Sunday, October 10, 2021

বেশ বেমানান

 বেশ বেমানান


জলখাবারের পরে রোজই একটু হাঁটতে বেরোই। আজকেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। উদ্দেশ্য ছিল আশপাশের ঠাকুর গুলো দেখে আসব। রথ দেখা কলা বেচার মত অনেকটা। ওই এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যে যেগুলো পড়ে। বাবুবাগান আমার বাসস্থানের প্রায় দোরগোড়ায়। ওখানেই প্রথমে গেলাম। প্যান্ডেল দেখে চোখ আটকে গেল। গ্রন্থাগারের ধাঁচে তৈরি করা সমস্ত প্যান্ডেলটা, ভাস্কর্য আর শিল্পের এক অভিনব মেলবন্ধন। বাঙালিদের সৃজনশীলতাকে মনে মনে আরও একবার কুর্নিশ জানালাম। প্যান্ডেলের ভেতরে বাইরে, সর্বত্র লাইব্রেরী আর লাইব্রেরির তাকগুলো ভর্তি শুধুই বই। 

মণ্ডপের ভেতরের গ্রন্থাগারের দুই সারিতে দেশপ্রেমিক, সমাজসংস্কারক থেকে শুরু করে কবি, সাহিত্যিক, বিদ্রোহী- বাঙলার মণীশীদের ছবি বেশ যত্ন করে টাঙানো আছে। কয়েকজনের নাম নিলেই বোঝা যাবে কোন্ মাপের মানুষ তাঁরা। যেমন রবিঠাকুর, চিত্তরঞ্জন, নজরুল, বিদ্যাসাগর, রামমোহন, ব্রজেন্দ্র শীল, স্বামীজী, নেতাজী....। ঘড়ির কাঁটার মতো বাঁ দিক থেকে ডান দিক, চোখ ঘুরছে আমার। উপরের সারি শেষ করে নিচের সারি দেখার পালা এবার। হঠাৎই এক জায়গায় চোখ আটকে ছন্দপতন হ'ল। ছবিটা ছিল এই অঙ্গরাজ্যের দিদির ছবি। পাঁচ-সাতজন ছিল। মুখ দিয়ে বেরিয়ে এল এটা তো বড্ড বেমানান হয়ে গেল! এক ছোকরা কানের কাছে এসে বলে গেল ঠিক বলেছেন কাকু। বয়স ৭৮ হলেও চুলের রঙে তেমন পাক না ধরার ফলে, কাকুর তকমাতেই এখনও আটকে আছি। যাইহোক, আর একজন প্রৌঢ়ের প্রতিক্রিয়া - কেন উনি তো অনেক বই, কবিতার বই লিখেছেন,  তাহলে অসুবিধে কোথায় ? আমি বললাম, অসুবিধে দৃষ্টিভঙ্গির। আমার নিজের মনে হ'ল এঁদের সঙ্গে ওঁর ছবি ঠিক যায় না। যেমন যায় না, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নামকরণ করা গুজরাতের মোতেরা স্টেডিয়াম, ৮০০ কোটি টাকায় ঝাড়পোঁছ করে ১,৪০,০০০ দর্শক আসনের ব্যবস্থা করে পৃথিবীর বৃহত্তম   স্টেডিয়ামের লেবেল লাগিয়ে নাম বদলে নরেন্দ্র মোদীর নামে করা হয়েছে, সেরকম। এটা তো গণতান্ত্রিক দেশ, অন্তত প্রধানমন্ত্রী বা এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাই বলেন। কাজেই বাকস্বাধীনতায় তো এখনও লাগাম পরানো হয়নি। আপনার যুক্তিটা ভুল নয়। আমার উক্তিও অযৌক্তিক বলে মনে করছি না। আচ্ছা আসি তাহলে। দাঁড়ান দাঁড়ান,  দাদা। ওই ছেলেটি আপনার কানে কানে ফিসফিস করে কী বলে গেল ? ভদ্রলোককে বললাম ওই তো ছেলেটা যাচ্ছে, এখনও দেখা যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করে নিন্। বাড়ি ফিরতে ফিরতে মনে হ'ল সংগঠকরা একটু বেশি স্তাবকতা করে ফেলেছে। মুখ্যমন্ত্রীরও হয়তো তাতে সায় নেই। যদিও উনি স্বয়ং বেশ দিন কয়েক আগে ওই ঠাকুর উদ্বোধন করে গেছেন। জানিনা তখন ছবিগুলো লাগানো ছিল কিনা !!!

1 comment:

Unknown said...

একদম ঠিক বক্তব্য।