপিটাল হিল দাঙ্গার প্রতিফলন। তদুপরি, ইমরান সুপ্রীম কোর্টকে প্রভাবিত করার চেষ্টার ত্রুটি করেননি এবং পরে কোর্টের রায় ও তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার ব্যাপারেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এখানে ট্রাম্প এবং ইমরানের অবস্থান প্রায় সমান্তরাল।
ট্রম্পের বিষয়ে শেষ কথা। আমি যদি শ্বেতাঙ্গ মার্কিনিদের মনের কথা বুঝতে পারি, তবে পৃথিবীর প্রাচীনতম গণতন্ত্র, আমেরিকার সবচেয়ে ভয়াবহ দিন আর কয়েক বছরের অপেক্ষা। পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বীরদর্পে আবার হোয়াইট হাউসের দখল নেবেন। আমার ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হলে আমি সত্যিই খুসী হ'ব। পাকিস্তানের ব্যাপারে আগের অভিজ্ঞতা থেকে যতটুকু বুঝেছি, যে নিশ্চিত ভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
No comments:
Post a Comment